kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পাকুন্দিয়ার 'ভার্মি গ্রাম খামা'

আছাদুজ্জামান খন্দকার, পাকুন্দিয়া   

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ১৯:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাকুন্দিয়ার 'ভার্মি গ্রাম খামা'

ভার্মি গ্রাম নামে খ্যাত পাকুন্দিয়ার খামা। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নে অবস্থিত ছোট্ট এ গ্রামটি। নিভৃত এ পল্লীর নারী-পুরুষেরা সারা বছরই ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরিতে ব্যস্ত থাকেন। এ গ্রামের হতদরিদ্র ৩০০টি পরিবার এ সার উৎপাদন করে থাকেন। এ সার বিক্রি করে তারা এখন স্বাবলম্বী। 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামে ৩০০টি হতদরিদ্র পরিবার এই কম্পোস্ট সার উৎপাদন করছেন। ওই গ্রামে প্রতিমাসে সব মিলিয়ে কমপক্ষে ৪০ হাজার কেজি কম্পোস্ট সার উৎপাদন হচ্ছে। প্রতিকেজি সার ৪০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তারা। এতে প্রতিমাসে গড়ে ওই ৩০০টি পরিবার আট লাখ টাকার ভার্মি কম্পোস্ট সার বিক্রি করছেন। কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে গ্রামটিকে 'ভার্মি গ্রাম খামা’ বলে ঘোষণা করে। 

এলাকাবাসী জানান, ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরি করতে দরকার হয় সিমেন্টের তৈরি রিং বা চাড়ি, কেঁচো, গোবর, কলা গাছের টুকরো, কচুরিপানা টুকরো ও আম পাতার টুকরো। এগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করে সিমেন্টের রিংয়ের ভেতরে স্তরে স্তরে রাখা হয়। ৪০ থেকে ৪৫ দিন পর সার উৎপাদন হয়।

সরেজমিনে ভার্মি গ্রাম খামায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় পুরো গ্রামজুড়েই বাড়ির আঙিনায় বাঁশের খুঁটির ওপর তৈরি টিনের একচালা ঘর। ওই ঘরের ভেতরে সিমেন্টের রিংগুলো সারি সারি করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কোথাও রিংগুলোকে ঢেকে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও খোলা রাখা হয়েছে। কৃষকরা বাড়ি থেকে কম্পোস্ট সার কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। 

ভার্মি গ্রামের বাসিন্দা সালমা আক্তার বলেন, আমার খুবই অভাব-অনটনের সংসার ছিল। পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহায়তায় প্রথমে আমি ছয়টি সিমেন্টের রিং দিয়ে কম্পোস্ট সার তৈরি শুরু করি। বর্তমানে আমি ১০০টি সিমেন্টের রিং থেকে সার উৎপাদন করছি। এ থেকে প্রতিমাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। এই আয়ের টাকা থেকে আমি ৮০ হাজার টাকা খরচ করে একটি বসতঘর নির্মাণ করেছি ও দুটি গাভি কিনেছি। পরিবার-পরিজন নিয়ে বর্তমানে সুখে স্বাচ্ছন্দেই আছি। 

পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আবদুস ছামাদ বলেন, ওই গ্রামের অধিকাংশ মানুষ একসময় অভাবের সঙ্গে লড়াই করতেন। বর্তমানে ওই গ্রামের ৩০০টি পরিবার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ ও সহায়তায় ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন করছে। উৎপাদিত সার বিক্রি করে ওই ৩০০টি পরিবার এখন স্বাবলম্বী। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা