• ই-পেপার

কুলাউড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা : ২১ ঘণ্টা পর রেল চালু, দুটি তদন্ত কমিটি

সীতাকুণ্ডে পাহাড়ধসে শিশুর মৃত্যু, আহত মা

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
সীতাকুণ্ডে পাহাড়ধসে শিশুর মৃত্যু, আহত মা
ছবি: কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পাহাড়ধসে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুর মা আহত হয়েছেন। বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

মৃত শিশুর নাম আশরাফুল ইসলাম তানভীর (১০ মাস)। সে জঙ্গল সলিমপুর ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাগানবাড়ি গ্রামের মঈন উদ্দিনের ছেলে। আশরাফুলের মায়ের নাম লামিয়া বেগম। 

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর বাগানবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মো. মঈন উদ্দিন ওই এলাকার একটি পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে টিন ও বাঁশের তৈরি ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন। গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সেখানে পাহাড় ধসের ঝুঁকি দেখা দিলে সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন মাইকিং করে পাহাড় থেকে সবাইকে নেমে এসে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে আহ্বান জানায়। কিন্তু সেসব আহ্বানে সাড়া না দিয়ে অন্য অনেকের মতো মঈন উদ্দিনের পরিবার নিজ ঘরে অবস্থান করছিলেন। এদিকে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠা পাহাড় বুধবার সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ ধসে গেলে তার টিনের ঘরটি ভেঙে পড়ে। এ সময় ঘরে থাকা মঈন উদ্দিনের স্ত্রী লামিয়া বেগম আহত হন ও শিশু আশরাফুল ইসলাম তানভীর গুরুতর আঘাত পেয়ে মারা যায়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড়ধসে এক শিশু মারা গেছে। এ ঘটনায় তার মা আহত হয়েছেন। আমরা লাশ উদ্ধার করেছি। 

ইউএনও আরো বলেন, এর আগে গত মঙ্গলবারও ওই এলাকায় মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ে বসবাসকারী সবাইকে নিরাপদ স্থানে নেমে আসার জন্য আহ্বান করি। কিন্তু কেউই পাহাড় থেকে আমাদের নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রে আসেনি। এর ফলে একটি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে গেল। মৃত শিশুর পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা ও শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে।

২ ফুট পানির নিচে রেললাইন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
২ ফুট পানির নিচে রেললাইন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ
ছবি: কালের কণ্ঠ

টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের একাংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় এ রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

বুধবার (৮ জুলাই) সকালে রেলওয়ের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, চট্টগ্রাম-পটিয়া-কক্সবাজার রেলপথের জানআলীহাট ও ষোলশহর স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশে রেললাইন এখনো প্রায় দুই ফুট পানির নিচে রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কক্সবাজারগামী সব ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে কক্সবাজারগামী শতাধিক যাত্রী আটকা পড়েছেন। মঙ্গলবার ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম পর্যন্ত পৌঁছালেও সেখান থেকে আর কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা করতে পারেনি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ট্রেনটির কক্সবাজারগামী যাত্রা বাতিল করা হয়। বুধবার ভোরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কক্সবাজার এক্সপ্রেসও চট্টগ্রাম স্টেশনে আটকে রয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) আনিসুর রহমান বলেন, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। প্রকৌশল বিভাগ রেললাইন নিরাপদ ঘোষণা না করা পর্যন্ত কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। পানি নেমে যাওয়ার পর রেললাইন, স্লিপার, সিগন্যাল ও রেলবেড পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ট্রেন চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, যেসব যাত্রী কক্সবাজার সফর বাতিল করতে চান, তারা চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকিটের অর্থ ফেরত নিতে পারবেন। আর যারা ঢাকায় ফিরতে চান, তাদের জন্য বুধবার বিকেলে কক্সবাজার এক্সপ্রেসে ফেরার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

স্টেশনে অপেক্ষমাণ অনেক যাত্রী দুর্ভোগ ও ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন। কেউ পরিবার নিয়ে ভ্রমণে যাচ্ছিলেন, কেউ আগে থেকেই হোটেল বুকিং করলেও ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। অনেকেই টিকিট ফেরত নিয়েছেন, আবার কেউ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

এদিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেললাইন পাঁচ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। বুধবার সকালে ষোলশহর এলাকায় জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাওয়া রেললাইন পরিদর্শন শেষে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত রেললাইন পাঁচ ফুট উঁচু করা হলে অতিবৃষ্টিতেও রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, প্রকল্পটি বর্তমানে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতাজনিত রেল যোগাযোগ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলাবদ্ধতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় আপাতত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পানি নেমে গেলে প্রকৌশল বিভাগের নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হবে। আগাম টিকিট কাটা যাত্রীরা প্রচলিত নিয়মে ভাড়ার অর্থ ফেরত পাবেন।

মান্দা

বিল ইজারা নিয়ে উপ-ইজারা, মৎস্যজীবীদের প্রতিবাদ

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
বিল ইজারা নিয়ে উপ-ইজারা, মৎস্যজীবীদের প্রতিবাদ
নওগাঁর মান্দার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে ইজারা নেওয়া নাপিতপাড়া বিল উপ-ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে বুধবার বিক্ষোভ মিছিল বের করে মৎস্যজীবী পরিবারের সদস্যরা। ছবি: কালের কণ্ঠ

নাপিতপাড়া ও পার-কুলিহার মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি নওগাঁর মান্দা উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের মৎস্যজীবীদের সংগঠন। এলাকার নাপিতপাড়া বিলটি ১৪৩১ থেকে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত অনুকূলে ইজারা দেয় উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি।

তবে বিলটি সদস্যদের না জানিয়ে অন্যের কাছে উপ-ইজারা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। এতে এলাকার ২০০ মৎস্যজীবী পরিবার মাছ শিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দাবি করে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন পরিবারগুলোর সদস্যরা। 

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে নাপিতপাড়া গ্রামের সড়কে মানববন্ধনে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল গ্রামের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বিলটি পুনরায় সমিতির নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে দিতে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন বিক্ষোভকারীরা। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের নাপিতপাড়া (জলিঙ্গি) বিলের খাস জমির পরিমাণ ৯ দশমিক ৩৬ একর। বর্ষা মৌসুমে পানি বেড়ে বিলটির আয়তন দাঁড়ায় প্রায় ২০ একরে। ১৪৩১ থেকে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৮৭৫ টাকায় বিলটি নাপিতপাড়া ও পার-কুলিহার মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের অনুকূলে ইজারা দেয় উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি।

মৎস্যজীবীদের দাবি, ইজারা পাওয়ার পর সমিতির সদস্যদের চাঁদার অর্থে বিলে মাছ চাষ করা হয়। পাশাপাশি এলাকার অন্তত ২০০ মৎস্যজীবী পরিবার ওই বিলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। সমিতির সদস্যদের প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা আমানত এবং দুই বছরের মাছ চাষের লভ্যাংশ সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের কাছে রয়েছে বলেও জানান তারা।

মৎস্যজীবীদের অভিযোগ, চলতি বর্ষা মৌসুমের জন্য বিলের বিভিন্ন কুয়ায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ অবমুক্ত করা হয়। সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন সদস্যদের না জানিয়ে  কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের আন্ধারিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মিলন হোসেনের কাছে মাছসহ বিল উপ-ইজারা দেন।

মৎস্যজীবীদের ভাষ্য, উপ-ইজারা নেওয়ার পর মিলন বিলটির চারপাশ নেটজাল দিয়ে ঘিরে দিয়েছেন। এতে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা আর বিলে মাছ শিকার করতে পারছেন না।

নাপিতপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মনজুর আলী বলেন, ‘এলাকার মৎস্যজীবীদের স্বার্থে সমিতির নামে বিলটি লিজ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আয়-ব্যয়ের হিসাব না দিয়ে সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা করছেন।’

মৎস্যজীবী সাইদুর রহমান বলেন, ‘হঠাৎ করেই সমিতির দুই নেতা গোপনে বিলটি সাবলিজ দিয়েছেন। এখন বিলে আমাদের নামতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরা চরম বিপাকে পড়েছি।’

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নাপিতপাড়া গ্রামের সাহেব আলী, মনজুর আলী মিস্ত্রি, সাইদুর রহমান, নায়েব আলী ও রুবেল হোসেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের বক্তব্য জানতে তাদের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

বিল উপ-ইজারা নেওয়া মিলন হোসেন বলেন, ‘সমিতির নেতাদের কাছ থেকে বিল সাবলিজ নিয়ে মাছ চাষ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সেখানে অনেক টাকা ইনভেস্ট করা হয়েছে ‘ সাবলিজ নেওয়া বৈধ কিনা জানতে চাইলে প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যান তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের অনুকূলে লিজ হওয়া বিলটি সাবলিজ দেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বারহাট্টায় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
বারহাট্টায় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

নেত্রকোনার বারহাট্টায় আদালতের দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার চিরাম ইউয়িনের নিচ-চিরাম গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে। বুধবার (৮ জুলাই) ভোররাতে তার নিজ বসতবাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বারহাট্টা থানার ওসি চম্পক দাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারের নাম দোকান মিয়া (৩২)। 

ওসি জানান, দোকান মিয়া ২০২৪ সালে বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের একটি মামলায় আদালতের দণ্ডপ্রাপ্ত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারি করেন আদালত। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।