ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেছেন, ‘আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন বা ডিজিটাল রূপান্তরের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ও দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বিদ্যমান ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।’
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রমের প্রথম ধাপে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরবচ্ছিন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা হবে। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল ক্লাসরুম, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা অবকাঠামো এবং স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের যেকোনো অঞ্চলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণা এবং ডিজিটাল জ্ঞানভাণ্ডার ব্যবহারের সমান সুযোগ পাবেন। বিদেশি গবেষণা জার্নাল, ই-বুক, গবেষণা নিবন্ধ এবং অন্যান্য ডিজিটাল রিসোর্সে সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নের পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্ঞানচর্চার সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বাড়বে।
অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, দেশকে ডিজিটাল রূপান্তরের পথে এগিয়ে নেওয়া এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেট বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের গ্র্যাজুয়েটদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা বিশ্বের যেকোনো দেশের কর্মবাজারে দক্ষতা ও যোগ্যতার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারেন। এ জন্য শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত, ভাষাগত ও পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে হবে।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদের অধীনে ২৫টি বিভাগে প্রায় ১১ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে আউটকাম-বেইজড কারিকুলামের ভিত্তিতে পাঠদান পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে গবেষকদের আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে গবেষণা প্রকাশের পরিধিও ক্রমে বাড়ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে উপাচার্য বেসিক সায়েন্স বিষয়ে নতুন বিভাগ চালু, প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে ইউজিসির সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।




