• ই-পেপার

বন্ধ শিল্প চালু করতে কম সুদে ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ, যারা পাবে

দর কমার পর নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

অনলাইন ডেস্ক
দর কমার পর নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

দেশের বাজারে ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

গত মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকেই সোনার নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। আজ শুক্রবারও একই দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমায় নতুন এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে, সবশেষ গত ২৫ মে সকালে দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

এদিকে সোনার দাম কমানোর সঙ্গে দেশের বাজারে কমানো হয়েছে রুপার দামও। ভরিতে ১১৭ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা। 

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মানুষের ওপর চাপ আরো বাড়বে : সিপিডি

অনলাইন ডেস্ক
মানুষের ওপর চাপ আরো বাড়বে : সিপিডি

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ আরো তীব্র হয়েছে। গত বুধবার নতুন করে বেড়েছে বিদ্যুতের দাম। ফলে সাধারণ মানুষের পারিবারিক খরচ চালানো আরো কঠিন হয়ে পড়বে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি : উত্তরণকালীন বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ’ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলা হয়। রাজধানীর ধানমণ্ডিতে সিপিডির নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান ও নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সামনে রেখে দেশের চলতি অর্থবছরের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। 

এতে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দেশের অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা ও বৈশ্বিক নানা ধাক্কার কারণে অর্থনীতি এখনো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দেশের অর্থনীতির চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, সাধারণ মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ বলা হলেও জ্বালানি মূল্যস্ফীতি প্রায় ১৫ শতাংশ। মূলত জ্বালানি, পরিবহন ও সেবা খাতের খরচ বৃদ্ধির কারণেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির তুলনায় মানুষের মজুরি বৃদ্ধির হার কম। ফলে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে সীমিত ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকেও মূল্যস্ফীতির আরেকটি বড় কারণ মনে করে সিপিডি। সংস্থাটি সাম্প্রতিক এক জরিপের তথ্য তুলে ধরে জানায়, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের একাধিক স্তর থাকার কারণে খুচরা পর্যায়ে পণ্যের দাম ৭০ থেকে ১১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

এ বিষয়ে ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘আমাদের খাদ্য মূল্যস্ফীতি মূলত সরবরাহচালিত, চাহিদাচালিত নয়। তাই সরবরাহ ঠিক রাখাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য কৌশলগত মজুদ বাড়ানো ও বাজার তদারকি জোরদার করা জরুরি। সরবরাহ শৃঙ্খলে মধ্যস্বত্বভোগীদের সংখ্যা কমিয়ে কৃষক ও খুচরা পর্যায়ের দামের ব্যবধান কমাতে হবে। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া জরুরি।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানিসংকটের কারণে সম্প্রতি জ্বালানি তেলের যে মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে, তা হয়তো সাময়িকভাবে মূল্যস্ফীতির ওপর বড় ধাক্কা দেবে, কিন্তু দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে দীর্ঘ সময়ের জন্য শ্লথ বা সংকুচিত করে দিতে পারে।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী হেলেন মাশিয়াত বলেন, বৈশ্বিক মূল্য পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিদ্যুতের দাম কিছুটা সমন্বয় করার প্রয়োজন ছিল। তবে এই বৃদ্ধি অবশ্যই আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে কঠোরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।

সিপিডি জানায়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশে প্রবাসী আয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে, লেনদেন ভারসাম্যে উন্নতি এসেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। তবে রপ্তানি খাতে এখনো চাপে রয়েছে। দেশীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগের চাহিদা বেশ দুর্বল। এ ছাড়া ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকা বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ অর্থনীতিকে সংকটে ফেলছে।

রেমিট্যান্স বাড়লেও কেন এত ঘন ঘন ওঠানামা হচ্ছে, তার মূল কারণ খুঁজে বের করার পরামর্শ দেন ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, রপ্তানিমুখী কার্যক্রম যাতে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে নজর দিয়ে দেশীয় মূল্য সংযোজনকে উৎসাহিত করতে হবে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘শ্রম অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে আমরা এ বিষয়ে নেতিবাচক ইঙ্গিত পাচ্ছি। ফলে সময়মতো মজুরি প্রদান, কারখানার নিরাপত্তা ও ট্রেড ইউনিয়নের স্বীকৃতি দেওয়ার মতো বিষয়গুলোতে জোর দিতে হবে। প্রয়োজনে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে শ্রম অধিকার নিশ্চিতকরণের শর্ত যুক্ত করে দেওয়া উচিত।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

রপ্তানি আয়ে মন্দা কাটেনি

এক বছরের ব্যবধানে কমেছে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ

অনলাইন ডেস্ক
রপ্তানি আয়ে মন্দা কাটেনি
চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর। ফাইল ছবি।

দেশের রপ্তানি আয়ে মন্দা কাটেনি। পোশাক রপ্তানি কমায় দেশের সার্বিক রপ্তানি কমছে। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা, অভ্যন্তরীণ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমছে। প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমে যাওয়ায় আগের বছরের একই সময়ের রপ্তানির তুলনায় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে মোট ৪ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে। গত বছরের মে মাসে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার। তবে গত মে মাসের এই আয় আগের মাস এপ্রিলের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। এদিকে একক মাসের পাশাপাশি অর্থবছরের সামগ্রিক হিসাবেও রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই থেকে মে) আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় পণ্য রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

ইপিবি জানায়, মে মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ কমেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মে মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের ৩৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার থেকে ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ কমে ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন হয়েছে।

এর আগে, টানা ৮ মাস পতনের পর গত এপ্রিলে রপ্তানি ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু মে মাসে রপ্তানি কমে যাওয়ায় ইতিবাচক ধারা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মে মাসে নিটওয়্যার খাতে রপ্তানি হয়েছে ১৮ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৯ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের। অর্থাৎ, বার্ষিক হিসাবে নিটওয়্যার রপ্তানি ৪ দশমিক ২৬ শতাংশ কমেছে। শুধু তা-ই নয়, গত বছরের মে মাসের তুলনায় এ বছরের মে মাসে নিটওয়্যার রপ্তানি ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ কমেছে। ওভেন পোশাকে জুলাই-মে মাসে রপ্তানি হয়েছে ১৬ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলারের, যা গত অর্থবছরে ছিল ১৬ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলারের। বার্ষিক হিসেবে ওভেনে ২ দশমিক ৪২ শতাংশ রপ্তানি কমেছে। আর গত বছরের মে মাসের তুলনায় চলতি মে মাসে ওভেনের রপ্তানি কমেছে ৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে মূল্যস্ফীতি এবং দেশের ভিতরে নানামুখী প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের কারণে তৈরি পোশাকের দুই প্রধান স্তম্ভ নিটওয়্যার ও ওভেন, কোনোটিই নেতিবাচক প্রবণতা থেকে বের হতে পারছে না।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

সিপিডির সংবাদ সম্মেলন

ব্যবসায়ীদের এখনো আস্থা ফেরেনি

অনলাইন ডেস্ক
ব্যবসায়ীদের এখনো আস্থা ফেরেনি

নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অনিশ্চয়তা দূর হলেও এখনো বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরি হয়নি। আগামী বাজেট প্রস্তাব ও  সরকারের নীতিতে কী থাকবে, সেটিই দেখার বিষয় বলে মনে করে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।  ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ অর্থনীতি : উত্তরণকালীন সময়ে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সিপিডি। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। বক্তব্য দেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকারী হেলেন মাশিয়েত প্রিয়তি, তামিম আহমেদ প্রমুখ।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। দেশীয় কাঠামোগত  দুর্বলতা ও বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে দেশের অর্থনীতি এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বর্তমান অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি। তিনি বলেন, মূলত জ্বালানি, পরিবহন এবং বিভিন্ন সেবার ব্যয় বৃদ্ধিই এই মূল্যস্ফীতির প্রধান কারণ। দেশে চলমান জ্বালানিসংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে, যা পারিবারিক অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। বাজারে যেভাবে পণ্যের দাম ও সেবামূল্য বাড়ছে, সেই তুলনায় সাধারণ মানুষের মজুরি বৃদ্ধির হার সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। সিপিডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত দেশের বাজারে জ্বালানির দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। এই সময়ে ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ এবং একই সঙ্গে পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দ্রুত পরিবহন খাতে পড়েছে। বাসভাড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের ব্যয়ও বেশ বেড়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে।

সিপিডি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকট বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে দেশের ঝুঁকি কতটা বাড়তে পারে, সেটিও স্পষ্ট হয়েছে।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক নিশ্চয়তা ফিরে এলেও বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তারা এখনো পুরোপুরি স্বস্তিবোধ করছেন না। তারা মূলত অপেক্ষা করছেন আসন্ন বাজেটে কী ধরনের প্রস্তাব আসে, কী ধরনের নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সংস্কার কতটা বাস্তবায়ন হয় সেগুলো দেখার জন্য। তিনি বলেন, বিনিয়োগের বর্তমান চিত্রেও এই আস্থাহীনতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রায় ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। পাশাপাশি মূলধনী যন্ত্রপাতি ও মধ্যবর্তী কাঁচামালের আমদানির ধীরগতিও ইঙ্গিত দেয় যে উদ্যোক্তারা এখনো বড় পরিসরে বিনিয়োগে এগিয়ে আসছেন না। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে সরকারি বিনিয়োগের তুলনায় বেসরকারি খাতের ভূমিকা অনেক বড়। সাধারণভাবে সরকার এক টাকা বিনিয়োগ করলে বেসরকারি খাত প্রায় চার টাকা বিনিয়োগ করে থাকে। ফলে অর্থনীতিতে গতি আনতে হলে বেসরকারি খাতকেই সামনে এগিয়ে আসতে হবে। হেলেন মাশিয়েত প্রিয়তি বলেন, জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক দাম নিম্নমুখী থাকায় দ্বিতীয় দফায় জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল না। এতে মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়বে। তাই বারবার দাম বাড়ানোর বদলে জ্বালানি খাতে কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন