• ই-পেপার

যেভাবে প্রতিষ্ঠিত ও বিতর্কিত হয়ে উঠেছিল ছাত্রলীগ

নিজের অধিকার জনগণকেই আদায় করে নিতে হবে : মঈন খান

অনলাইন ডেস্ক
নিজের অধিকার জনগণকেই আদায় করে নিতে হবে : মঈন খান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। নিজের অধিকার যতক্ষণ না জনগণ নিজেরাই আদায় করবে, ততক্ষণ কেউ তা এনে দেবে না।

শনিবার (১১ জুলাই) নরসিংদীর পলাশ উপজেলার পাকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার মা বেগম খোর্শেদা বানুর ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

মঈন খান বলেন, খান পরিবার দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় সব সময় ভূমিকা রেখে এসেছে। তিনি জানান, তার মা বেগম খোর্শেদা বানু খান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অসহায় ও নিগৃহীত মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা আপনাদের পাশে দাঁড়াতে ও সহায়তা করতে পারি, তবে নিজের অধিকার আদায়ে জনগণকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বাংলাদেশে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমিয়ে একটি সাম্যভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি মানুষের সেবায় আজীবন কাজ করে যেতে সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

প্রায় ২ মাস পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রায় ২ মাস পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভা

প্রায় দুই মাস পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি জানিয়েছেন, এর আগে সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল গত মে মাসের ১৭ তারিখে।

স্থায়ী কমিটির এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও বেগম সেলিমা রহমান।

বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে দলটির পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যা মোকাবেলায় দলটির পক্ষে করণীয়সহ সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

ঘুষ দিয়ে শিক্ষক হওয়ায় শিক্ষার ঘাটতি হচ্ছে : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঘুষ দিয়ে শিক্ষক হওয়ায় শিক্ষার ঘাটতি হচ্ছে : রিজভী
ফাইল ছবি

ঘুষের বিনিময়ে প্রাথমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে শিক্ষার মান উন্নত হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।

তিনি বলেছেন, ‘৫ থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে কেউ যদি শিক্ষক হন, তবে তিনি শিক্ষার্থীদের কী শেখাবেন এবং তার নিজের নৈতিকতাই-বা কোথায় থাকবে? এই ঘাটতির কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করার মতো নতুন প্রজন্ম গড়ে উঠছে না।’

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বার্ষিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবীর রিজভী এসব কথা বলেন।

অতীতের শিক্ষকদের উৎসর্গ ও নৈতিকতার কথা স্মরণ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আজ থেকে ৫০, ৬০ বা ৭০ বছর আগে শিক্ষকদের মধ্যে একধরনের প্রাণ উৎসর্গকারী প্রেরণা ছিল যে ছাত্রকে মানুষ করতে হবে। শিক্ষকরা পাড়া-মহল্লায় ঘুরে খোঁজ নিতেন ছাত্ররা ঠিকমতো পড়াশোনা করছে কি না। আর এখন রাতারাতি ধনী হওয়ার প্রতিযোগিতায় মানুষ নীতি-নৈতিকতা ও সত্যকে বিসর্জন দিয়েছে। এই সত্য বিসর্জনের কারণে আজ আদর্শ বা প্রশিক্ষিত শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে না।’

সমাজে মাদকের বিস্তারের পেছনেও নৈতিকতার এই অবক্ষয়কে দায়ী করেন রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন, ‘সমাজে আজ নানা ধরনের অধঃপতন, মোরাল ব্রেকডাউন (নৈতিক স্খলন) এবং চারিদিকে মাদকের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে, যা অতীতে ভাবা যেত না। আজকে যদি নৈতিকতার উৎকর্ষ থাকত, তবে চক্রান্তকারীরা চেষ্টা করেও সমাজে মাদক, ফেনসিডিল বা ইয়াবার প্রসার ঘটাতে পারত না।’

মাঠ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘খবরের কাগজেও দেখা যায়, তৃণমূল বা মাঠ পর্যায়ে একটি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক হতে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক হতে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হচ্ছে। ঘুষের বিনিময়ে স্কুলের শিক্ষক হওয়া আজ থেকে ৩০ বা ৫০ বছর আগেও ভাবা যেত না।’

শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের যোগ্যতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষক যদি প্রকৃত অর্থে শিক্ষিত, প্রাজ্ঞ ও অভিজ্ঞ না হন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তার পরিচয় না ঘটে, তবে শিক্ষার্থীরা কখনোই আলোকিত হবে না।’

তিনি মন্তব্য করেন, ‘কাগজের নৌকা দিয়ে কখনো নদী পার হওয়া যায় না।’

গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে : জামায়াত আমির

রংপুর অফিস
গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে : জামায়াত আমির
ছবি : কালের কণ্ঠ

বিরোধী দলকে বিভিন্নভাবে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক কথা বলা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘জাতিকে আমরা কথা দিয়েছি। আমরা লড়াই করে যাব। গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করব, ইনশাআল্লাহ। এর থেকে একচুল পরিমাণও আমরা সরব না।’

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সীমান্তে পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। 

জামায়াতের আমি বলেন, ‘সীমান্তের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সুড়সুড়ি দিচ্ছে প্রতিবেশী ভারত। সরকার মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। আমরা প্রতিবাদ করছি, জনগণ প্রতিবাদ করছে। শুধু প্রতিবাদ করছে না সরকার।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের মুখ থেকে সীমান্ত নিয়ে এখন পর্যন্ত একটা শব্দও আসেনি। কার ভয়ে কাকে খুশি করার জন্য? কোন দেশের শাসক আপনারা? বাংলাদেশের জনগণের নাড়ির পালস বোঝার চেষ্টা করুন। জনগণের অভিপ্রায় আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে মেহেরবানি করে অবস্থান নেবেন না। নিলে কী হয় সম্প্রতি ইতিহাস থেকে সবারই সবক গ্রহণ করা উচিত। আমরা যত দিন বেঁচে থাকব, দেশের এক ইঞ্চি জমি তো দূরের কথা, একটা বালুর ওপরেও কাউকে কর্তৃত্ব করতে দেব না।’

বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, ‘তিস্তা এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ। আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, আমরা নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে তিস্তার বালুচরে কোদাল মেরে প্রথমেই বাংলাদেশের উন্নয়নের যাত্রা শুরু করব। দুঃখের বিষয় তিস্তা নিয়ে বর্তমান সরকারি দল অনেক ভালো ভালো কথা বলছে। নির্বাচনের আগে জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও এই আন্দোলন করেছে কিন্তু তিস্তা নিয়ে এই বাজেটে দশ টাকারও কোনো বাজেট নেই। আমরা আর কথার ফুলঝুরি শুনতে চাই না, দেখতে চাই না। আমরা বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই। এই সরকার যদি ব্যর্থ হয় আগামীতে ইনশাআল্লাহ আপনাদের সহযোগিতা, দোয়া, ভালোবাসা সমর্থন ভোটে নির্বাচিত হয়ে ১১ দল সরকার গঠন করে সেই দাবি বাস্তবায়ন করবে ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ আলু উৎপাদন হয়। এখন হিমাগারে রাখতে গেলে বস্তা প্রতি ছয় শ টাকা তাদের দিতে হচ্ছে। এটা অন্যায়, এটা জুলুম। এটা বন্ধ করতে হবে। ন্যায্য দামেই সেখানে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু এটি নয়, আরো যত জিনিস এখানে উৎপাদন হয়, তার ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি কৃষককে নিশ্চিত করতে হবে।’

জামায়াত আমির আরো বলেন, ‘বাজারে দ্রব্যমূল্যে জনগণ অস্থির। সরকারের হৃদয়ে এগুলো ঢোকে না। কারণ জনগণ তো চাঁদাবাজি করে না। তাদের তো অবৈধ অর্থের উৎস নেই। তারা ঘুষ-দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত নয়। তাদের এই দুঃখ ওই লোকেরা কেমনে বুঝবে যারা চাঁদাবাজিতে লিপ্ত? যারা ঘুষ-দুর্নীতিতে ব্যস্ত, তারা এটা বুঝবে না।’

জাতীয় নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘সব দুর্নীতিবাজরা এক হয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের হারিয়ে দিয়েছে। আগামীতে এই সুযোগ আর দেবে না জনগণ। তখন ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তির ওপরে ১১ দল একটি সরকার গঠন করবে। যেই দেশে চাঁদাবাজ তো দূরের কথা, তাদের ছায়াও সহ্য করা হবে না। দুর্নীতি করার প্রয়োজন কারো হবে না। সম্মানজনকভাবে সবাই বাঁচতে পারবে। এর পরও কেউ দুর্নীতি করলে তাকে ছেড়ে কথা বলা হবে না। প্রধানমন্ত্রী হলেও না। তাকেও বিচারের মুখোমুখি করা হবে।’

সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও এনপিসির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এ সময় আরো বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ (বীরবিক্রম), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁনসহ প্রমুখ।

যেভাবে প্রতিষ্ঠিত ও বিতর্কিত হয়ে উঠেছিল ছাত্রলীগ | কালের কণ্ঠ