• ই-পেপার

উল্লাপাড়ায় রংপুর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, ইঞ্জিনে আগুন (ভিডিওসহ)

  • রেলযোগাযোগ বন্ধ

পঞ্চগড়

হাসপাতালের বেডে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, রোগী আটক

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
হাসপাতালের বেডে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, রোগী আটক
ছবি : কালের কণ্ঠ

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক রোগীকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পঞ্চগড় সদর থানায় ধর্ষণচেষ্টার মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিষয়টি জানাজানি হয়। তবে ১৬ জুলাই ভোরে হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মতিয়ার রহমান (৫৭) সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের নিতাইপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শিশুটি তার অসুস্থ নানাকে দেখতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হাসপাতালে যায়। সেদিন রাতে ওয়ার্ডের মেঝেতে ঘুমিয়ে ছিল। একই ওয়ার্ডের ১১ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন অভিযুক্ত মো. মতিয়ার রহমান। রাত আড়াইটার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটির নানিকে জানান যে মেঝেতে থাকলে শিশুটির কষ্ট হবে, তাই তাকে যেন তার বেডে ঘুমানোর অনুমতি দেওয়া হয়। সরল বিশ্বাসে শিশুটির নানি নাতনিকে অভিযুক্ত মতিয়ার রহমানের বেডে ঘুমাতে পাঠান। পরে ভোর ৪টার দিকে শিশুটির চিৎকারে ওয়ার্ডের অন্যান্য লোকজনের ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে স্বজনদের কাছে অভিযোগ করে যে অভিযুক্ত মতিয়ার রহমান তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়েছেন। পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজনরা বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে পুলিশকে জানানো হলে তাকে গ্রেপ্তার করে। ওই দিনই সদর থানায় মামলা করে শিশুটির নানি।

অভিযোগকারী বলেন, ‘আমরা ছোট্ট নাতনি হাসপাতালের একজন রোগীর কাছেও নিরাপদ না। আমরা এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

সেন্ট মার্টিনে গাঁজাসহ আটক ১

নিজস্ব প্রতিবেদক
সেন্ট মার্টিনে গাঁজাসহ আটক ১
ছবি : কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিনে কাঠের বোটে তল্লাশি চালিয়ে ১ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে দ্বীপের জেটিঘাট সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড স্টেশন সেন্ট মার্টিন দ্বীপের জেটিঘাট এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় টেকনাফ বাজারঘাট থেকে আসা একটি সন্দেহভাজন কাঠের বোটে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে প্রায় ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ১ কেজি গাঁজাসহ ওই কারবারিকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

কোস্ট গার্ড জানায়, জব্দকৃত আলামত এবং আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। মাদকের বিস্তার রোধে কোস্ট গার্ডের এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে।

সয়াবিন তেল-ডালডা দিয়ে নকল ঘি তৈরি, কারিগরকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
সয়াবিন তেল-ডালডা দিয়ে নকল ঘি তৈরি, কারিগরকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা
ছবি : কালের কণ্ঠ

লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্পনগরীতে অভিযান চালিয়ে ৩৮ কার্টন নকল ঘি জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় নকল ঘি উৎপাদনের দায়ে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ও কারিগর জিল্লাল হোসেনকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানের মালিক আব্দুল মান্নান পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভি দাশের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে জেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক সুমধু চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত জিল্লাল হোসেন সদর উপজেলার চররুহিতা গ্রামের বশির উল্যার ছেলে। তিনি তার ভাইয়ের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে মাসিক বেতনে ম্যানেজার ও কারিগর হিসেবে কর্মরত।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ৫০ কার্টন ঘি সরবরাহের একটি অর্ডার পাওয়ার পর জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপদ খাদ্য বিভাগের সহযোগিতায় কারখানাটিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৩৮ কার্টন নকল ঘি জব্দ করা হয়। প্রতিটি কার্টনে ৯০০ গ্রাম ওজনের ১২টি করে ঘির কৌটা ছিল। জব্দ করা সব নকল ঘি ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতিতেই ধ্বংস করা হয়।

আদালতে জিল্লাল হোসেন স্বীকার করেন, তারা সয়াবিন তেল, ডালডা ও ঘির ফ্লেভার ব্যবহার করে নকল ঘি তৈরি করতেন। এসব ৯০০ গ্রাম ওজনের কৌটা প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা দামে বাজারজাত করা হতো। তবে অভিযানের সময় কারখানায় সয়াবিন তেল পাওয়া যায়নি।

জেলা নিরাপদ খাদ্য বিভাগের পরিদর্শক সুমধু চক্রবর্তী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি মার্জারিন ঘি উৎপাদনের অনুমোদন নিয়ে নকল ঘি তৈরি করছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ ছাড়া অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এসব পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছিল। প্রতিষ্ঠানটি বিসিকে ‘আবু তাহের ছানা কোম্পানি’ নামে প্লট বরাদ্দ নিলেও বর্তমানে ‘তাহের ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভি দাশ বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের মালিক আব্দুল মান্নান পলাতক রয়েছেন। তবে জিল্লাল হোসেন উৎপাদনসহ সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তাই নকল ঘি উৎপাদনের দায়ে তাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

শ্রমিক সংকটের কারণে দুশ্চিন্তায় কেন্দুয়ার পাট চাষিরা

ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা

আসাদুল করিম মামুন, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা)
শ্রমিক সংকটের কারণে দুশ্চিন্তায় কেন্দুয়ার পাট চাষিরা
ছবি : কালের কণ্ঠ

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা একটি কৃষিনির্ভর উপজেলা। এ উপজেলায় প্রায় সব ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদন হয়ে থাকে। কিন্তু শ্রমিক সংকট ও শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি বৃদ্ধির কারণে চাষিরা ক্ষেতের পাট কাটা ও জাগ দিতে পারছেন না। ফলে পাটের  ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলার প্রধান অর্থকরী ফসলের মধ্যে পাট অন্যতম। ধান কাটা মৌসুম হওয়ায় শ্রমিক সংকট ও অর্থাভাব দেখা দিয়েছে। এখন আগের মতো শ্রমিক পাওয়া যায় না। এ ছাড়া উপজেলা থেকে এই মৌসুমে শ্রমিকরা অন্য জেলায় চলে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় পাট চাষিরা।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ভাটি অঞ্চলের গ্রামগঞ্জে পাট কাটা, জাগ দেওয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।

উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের পাট চাষি রেজাউল করিম জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছর নদী-নালা, খাল-বিলে পানি  থাকায় পাট জাগ দিতে কৃষকদের সুবিধা  হচ্ছে, এ বছর পাটের ফলন ভালো হয়েছে। তবে এলাকায় শ্রমিক সংকটের কারণে পাট কাটা ও জাগ দিতে সমস্যা হচ্ছে। অনেকে সময় নিজেই পাট কাটা ও জাগ দেওয়ার কাজ করছি। কিন্তু শ্রমিক 
ছাড়াতো একার পক্ষে এই কাজ করা সম্ভব নয়।

উপজেলার মোজাফফরপুর ইউনিয়নের কৃষক রাসেল মিল্কি বলেন, এবার দেশি জাতের পাটের সঙ্গে অন্য জাতের পাটের ফলনও ভালো হয়েছে। এখন কেটে জাগ দিয়ে শুকাতে হবে। বাজার ধর ভালো হলে এ বছর চাষিরা লাভবান হবেন। তবে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১ হাজার টাকা হওয়ায় পাট কাটা নিয়ে চিন্তিত চাষিরা।

আরেক কৃষক আজহারুল মিয়া জানান, এক বিঘা জমিতে পাট চাষে খরচ হয় ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। ফলন ভাল হলে এক বিঘা জমিতে ১২ থেকে ১৫ মণ পাট পাওয়া যায়। দাম বেশি হলে লাভ ও বেশি হয়। বর্তমানে বাজারে ভাল মানের পাটের দাম  প্রতি মন ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা রয়েছে। তবে শ্রমিক সংকট ও দৈনিক মজুরি বৃদ্ধির কারণে আমরা লাভের মুখ দেখতে পারব কি না সন্দেহ আছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবছর পাট চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫০ হেক্টর, তবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়ে ৫৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। প্রণোদনা হিসাবে ৮০ জন কৃষককে ২ কেজি করে পাট বীজ ও ১০ কেজি করে এমওপি ও ডিএপি সার দেয়া হয়েছে। তাছাড়া পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৮০ জন কৃষককে ২ কেজি করে পাট বীজ সহায়তা দেয়া হয়েছে।

উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা কৃষিবিদ উজ্জ্বল সাহা বলেছেন, এবছর বৃষ্টিপাত বেশি হওয়াতে  পাটের ফলন ভালো হয়েছে। শ্রমিক সংকট ও শ্রমিকের দৈনিক মজুরি নিয়ে কিছুটা সমস্যাতো আছে।আশা করি তা শীঘ্রই সমাধান হয়ে যাবে।

তিনি আরো বলেছেন, ‘চাষিরা যেন পাট পাকাপোক্ত করে কাটে এবং ভালো করে যেন জাগ দেয় তাহলে আঁশ ভালো থাকবে দর বেশি পাবে। আমাদের উপসকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।’

উল্লাপাড়ায় রংপুর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, ইঞ্জিনে আগুন (ভিডিওসহ) | কালের কণ্ঠ