নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা একটি কৃষিনির্ভর উপজেলা। এ উপজেলায় প্রায় সব ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদন হয়ে থাকে। কিন্তু শ্রমিক সংকট ও শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি বৃদ্ধির কারণে চাষিরা ক্ষেতের পাট কাটা ও জাগ দিতে পারছেন না। ফলে পাটের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার প্রধান অর্থকরী ফসলের মধ্যে পাট অন্যতম। ধান কাটা মৌসুম হওয়ায় শ্রমিক সংকট ও অর্থাভাব দেখা দিয়েছে। এখন আগের মতো শ্রমিক পাওয়া যায় না। এ ছাড়া উপজেলা থেকে এই মৌসুমে শ্রমিকরা অন্য জেলায় চলে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় পাট চাষিরা।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ভাটি অঞ্চলের গ্রামগঞ্জে পাট কাটা, জাগ দেওয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।
উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের পাট চাষি রেজাউল করিম জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছর নদী-নালা, খাল-বিলে পানি থাকায় পাট জাগ দিতে কৃষকদের সুবিধা হচ্ছে, এ বছর পাটের ফলন ভালো হয়েছে। তবে এলাকায় শ্রমিক সংকটের কারণে পাট কাটা ও জাগ দিতে সমস্যা হচ্ছে। অনেকে সময় নিজেই পাট কাটা ও জাগ দেওয়ার কাজ করছি। কিন্তু শ্রমিক
ছাড়াতো একার পক্ষে এই কাজ করা সম্ভব নয়।
উপজেলার মোজাফফরপুর ইউনিয়নের কৃষক রাসেল মিল্কি বলেন, এবার দেশি জাতের পাটের সঙ্গে অন্য জাতের পাটের ফলনও ভালো হয়েছে। এখন কেটে জাগ দিয়ে শুকাতে হবে। বাজার ধর ভালো হলে এ বছর চাষিরা লাভবান হবেন। তবে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১ হাজার টাকা হওয়ায় পাট কাটা নিয়ে চিন্তিত চাষিরা।
আরেক কৃষক আজহারুল মিয়া জানান, এক বিঘা জমিতে পাট চাষে খরচ হয় ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। ফলন ভাল হলে এক বিঘা জমিতে ১২ থেকে ১৫ মণ পাট পাওয়া যায়। দাম বেশি হলে লাভ ও বেশি হয়। বর্তমানে বাজারে ভাল মানের পাটের দাম প্রতি মন ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা রয়েছে। তবে শ্রমিক সংকট ও দৈনিক মজুরি বৃদ্ধির কারণে আমরা লাভের মুখ দেখতে পারব কি না সন্দেহ আছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবছর পাট চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫০ হেক্টর, তবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়ে ৫৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। প্রণোদনা হিসাবে ৮০ জন কৃষককে ২ কেজি করে পাট বীজ ও ১০ কেজি করে এমওপি ও ডিএপি সার দেয়া হয়েছে। তাছাড়া পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৮০ জন কৃষককে ২ কেজি করে পাট বীজ সহায়তা দেয়া হয়েছে।
উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা কৃষিবিদ উজ্জ্বল সাহা বলেছেন, এবছর বৃষ্টিপাত বেশি হওয়াতে পাটের ফলন ভালো হয়েছে। শ্রমিক সংকট ও শ্রমিকের দৈনিক মজুরি নিয়ে কিছুটা সমস্যাতো আছে।আশা করি তা শীঘ্রই সমাধান হয়ে যাবে।
তিনি আরো বলেছেন, ‘চাষিরা যেন পাট পাকাপোক্ত করে কাটে এবং ভালো করে যেন জাগ দেয় তাহলে আঁশ ভালো থাকবে দর বেশি পাবে। আমাদের উপসকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।’