• ই-পেপার

তারুণ্যবান্ধব ও কর্মসংস্থানমুখী বাজেটের দাবি শিবিরের

শেখ হাসিনার জন্য অপেক্ষা করছে ফাঁসির দড়ি : নাহিদ ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক
শেখ হাসিনার জন্য অপেক্ষা করছে ফাঁসির দড়ি : নাহিদ ইসলাম
রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান ও আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি অপেক্ষা করছে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আজ একটা ইন্টারভিউ আমরা দেখেছি, যে ডিসেম্বরে কেউ একজন দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। আমাদের দাবি থাকবে, দেশ তো অলরেডি ১৬ বছরের ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে। এখন আমরাও চাই তিনি দেশে ফিরবেন, ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য। বাংলাদেশে রায় হয়ে গিয়েছে। এখন এই সরকারের উচিত যথাযথ কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় গণহত্যাকারীকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা।’

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা উদ্যোগ (এমএসএমই) দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। 

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শেখ হাসিনা কীভাবে আসবে, তিনি কাদের নিয়ে আসবেন, তিনি সারেন্ডার করবেন কি করবেন না। এটা ঠিক করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে দিল্লির সঙ্গে কথা বলবে। এখানে আর কোনো পক্ষ নেই। ফলে সরকারই ঠিক করবে তাকে কখন আনবে, কীভাবে আনবে এবং কীভাবে বিচারের রায় কার্যকর করবে। সব প্রস্তুতি নিয়েই তাকে আনতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। দিল্লি থেকে তাকে যতটুকু পারমিট করা হয়, সে অনুযায়ী তিনি কথা বলেন। ফলে শেখ হাসিনা আসবেন কি আসবেন না, কীভাবে আসবেন, বিচার হবে কি না? এসব মূলত দিল্লির সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ওপর নির্ভর করবে। শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ এখন কোনো রাজনৈতিক দলই নয়।’

জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীরা যে-কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যারা অংশগ্রহণ করেছে, রাজনৈতিকভাবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তারা প্রস্তুত আছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতিকে রক্ষা করার জন্য আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছি।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘তবে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার যদি কোনো ধরনের পাঁয়তারা বা প্রচেষ্টা হয়, সরকার যদি সেটাকে প্রশ্রয় দেয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন সরকারই হবে। বাংলাদেশের আপামর জনগণ, জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী সব পক্ষ, ত্রিশ হাজার আহত ও ১ হাজার ৪০০ শহীদ পরিবারের সদস্য, আমরা সবাই প্রস্তুত আছি।’

আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন আওয়ামী লীগকে দলগতভাবে বিচারের আওতায় নেওয়ার কথা সরকারও ভাবছে। আমরা মনে করি, এটাই সঠিক রাস্তা। শেখ হাসিনার রায় অলরেডি হয়ে গিয়েছে। এখন এটা কার্যকর করতে হবে। শেখ হাসিনা যদি দেশে ফিরে, কেবল ফিরবে ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য। ফলে সেটার জন্য আমরাও চাই যে ফাঁসির রায় কার্যকর হোক।’

অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে আসা বিভিন্ন উদ্যোক্তা অংশ নেন। এতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, না উদ্যোক্তাগণ বক্তব্য প্রদান করেন।

দুর্গত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ দেওয়ার আহ্বান সাইফুল হকের

নিজস্ব প্রতিবেদক
দুর্গত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ দেওয়ার আহ্বান সাইফুল হকের

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, তিন পার্বত্য জেলাসহ দেশের বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে খাবার ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। একই সঙ্গে তিনি জলাবদ্ধতায় আটকে পড়া মানুষদের দ্রুত উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবিও জানান।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীতে পার্টির ঢাকা মহানগর কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় এই দাবি জানান সাইফুল হক। পার্টির ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাকের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান, মহানগর কমিটির সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, চুন্নু সিকদার, জামাল সিকদার, সালাউদ্দিন, আরিফুল ইসলাম ও নান্টু দাস।

সভায় সাইফুল হক বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবানসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো ত্রাণসামগ্রী পৌঁছেনি। ফলে হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ ও অনিরাপত্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, হাওর অঞ্চলের নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেও অতিবৃষ্টি ও আগাম বন্যায় পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এসব এলাকার লাখো মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এই দুর্ভোগ মোকাবিলায় সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

সভায় বন্যা পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে গণ-অভ্যুত্থান বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহানগরীর দলীয় কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়।

ছাত্রদল নেতাকর্মীদের জন্য জরুরি ১০ নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছাত্রদল নেতাকর্মীদের জন্য জরুরি ১০ নির্দেশনা
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় টানা বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে দুর্গত মানুষের উদ্ধার, জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের জন্য ১০ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা জানানো হয়।

ছাত্রদল

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর নেতাকর্মীদের উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা ও বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এসব নির্দেশনা দিয়েছেন।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে—

১. সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে। পাশাপাশি গবাদি পশুকেও নিরাপদ স্থানে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

২. উদ্ধারকাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে প্রতিটি ইউনিটে প্রয়োজনীয় সংখ্যক রেসকিউ টিম প্রস্তুত রাখতে হবে।

৩. স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পরামর্শক্রমে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। শুকনো ও রান্না করা খাবার, খাবার স্যালাইন, ফিটকিরি বা পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রস্তুত রাখতে হবে।

৪. আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া পরিবারের বাড়িঘরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

৫. বন্যা-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে হবে।

৬. সব ক্ষেত্রে নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।

৭. কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হবে।

৮. বন্যা-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পুনর্নির্মাণসহ অন্যান্য পুনর্বাসন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে।

৯. বন্যার পর টাইফয়েড, ডায়রিয়া, আমাশয়সহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা থাকায় ইউনিটভিত্তিক মেডিকেল টিম গঠন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণের প্রস্তুতি নিতে হবে।

১০. ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সার্বিকভাবে পুরো কার্যক্রম সমন্বয় করবেন। বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সব তথ্য ইউনিটভিত্তিক কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি নেতাকর্মীদের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
বিএনপি নেতাকর্মীদের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রশাসনকে চলমান দুর্যোগ ও বন্যায় দৃঢ়ভাবে জনগণের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন। দলীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকতে বিএনপির নেতাকর্মীদেরও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

আজ শুক্রবার  রাজধানীর মিরপুরে সরকারি বাঙলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এসব তথ্য জানান মাহদী আমিন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, বন্যাদুর্গতদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের কাছে আড়াই হাজার মেট্রিক টন চাল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার চেষ্টা করছে জানিয়েছেন মাহদী আমিন।

তারুণ্যবান্ধব ও কর্মসংস্থানমুখী বাজেটের দাবি শিবিরের | কালের কণ্ঠ