• ই-পেপার

বিনিয়োগে কেন আস্থার সংকট

কমাতে হবে জটিলতা

  • রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা

বিনিয়োগে কেন আস্থার সংকট

বৈশ্বিক অস্থিরতাও চাপ তৈরি করেছে

মাশরুর আরেফিন, এমডি সিটি ব্যাংক

অনলাইন ডেস্ক
বৈশ্বিক অস্থিরতাও চাপ তৈরি করেছে
মাশরুর আরেফিন

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাশরুর আরেফিন মনে করেন, ব্যবসায়ীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে শুধু দেশীয় নয়, বৈশ্বিক বিভিন্ন অনিশ্চয়তারও অবসান প্রয়োজন। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, কভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক অভিঘাত, সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং ইরানকে ঘিরে অস্থিরতা ব্যবসায়ীদের ওপর ধারাবাহিক চাপ তৈরি করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে ডলার-টাকার বিনিময় হারের অস্থিরতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি।

বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডিদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) এই চেয়ারম্যান বলেন, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সুদহার সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে ঋণের সুদহারও তুলনামূলক বেশি রাখতে হচ্ছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য কম খরচে অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ সীমিত করছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আশাবাদী।

মাশরুর আরেফিনের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি যে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, তা অর্থনীতির জন্য ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করতে পারে। এসব তহবিল থেকে ব্যবসায়ীরা তুলনামূলক নির্ধারিত ও সহনীয় সুদহারে ঋণ পেলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়বে এবং বিনিয়োগে নতুন গতি সৃষ্টি হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের শিল্প ও বিনিয়োগ পরিবেশকে শক্তিশালী করতে জ্বালানি খাতের সমস্যার দ্রুত সমাধান জরুরি। তাঁর বিশ্বাস, সরকার চাইলে এ খাতের সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। মাশরুর আরেফিনের ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং হলেও আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত প্রণোদনা কর্মসূচি এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে এলে ব্যবসায়ীদের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে এবং বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সৃষ্টি হবে। দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশে বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আস্থা ফিরে আসবে বলে তিনি আশাবাদী।

তাঁর মতে, বর্তমানে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশেরও নিচে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে এ পরিসংখ্যানকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে বাস্তব চিত্র পুরোপুরি বোঝা যাবে না। মাশরুর আরেফিন বলেন, অতীতে যখন ঋণ প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশ বা তার বেশি ছিল, তখন সেই ঋণের একটি বড় অংশ ছিল বেনামি কিংবা অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণ। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক খাত থেকে যে বিপুল পরিমাণ অনিয়মিত ঋণের তথ্য সামনে এসেছে, তা বিবেচনায় নিলে প্রকৃত বা কার্যকর ঋণ প্রবৃদ্ধি অতীতে এত বেশি ছিল না বলেই তাঁর ধারণা। বাস্তব অর্থে ঋণ প্রবৃদ্ধি সম্ভবত ৬ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যেই ছিল।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

দর কমার পর আজ নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি কত?

অনলাইন ডেস্ক
দর কমার পর আজ নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি কত?

ঈদের পর দেশে দ্বিতীয় দফায় কমেছে সোনার দাম। ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

গতকাল শনিবার (৬ জুন) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাজুস। নতুন করে দামে পরিবর্তন না আসায় আজ রবিবারও (০৭ জুন) একই দামে বিক্রি হবে সোনা।

বাজুসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা।

এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে, ২ জুন ঈদের পর প্রথম দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেসময় ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা নির্ধারণ করে সংগঠনটি। 

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

ঋণের বোঝায় অর্থনীতি

পরিশোধ করতে যাবে ১,২৭,৫০০ কোটি টাকা সারা বছর চাপে থাকবে সামষ্টিক অর্থনীতি

অনলাইন ডেস্ক
ঋণের বোঝায় অর্থনীতি

আর্থিক সংকট এড়াতে অনেক বেশি পরিমাণে দেশিবিদেশি ঋণ নিতে হচ্ছে সরকারকে। সরকারের আয় কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, শুধু উন্নয়ন ব্যয়ই নয়, সরকারের দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় মেটাতেও ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আবার অতীতে মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর সুদ পরিশোধের চাপও বাড়ছে প্রতিদিন। যার ফলে সরকারের দেশিবিদেশি ঋণের বোঝা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। একই সঙ্গে চাপ ঋণের সুদ পরিশোধেরও। আসছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সুদ পরিশোধের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ। চলতি অর্থবছর এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি বাজেটে প্রাক্কলের চেয়েও ৫ হাজার কোটি টাকা বেশি সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তুত করা বাজেট ডকুমেন্টে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এরই মধ্যে আবার নতুন এক ঋণ কর্মসূচির আলোচনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে। এ ঋণের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি। পরিস্থিতি সামলাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার প্রাক্কালে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম দুই দফা বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ পরশুদিন রেকর্ড পরিমাণ ১৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের দাম। এতে একদিকে সরকারের ওপর ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ। ধারণা করা হচ্ছে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পুরো সময়টা চাপের মধ্যে থাকবে সামষ্টিক অর্থনীতি। খোদ অর্থ বিভাগও এমন ধারণা করছে। তবু বৈশ্বিক চাপ সামাল দিতে একের পর এক সব ধরনের জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বছরব্যাপী ধাপে ধাপে বাড়ানোর প্রক্রিয়াই বেছে নিয়েছে সরকার।

এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংক ঢাকার সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বাংলাদেশের ঋণের বোঝা বাড়ছে এটা নতুন নয়। আরও আগে থেকেই এটা বাড়ছে। একসময় বাংলাদেশে পরিশোধ সক্ষমতা বেশ ভালো ছিল। সেটা সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। এর কারণ হলো দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ভিত দুর্বল হয়ে যাওয়া। আর্থিক খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি। সরকারের আয় কমে যাওয়া। আবার গত এক দশকে অপ্রয়োজনীয় এবং অতিমূল্যায়িত প্রকল্পগুলোও এর জন্য দায়ী বলে তিনি মনে করেন।

জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকারের পরিচালন ব্যয় মেটাতে প্রকৃত রাজস্ব আয় ৪৬৩ কোটি টাকা কম পড়ে। পরে সেই ঘাটতি ঋণ নিয়ে পূরণ করা হয়। পরের বছর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬৩০ কোটি টাকায়। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রধান মাধ্যম বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) পুরো ব্যয়ই ঋণ নিয়ে চালাতে হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ সংকটের পেছনে রয়েছে কয়েকটি বড় কারণ। একদিকে সরকার বড় বড় মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে, অন্যদিকে বাজেটের আকারও দ্রুত বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে রাজস্ব আদায় বাড়েনি। ফলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান ক্রমেই বড় হয়েছে, আর সেই ঘাটতি পূরণে ধারাবাহিকভাবে ঋণ নিতে হয়েছে। এ মুহূর্তে বাংলাদেশকে অন্যতম বড় ঋণদাতা সংস্থা আইএমএফ তাদের ঋণ স্থায়িত্ব বিশ্লেষণে ‘কম ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশ থেকে ‘মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের তালিকায় স্থান দিয়েছে। ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি, জিডিপির তুলনায় ঋণ পরিশোধের চাপ, রপ্তানি আয় ও রাজস্ব আদায়ের দুর্বল অবস্থার ভিত্তিতেই এ মূল্যায়ন করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসা বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য এ ঋণ পরিশোধের চাপ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। সরকার এখন তাদের প্রথম বাজেট প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে ঋণ পরিশোধ ব্যয়ের দ্রুত বৃদ্ধি। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশিবিদেশি ঋণের আসল ও সুদ মিলিয়ে বাংলাদেশকে ৩০ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই ব্যয় ছিল ২৬ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার। আর ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩৩ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর মধ্যে শুধু সুদ বাবদই পরিশোধ করতে হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেই (জুলাই-মার্চ) বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপানসহ দাতাদের ঋণের সুদ ও আসলের কিস্তি দিতে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

বিনিয়োগে কেন আস্থার সংকট

বিনিয়োগ বাড়ান কর কমান

সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এপেক্স ফুটওয়্যার

অনলাইন ডেস্ক
বিনিয়োগ বাড়ান কর কমান
সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর

বেসরকারি খাতের বিকাশ এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশের করকাঠামোয় বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। তার মতে বর্তমান ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ করপোরেট করহার আঞ্চলিক প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বেশি। ফলে বিনিয়োগ পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় করতে ভিয়েতনামের মতো করপোরেট কর ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু করের হার নয়, বরং নীতির অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনিক জটিলতা। ব্যবসায়ীরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারেন না। কারণ নীতি ও কর ব্যবস্থায় ঘন ঘন পরিবর্তন আসে। এ কারণে তিনি অন্তত তিন বছরের জন্য স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য করনীতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। দেশের বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা প্রসঙ্গে তিনি বিমানবন্দরের গুদাম ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করেন।

তার ভাষায়, আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে প্রতি বছর কয়েক শ মিলিয়ন ডলারের কাঁচামাল ও পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা দেশের রপ্তানি ও শিল্প খাতের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ।

কর প্রশাসনের আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল ও ঝুঁকিভিত্তিক (রিস্ক-বেইস্ড) অডিট ব্যবস্থা চালু করা হলে কর আদায়ের দক্ষতা বাড়বে এবং ব্যবসায়ীদের হয়রানিও কমবে। স্বাস্থ্য খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর।

তিনি বলেন, দেশে মোট চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৭৪ শতাংশই জনগণকে নিজেদের পকেট থেকে বহন করতে হয়, যা একটি উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্যসেবার মান ও সক্ষমতা বাড়াতে এ খাতে আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন