• ই-পেপার

পঞ্চগড়ে জামায়াতের সমাবেশ শুরু, সারজিসের স্লোগানে মুখর সমাবেশস্থল

জামায়াতের ছায়া সরকার ও বাজেট উদ্যোগের প্রশংসা ব্রিটিশ হাইকমিশনারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
জামায়াতের ছায়া সরকার ও বাজেট উদ্যোগের প্রশংসা ব্রিটিশ হাইকমিশনারের
ছবি : কালের কণ্ঠ

জামায়াতে ইসলামীর ‘ছায়া সরকার’ ও ‘ছায়া বাজেট’ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. শফিকুর রহমানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই প্রশংসা করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ব্রিটিশ হাইকমিশনের রাজনৈতিক কাউন্সেলর টিমোথি ডাকেট ও দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) কেটি ওয়ার্ড উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষে অংশ নেন তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং দলের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা টিমের সদস্য আলী আহমেদ মাবরুর।

সাক্ষাৎকালে তারা নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় বাজেট, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, অভিবাসন প্রক্রিয়া এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। উভয় পক্ষই বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আগামী দিনে আরো সম্প্রসারিত ও গতিশীল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করা, সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং এ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের ধারাবাহিক অবদানের প্রশংসা করেন।

অন্যদিকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর ছায়া সরকার ও ছায়া বাজেট প্রণয়নের মতো গঠনমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

পুলিশ হত্যা করেছি–ঘোষণা দেওয়া সেই মাহাদী এবার আশ্রয় নিলেন থানায়

অনলাইন ডেস্ক
পুলিশ হত্যা করেছি–ঘোষণা দেওয়া সেই মাহাদী এবার আশ্রয় নিলেন থানায়

‘বানিয়াচং থানা জ্বালিয়েছি, এসআই সন্তোষকে পুড়িয়েছি’ বলে থানায় ওসির সামনে বসে হুমকি দিয়ে চলতি বছরের শুরুতে দেশব্যাপী আলোচনার ঝড় তোলেন হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা মাহাদী হাসান। পাঁচ মাসের মাথায় সেই মাহাদীই নিজেকে বাঁচাতে আশ্রয় নিলেন থানা পুলিশের কাছে। 

ছাত্রদলের কর্মীরা হামলা চালাতে আসছেন অভিযোগ করে মাহাদী আজ বুধবার (১০ জুন) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভ করেন। এ সময় দেখা যায়, তিনি আতঙ্কে কাঁপছেন। প্রাণ বাঁচাতে আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে রিকশায় করে ছুটছেন হবিগঞ্জ সদর থানার দিকে। লাইভের শেষ দিকে তিনি থানা কমপাউন্ডের ভেতরে ঢুকে পুলিশের কাছে সাহায্যের আর্তি জানান।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও সংগঠনটির হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহাদী হাসান লাইভে দাবি করেন, ছাত্রদলের কর্মীরা তার ওপর হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে ধাওয়া করেছেন। এ ঘটনায় তিনি সদর থানায় আশ্রয় নিয়েছেন।

ফেসবুক লাইভে মাহাদী বলেন, ‘ছাত্রদল আমার ওপর সামনে এসে অ্যাটাক করতে আসতেছে। আমার কি পারসোনাল কোনো মতামত দেওয়ার অধিকার নাই? ছাত্রদলের লোকজন আমার পেছনে ধাওয়া দিচ্ছে। আমার কি পারসোনাল অধিকার নাই?’

লাইভের শেষ দিকে তিনি বলেন, ‘আমি এখন থানাতে আছি। ডিউটি অফিসার সাহেবের রুমে আছি। আমার একটা পরীক্ষা ছিল, ড্রাইভিংয়ের পরীক্ষা। আমি আগেই জানিয়েছিলাম এখানে আমার একটি নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ আছে। তার পরও পরীক্ষার জন্য এসেছিলাম। আসার সময় রিকশায় ছিলাম। তখন পেছন থেকে আমাকে হামলা করার জন্য ধাওয়া দেওয়া হয়।’

মাহাদী হাসানের দাবি, তিনি আগেই বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবগত করেছিলেন। পরীক্ষা দিতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্টরা তাকে আশ্বস্তও করেছিলেন। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি বদলে যায়। 

এ বছরের শুরুতে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ। এরপর ২ জানুয়ারি তাকে ছাড়াতে থানায় যান মাহাদী হাসানের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী। এক পর্যায়ে ওসির কক্ষে ঢুকে পড়েন মাহাদী হাসান। তাকে দম্ভ নিয়ে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা জুলাই আন্দোলনকারীরা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। আপনি প্রশাসনের লোক হয়ে আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছেন। হবিগঞ্জে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন হয়েছিল, এখানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আমাদের এতগুলো ছেলে কি এমনি এমনি ভেসে এসেছে?’

বিষয়টি নিয়ে প্রচণ্ড সমালোচনা তৈরি হলে ৩ জানুয়ারি মাহাদীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে সমর্থকদের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ৪ জানুয়ারি তাকে জামিনে মুক্তি দেন আদালত। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিনে একদল বিক্ষোভকারী বানিয়াচং থানায় আক্রমণ চালিয়ে অস্ত্র লুট ও অগ্নিসংযোগ করে এবং অর্ধশতাধিক পুলিশকে অবরুদ্ধ করা হয়। গভীর রাতে পুলিশ সদস্যদের থানার ভেতর থেকে উদ্ধারের সময় এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে ছিনিয়ে নিয়ে থানা চত্বরেই পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন তার মরদেহ থানার সামনে একটি গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষকে হত্যায় নিজের জড়িত থাকার কথা চলতি বছরের জানুয়ারিতে থানায় বসে সদম্ভে ঘোষণা করে প্রচণ্ড সমালোচিত হয়েছিলেন মাহাদী হাসান। 

এ ঘটনার পাঁচ মাসের মাথায় নিজের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের কাছেই আশ্রয় নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মাহাদী। এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা যতদূর জেনেছি সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করার কারণে মাহাদী হাসানের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরোধ রয়েছে। তবে আজকের হামলার অভিযোগসংক্রান্ত ভিডিওতে আমরা ছাত্রদলের কাউকে দেখতে পাইনি এবং তিনি কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে দেখাতেও পারেননি।’

ওসি আরো বলেন, ‘সমন্বয়ক মাহাদী আমাদের কাছে একটি মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। তিনি বর্তমানে থানায় অবস্থান করছেন।’

পুশ ইনের বিরুদ্ধে কর্মসূচি দেবে জামায়াত জোট

অনলাইন ডেস্ক
পুশ ইনের বিরুদ্ধে কর্মসূচি দেবে জামায়াত জোট

সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের ঠেলে (পুশ ইন) দেওয়ার প্রতিবাদে কর্মসূচি দেবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। মঙ্গলবার (৯ জুন) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াত কার্যালয়ে জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। 

কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, চট্টগ্রামের সমাবেশ ছাড়াও চলমান বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। বুধবার সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। 

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, চলমান বিভাগীয় সমাবেশের বিরতিতে পুশ ইনের প্রতিবাদে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সীমান্ত হত্যা, দেশের আইন-শঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি  ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদও জানানো হবে। 

সভায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমাদ আলী কাসেমী, বিডিপির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বেল্লাল মিয়াজি উপস্থিত ছিলেন। 

সভায় খেলাফত আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব ছিল না। দলটি ১১ দল ছাড়তে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত, এবি পার্টি এবং জাগপার প্রতিনিধিরা না থাকলেও, তারা মঙ্গলবার জামায়াতের ছায়া বাজেট উপস্থাপনে ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ : অধ্যাপক ডোনার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ : অধ্যাপক ডোনার

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (বিএমএসআরআই) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রধান উদ্দেশ্য বাংলাদেশের মানুষকে একটি সুখী-সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা উপহার দেওয়া। সেই লক্ষ্যে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

রবিবার (৭ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের একটি রেস্টুরেন্টে বিএনপি যুক্তরাষ্ট্র শাখা এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময়সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, গত ১৭ বছর বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রবিহীন, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট মুক্তি লাভ করেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করা হয়েছে। চিকিৎসক হিসেবে আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যেন সাধারণ মানুষকে উন্নতমানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করা। তারই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি ডাক্তারদের কিভাবে বাংলাদেশের মানুষের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত করে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে উন্নত করা যায়, সেই লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

সভায় বিএনপির যুক্তরাষ্ট্র শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ব্রুকডেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ডা. মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীরা গত ১৭ বছর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জাতিসংঘ, হোয়াইট হাউসহ সকল আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রেখেছে। এসব নেতাকর্মীকে মূল্যায়ন করতে তিনি বিএনপি চেয়ারম্যানের কাছে আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বাংলাদেশি চিকিৎসকরা দীর্ঘদিনের পেশাগত অভিজ্ঞতাকে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে কাজে লাগাতে আগ্রহী। তারা বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে উন্নত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যেকোনো আহ্বানে সাড়া দিয়ে তার পাশে থাকবেন।