• ই-পেপার

রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি বাড়ছে, চাপে দেশের অর্থনীতি

২০ মাস ধরে অভিভাবকহীন এফবিসিসিআই

অনলাইন ডেস্ক
২০ মাস ধরে অভিভাবকহীন এফবিসিসিআই

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের সংকটকালে কাণ্ডারীর ভূমিকায় থাকার কথা যার, সেই শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এখন নিজেই গভীর সংকটে। গত ২০ মাস ধরে কোনো নির্বাচিত নেতৃত্ব নেই সংগঠনটিতে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বসানো প্রশাসকের চাদরে ঢেকে শুধু দাপ্তরিক কাজ চললেও, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের পক্ষে কথা বলার মতো কেউ নেই। ফলে সরকারের সঙ্গে দর-কষাকষির মূল প্ল্যাটফরমটি হারিয়ে দেশের ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা এখন কার্যত দিশাহারা।

৯ শতাংশের ঘরে আটকে থাকা মূল্যস্ফীতি, ১৪-১৫ শতাংশের চড়া ব্যাংকঋণের সুদ, গ্যাস-বিদ্যুতের তীব্র ঘাটতিতে ব্যাহত উৎপাদন আর কাঁচামাল আমদানিতে এলসি খোলার জটিলতা—সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতি এখন বেশ নড়বড়ে। এর ওপর প্রতি বছর বাড়ছে কর ও ভ্যাটের বোঝা। এমন এক ক্রান্তিকালে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক বাজারও অস্থির, সেখানে সরকারের কাছে ব্যবসায়ীদের দাবিদাওয়া বা বাজেট-সংক্রান্ত প্রস্তাবনা তুলে ধরার কোনো অভিভাবক নেই। নির্বাচিত কমিটি না থাকায় ফেডারেশন ভবনে এখন আর আগের মতো ব্যবসায়ীদের আনাগোনাও চোখে পড়ে না।

মূলত নতুন বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা সংশোধন নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশাই এই অচলাবস্থার মূল কারণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তৎকালীন সভাপতি মাহবুবুল আলম পদত্যাগ করেন। এরপর ১১ সেপ্টেম্বর পর্ষদ বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ দেয় মন্ত্রণালয়।

পরবর্তী সময়ে ‘এফবিসিসিআই বৈষম্যবিরোধী সংস্কার পরিষদ’-এর দাবির মুখে বিধিমালা সংশোধন করে পরিচালনা পর্ষদের আকার ৮০ থেকে কমিয়ে ৪৬ জনে আনা হয় এবং মনোনীত পরিচালকের সংখ্যা কমানো হয়। তবে বিধিমালায় একটি নতুন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়—কোনো সদস্য টানা দুই মেয়াদের বেশি পর্ষদে থাকতে পারবেন না, যা পেছনের মেয়াদের জন্যও প্রযোজ্য করা হয়। এই নিয়মের ফাঁদে পড়ে অনেক প্রভাবশালী সাবেক নেতা নির্বাচনের যোগ্যতা হারান। ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা আদালতের দ্বারস্থ হলে আইনি জটিলতায় মাঝপথেই থমকে যায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া।

বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকার বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিলেও তা শেষ করে যেতে পারেনি। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠন করার পর ব্যবসায়ী মহলে আশার আলো দেখা দিলেও কাজের গতিতে তেমন গতি আসেনি। প্রথম দফায় এক বছর এবং দ্বিতীয় দফায় গত নভেম্বরে অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খানকে চার মাসের জন্য প্রশাসক করা হলেও ইতিমধ্যে ৬ মাস পেরিয়ে গেছে।

সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন এবং রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসানের মতো শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, এফবিসিসিআই না থাকায় দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ভুগছেন। স্বৈরাচার দূর হলেও সংগঠনটি এখন পুরোপুরি নেতৃত্বহীন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চাইলে এক দিনেই এই বিধিমালা সংশোধন করতে পারে, কিন্তু অজ্ঞাত কারণে কাজটিতে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।

এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচন আটকে থাকায় এর চেইন রিঅ্যাকশন হিসেবে ঢাকা চেম্বার (ডিসিসিআই) ও মেট্রোপলিটন চেম্বারসহ দেশের ৪০১টি পণ্যভিত্তিক সংগঠন এবং ৮৩টি জেলা চেম্বারের নির্বাচনও ঝুলে গেছে।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, ফেডারেশন হচ্ছে ক্ষুদ্র ও বড় ব্যবসায়ীদের সংগঠন। তাঁদের স্বার্থ সংরক্ষণে দর-কষাকষি করে থাকে ফেডারেশন। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না থাকায় ব্যবসায়ীরা কথা বলার জন্য কোনো ফোরাম পাচ্ছেন না। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনে ২০ মাস ধরে পর্ষদ না থাকাটা দুঃখজনক। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা সংশোধন করে নির্বাচন দেওয়া জরুরি।

এফবিসিসিআইয়ের সংস্কার

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন হলেও বহু বছর ধরেই এফবিসিসিআইয়ের শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচন ব্যবসায়ীদের হাতে নেই। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তখন তারা তাদের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীকে সভাপতির জন্য মনোনীত করে। এ প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সম্পৃক্ততাও থাকে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি এফবিসিসিআই থেকেও নির্বাচন উধাও হয়ে গিয়েছিল। ২০১৯ ও ২০২১ সালে কোনো ভোট ছাড়াই সভাপতি হন যথাক্রমে শেখ ফজলে ফাহিম ও মো. জসিম উদ্দিন। সর্বশেষ ২০২৩ সালে পণ্যভিত্তিক সংগঠন বা অ্যাসোসিয়েশন অংশে ভোট হয়েছিল। তবে সেবারও ভোট ছাড়াই সভাপতি হয়েছিলেন মাহবুবুল আলম।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এফবিসিসিআইয়ের সাধারণ পরিষদের সদস্য—এই ব্যানারে যাঁরা পর্ষদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন, পরে তাঁরাই এফবিসিসিআইয়ের বৈষম্যবিরোধী সংস্কার পরিষদ গঠন করেন। তাঁরা মনোনীত পরিচালক প্রথা বাতিল, পর্ষদের সদস্যসংখ্যা কমানোসহ কয়েকটি সংস্কার প্রস্তাব দেন। সেসব প্রস্তাব রেখে গত বছরের মে মাসে বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়।

নতুন বিধিমালায় এফবিসিসিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদের আকার ছোট ও মনোনীত পরিচালকের সংখ্যা কমানো হয়। ফেডারেশনের সর্বশেষ পর্ষদ ছিল ৮০ জনের। এর মধ্যে মনোনীত পরিচালক ছিলেন ৩৪ জন। বিধিমালা সংশোধন করে পর্ষদের আকার কমিয়ে ৪৬ জনে নামিয়ে আনা হয়। তার মধ্যে চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে ৫ জন করে ১০ জন মনোনীত পরিচালক থাকবেন। এর বাইরে নারী চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে ১ জন করে ২ জন মনোনীত পরিচালক পর্ষদে যুক্ত হবেন।

বিধিমালা কার্যকর হওয়ার পর ফেডারেশনের প্রথম নির্বাচনে অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে সভাপতি এবং চেম্বার গ্রুপ থেকে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নির্বাচিত হবেন। অন্যদিকে পর্ষদে ১২ জন মনোনীত পরিচালকদের ফেডারেশনের সাধারণ পরিষদের সদস্য হতে হবে। দুই বছরের মেয়াদের জন্য গঠিত সাধারণ পরিষদের প্রত্যেক সদস্যকে এককালীন ২০ হাজার টাকা নিবন্ধন ফি দিতে হবে।

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, ‘এফবিসিসিআইয়ের কাজ হচ্ছে সরকারের সঙ্গে দেনদরবার করা, ব্যবসায়ীদের সুবিধা-অসুবিধা দেখা। দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা পর্ষদ না থাকায় ব্যবসায়ী নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় আমরা চাই, সংস্কার শেষে দ্রুত ভোটের মাধ্যমে প্রকৃত ব্যবসায়ী প্রতিনিধি নির্বাচিত হোক।’

নির্বাচন আটকে আছে যে কারণে

নতুন বিধিমালা জারি হওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচনী বোর্ড গঠন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত ১৮ জুন ঘোষিত তফসিলে উল্লেখ করা হয়, ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর সরাসরি ভোটে সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, ২ জন সহসভাপতি ও ৩০ জন পরিচালক নির্বাচিত হবে। পরে বাণিজ্য সংগঠনের দাবির মুখে নির্বাচনের সময় ৪৫ দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

নতুন বিধিমালায় বলা হয়, ফেডারেশনের পরিচালনা পর্ষদে টানা সর্বোচ্চ দুবার থাকা যাবে। তারপর একবার বিরতি দিয়ে আবার নির্বাচন করা যাবে। এই নিয়ম ভবিষ্যতের পাশাপাশি বিগত সময়ের জন্যও প্রযোজ্য করা হয়। বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালায় থাকা এই বিধান নির্বাচনের তফসিলেও রাখা হয়েছিল। তাতে সর্বশেষ গত দুই পর্ষদে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে পড়েন। তাতে ব্যবসায়ীদের একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়। ক্ষুব্ধ একাধিক ব্যবসায়ী এ নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট মামলা করেন। তারপর নির্বাচনপ্রক্রিয়া থমকে যায়। যাঁরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রচার–প্রচারণা চালাচ্ছিলেন, তাঁরাও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

জানতে চাইলে এফবিসিসিআইয়ের সহায়ক কমিটির সাবেক সদস্য আবুল কাশেম হায়দার বলেন, ‘ভালোর জন্য আমরা ফেডারেশন থেকে স্বৈরাচার দূর করলাম; কিন্তু এখন ফেডারেশন হয়ে পড়েছে নেতৃত্বহীন। বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা সংশোধনের কাজটি এক দিনেই করা সম্ভব। অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীও বিষয়টি সম্পর্কে ভালোভাবে অবহিত। তারপরও বিধিমালা সংশোধনের কাজটি কেন ধীর গতিতে চলছে, সেটি আমাদের কাছে বোধগম্য নয়।’

এফবিসিসিআইয়ের পাশাপাশি ঢাকা চেম্বার, মেট্রোপলিটন চেম্বারসহ বেশ কয়েকটি বাণিজ্য সংগঠনের আপত্তির মুখে বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত সেপ্টেম্বরে বিধিমালা সংশোধনে বিষয়ে একটি বৈঠক করার পর প্রক্রিয়াটি শ্লথ হয়ে যায়। বাণিজ্য বিধিমালা সংশোধন না হওয়ার কারণে এফবিসিসিআইয়ের পাশাপাশি অনেক চেম্বারের নির্বাচনও আটকে আছে। যেমন ঢাকা চেম্বারের বর্তমান কমিটির মেয়াদ দুই দফায় এক বছর বাড়ানো হয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (চলতি দায়িত্ব) ও এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান প্রশাসক আবদুর রহিম খান জানান, সংশোধিত বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালাটি অংশীজনদের মতামতের জন্য চলতি সপ্তাহেই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এরপর ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে এটি চূড়ান্ত করা হবে। বিধিমালা চূড়ান্ত হয়ে গেলেই নির্বাচনের আর কোনো বাধা থাকবে না।

ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, সমস্ত আমলাতান্ত্রিক ও আইনি জটিলতা কাটিয়ে দ্রুতই ভোটের মাধ্যমে একটি সত্যিকারের প্রতিনিধিত্বশীল পর্ষদ ফিরে পাবে এফবিসিসিআই, যা দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সচল করতে সরকারের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।

সূত্র : নিউজ টুয়েন্টিফোর

ছয় বিলিয়নের বেশি ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

অনলাইন ডেস্ক
ছয় বিলিয়নের বেশি ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

দেশে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়তে থাকায় বাজারে ডলারের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত তৈরি হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাজার থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সাড়ে আট কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এদিন ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ৬০৬ কোটি মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ৬.০৬ বিলিয়ন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে শুধু মে মাসেই কেনা হয়েছে ৩৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। এ অবস্থায় ডলারের দর অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়া ঠেকাতে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনছে। একই সঙ্গে এই উদ্যোগ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ২০২২ সালে দেশে ডলারের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। সে সময় প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছায়। বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎকালীন সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা উদ্যোগ নিলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি সামাল দেওয়া যায়নি। পরে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করলে বৈদেশিক মুদ্রার মজুতেও চাপ তৈরি হয়।

গত তিন অর্থবছরে বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭.৬ বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩.৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২.৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। বিপরীতে ওই সময় ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছিল মাত্র প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।

দেশের বাজারে সোনার দামে বড় পতন, ভরি কত?

অনলাইন ডেস্ক
দেশের বাজারে সোনার দামে বড় পতন, ভরি কত?

দেশের বাজারে সোনার দাম টানা তিন দফা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৫৮ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। এতে করে ২২ ক্যারেট সোনার ভরি দুই লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকায় নেমে এসেছে। 

বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার (২০ মে) সকালে এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন এই দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, তেজাবি সোনার (পাকা সোনা) দাম কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম কমানো হয়েছে।

বেঁধে দেওয়া দাম অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দুই লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দুই লাখ ২৫ হাজার ২৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি এক লাখ ৯৩ হাজার ৩৯টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা।

সোনার দাম কমানো হলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৪৪১ টাকা।

ব্যাংকে নগদ অর্থের সংকট

অনলাইন ডেস্ক
ব্যাংকে নগদ অর্থের সংকট

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশে নতুন নোটের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম নগদ অর্থ পাচ্ছে। একই সঙ্গে ঈদকে কেন্দ্র করে নগদ টাকার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোতে অর্থ উত্তোলনের চাপও বাড়ছে। এর প্রভাবে আন্তব্যাংক কলমানি বাজারে সুদহার ১১ শতাংশ অতিক্রম করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কয়েকটি ব্যাংক নগদ টাকার চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ অর্থ পাচ্ছে। এতে ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এটি কোনো তারল্যসংকট নয়; বরং নতুন ছাপানো নোটের ঘাটতির কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকারদের তথ্য অনুযায়ী, আট-দশ দিন ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক চাহিদার তুলনায় অনেক কম নগদ সরবরাহ করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন নগদ লেনদেনের পরিবর্তে ইলেকট্রনিক লেনদেন বাড়াতে উৎসাহ দিচ্ছে। ঈদুল আজহার আগে স্বাভাবিকভাবেই নগদ টাকার চাহিদা বেড়ে যায়। গরুর হাটে বড় অঙ্কের নগদ লেনদেন, শ্রমিকদের বোনাস-ভাতা পরিশোধ এবং গ্রাহকদের ব্যক্তিগত খরচের কারণে ব্যাংক থেকে নগদ উত্তোলন বাড়ছে। ফলে ব্যাংকগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘ঈদের আগে সাধারণত নগদ উত্তোলনের চাপ বেশি থাকে। এবার গরুর হাটকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের নগদ টাকার চাহিদা তৈরি হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানও শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের জন্য নগদ তুলছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাঁকশালের কাছে ১৬ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট চেয়েছিল। তবে কাগজ ও কালি সংকটের কারণে মাত্র প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এর মধ্যে টাঁকশাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে ৪ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট সরবরাহ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত নোট বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে এবং ছোট মূল্যমানের নোটের পরিবর্তে বড় মূল্যমানের নোট সরবরাহের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কারণ ঈদুল আজহার সময় বড় অঙ্কের নোটের চাহিদা বেশি থাকে। তবে একই সময়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি-সংবলিত পুরোনো ডিজাইনের প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকার নোট এখনো সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনে মজুত রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক সেসব নোট বাজারে ছাড়তে অনাগ্রহী।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে মোট মুদ্রার পরিমাণ প্রায় ২৪ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে ছাপানো টাকার চাহিদা ৩ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি। দীর্ঘদিন ধরে পুরনো ডিজাইনের নোট স্থগিত থাকায় চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান আরো বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ব্যাংকগুলোর চাহিদা ধাপে ধাপে পূরণ করা হচ্ছে। নতুন ছাপানো নোট পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হচ্ছে। এখন কম পেলেও পরে অতিরিক্ত চাহিদা পূরণ করা হবে।

১১ শতাংশ ছাড়াল কলমানি সুদহার : নগদ টাকার বাড়তি চাহিদার প্রভাব পড়েছে আন্তব্যাংক মানি মার্কেটেও। গতকাল আন্তব্যাংক কলমানি সুদহার ১১ শতাংশ অতিক্রম করেছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল কলমানি সুদহার ছিল ৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৫০ শতাংশের মধ্যে। অধিকাংশ লেনদেন নিষ্পত্তি হয়েছে ১০ দশমিক ০৬ শতাংশ থেকে ১১ শতাংশ সুদহারে। এদিকে আন্তব্যাংক কলমানি বাজারে মোট লেনদেনও বেড়েছে। গতকাল এ বাজারে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা, যা আগের কর্মদিবসে ছিল ৪ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা।

আরিফ হোসেন খান বলেন, ঈদের আগে বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। রেপো সুবিধার মাধ্যমে তারল্য সহায়তা এবং ডলার কেনার বিপরীতে বাজারে অর্থ সরবরাহ করায় কলমানি সুদহার কিছুটা কমতে পারে। গতকাল স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তব্যাংক স্পট মার্কেট থেকে নিলামের মাধ্যমে আরও ৮ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ঈদের আগে নগদ উত্তোলন বৃদ্ধি এবং ট্রেজারি বিলের বিপরীতে ৯ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের কারণে মানি মার্কেটে চাপ বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেলে কলমানি সুদহার আবার ১১ শতাংশের নিচে নেমে আসতে পারে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি বাড়ছে, চাপে দেশের অর্থনীতি | কালের কণ্ঠ