• ই-পেপার

ভিক্ষুক পেলেন পাকা ঘর, বললেন স্বপ্নের মতো লাগছে

কমলগঞ্জ

ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ৭ গ্রাম

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি
ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ৭ গ্রাম
সংগৃহীত ছবি

টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার ইসলামপুর ও আদমপুর  ইউনিয়নের ৭-১০ টি  গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে রাস্তা, এমনকি বাড়ির ঘরে প্রবেশ করেছে পানি। এতে ভোগান্তিতে কয়েক হাজার মানুষ। 

বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১০টার দিকে ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল এলাকায পুরাতন মসজিদের সামনের বাঁধটি ভেঙে গেছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,ধলাই নদীর বাঁধ ভাঙার ফলে মখাবিল, শ্রীপুর ও ভান্ডারীগাঁও, আদমপুরের কোনাগাও, মধ্যভাগস আশপাশের ৭-১০ গ্রাম বন্যায় তলিয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে  বিভিন্ন গ্রাম। 

এ ছাড়া ভান্ডারীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে হাটু পানি। ফলে আজকের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলে প্রধান শিক্ষক খুরশেদ আলী জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা কবির মিয়া ও শাব্বীর এলাহী  জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ করেই ধলাই নদীর বাঁধটি ভেঙে যায়। ভাঙনের পরিধি প্রায় ১০০ মিটার। এতে ইতোমধ্যে কয়েকটি গ্রাম পানিতে ডুবে গেছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বন্যায় কয়েক হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে আছেন। বন্যার্তদের সহায়তায় প্রশাসন তাদের পাশে থাকবে। ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।’

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, ‘ধলাই নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিএসএফের বাধার কারণে মখাবিলের এই অংশটুকুতে পুরোপুরি কাজ করা সম্ভব হয়নি। প্রতিকূলতার মধ্যেই যতটুকু কাজ করা সম্ভব কর্তৃপক্ষ ততটুকু করেছে।’

লামায় পাহাড়ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী-সন্তানসহ নিহত ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
লামায় পাহাড়ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী-সন্তানসহ নিহত ৫
বান্দরবানের লামায় পাহাড়ধসে নিহতদের মরদেহ

টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে বান্দরবানের লামা উপজেলায় পাহাড়ধসে একই পরিবারের তিনজনসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। 

আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মিশনপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। একই রাতে পৃথক আরেকটি পাহাড়ধসে এক নারী ইউপি সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন মো. ইউনুস (২৮), তার স্ত্রী রানু আক্তার (২২) এবং তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মো. সোলেমান। তারা সবাই আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়ার বাসিন্দা। এছাড়া নিহত হয়েছেন চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকার মো. জুয়েল (৩৪) ও তার স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫)। জীবিকার প্রয়োজনে তারা ওই এলাকায় বসবাস করছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মোবারক হোসেন এসব তথ্য জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় ৪টার দিকে মিশনপাড়া এলাকায় আকস্মিকভাবে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে দুটি বসতঘরের ওপর আছড়ে পড়ে। এ সময় ঘুমন্ত অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা মাটিচাপা পড়েন।

খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং পুলিশ সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালান। দীর্ঘ চেষ্টার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে একই রাতে প্রায় দেড়টার দিকে আজিজনগর ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় আরেকটি পাহাড়ধসে ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য রেহানা বেগমের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলার মা মনি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কাইছার হামিদ জানান, উদ্ধার হওয়া পাঁচজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা (ইউডি) দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। গত চারদিন ধরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বারবার অনুরোধ ও সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু অনেকেই সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থেকে যান। নিহতদের পরিবারের পাশে সরকার থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

টানা বর্ষণে বান্দরবান জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। 

টানা ৯ ঘণ্টা আজ ঢাকার যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না

অনলাইন ডেস্ক
টানা ৯ ঘণ্টা আজ ঢাকার যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না

জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) টানা সাড়ে ৯ ঘণ্টা ঢাকার ধামরাইয়ের বেশকিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর ধামরাই জোনাল অফিস থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, উপর্যুক্ত বিষয়ের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের স্বার্থে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত মোট সাড়ে ৯ ঘণ্টা ভাড়ারিয়া (একমি) ৩৩ কেভি ও ধামরাই উপকেন্দ্রের ১, ৩, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০ ও ১১ নম্বর ফিডারের আওতাভুক্ত বেশকিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

এই এলাকাগুলো হলো- আমিন মডেল টাউন, ধানসিঁড়ি, বরাত সেন্টার, বরাত নগর, হার্ডিঞ্জ স্কুল, পাঠানটুলা, কালিয়াগার, উত্তর পাতা, কমিশনার মোড় কুমড়াইল, গোয়ারীপাড়া, কুমরাইল, ঋষিপাড়া, টেকপাড়া, ইসলামপুর হাসপাতাল রোড এবং মাদরাসা রোড থেকে সুইডিশ মাঠ, ঢুলিভিটা রাস্তার উত্তর পাশ, তালতলা, নতুন দক্ষিণপাড়া, ছোট চন্দ্ৰাইল, ছয়বাড়ীয়া, খাত্রা, বাসাইল, বাড়ীগাও, লাডুয়াকুন্ড, কুল্লা, রামকুল্লা, হিরানদী কুল্লা, জয়পুরার দক্ষিণপাশ, জলশীন, কান্দাপারা, গাওয়াইল, বাদে গাওয়াইল, বানেশ্বর, গোপালপুর, শরীফবাগ, কাকরান, তেতুলিয়া, হাজিপুর, স্বর্ণখালী, ইকুরিয়া, ইসলামনগর, ডেমরান, দীঘলগ্রাম, সাইদপাড়া, পাইকপাড়া, বাঙ্গালপাড়া, কাটাবৌর, মালঞ্চ, আশুলিয়া, দিয়াবাড়ী, কাটাখালী, হাটিপাড়া, চন্দপাড়া, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, থানা কমপ্লেক্স ও ধামরাই সরকারি কলেজের আওতাধীন সব এলাকা।

তবে নির্ধারিত সময়ের আগে কাজ শেষ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করা হবে। সাময়িক এ অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করেছে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর ধামরাই জোনাল অফিস।

সাভারে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, আশুলিয়ায় শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
সাভারে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, আশুলিয়ায় শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

সাভারের আশুলিয়ায় ইসরাফিল ইসলাম নামের সাড়ে তিন বছরের এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিশুটিকে তার সৎ বাবা ও মা মারধর করেছিলেন। 

বুধবার (৮ জুলাই) সকালে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার অন্ধ কলোনিতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহত ইসরাফিল ইসলাম (৩) ঝিনাইদহ সদর উপজেলার রিপনের ছেলে। তার সৎ বাবা ছাব্বিরের বাড়িও একই এলাকায়। ইসরাফিল তার মা লাবনী বেগম ও সৎ বাবা ছাব্বিরের সঙ্গে নরসিংহপুর অন্ধ কলোনির একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করত।

থানা পুলিশ জানায়, স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা গেছে মঙ্গলবার রাতে শিশু ইসরাফিলকে মারধর করে তার মা ও সৎ বাবা। বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠে শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখতে পেয়ে শিশুটিকে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান তারা। পরে সেখাকার কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আশুলিয়া থানাকে জানালে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু তালেব বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সংবাদের ভিত্তিতে নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির সৎ বাবা ও আপন মাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে সাভার পৌর এলাকা কর্ণপাড়া মহল্লার সুলতানা শিরিনের ভাড়া বাড়ির ২য় তলার একটি কক্ষ থেকে মারজানা বেগম (১৮) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পারিবারিক কলহের জেরে গলায় উড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়েছে পাষণ্ড স্বামী মো. ফয়সাল। নিহত মারজানা বেগম ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার পূর্বচর মাদরাসা মহল্লার মো. মাজহারুল ইসলামের মেয়ে এবং হত্যাকারী মো. ফয়সাল (২১) একই জেলা ও থানার আবুবক্করপুর গ্রামের অছির আহমেদের ছেলে।