• ই-পেপার

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে যুক্ত হচ্ছে ৪ নতুন বিষয়

পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ

অনলাইন ডেস্ক
পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ

পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদারকে নিয়োগ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সোমবার (৮ ‍জুন) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন।

এতে বলা হয়েছে, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, আইন ২০২২-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী ড. মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদারকে পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো।’

এক্ষেত্রে আরোপিত শর্তগুলো হলো— উপাচার্য পদে তার নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ হতে ৪ বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ, এর মধ্যে যা পূর্বে ঘটে সেই সময় পর্যন্ত তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকবেন; এ পদে তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন; তিনি বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন; বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন; এবং রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনে যে কোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ইআবিতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ইআবিতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং কর্মময় জীবন থেকে শিক্ষা ও প্রেরণা নিয়ে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইআবি) ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান|

সোমবার (৮ জুন) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর-উত্তম)-এর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনাসভা ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন|

ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থার তাৎপর্য বুঝে এই দেশের জনশক্তিকে মানবসম্পদে পরিণত করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো এর জনগণ। তাই তিনি মানবশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কৃষি, শিক্ষা, শিল্প, অবকাঠামো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি একটি আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তি রচনা করেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় কুটনীতির মাধ্যমে দেশকে বিশ্ব দরবারে সুপরিচিত করার লক্ষ্যে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহ নিয়ে তিনি সার্ক গঠন করেছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল এশিয়ার দেশগুলোর সাথে ভাতৃ-প্রতিম সম্পর্ক তৈরি করা যাতে বাংলাদেশের দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সুসম্পর্ক বজায়ের মাধ্যমে সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নেও জিয়া পরিবারের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া তাঁর সরকারের সময়ে মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে ফাজিল শ্রেণিকে ডিগ্রি এবং কামিলকে মাস্টার্সের সমমান প্রদান করা হয়, যা মাদরাসা শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে অধিকতর সংযুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এরই ধারাবহিকতায় বর্তমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার জনাব শাহীনুল ইসলাম। এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের প্রকল্প পরিচালক প্রফেসর নওসের আলী, উপ-পরিচালক মো. জিয়াউর রহমান।

সভায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মজীবন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরে বিশেষ মোনাজাতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, তাঁর সহধর্মিণী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ফাহাদ আহমদ মোমতাজীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। 

পবিপ্রবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হেমায়েত জাহান

পবিপ্রবি প্রতিনিধি
পবিপ্রবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হেমায়েত জাহান
অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান। সংগৃহীত ছবি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান।

সোমবার (৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে অধ্যাপক ড. হেমায়েত জাহানের নিয়োগের মেয়াদ হবে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ পর্যন্ত, যেটি আগে হবে। উপাচার্য হিসেবে তিনি বিধি অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রসঙ্গত, অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান দীর্ঘদিন ধরে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সর্বশেষ তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা

উপকূলের লবণাক্ত মাটিতে তুলার সফল চাষ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
উপকূলের লবণাক্ত মাটিতে তুলার সফল চাষ
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ফিল্ডে এ প্রতিবেদককে তুলা চাষ দেখাচ্ছেন তিন গবেষক। রবিবার তোলা। কালের কণ্ঠ

দীর্ঘদিন ধরে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত মাটিকে তুলা চাষের জন্য অনুপযোগী বলে মনে করা হতো। তবে সেই ধারণা পাল্টে দিয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) গবেষকরা। তারা সেখানে তুলার সফল উৎপাদন ও রোগ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশবান্ধব জৈব প্রযুক্তি প্রয়োগে সফল হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ড ল্যাবরেটরিতে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, উপকারী অণুজীব ট্রাইকোডার্মা হারজিয়ানাম, ট্রাইকোডার্মা অ্যাসপেরেলাম এবং ব্যাসিলাস সাবটিলিসের সমন্বিত প্রয়োগ তুলার অন্যতম ক্ষতিকর রোগ ফিউজারিয়াম উইল্ট দমনে অত্যন্ত কার্যকর। একই সঙ্গে এই প্রযুক্তি তুলা গাছের বেড়ে ওঠা, ফলন ও কৃষকের আয় বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

গবেষণায় বিভিন্ন তুলার জাতের ওপর এসব অণুজীব পৃথক ও সমন্বিতভাবে প্রয়োগ করে তাদের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়। পরীক্ষায় ব্যবহৃত তুলার জাতগুলোর মধ্যে ছিল সিবি-১২ থেকে সিবি-২০, রুপালি-১, হোয়াইট গোল্ড-১ এবং হোয়াইট গোল্ড-২। ফল হিসেবে দেখা যায়, তিনটি অণুজীবের সমন্বিত প্রয়োগে তুলা গাছ সবচেয়ে বেশি সুস্থ ও সবল হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রোগের আক্রমণ ছিল সর্বনিম্ন এবং ফলন ছিল সর্বোচ্চ। এককভাবে অণুজীব প্রয়োগের তুলনায় সমন্বিত প্রয়োগ বেশি কার্যকর ফল দিয়েছে।

গবেষকদের মতে, এসব উপকারী অণুজীব মাটিতে রোগ-জীবাণুর বৃদ্ধি দমন করে, শিকড়ের বিকাশ বাড়ায়, গাছের পুষ্টিগ্রহণে সহায়তা করে এবং প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ফলে প্রতিকূল পরিবেশেও তুলা গাছ ভালো ফলন দিতে সক্ষম হয়।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বস্ত্রশিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলেও দেশের মোট তুলার চাহিদার প্রায় ৯৭ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ভারত, পাকিস্তান, উজবেকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ তুলা আমদানির ফলে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। 

গবেষকরা বলছেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ লবণাক্ত জমিকে তুলা চাষের আওতায় আনা গেলে জাতীয় পর্যায়ে তুলা উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানিনির্ভরতা অনেকাংশে কমে আসবে।

গবেষণার আরেকটি দিক হলো, পরীক্ষামূলক ক্ষেতে তুলাগাছে উল্লেখযোগ্য কোনো পোকামাকড় বা রোগের আক্রমণ দেখা যায়নি। ফলে রাসায়নিক কীটনাশক ও ছত্রাকনাশকের ব্যবহার কমানো সম্ভব, যা কৃষিকে আরো পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করতে সহায়তা করবে।

গবেষকরা অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখেছেন, এই প্রযুক্তি অনুসরণ করে তুলা চাষ করলে কৃষকরা প্রতিবিঘা জমি থেকে ৫০ হাজার থেকে ৬৬ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করতে পারেন। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের জন্য তুলা একটি লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

গবেষণা প্রকল্পটির নেতৃত্ব দেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিপ্রযুক্তি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলাম। সহ-গবেষক হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক ড. সিমুল দাস। মাঠপর্যায়ের গবেষণা কার্যক্রম, তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে ভূমিকা রাখেন এমএস শিক্ষার্থী ও রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মো. আসাদুর রহমান।

গবেষকরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তুলা একটি সম্ভাবনাময় ফসল হতে পারে। পরিবেশবান্ধব জৈবপ্রযুক্তির মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও উচ্চ ফলন নিশ্চিত করা গেলে উপকূলের হাজারো কৃষকের আয় বাড়বে। একই সঙ্গে দেশের বস্ত্রশিল্পের জন্য স্থানীয়ভাবে তুলার জোগান বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।