• ই-পেপার

অটোরিকশা চালকদের দেওয়া হচ্ছে অগ্রিম আয়ের টাকা

'এই নিন রোজগারের টাকা, তাও গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামবেন না'

হাতের গোলে জয়ের সুযোগ নাই আর্জেন্টিনার, ব্রাজিল এবারও সেভেন আপ পাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
হাতের গোলে জয়ের সুযোগ নাই আর্জেন্টিনার, ব্রাজিল এবারও সেভেন আপ পাবে
সংগৃহীত ছবি

বরিশালে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় একে অপরের ওপর নানা অভিযোগ করার পাশাপাশি এবারের বিশ্বকাপ জয়ের আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৩টায় বরিশাল নগরীর বেলস পার্কে আর্জেন্টিনা ও বিকেল ৪টায় ব্রাজিলের সমর্থকদের পৃথক ২টি মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় আর্জেন্টিনা ভক্তরা দাবি করেন, গতবারের মতো এবারেরও বিশ্বকাপ দখলে থাকবে তাদের। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। তারা আবারও সেভেন আপ নিয়ে যাবে।

তবে ব্রাজিল সমর্থকরা জানান, ব্রাজিলের এবারের বিশ্বকাপ জয় কেউ আটকে রাখতে পারবে না। আর্জেন্টিনা হাত দিয়ে গোল দেওয়া ছাড়া কোৎনো বিশ্বকাপ জয় করতে পারেনি। ফলে এবারের উন্নত প্রযুক্তি সমৃদ্ধ বিশ্বকাপ আয়োজনের কোনো খেলাতেই হাত দিয়ে গোল করার সুযোগ পাবেন না আর্জেন্টিনা। ফলে আর্জেন্টিনার হার নিশ্চিত বলে দাবি তাদের।

এদিকে পৃথক ২টি আয়োজনে পিকআপ ভাড়া করে সাউন্ড সিস্টেমের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিশ্বকাপের নানা গান বাজতে থাকে। এ ছাড়া দুই দলের বড় বড় পতাকাও নিয়ে আসেন সমর্থকরা। পরে দুই দলের সমর্থকরাই শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে পৃথক শোভাযাত্রা ২টি বের হয়।
 
শোভাযাত্রা ২টি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবারো বেলস পার্কে এসে শেষ হয়।

নিখোঁজ নয়, আত্মগোপনে ছিলেন শিবির নেতা জিসান : পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক
নিখোঁজ নয়, আত্মগোপনে ছিলেন শিবির নেতা জিসান : পুলিশ
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক মো. জিসান মিয়া প্রধান। সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ‘নিখোঁজ’ হওয়ার ২৩ ঘণ্টা পর বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক মো. জিসান মিয়া প্রধানকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) রাত ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে নিখোঁজ নয়, জিসান আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ নিয়ে শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ৮টা ২৯ মিনিটে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক মো. জিসান মিয়া প্রধান দাউদকান্দি হতে নিখোঁজ হিসেবে শুক্রবার দাউদকান্দি থানায় এসে তার পক্ষে মো. রাসেল আহম্মেদ জিডি করেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় দাউদকান্দি বাজার এলাকা হতে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন বলে জিডিতে উল্লেখ করেন তিনি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়। জিডির প্রেক্ষিতে উদ্ধারের জন্য জেলা পুলিশের একাধিক টিম উদ্ধার কাজে তৎপর হয়। অনুসন্ধানকালীন প্রথমত নিখোঁজ জিসানের চাচাতো ভাই সজীবের মাধ্যমে জানা যায়, গত ৫/৬ মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক বিধবা নারীর (২৫) সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে কথাবার্তা শুরু হয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

অনুসন্ধান আরো জানা যায়, গত ২০ মে দাউদকান্দি থানাধীন জিসানের ভাড়া বাসায় ওই নারীকে জিসান ধর্ষণ করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় জিসান বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে জিসান ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এক পর্যায়ে বাচ্চা নষ্ট না করলে ভুক্তভোগীকে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করেন জিসান। পরে ওই নারী প্রাণের ভয়ে বাচ্চা নষ্ট করতে রাজি হন। এসময় জিসান তার বন্ধু সেকান্দার আলীর ওষুধের দোকান থেকে বাচ্চা নষ্ট করার ট্যাবলেট কিনে ভুক্তভোগীকে খাওয়ালে ভ্রূণ নষ্ট হয়। এসময় ওই নারীর সুস্থতার জন্য জিসান তার চাচাতো ভাই সজীবের মাধ্যমে পুনরায় ফার্মেসি থেকে ওষুধ সংগ্রহ করে ভুক্তভোগীর বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরে ভুক্তভোগী নারী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এক পর্যায়ে জিসান ১২ জুন বিয়ে করতে রাজি হন। এর আগে ১১ জুন রাত ৮টার পর পর বিয়ে না করার টালবাহানায় জিসান নিজেই আত্মগোপন করে তার চাচাতো ভাই মো. রাসেল আহম্মেদের মাধ্যমে দাউদকান্দি থানায় উল্লিখিত জিডি করান। পরবর্তীতে নিখোঁজ জিডির অনুসন্ধানকালীন সময়ে কুমিল্লার লাকসাম থানা এলাকা স্থানীয় লোকজন ও লাকসাম থানা পুলিশের মাধ্যমে আত্মগোপন থাকা জিসান মিয়া প্রধানকে উদ্ধার করা হয়।

পরে ভুক্তভোগী নারী থানায় হাজির হয়ে জিসানকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগের প্রেক্ষিতে দাউদকান্দি থানায় মামলা হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

কুলাউড়ায় বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
কুলাউড়ায় বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে মুজিবুর রহমান (৩০) নামের এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

নিহত মুজিবুর রহমান দত্তগ্রাম এলাকার মৃত অজিবুর রহমানের ছেলে। খবর পেয়ে স্থানীয় দত্তগ্রাম বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা এবং পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়।

এদিকে ভারতের এক গণমাধ্যমকর্মী গত রাতে এ প্রতিবেদককে জানান, নিহত মুজিবুর রহমানের মরদেহ ভারতের উনকোটি জেলা হাসপাতালে রয়েছে। শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হতে পারে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন ৪৬ বিজিবির আওতাভুক্ত। গতকাল সন্ধ্যায় মুজিবুর রহমানসহ স্থানীয় ৬-৭ জন যুবক দত্তগ্রাম সীমান্তের লখাইরচর এলাকায় যান। এ সময় ভারতের লাটিয়াপুড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এতে মুজিবুর রহমান নিহত হন। তবে তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যরা সেখান থেকে ফিরে আসতে সক্ষম হন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য জয়নুল ইসলাম বলেন, নিহত মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে তিনি বিষয়টি জেনেছেন। তাঁর ভাষ্য, চোরাই মালামাল আনতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে মুজিবুর রহমান নিহত হয়ে থাকতে পারেন। বর্তমানে ঘটনাস্থলে বিজিবির সঙ্গে নিহতের ভাই আজিজুর রহমান রয়েছেন। তিনি ফোনে জানিয়েছেন, তাঁর ভাইয়ের মরদেহ বিএসএফ ভারতের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেছে।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে মুজিবুর রহমান মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল গেছে। পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কুলাউড়ার দত্তগ্রাম বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার আমজাদ হোসেন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এ বিষয়ে জানতে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের ৪৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

দুই মাসের শিশুকে আছাড় মেরে হত্যার অভিযোগ, বাবা আটক

ফেনী প্রতিনিধি
দুই মাসের শিশুকে আছাড় মেরে হত্যার অভিযোগ, বাবা আটক
মোহাম্মদ সুলতান

ফেনীর ফুলগাজীতে দুই মাসের এক শিশুকে আছাড় মেরে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মাদকাসক্ত বাবা মোহাম্মদ সুলতানের বিরুদ্ধে। পরে অভিযুক্ত বাবাকে আটক করেছে পুলিশ। উপজেলার ফুলগাজী বাজারসংলগ্ন মেম্বার কলোনির একটি ভাড়া বাসায় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম মোহাম্মদ জুনায়েদ।

অভিযুক্ত মোহাম্মদ সুলতান (৩০) নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের কিতাব আলীর ছেলে। কাজের সুবাদে তিনি স্ত্রী রুনা আক্তারকে নিয়ে ফুলগাজীতে বসবাস করে আসছেন।

মা রুনা আক্তারের অভিযোগ, তার স্বামী মোহাম্মদ সুলতান শিশুটিকে আছাড় মেরে হত্যা করেছেন। তবে সুলতানের দাবি, কোলে নিয়ে খেলার সময় শিশুটি তার হাত থেকে পড়ে যায়।

রুনা আক্তার জানান, সুলতান দিনমজুরের কাজ করেন। তাদের সংসারে একমাত্র সন্তান জুনায়েদের জন্ম হয় দুই মাস আগে। তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশার কারণে সংসারের খরচ বহন করতেন না। প্রায়ই তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। বৃহস্পতিবার রাতেও কাজ শেষে বাসায় ফিরে সুলতান তাকে একটি পানীয় কিনে আনার জন্য দোকানে পাঠান। তিনি দোকান থেকে ফিরে এসে ছেলেকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান।

মা রুনা আক্তার বলেন, ঘরে ফিরে দেখি আমার ছেলে কোনো সাড়া দিচ্ছে না। আমি তাকে হাসপাতালে নিতে চাইলে সুলতান বাধা দেন। পরে অনেক চেষ্টার পর রাতের দিকে ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেছে। এর আগেও কান্না করলে শিশুটির ওপর সুলতান ক্ষুব্ধ হতেন।

ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তানভীর মাহমুদ বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মাথায় গুরুতর আঘাত দেখা গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।

ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। শিশুটির বাবাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

'এই নিন রোজগারের টাকা, তাও গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামবেন না' | কালের কণ্ঠ