• ই-পেপার

ম্যানেজিং কমিটির ছেলের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ

হাঁস চুরির সময় হাতেনাতে ধরা, ১০০ রাকাত নামাজ পড়ে মুক্তি

ভোলা প্রতিনিধি
হাঁস চুরির সময় হাতেনাতে ধরা, ১০০ রাকাত নামাজ পড়ে মুক্তি
ছবি: কালের কণ্ঠ

ভোলার লালমোহনে হাঁস চুরির সময় মো. নাজিম উদ্দিন (২৭) নামের এক যুবককে হাতেনাতে ধরেছে স্থানীয়রা। এসময় তাকে শাস্তি হিসেবে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়িয়ে তওবা করে ছেড়ে দেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কিশোরগঞ্জ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নাজিম উদ্দিন লালমোহন পৌর এলাকার নয়ানী গ্রামের পাকার মাথা এলাকার বুলু হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর কিশোরগঞ্জ গ্রামের জয়নাল আরিন্দা বাড়ির মো. এমরান হোসেন রাকিবের দুইটি রাজ হাঁস চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় দুই যুবক দেখতে পেয়ে তাকে ধাওয়া দেয়। এসময় তাকে ধরে পশ্চিম কিশোরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এনে হাঁস চুরির শাস্তি হিসেবে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ানো হয়। পরে জীবনে আর চুরি করবে না মর্মে তওবা করিয়ে তাকে অভিভাবকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক দিন ধরে ওই এলাকার বিভিন্ন বাড়ি থেকে হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হচ্ছিল। এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সোলারের ব্যাটারি চুরি করে নিয়ে গেছে চোর চক্র। চোরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে গেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। তাই এলাকায় অপরিচিত লোকের ওপর নজরদারি রাখছিলেন তারা। পরে সন্ধ্যায় হাস নিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহ হলে তারা তাকে ধাওয়া দিয়ে ধরে আনেন। নাজিম উদ্দিন রিকশা চালানোর বেশে এলাকায় চুরি করেন। সে একজন পেশাদার চোর। তার পরিবারের লোকজন খবর দিয়ে এনে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

এ তথ্য নিশ্চিত করে ওই এলাকার গ্রাম পুলিশ মো. আবু তাহের জানান, চোর ধরার পর থানায় খবর দিলেও পুলিশের কোনো সাড়া না পাওয়ায় তারা চোরকে ১০০ রাকাত নামাজ পড়িয়ে এবং তওবা করিয়ে ছেড়ে দেয়।

লালামোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, সন্ধ্যার পর আসামি গ্রেপ্তার নিয়ে তারা ব্যস্ত ছিলেন। এ রকম কোনো খবর থানায় আসেনি।

রহস্য উদঘাটন

বিয়ের চাপের জেরে প্রেমিকের হাতে গার্মেন্টসকর্মী সাদিয়া খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিয়ের চাপের জেরে প্রেমিকের হাতে গার্মেন্টসকর্মী সাদিয়া খুন

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গার্মেন্টসকর্মী সাদিয়া আক্তার হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির দাবি, বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় প্রেমিক আব্দুর রাজ্জাক (২৫) তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। ঘটনার ১০ দিনের মধ্যে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পিবিআই জানায়, গত ১২ জুলাই রাত ১১টা ৪০ মিনিট থেকে ১৩ জুলাই রাত ১০টার মধ্যে যেকোনো সময়ে সাদিয়া আক্তারকে হত্যা করা হয়। প্রথমদিকে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী কর্তৃক হত্যার অভিযোগে নিহতের বড় ভাই মো. রিয়াজ মোল্লা বাদী হয়ে ১৫ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

মামলায় নিহতের স্বামী মো. ইব্রাহিম (২৭), তার বাবা মহি উদ্দিন, মা তাসলিমা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

পরে ১৬ জুলাই পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান পুলিশ উপ-পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. রিয়াজ উদ্দিন রনি।

তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়া এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২১ জুলাই ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে রাজ্জাক হত্যার দায় স্বীকার করেন। পরে ২২ জুলাই তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তদন্তে জানা গেছে, নিহত সাদিয়া আক্তারের সঙ্গে আব্দুর রাজ্জাকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ১ জুলাই থেকে তারা সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকায় স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে একটি ভাড়া বাসায় একসঙ্গে বসবাস করছিলেন। ১২ জুলাই সাদিয়া বিয়ের জন্য চাপ দিলে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রাজ্জাক সাদিয়ার গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে মরদেহ ভাড়া বাসায় রেখে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ওমরাহর পথে সড়কে ঝরল প্রবাসী মা-মেয়ে-ছেলের প্রাণ

সালথা-নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ওমরাহর পথে সড়কে ঝরল প্রবাসী মা-মেয়ে-ছেলের প্রাণ
সংগৃহীত ছবি

ওমরাহ পালন করতে যাওয়ার পথে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের সালথা উপজেলার এক পরিবারের মা, মেয়ে ও ছেলে নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে রিয়াদ-মক্কা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও পুঠিয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত নাজিমুদ্দিন মোল্যার সেজো মেয়ে তানিয়া তাহমিনা রিনা (৪৫), তার মেয়ে জারা আক্তার (১৫) ও ছেলে তাসবিক (২০)। আহত হয়েছেন রিনার স্বামী শফিকুল ইসলাম ও বড় ছেলে নাবিল। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে তানিয়া তাহমিনা রিনার ভাই তৌহিদ মোহাম্মাদ মুরাদ বলেন, আমার ভগ্নিপতি শফিকুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে। তিনি প্রায় ২৬ বছর ধরে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে আমার ভগ্নিপতি, বোন ও তাদের সন্তানরা রিয়াদ থেকে একটি প্রাইভেট কারে মক্কায় ওমরাহ পালনের উদ্দেশে রওনা হন। পথে রিয়াদ-মক্কা মহাসড়কে তাদের বহনকারী প্রাইভেট কারটিকে পেছন থেকে অন্য একটি বড় গাড়ি সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই আমার বোন, ভাগ্নে ও ভাগ্নি নিহত হয়। আহত হয় ভগ্নিপতি শফিকুল ইসলাম ও বড় ভাগ্নে নাবিল। তাদেরকে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অপহরণ রোধে পদক্ষেপের আশ্বাসে ৯০ ঘণ্টা পর অনশন ভাঙলেন শিক্ষার্থী

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
অপহরণ রোধে পদক্ষেপের আশ্বাসে ৯০ ঘণ্টা পর অনশন ভাঙলেন শিক্ষার্থী
সংগৃহীত ছবি

টেকনাফে অপহরণ, মুক্তিপণ, ডাকাতি ও মানবপাচার বন্ধ করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে ৯০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আমরণ অনশন পালনকারী শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম জিহাদী অনশন প্রত্যাহার করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে অনশনস্থলে গিয়ে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং দাবিগুলো শোনেন। এ সময় তিনি টেকনাফের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে তাঁর আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে সাইফুল ইসলাম জিহাদী অনশন ভঙ্গ করেন।

সাইফুল ইসলাম জিহাদী টেকনাফের বাহারছড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে যাওয়া অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ডাকাতি ও মানবপাচারের ঘটনার প্রতিবাদে এবং এসব অপরাধ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছিলেন।

অনশন চলাকালে তাঁর দাবির প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, ছাত্র ও পেশাজীবী সংগঠন, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক এবং সচেতন নাগরিক সংহতি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে টেকনাফেও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁর দাবির প্রতি সমর্থন জানান।

অনশন ভাঙার পর সাইফুল ইসলাম জিহাদী বলেন, সংসদ সদস্যের দেওয়া আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং টেকনাফে অপরাধ দমনে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে আশা করি।

ম্যানেজিং কমিটির ছেলের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ | কালের কণ্ঠ