সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাশরুর আরেফিন মনে করেন, ব্যবসায়ীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে শুধু দেশীয় নয়, বৈশ্বিক বিভিন্ন অনিশ্চয়তারও অবসান প্রয়োজন। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, কভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক অভিঘাত, সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং ইরানকে ঘিরে অস্থিরতা ব্যবসায়ীদের ওপর ধারাবাহিক চাপ তৈরি করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে ডলার-টাকার বিনিময় হারের অস্থিরতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি।
বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডিদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) এই চেয়ারম্যান বলেন, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সুদহার সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে ঋণের সুদহারও তুলনামূলক বেশি রাখতে হচ্ছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য কম খরচে অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ সীমিত করছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আশাবাদী।
মাশরুর আরেফিনের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি যে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, তা অর্থনীতির জন্য ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করতে পারে। এসব তহবিল থেকে ব্যবসায়ীরা তুলনামূলক নির্ধারিত ও সহনীয় সুদহারে ঋণ পেলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়বে এবং বিনিয়োগে নতুন গতি সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের শিল্প ও বিনিয়োগ পরিবেশকে শক্তিশালী করতে জ্বালানি খাতের সমস্যার দ্রুত সমাধান জরুরি। তাঁর বিশ্বাস, সরকার চাইলে এ খাতের সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। মাশরুর আরেফিনের ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং হলেও আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত প্রণোদনা কর্মসূচি এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে এলে ব্যবসায়ীদের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে এবং বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সৃষ্টি হবে। দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশে বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আস্থা ফিরে আসবে বলে তিনি আশাবাদী।
তাঁর মতে, বর্তমানে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশেরও নিচে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে এ পরিসংখ্যানকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে বাস্তব চিত্র পুরোপুরি বোঝা যাবে না। মাশরুর আরেফিন বলেন, অতীতে যখন ঋণ প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশ বা তার বেশি ছিল, তখন সেই ঋণের একটি বড় অংশ ছিল বেনামি কিংবা অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণ। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক খাত থেকে যে বিপুল পরিমাণ অনিয়মিত ঋণের তথ্য সামনে এসেছে, তা বিবেচনায় নিলে প্রকৃত বা কার্যকর ঋণ প্রবৃদ্ধি অতীতে এত বেশি ছিল না বলেই তাঁর ধারণা। বাস্তব অর্থে ঋণ প্রবৃদ্ধি সম্ভবত ৬ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যেই ছিল।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন




