• ই-পেপার

ঋণের বোঝায় অর্থনীতি

  • পরিশোধ করতে যাবে ১,২৭,৫০০ কোটি টাকা
  • সারা বছর চাপে থাকবে সামষ্টিক অর্থনীতি

বিনিয়োগে কেন আস্থার সংকট

কমাতে হবে জটিলতা

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
কমাতে হবে জটিলতা
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ বাড়াতে হলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে হবে। পাশাপাশি দেশি ও রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি, ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রশাসনিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব বাড়াতে হবে।’

গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। ‘সংকট মুহূর্তের বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘চর্চা ডটকম’। প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকার একটি নতুন অর্থনৈতিক মডেল নিয়ে কাজ করছে, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। সরকারের দর্শন হলো “সবার জন্য বাংলাদেশ”, যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।’

বন্ধ কারখানা পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার পুনর্গঠন প্যাকেজ নিয়ে কাজ করছে।’ একই সঙ্গে কৃষি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের জন্য পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয়ের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং তৃণমূল পর্যায়ে সেবার সম্প্রসারণের ওপরও জোর দেন তিনি।

এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম মঞ্জুর বলেন, ‘বেসরকারি খাতের বিকাশ ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য করকাঠামোয় বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নীতির অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে। তাই অন্তত তিন বছরের জন্য স্থিতিশীল করনীতি নিশ্চিত করা জরুরি।’

গবেষক ও অধিকারকর্মী মাহা মির্জা বলেন, ‘দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত্তি হওয়া সত্ত্বেও কৃষি খাত দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পায়নি। ২০২৬ সালেও কৃষকের ধান শুকানোর জন্য রোদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা আধুনিক কৃষিব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’ চর্চা সম্পাদক সোহরাব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাশরুর রিয়াজ, সাবেক অর্থসচিব মুসলিম চৌধুরী, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রমুখ।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

বিনিয়োগে কেন আস্থার সংকট

বৈশ্বিক অস্থিরতাও চাপ তৈরি করেছে

মাশরুর আরেফিন, এমডি সিটি ব্যাংক

অনলাইন ডেস্ক
বৈশ্বিক অস্থিরতাও চাপ তৈরি করেছে
মাশরুর আরেফিন

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাশরুর আরেফিন মনে করেন, ব্যবসায়ীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে শুধু দেশীয় নয়, বৈশ্বিক বিভিন্ন অনিশ্চয়তারও অবসান প্রয়োজন। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, কভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক অভিঘাত, সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং ইরানকে ঘিরে অস্থিরতা ব্যবসায়ীদের ওপর ধারাবাহিক চাপ তৈরি করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে ডলার-টাকার বিনিময় হারের অস্থিরতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি।

বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডিদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) এই চেয়ারম্যান বলেন, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সুদহার সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে ঋণের সুদহারও তুলনামূলক বেশি রাখতে হচ্ছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য কম খরচে অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ সীমিত করছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আশাবাদী।

মাশরুর আরেফিনের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি যে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, তা অর্থনীতির জন্য ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করতে পারে। এসব তহবিল থেকে ব্যবসায়ীরা তুলনামূলক নির্ধারিত ও সহনীয় সুদহারে ঋণ পেলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়বে এবং বিনিয়োগে নতুন গতি সৃষ্টি হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের শিল্প ও বিনিয়োগ পরিবেশকে শক্তিশালী করতে জ্বালানি খাতের সমস্যার দ্রুত সমাধান জরুরি। তাঁর বিশ্বাস, সরকার চাইলে এ খাতের সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। মাশরুর আরেফিনের ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং হলেও আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত প্রণোদনা কর্মসূচি এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে এলে ব্যবসায়ীদের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে এবং বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সৃষ্টি হবে। দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশে বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আস্থা ফিরে আসবে বলে তিনি আশাবাদী।

তাঁর মতে, বর্তমানে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশেরও নিচে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে এ পরিসংখ্যানকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে বাস্তব চিত্র পুরোপুরি বোঝা যাবে না। মাশরুর আরেফিন বলেন, অতীতে যখন ঋণ প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশ বা তার বেশি ছিল, তখন সেই ঋণের একটি বড় অংশ ছিল বেনামি কিংবা অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণ। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক খাত থেকে যে বিপুল পরিমাণ অনিয়মিত ঋণের তথ্য সামনে এসেছে, তা বিবেচনায় নিলে প্রকৃত বা কার্যকর ঋণ প্রবৃদ্ধি অতীতে এত বেশি ছিল না বলেই তাঁর ধারণা। বাস্তব অর্থে ঋণ প্রবৃদ্ধি সম্ভবত ৬ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যেই ছিল।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

দর কমার পর আজ নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি কত?

অনলাইন ডেস্ক
দর কমার পর আজ নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি কত?

ঈদের পর দেশে দ্বিতীয় দফায় কমেছে সোনার দাম। ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

গতকাল শনিবার (৬ জুন) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাজুস। নতুন করে দামে পরিবর্তন না আসায় আজ রবিবারও (০৭ জুন) একই দামে বিক্রি হবে সোনা।

বাজুসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা।

এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে, ২ জুন ঈদের পর প্রথম দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেসময় ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা নির্ধারণ করে সংগঠনটি। 

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

বিনিয়োগে কেন আস্থার সংকট

বিনিয়োগ বাড়ান কর কমান

সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এপেক্স ফুটওয়্যার

অনলাইন ডেস্ক
বিনিয়োগ বাড়ান কর কমান
সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর

বেসরকারি খাতের বিকাশ এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশের করকাঠামোয় বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। তার মতে বর্তমান ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ করপোরেট করহার আঞ্চলিক প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বেশি। ফলে বিনিয়োগ পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় করতে ভিয়েতনামের মতো করপোরেট কর ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু করের হার নয়, বরং নীতির অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনিক জটিলতা। ব্যবসায়ীরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারেন না। কারণ নীতি ও কর ব্যবস্থায় ঘন ঘন পরিবর্তন আসে। এ কারণে তিনি অন্তত তিন বছরের জন্য স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য করনীতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। দেশের বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা প্রসঙ্গে তিনি বিমানবন্দরের গুদাম ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করেন।

তার ভাষায়, আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে প্রতি বছর কয়েক শ মিলিয়ন ডলারের কাঁচামাল ও পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা দেশের রপ্তানি ও শিল্প খাতের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ।

কর প্রশাসনের আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল ও ঝুঁকিভিত্তিক (রিস্ক-বেইস্ড) অডিট ব্যবস্থা চালু করা হলে কর আদায়ের দক্ষতা বাড়বে এবং ব্যবসায়ীদের হয়রানিও কমবে। স্বাস্থ্য খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর।

তিনি বলেন, দেশে মোট চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৭৪ শতাংশই জনগণকে নিজেদের পকেট থেকে বহন করতে হয়, যা একটি উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্যসেবার মান ও সক্ষমতা বাড়াতে এ খাতে আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন