• ই-পেপার

তিন হাজার পরিবারের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম

মহাসড়কে শতশত গর্ত, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
মহাসড়কে শতশত গর্ত, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন
ছবি: সংগৃহীত

টানা বৃষ্টিতে ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম অংশে সৃষ্টি হয়েছে শত শত গর্ত। একটু বৃষ্টি হলেই সেগুলো ভরে যায় পানিতে। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। মহাসড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি ভুক্তভোগীদের। 

যানবাহনের চালকরা বলছেন, মহাসড়কের পাশে ঘাস ও ঝোপঝাড়ের কারণে পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা নেই। ফলে বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিবছর গর্তগুলো  ভরাট করা হলেও বৃষ্টি হলে আবার নতুন করে গর্ত সৃষ্টি হয়। এতে গাড়ির মূল্যবান যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। যাত্রীরাও অনেকে আহত ও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। 

সোমবার (২০ জুলাই) সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উপজেলার লালবাগ থেকে পদুয়া পর্যন্ত সড়কজুড়ে অসংখ্য গর্ত। এসব গর্তের কারণে যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। 

কুমিল্লা শহর থেকে চৌদ্দগ্রামে চাকরি করেন সালামান। যাওয়া-আসা করেন মোটরসাইকেলে। সম্প্রতি সন্ধ্যার পর চৌদ্দগ্রাম থেকে কুমিল্লা আসার পথে চৌদ্দগ্রাম চান্দুল এলকার মহাসড়কে একটি বড় গর্তে বাইক নিয়ে পড়ে যান। এতে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। সালমান বলেন, ‘মহাসড়কের গর্ত পানিতে ভরা থাকায় গর্ত দেখতে পারি নাই।’
  
স্কুলশিক্ষক হোসনা আক্তার বলেন, কুমিল্লা থেকে চৌদ্দগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন আসা-যাওয়া করি। ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অবস্থা বর্ষার আগ পর্যন্ত ভালোই ছিল। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। হঠাৎ  গাড়ির চাকা গর্তে পড়লে ধাক্কা লাগে। এতে যাত্রীরা প্রায়ই আহত হন। 

কোরবান আলী নামের এক গাড়িচালক বলেন, মহাসড়কে  কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও পিচ উঠে গেছে। সড়কে প্রায়ই  গাড়ি বিকল হয়ে দুর্ঘটনায় পড়ছে। এ সময় মহাসড়কে  যানজট সৃষ্টি হয়। 

প্রাইভেট কারচালক আবুল কাশেম বলেন, ‘মহাসড়কে অসংখ্য খানা-খন্দ সৃষ্টি হয়েছে। দিনের বেলায় সেগুলো দেখা গেলেও রাতে গাড়ি চালানো ও চলাচল করা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। খানাখন্দে চাকা পড়লে অনেক ঝাঁকুনি খেতে হয়।’

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলকারী স্টার লাইন পরিবহনের চালক সুজন মিয়া বলেন, ‘ভাঙা রাস্তার কারণেই এ মহাসড়কে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ঘটছে দুর্ঘটনা। বড় বড় গর্তগুলোতে আটকে পড়ার কারণে অনেক সময় গাড়ি বিকল হয়ে যায়। একই কারণে গাড়ির গতি অনেক ধীর হওয়ায় সময় অপচয় হয়, সৃষ্টি হয় যানজট।’

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে মহাসড়কে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। বৃষ্টির কারণে মেরামত করা যায়নি। আশা করি বৃষ্টি বন্ধ হলে দুই-এক দিনেই সমাধান হয়ে যাবে।’

ভিডিও ফাঁস

জামায়াত এমপি নজরুলের কুশপুত্তলিকায় থুথু নিক্ষেপ

অনলাইন ডেস্ক
জামায়াত এমপি নজরুলের কুশপুত্তলিকায় থুথু নিক্ষেপ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীর ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বাগেরহাটের মোংলায় বিএনপি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠন। এ সময় তারা গাজী নজরুল ইসলামের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন, থুথু নিক্ষেপ ও কুশপুত্তলিকা দাহ করে।

বুধবার দুপুর ১২টায় মোংলা পৌরসভার সামনে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নারী ও পুরুষ নেতা-কর্মীরা। ‘সচেতন নাগরিক সমাজের’ ব্যানারে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।

​প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন–মোংলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম নূর জনি এবং পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আবুল কাশেমসহ স্থানীয় নেতারা।

এ সময় বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী যেভাবে নারীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছিল, তারা আজও সেই জঘন্য মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। ধর্মের নাম ব্যবহার করে তারা এখনো নারীদের ওপর নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। বক্তারা এমপি গাজী নজরুল ইসলামের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানান।

​প্রতিবাদ সভা শেষে ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা ঘৃণা স্বরূপ জামায়াত নেতার কুশপুত্তলিকা দাহ এবং থুথু নিক্ষেপ করে ঘটনার চরম প্রতিবাদ জানান।

মোংলা উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি বলেন, ‘জামায়াতের এমপি গাজী নজরুল যে অসামাজিক কাজে লিপ্ত ছিলেন সেটা বাংলার মানুষ দেখেছে। তার এ ধরনের কর্মকাণ্ড মুসলমান হিসেবে আমাদের ব্যক্তিত্বে লেগেছে। আমরা এই ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

ভিডিওকাণ্ডের পর এমপি নজরুলকে নিজ এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
ভিডিওকাণ্ডের পর এমপি নজরুলকে নিজ এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা
ছবি : কালের কণ্ঠ

ভিডিওকাণ্ডের পর সাতক্ষীরা-৪ সংসদীয় আসনের (শ্যামনগর) জামায়াত দলীয় এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার সকাল ১১টায় শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে বক্তারা এমন দাবি জানান।

এর আগে পৌর সদরের জেসি কমপ্লেক্স চত্বর থেকে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত নারী ও পুরুষের অংশগ্রহণে একটি মিছিল পৌর সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা এ সময় হাতে ঝাড়ু ও জুতা নিয়ে নজরুল ইসলামের ছবিতে আঘাত করতে থাকে।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ সুলাইমান কবিরের সভাপতিত্বে উপজেলা প্রেস ক্লাব চত্বরে আয়োজিত পথসভায় অংশগ্রহণ করেন বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় বক্তারা গাজী নজরুল ইসলামকে ধর্ষক আখ্যা দিয়ে একটা আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার পাশাপাশি বক্তারা গাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, ১৩ তারিখে ঘটনাটি ঘটলেও গাজী নজরুল ইসলাম কৌশলে তা ধামাচাপা দিতে চাইছিল। কিন্তু তার ড্রাইভার দাবীকৃত টাকা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওগুলো ভাইরাল করে দিলে কৌশলের অংশ হিসেবে শুরুতেই এআই প্রযুক্তির সৃষ্টি বলে দাবি করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠানগুলো ভিডিও চিত্রের সত্যতা নিশ্চিত করার পর গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগীরা ওই তরুণীকে বিয়ের নাটক সাজিয়েছে।

পদে পদে জালিয়াতি এবং মিথ্যাচারের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগে বক্তারা গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের মাধ্যমে শরিয়ত মোতাবেক পরিচালিত হওয়ার দাবি করা রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন–বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী অ্যাডভোকেট আশেক এলাহী মুন্না, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আবু সাঈদ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলু, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা প্রমুখ।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, একটা অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন রীতিমতো ধর্ষণের সমান অপরাধ। জাতীয় সংসদের একজন প্রবীণ সদস্য হিসেবে নজরুল ইসলামের এ ঘটনা পবিত্র সংসদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। জাতীয় সংসদের পবিত্রতা রক্ষা এবং শিশু সুরক্ষা আইনের যথাযথ প্রয়োগ প্রদর্শনের অংশ হিসেবে অবিলম্বে গাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি আইনের আওতায় এনে ধর্ষণকাণ্ডের বিচার করতে হবে।

বক্তারা আরো বলেন, ১৭ জুন বিয়ের কথা বলে ২১ তারিখ বিকেলে কাবিনের ঘটনা তার জালিয়াতি ও মিথ্যাচারকে প্রমাণ করে দিয়েছে। এমতাবস্থায় অবিলম্বে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরো কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এ ছাড়া নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের মাধ্যমে নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে জামায়েত ইসলামীর অবস্থান স্পষ্ট করতে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

নেত্রকোনায় বিকাশ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে টাকা ও মোবাইল ছিনতাই

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
নেত্রকোনায় বিকাশ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে টাকা ও মোবাইল ছিনতাই
ছবি: কালের কণ্ঠ

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় আনিসুল হক টিপু নামে এক বিকাশ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে নগদ প্রায় দুই লাখ টাকা ও পাঁচটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দুয়া পৌরসভার সাউদপাড়া মতির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত আনিসুল হক টিপু পৌরসভার সাউদপাড়া মতির মোড় এলাকার বাসিন্দা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন আনিসুল হক টিপু। পথিমধ্যে ৩–৪ জনের একটি দল তার গতিরোধ করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে তার কাছে থাকা নগদ প্রায় দুই লাখ টাকা এবং পাঁচটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোনগুলোতে বিকাশ, নগদ, এজেন্ট ব্যাংকিং ও ফ্লেক্সিলোড-সংক্রান্ত লেনদেন পরিচালিত হতো বলে দাবি পরিবারের।

আনিসুল হক টিপু বলেন, প্রতিদিন এই পথেই বাড়ি ফিরি। কখনো ভাবিনি বাড়ির এত কাছে এমন ঘটনার শিকার হতে হবে। নগদ অর্থের পাশাপাশি ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি মোবাইল ফোন হারিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী লিটন বলেন, পৌর শহরের ব্যস্ত এলাকায় সংঘবদ্ধ ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভুক্তভোগী থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিন হাজার পরিবারের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ | কালের কণ্ঠ