চিকিৎসা ও প্রযুক্তির এই অভিনব মেলবন্ধনে অটিজম চিকিৎসায় এআই-ভিত্তিক সলিউশন এনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ‘নিউরোনারচার’। রানার-আপ হয়েছে ‘টিম স্টার’, যারা প্রান্তিক পর্যায়ে মিডওয়াইফদের প্রশিক্ষণে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে এবং সেকেন্ড রানার-আপ হয়েছে ‘মেডিলিঙ্ক’, যারা জীবন রক্ষায় আইসিইউ বেড ও জরুরি ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে একটি লাইভ লজিস্টিক অ্যাপ তৈরি করেছে। এই তিনটি দলই এখন ঢাকায় অনুষ্ঠেয় ন্যাশনাল গ্র্যান্ড ফিনালেতে লড়বে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী বলেন, আমাদের মেডিক্যাল কলেজগুলোতে গবেষণা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে কিছু কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে বিএমডিসি এ বিষয়ে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে ডব্লিউডিওএমএস স্বীকৃতির প্রচেষ্টা চলছে, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে ইউএসএমএলই-এর মতো আন্তর্জাতিক সুযোগ এনে দেবে। তবে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন, গবেষণা সহায়তা ও ডিজিটাল এথিক্সের ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে বলেন, এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলার মাধ্যমেই টেকসই উদ্ভাবন সম্ভব। প্যানেল আলোচনার শেষে সব বক্তা একমত হন যে, ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য খাত রক্ষায় চিকিৎসা, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারণের সমন্বিত আন্তঃখাতভিত্তিক উদ্যোগই একমাত্র কার্যকর পথ। মেডিক্যাল শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে এক নতুন দিগন্তের সূচনা সম্পর্কে ডিএনএ হেলথ কমিউনিকেশনের প্রতিষ্ঠাতা এসএমও নাওয়েদ এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই হ্যাকথন মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের জন্য এমন এক সুযোগ তৈরি করল, যেখানে তারা প্রকৌশল ও ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে পারছে। তিনি জোরালো দাবি জানান, দেশে চলমান সমস্ত স্বাস্থ্য গবেষণার তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি ‘সেন্ট্রাল ডেটা রিপোজিটরি’ বা কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার তৈরির, যাতে স্থানীয় মেধার এই উদ্ভাবনগুলো হারিয়ে না যায় বরং জাতীয় সম্পদে পরিণত হয়— যা হেলথকেয়ার এআই টুল তৈরিতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ডিজিএইচএস/এমআইএসের সিনিয়র কনসালটেন্ট এবং ন্যাশনাল আইসিটি অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী মুহাম্মদ আসিফ আতিক এই আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ডিএনএ হ্যাক ফর হেলথ একটি অসাধারণ সফল উদ্যোগ, আলহামদুলিল্লাহ। মেডিক্যাল ডোমেইনে এটিই প্রথম আয়োজন হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি ছিল সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রযুক্তির সংযোজন থেকে শুরু করে চিন্তাধারা এবং দিকনির্দেশনা—সব মিলিয়ে পুরো আয়োজনটি ছিল এককথায় অনবদ্য। সিলেটে জ্বলে ওঠা এই উদ্ভাবনের মশাল খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়বে সারা দেশে। ডিএনএ হেলথ কমিউনিকেশন ঘোষণা করেছে যে এই বছর দেশের প্রতিটি বিভাগীয় মেডিক্যাল কলেজে এই হ্যাকথন অনুষ্ঠিত হবে। তবে আয়োজন শুধু প্রযুক্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; স্বাস্থ্য সচেতনতা ও মানসিক প্রশান্তির লক্ষ্যে বছরজুড়ে থাকবে ওয়াকথন, ম্যারাথন, আর্ট ও ফটোগ্রাফি এক্সজিবিশন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ স্ট্যান্ডআপ কমেডি শো। প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির এই মেলবন্ধনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত দেখবে এক নতুন ভোরের স্বপ্ন।