• ই-পেপার

এক দফা দাবিতে দ্রুত আন্দোলন শুরু করতে চায় বিএনপি

শহিদ ওয়াসিমের ‘চলে আসুন ষোল শহরে’ আহ্বানেই জেগে উঠেছিল চট্টগ্রাম : নাছির

নিজস্ব প্রতিবেদক
শহিদ ওয়াসিমের ‘চলে আসুন ষোল শহরে’ আহ্বানেই জেগে উঠেছিল চট্টগ্রাম : নাছির
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ‘জুলাই শহিদ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেনছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।

চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিম আকরামের স্মৃতিচারণ করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেছেন, ওয়াসিম আকরামের ফেসবুকে দেওয়া ‘চলে আসুন ১৬ শহরে’ আহ্বানই ছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াইয়ের ডাক। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েই চট্টগ্রামবাসী রাজপথে নেমে এসেছিল।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) চট্টগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

নাছির বলেন, ‘শহীদ ওয়াসিম আকরাম ১৬ জুলাইয়ের আগে তার ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘চলে আসুন ১৬ শহরে’। এটি ছিল শুধু একটি স্ট্যাটাস নয়, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের বিরুদ্ধে শেষ আহ্বান। তার এই বার্তা পুরো জাতিকে, বিশেষ করে চট্টগ্রামের মানুষকে রাজপথে নেমে আসতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।’

তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার মধ্য দিয়ে। তার ভাষ্য, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের পরই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।

নাছির বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, আন্দোলন দমাতে ছাত্রলীগই যথেষ্ট। ওই বক্তব্যের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়। সেই হামলার প্রতিবাদে ছাত্রদল ১৬ জুলাই সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয়। একই দিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনও কর্মসূচি ঘোষণা করে।’

তিনি বলেন, ‘সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আবু সাঈদ শহীদ হন। এরপর আমাদের সহযোদ্ধা শহীদ ওয়াসিম আকরামও জীবন উৎসর্গ করেন। তাদের আত্মত্যাগ দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

জুলাই আন্দোলনের শহিদদের স্মরণ করে নাছির বলেন, ‘তাদের আত্মত্যাগ কখনও বৃথা যাবে না। নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাইয়ের শহিদরা অন্যায়, দমন-পীড়ন ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে থাকবেন।’

কথার আগুনে ক্ষমতার প্রাসাদ ভেঙেছে, ইতিহাসের পাতায় কী আছে

অনলাইন ডেস্ক
কথার আগুনে ক্ষমতার প্রাসাদ ভেঙেছে, ইতিহাসের পাতায় কী আছে
প্রতীকী ছবি

রাজনীতির একটি অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। সেটি হচ্ছে, অনেক সময় বড় কোনো ষড়যন্ত্র নয়, বরং ক্ষমতাসীনদের একটি অসাবধানী মন্তব্যই সরকারকে বড় ধরনের সংকটে ফেলে দিতে পারে। সমাজে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ বা অসন্তোষকে বিস্ফোরণের পর্যায়ে নিয়ে যেতে কখনো কখনো একটি মাত্র বাক্যই যথেষ্ট হয়ে ওঠে।

ইতিহাস বলছে, কোনো একটি সমস্যা হয়তো বহুদিন ধরেই বিদ্যমান ছিল, কিন্তু একজন প্রভাবশালী রাজনীতিক বা রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তার একটি বিতর্কিত মন্তব্য সেই সমস্যাকে নতুন মাত্রা দেয়। জনমনে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, বিরোধীরা ইস্যু পেয়ে যায় এবং পরিস্থিতি দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নিতে শুরু করে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসেও এমন ঘটনার নজির রয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি মন্তব্য ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘তাহলে কি শুধু রাজাকারের নাতি-নাতনিরাই সুযোগ পাবে?’ অনেক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী এই বক্তব্যকে নিজেদের ‘রাজাকারের বংশধর’ হিসেবে আখ্যায়িত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেন। ফলে মূল দাবির গণ্ডি পেরিয়ে আন্দোলন আরো বিস্তৃত আকার ধারণ করে এবং জনসমর্থনও বাড়তে থাকে।

একইভাবে সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের একটি মন্তব্যও বিতর্কের জন্ম দেয়। পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগে থাকা শিক্ষার্থীরা তার ওই মন্তব্য ভালোভাবে নেয়নি। ফলে শিক্ষানীতির মূল আলোচনা আড়ালে চলে যায় এবং সমালোচকদের জন্য এটি নতুন রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়।

শুধু বাংলাদেশ নয়, প্রতিবেশী ভারতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার কিছু তরুণকে ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করে মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করা হয়েছিল, তবু জনমনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছিল ওই উপমাটিই। কারণ সাধারণ মানুষ প্রায়ই ব্যাখ্যার চেয়ে অপমানজনক শব্দটিকেই বেশি মনে রাখেন।

ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জনগণ অনেক সময় কঠিন নিয়ম-নীতি, সরকারি সেবায় বিলম্ব কিংবা অজনপ্রিয় নীতিও মেনে নিতে পারে। কিন্তু তারা সহজে মেনে নেয় না এমন কোনো বক্তব্য, যা তাদের সম্মানবোধে আঘাত হানে।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল ভিত্তিই হলো জনগণ রাষ্ট্রক্ষমতার প্রকৃত মালিক। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, মন্ত্রী কিংবা সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের প্রতিনিধি এবং সাময়িকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। তারা ক্ষমতার মালিক নন; বরং জনগণের দেওয়া দায়িত্বের রক্ষক।

এই বাস্তবতা মনে রেখে, সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সব সময় সংযত ভাষায় কথা বলা উচিত। কারণ তাদের প্রতিটি বক্তব্য কেবল ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে নয়, রাষ্ট্রের অবস্থান হিসেবেও বিবেচিত হয়।

এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক পদাধিকারী বা কর্মকর্তার ডেস্কে একটি ছোট নোট রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে, যেখানে লেখা থাকবে : ‘আপনার নিয়োগকর্তাকে (জনগণ) অপমান করবেন না।’

এ ধরনের ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শিক্ষা আছে, যা সরকার এবং বিরোধী দল উভয়েরই ভাবা উচিত। জনরোষই হলো রাজনৈতিক পুঁজি। ক্ষমতাসীনরা যদি ঔদ্ধত্য, অবহেলা কিংবা অসতর্ক মন্তব্যের মাধ্যমে জনগণের আস্থা হারান, তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে প্রতিপক্ষ কখনোই দেরি করে না। তারা সানন্দে তার সুফল ভোগ করবে। স্বার্থান্বেষী মহল, সুযোগসন্ধানীরা, শত্রুভাবাপন্ন বিদেশি শক্তি এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রতিদ্বন্দ্বীরা বরাবর ভালো করেই জানে কীভাবে আহত আত্মসম্মানকে রাজনৈতিক গতিতে রূপান্তরিত করতে হয়। একটিমাত্র ভুল একটি স্লোগানে পরিণত হতে পারে; একটি স্লোগান একটি আন্দোলনে রূপ নিতে পারে; আর সেই আন্দোলন দেশের রাজনীতির গতিপথও বদলে দিতে পারে।

এর অর্থ এই নয় যে রাজনৈতিক নেতাদের সব সময় পূর্বলিখিত বক্তৃতা দিতে হবে এবং লোক দেখানো ভদ্রতা প্রদর্শন করতে হবে। গণতন্ত্রে খোলামেলা ও স্পষ্ট আলোচনা অবশ্যই জরুরি। তবে স্পষ্টভাষিতা যেন কখনোই অবজ্ঞা, তাচ্ছিল্য বা অপমানের ভাষায় পরিণত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায় থেকে উচ্চারিত প্রতিটি শব্দের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হয়। এর পরিণতি মাইক্রোফোনের সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। একটি বক্তব্য যেমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে শান্ত করতে পারে, তেমনি অসাবধানী মন্তব্য গোটা জাতিকে উসকেও দিতে পারে। তৈরি করতে পারে নতুন সংকট। বক্তব্য যেমন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে পারে বা তেমনই দুর্বল করে দিতে পারে। সর্বোপরি, এসব বক্তব্য নাগরিকদের মনে এই বার্তাও দেয়- রাষ্ট্র তাদের সম্মান করে কি না।

তাই যেকোনো সরকারের জন্য জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত জনগণের মর্যাদা ও অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন। কারণ অনেক সময় একটি মাত্র বাক্যই রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আমূল বদলে দিতে পারে।

কুমিল্লা মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

কুমিল্লা মহানগর বিএনপির ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে উদবাতুল বারী আবুকে সভাপতি এবং মো. ইউসুফ মোল্লা টিপুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত কমিটিতে ৯ সদস্যের উপদেষ্টা মণ্ডলী রাখা হয়েছে। তারা হলেন বেগম রাবেয়া চৌধুরী, ফজলুল হক ফজলু, ফরিদ উদ্দিন আহাম্মেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদের জিলানী, এস এ বারী সেলিম, ফরহাদ আক্তার মো. শাহরিয়ার, ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ এবং অধ্যাপক ডা. নীলুফা পারভীন।

কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি করা হয়েছে নজরুল ইসলাম ভিপিকে। সহসভাপতি পদে রয়েছেন শওকত আলী বকুল, আতাউর রহমান ছুটি, শহিদুল্লাহ রতন, মামুনুর রশিদ মজুমদার, অ্যাডভোকেট হোসেন মিয়া, মাহাবুবুর রহমান দুলাল ভিপি, রেজাউল হক আঁখি, ইঞ্জিনিয়ার ইদ্রিস মেহেদী, আব্দুর রহমান, আবদুল জলিল, মুজিবুর রহমান কামাল, রায়হান রহমান হেলেন, মো. রফিকুল ইসলাম, আব্দুস সাত্তার ও শ্যামল কৃষ্ণ সাহা।

সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপুর সঙ্গে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছে খলিলুর রহমান বিপ্লবকে। যুগ্ম সম্পাদক পদে রয়েছেন জলিশ আব্দুর রব, জামাল হোসেন, নাজমুল হক, অধ্যাপক নেছার আহাম্মেদ রাজু, রিয়াজ খান রাজু, মোর্শেদ আলম, মঞ্জুরুল আলম রুবেল, ফেরদৌস পাটোয়ারী, মো. কামাল হোসেন এবং বদরুল হাসান রাব্বু।

কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে আহাম্মেদ শোয়েব সোহেলকে। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন রাজিউর রহমান রাজিব, সাজ্জাদুল কবির সাজ্জাদ, খলিলুর রহমান খলিল, মনির হোসেন পারভেজ, ফুয়াদ আহাম্মেদ এবং মোসাম্মৎ ফরিদা আক্তার ডলি।

কমিটিতে প্রচার সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন ভিপি, দপ্তর সম্পাদক ইকরাম হোসেন তাজ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহাবুব চৌধুরী, প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক সারজেক আলম সরকার, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দাউদ আহাম্মেদ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপিকা নাজমা আক্তার চৌধুরী, যুববিষয়ক সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম মনির এবং ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আল মামুন করা হয়েছে।

এ ছাড়া শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. আবু ইউসুফ পাখি, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক জসিম উদ্দিন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক সুমাইয়া বিনতে হোসাইনী, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান, প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক শোহেব বিন আহাম্মেদ সোহেল, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক সোহরাব হোসেন, মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক নাছির উদ্দিন সুমন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. আবু তাহের মুহিত ও ডা. আফতাব উদ্দিন ভুঁইয়া, পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ডা. প্রিয়ম চক্রবর্তীসহ বিভিন্ন পদে নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কমিটিতে সহ-কোষাধ্যক্ষ হিসেবে জহিরুল ইসলাম (রহমান), সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নেছার আহাম্মেদ দিপু, সাজ্জাদ মাহমুদ দিপু ও মো. রবিউল হক শামীম, সহ-দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দেওয়ান সালাউদ্দিন আহাম্মেদ ও মনির হোসেন এবং সহ-প্রচার সম্পাদক হিসেবে ফরিদ আলীকে রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া সহ-সম্পাদক পদে বিভিন্ন বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর হোসেন মোল্লা, তোফাজ্জল হোসেন বেলাল, নাসির উদ্দিন নাসির, ডা. তৌহিদুল ইসলাম তুহিন, অ্যাডভোকেট মাহাবুব খন্দকার, অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত মিঠু, অ্যাডভোকেট মাহামুদা খানম শিল্পী, আছমা আক্তার, রেহানা রহমান, ডা. খাজা মোর্শেদ মাহমুদ তুষার, মো. হামিদ উদ্দিন মজুমদার সুমন, গোলাম মুর্তুজা তপু, কামাল হোসেন (হাসেম), জামাল আহাম্মেদ, ডা. দেবাশীষ চক্রবর্তী, মোস্তফা মজুমদার, জাকির হোসেন ও আবুল খায়ের।

কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে কাউসার জামান বাপ্পী, মোস্তাক মিয়া, আনোয়ার হোসেন, বদরুল আলম বাবুল, বেলায়েত হোসেন কনক, মনোয়ার হোসেন সেলিম, আব্দুল মতিন, জামাল হোসেন, অ্যাডভোকেট সেলিম হোসেন রনি, মো. জাকির হোসেন (৪ নম্বর ওয়ার্ড), আবুল হোসেন, তোফায়েল আহাম্মেদ, ফরিদ আহাম্মেদ মজুমদার, আক্তার হোসেন, আতিকুল ইসলাম, মো. হাসমত, অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন শিশু, জাবেদ আহাম্মেদ মজুমদার কিসলু, আব্দুল কুদ্দুস, মো. মাসুদ হোসেন, অ্যাডভোকেট এ কে এম ইকবাল কবির, গোলাম মোস্তফা বাবুল, হুমায়ন কবির, সেলিনা বেগম, কিশোর দেবনাথ, নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া আজাদ, খোকন আহাম্মেদ, সাইফ আহাম্মেদ সাইফুল, আলেক হোসেন, মাসুক মিয়া, তাজুল ইসলাম তাজু, সাদেকুল ইসলাম, মোশারফ হোসেন বাবু, জামাল হায়দার, এস এম সবুর বশির, জহির উদ্দিন, নাসির উদ্দিন, মো. লিটন মিয়া, জমিরুল হক জামাল, জাকির হোসেন, এনামুল কিবরিয়া রনি, শ্যামল কুমার সাহা, শাহাদাত হোসেন সাগর, মনির হোসেন, সালেহ উদ্দিন সেলিম, মো. মাহাবুবুল আলম, শাহাদাত হোসেন সানি, সফিকুল ইসলাম স্বপন, লিটন পাল, মো. আব্দুর রহিম খান, অ্যাডভোকেট মোজাদ্দেদ হোসেন আদনান, আমজাদ হোসেন মজুমদার, মাহাবুবুর রহমান, মহিবুর রহমান তুহিন, আশিকুর রহমান শিমুল, মঞ্জুরুল আলম, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) শাহজাহান মজুমদার, অধ্যাপক বেল্লাল হোসেন, সোহেল মজুমদার, গোলাম মো. হুমায়ন কবির, মো. হানিফ, মো. সাইফুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন মজুমদার জিহাদ ও মো. শাহাজান।

দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতার

রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধ, উন্নয়ন বরাদ্দের সুষম বণ্টন এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জাতীয় সংসদকে সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, সংসদের কার্যক্রম যত বেশি নিয়মতান্ত্রিক ও কার্যকর হবে, মানুষের আস্থা তত বাড়বে। সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি ও নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে স্পিকারের ভূমিকা আরো শক্তিশালী হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনসম্পদ লুটপাট বন্ধে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জুলাই বিপ্লব ও ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে স্বাগত জানান তিনি।

সরকারি অর্থে স্থাপনায় ব্যক্তির নামফলক বসানোর সংস্কৃতির সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এসব নামফলক বদলাতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় হয়। এ ধরনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিরোধী দলকে পর্যাপ্ত আলোচনা ও মতামত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আইন পাসের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের সদস্যদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

রাজধানীর জলাবদ্ধতা ও দুর্বল পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই ঢাকা শহর জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে, যা জনস্বাস্থ্য ও নগর ব্যবস্থাপনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রাজধানীকে পরিকল্পিত ও দৃষ্টিনন্দন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে ইতিবাচক উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা প্রাথমিক শিক্ষায় নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা এবং অবহেলিত স্বতন্ত্র মাদ্রাসাগুলোর উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এবারের দুর্যোগে চট্টগ্রাম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন।

উন্নয়ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সরকারি দলের তুলনায় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। উন্নয়ন তহবিল বণ্টনে রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে সুষম ও ন্যায়সংগত নীতি অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।