• ই-পেপার

হাদিসের বাণী

পিতার জন্য ইবরাহিম (আ.)-এর আকুতি

যেভাবে আত্মিক অধঃপতন শুরু হয়

মাইমুনা আক্তার
যেভাবে আত্মিক অধঃপতন শুরু হয়
সংগৃহীত ছবি

মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ তার অন্তর। ইসলামের দৃষ্টিতে এটি ঈমান, তাকওয়া, বিবেক ও আল্লাহকে চেনার কেন্দ্র। এ কারণেই কোরআন ও হাদিসে বাহ্যিক আমলের পাশাপাশি অন্তরের পবিত্রতা অর্জনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ একটি পবিত্র অন্তর মানুষকে আল্লাহর দিকে টেনে নেয়, আর অপবিত্র অন্তর ধীরে ধীরে তাকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

মানুষের অন্তর কলুষিত হয় গুনাহ ও অবিশ্বাসের প্রভাবে। মানুষ যখন আল্লাহকে ভুলে যায়, গাফেল হয়ে পড়ে, তখন তার অন্তরও আস্তে আস্তে কলুষিত হয়ে যায়। একটা পর্যায়ে গিয়ে তাতে মোহর মেরে দেওয়া হয়, ফলে তার মধ্যে আর সত্য অনুধাবনের শক্তি থাকে না। এটাই হয়ে ওঠে তার চূড়ান্ত আত্মিক অবক্ষয়, যা তাকে স্বদর্পে জাহান্নামের পথে পরিচালিত করে। তারা জেনে-বুঝে সত্যকে উপেক্ষা করে।

অন্তরের অবক্ষয় শুরু হয় একটি গুনাহ দিয়ে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বান্দা যখন একটি গুনাহ করে তখন তার অন্তরের মধ্যে একটি কালো চিহ্ন পড়ে। অতঃপর যখন সে গুনাহর কাজ পরিহার করে, ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং তাওবা করে, তার অন্তর তখন পরিষ্কার ও দাগমুক্ত হয়ে যায়। সে আবার পাপ করলে তার অন্তরে দাগ বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং তার পুরো অন্তর এভাবে কালো দাগে ঢেকে যায়। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৩৩৪)

অর্থাৎ প্রতিটি গুনাহ অন্তরের ওপর একটি ক্ষত তৈরি করে। তাওবাই সেই ক্ষতের চিকিৎসা। কিন্তু তাওবা না করলে তার মাত্রা দিন দিন খারাপ হতে থাকে। একটা সময় সেই অন্তরের গুনাহের মরিচার আবরণ তৈরি হয়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘কখনো না, বরং তাদের কর্মই তাদের অন্তরে জং ধরিয়ে দিয়েছে।’ (সুরা : মুতাফফিফিন, আয়াত : ১৪)

অন্তরের অবস্থা এ স্তরে চলে গেলে মানুষের বিবেক দুর্বল হতে থাকে। তখন তাদের কাছে গুনাহকে আর গুনাহ বলে মনে হয় না (নাউজুবিল্লাহ)। এটা অন্তরের কঠিন ব্যাধি। এ সময়ও যদি কারো তাওবা নসিব না হয়, নিজেকে শুধরে না নেয়, তবে তাদের অন্তর কঠিন হয়ে যায়। তখন কোনো উপদেশ তাদের অন্তরকে স্পর্শ করে না, গুনাহে লিপ্ত হলেও অনুশোচনাবোধ আসে না (নাউজুবিল্লাহ)। পবিত্র কোরআনে অন্তরের এই অবস্থার ব্যাপারে বলা হয়েছে, ‘তাদের অন্তরসমূহে রয়েছে ব্যাধি। সুতরাং আল্লাহ তাদের ব্যাধি বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আজাব। কারণ তারা মিথ্যা বলত।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১০)

গুনাহ করতে করতে যখন মানুষের অন্তর কঠিন হয়ে যায়, তখন আর মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের প্রতিও তাদের কোনো আগ্রহ কাজ করে না। এমনকি কোনো ইবাদতেও মন বসে না (নাউজুবিল্লাহ)। হেদায়াতের বাণী তাদের কাছে বিরক্তিকর লাগে। কেউ দ্বিনের দাওয়াত নিয়ে এলে তার প্রতি ক্ষোভ জন্ম নেয়। এমনকি শুধু ইসলাম পালনের কারণে মানুষ তাদের শত্রুতাসুলভ প্রোপাগান্ডার শিকার হয় (নাউজুবিল্লাহ)।

 এ অবস্থা থেকে আস্তে আস্তে তারা ধ্বংসের শেষ সীমানায় চলে যায়। এবং তাদের অন্তরে মহর মেরে দেওয়া হয়। যার ফলে তাদের অন্তরে হেদায়াতের আলো গ্রহণের আর কোনো শক্তিই থাকে না। পবিত্র কোরআনে এমন অন্তরের ব্যাপারে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ তাদের অন্তরে এবং তাদের কানে মোহর লাগিয়ে দিয়েছেন এবং তাদের চোখসমূহে রয়েছে পর্দা। আর তাদের জন্য রয়েছে মহাআজাব।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ৭)

নাউজুবিল্লাহ। এ মোহর প্রথম গুনাহের শাস্তি নয়; বরং দীর্ঘদিন সত্য অস্বীকার, অহংকার ও অবাধ্যতার পরিণতি। তখন মানুষ সত্য শুনেও তা গ্রহণ করতে পারে না।

তাই প্রত্যেক মুমিনের উচিত অন্তরকে পবিত্র রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করা। যেসব কাজে অন্তর আধ্যাত্মিকভাবে সতেজ থাকে, নিজেকে সেসব কাজে নিয়োজিত রাখার চেষ্টা করা। নিয়মিত তাওবা-ইস্তিগফার করা, গুরুত্ব সহকারে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা, নিয়মিত কোরআন চর্চার চেষ্টা করা, আল্লাহর জিকির করা, হারাম থেকে বেঁচে থাকা এবং সৎ মানুষের সাহচর্য গ্রহণ করা। 

এ ধরনের প্রতিটি পদক্ষেপ অন্তরকে জীবিত রাখতে সহায়তা করে। মানুষ তার মানবীয় দুর্বলতায় গুনাহে পড়ে যাওয়া স্বাভাবিক, তবে মুমিনের কর্তব্য গুনাহ থেকে বিরত থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা এবং তার পরও যদি গুনাহ হয়ে যায়, অবিলম্বে তাওবা করে মহান আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা। মহান আল্লাহ সবাইকে অন্তরের ব্যাধি ও আত্মিক অবক্ষয় থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সমাজে মিলেমিশে থাকার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

ইসলামী জীবন ডেস্ক
সমাজে মিলেমিশে থাকার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
সংগৃহীত ছবি

মানুষ সামাজিক জীব। তাই মানুষ একাকী থাকতে পারে না। সমাজবদ্ধ হয়ে থাকতে হয় মানুষকে। আদম (আ.)-কে প্রথম মানব হিসেবে সৃষ্টি করার পর হাওয়া (আ.)-কেও সৃষ্টি করা হয়েছিল, যাতে আদমকে নিঃসঙ্গ হয়ে থাকতে না হয়। অতঃপর তাঁদের একসঙ্গে জান্নাতে থাকতে বলা হয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘হে আদম, তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো, তোমাদের যেখান থেকে ইচ্ছা খাবার গ্রহণ করবে, তবে ওই গাছের কাছেও আসবে না, তা না হলে তোমরা জালিম বলে গণ্য হবে।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৯)

ইসলামপূর্ব সময়ে মক্কায় চরম বিশৃঙ্খলা ও বিপর্যয় বিরাজ করছিল। ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা, ভ্রাতৃত্ববোধ, সৌহার্দ্য-ভালোবাসা, পারস্পরিক সহযোগিতাসহ মানবিকতা হারিয়ে যাওয়ার পথে ছিল। কিন্তু ইসলাম এসে সমাজকে নতুনভাবে সাজাতে থাকে। ইসলামের সুশীতল ছায়ায় এসে মানুষ পরিণত হয় সোনার মানুষে।

তাই সমাজচ্যুত কেউ ইসলামের মৌলিক আদর্শ লালন করতে পারে না। সবাইকে নিয়ে বসবাস করা এবং সংঘবদ্ধ হয়ে সুষ্ঠু-সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করাই ইসলামের মূল চাহিদা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা সবাই মিলে আল্লাহর রজ্জু শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো, বিচ্ছিন্ন হয়ো না, তোমাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ করো যখন তোমরা ছিলে পরস্পর শত্রুভাবাপন্ন, অতঃপর তিনি তোমাদের অন্তর এক করেছেন এবং তোমরা তাঁর অনুগ্রহে পরস্পর ভাই ভাই হয়েছ।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১০১)

গোষ্ঠীবদ্ধভাবে থাকা মানুষের একটি সহজাত চাহিদা। চাইলেও কেউ একাকী থাকতে পারে না। তাই পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভালোবাসা থাকলে মানুষের জীবন সত্যিকারভাবেই সুন্দর হয়। মানুষের মাঝে নানা গোষ্ঠী ও সমাজ থাকবে। সেখানেই মানুষ বসবাস করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মানুষ, আমি তোমাদের পুরুষ ও নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদের অনেক জাতি ও গোষ্ঠীতে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা একে অপরকে চিনতে পারো, তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তি সবচেয়ে সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক খোদাভীরু, আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞাত ও সর্ববিষয়ে অবগত।’ (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১৩)

মানুষকে পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে হলে নানাজনের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে হয়। পরিবারের সদস্য ছাড়াও অনেক আত্মীয়র সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয়। তাই জীবনযাত্রায় আত্মীয়দেরও অনেক অধিকার আছে। নিকটাত্মীয়দের অধিকার স্বাভাবিকভাবেই বেশি। তাই আল্লাহ তাআলা তাদের হক আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ করেন, ‘আর আপনি আত্মীয়দের হক আদায় করুন।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৬)

সমাজজীবনে পরিবার অন্যতম উপাদান। পরিবারে শান্তি-সম্প্রীতি ও ভালোবাসা তৈরির জন্য স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মাঝে সহাবস্থান ও সম্প্রীতি থাকতে হবে। পারিবারিক শান্তির জন্য সমঝোতা ও সহিষ্ণুতা একান্ত প্রয়োজন। তাই পারস্পরিক ভুলত্রুটি হলেও তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা চাই। পারস্পরিক বোঝাপড়া, পরমতসহিষ্ণুতা ও ধৈর্য পরিবারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাই আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা তাদের সঙ্গে সত্ভাবে জীবন যাপন করো, তাদের তোমরা অপছন্দ করলে এমনও হতে পারে, তোমরা এমন কিছু অপছন্দ করছ, যাতে আল্লাহ তোমাদের জন্য কল্যাণ রেখেছেন।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৯)

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, ‘তাঁর নিদর্শনের একটি হলো, তিনি তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যেন তাদের কাছে গিয়ে তোমরা প্রশান্তি অনুভব করো, তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও অনুকম্পা ঢেলে দিয়েছেন, এতে চিন্তাশীল জাতির জন্য অনেক নিদর্শন আছে।’ (সুরা : রুম, আয়াত : ২১)

তাই আত্মীয়দের বিপদ-আপদ ও কঠিন মুহূর্তে সাধ্যমতো পাশে থাকা মুসলিমের কর্তব্য। অহেতুক অন্যের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে জড়াবে না। কোনো মুসলিম ভাইয়ের সঙ্গে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করা জায়েজ নেই। তাই যত কিছুই হোক, সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকা ইসলামের নির্দেশনা। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘কোনো মুসলিম অন্য ভাইয়ের সঙ্গে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করে থাকা বৈধ নয়। উভয়ে সাক্ষাৎ করে, কিন্তু উভয়ে মুখ ফিরিয়ে চলে যায়। অতএব, উভয়ের মধ্যে উত্তম হলো যে সালামের মাধ্যমে আবার কথা বলা শুরু করে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬০৭৭)

ইসলামের মৌলিক পাঁচটি বিধান সমাজজীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাই মানবসমাজে ইসলামের প্রভাব অনেক বেশি। সমাজজীবনের প্রেক্ষাপটে ইসলামের বিধি-বিধানগুলো আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেছেন। তাই কোরআন-হাদিসের দিকনির্দেশানা ও ইসলামের শিষ্টাচারগুলো সমাজের মানুষের মধ্যে ফুটিয়ে তোলাই মুসলিম হিসেবে সবার কর্তব্য। আল্লাহ আমাদের তা পালনে  সহায় হোন।

আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের বিশেষ পাঁচ আমল

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা
আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের বিশেষ পাঁচ আমল
সংগৃহীত ছবি

মানুষ তার মানবীয় দুর্বলতার কাছে আত্মসমর্পণ করে ভুল করে। পাপ করে ফেলে। কিন্তু ইসলামের সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক হলো আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য তাওবার দরজা খোলা রেখেছেন। শুধু তাই নয়, কিছু আমল এমন রয়েছে, যার মাধ্যমে অতীতের গুনাহ শুধু মাফই হয় না; বরং আল্লাহ তা সওয়াবে রূপান্তর করে দেন। এটি আল্লাহর অসীম রহমত ও দয়ার এক অনন্য প্রকাশ। তবে এমনটা হবে তখনই, যখন বান্দা কিছু শর্ত পালন করতে পারবে। নিম্নে সেই শর্তগুলো তুলে ধরা হলো—
 

১. আন্তরিকভাবে তাওবা : কুফরি ও শিরকি গুনাহ সাধারণত অমার্জনীয় অপরাধ। এ অবস্থায় তাওবা না করে কেউ মারা গেলে, তার আর ক্ষমাপ্রাপ্ত হওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু কেউ যদি মৃত্যুর আগে আগে নিজের অতীতের গুনাহের ওপর অনুতপ্ত হয়ে বাকি জীবন গুনাহ না করার দৃঢ় সংকল্প করে এবং তার ওপর অটল থাকে, তবে তাকে মহান আল্লাহ ক্ষমা করে দেবেন ইনশাআল্লাহ, উপরন্তু তার গুনাহগুলোকে সওয়াবে রূপান্তরিত করবেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তবে যে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে; পরিণামে আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৭০)

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসিরবিদরা লেখেন, যারা শিরক ও গুনাহ থেকে খাঁটি তাওবা করে, তাদের জাহান্নামে চিরকাল বাস করা দূরের কথা জাহান্নাম তাদের বিন্দুমাত্রও স্পর্শ করবে না; বরং আল্লাহ তাআলা তাদের অতীত গুনাহকে ভবিষ্যেক পুণ্য দ্বারা পরিবর্তিত করে দেবেন (অর্থাৎ যেহেতু অতীত কুফর ও গুনাহ ইসলামের বরকতে মাফ হয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে সৎকর্মের কারণে পুণ্য লিখিত হতে থাকবে, তাই জাহান্নামের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক থাকবে না) এবং এই পাপ মোচন ও পুণ্য লিখন এ কারণে যে আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল, তাই পাপ মোচন করে দেন এবং পরম দয়ালু, তাই পুণ্য স্থাপন করে দেন। (তাফসিরে মাআরিফুল কোরআন)

আর যারা আগে থেকে মুমিন, তাদেরও উচিত গুনাহ হয়ে গেলে মহান আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হয়ে খাঁটি অন্তরে তাওবা করা এবং বাকি জীবন সব রকম গুনাহ থেকে নিজেকে বিরত রাখার দৃঢ় সংকল্প করা। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, গুনাহ থেকে তাওবাকারী নিষ্পাপ ব্যক্তিতুল্য। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪২৫০)

এই হাদিস ইঙ্গিত দেয়, গুনাহ থেকে সত্যিকারের আন্তরিক তাওবা মানুষের অতীতকে মুছে দিয়ে নতুন সূচনা করার সুযোগ দেয়।

২. গুনাহ হয়ে গেলে নেক আমল করা : নেক আমল মন্দ কাজকে মুছে দেয়, তাই গুনাহ হয়ে গেলে আল্লাহর কাছে খাঁটি তাওবার পাশাপাশি নেক আমলে মনোযোগী হওয়া জরুরি। আশা করা যায়, মহান আল্লাহ গুনাহকে মিটিয়ে তা সওয়াবে রূপান্তর করবেন। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বলেছেন, ‘তুমি যেখানেই থাকো, আল্লাহকে ভয় করো, মন্দ কাজের পরপরই ভালো কাজ করো, তাতে মন্দ দূরীভূত হয়ে যাবে এবং মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ করো।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৮৭)

অর্থাৎ যেখানেই থাকো—প্রতিটি স্থান ও প্রত্যেক অবস্থায়, প্রকাশ্যে ও গোপনে, সুখে ও দুঃখে, সচ্ছলতায় ও সংকটে, জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতিতে আল্লাহকে ভয় করো এবং কোনো মন্দ কাজ হয়ে গেলে তার পরপরই একটি ভালো কাজ করো; তা সেই মন্দ কাজকে মুছে দেবে। এর মানে হলো, যদি তোমার দ্বারা কোনো গুনাহ সংঘটিত হয়ে যায়, তাহলে তার পরপরই নামাজ, সদকা কিংবা যেকোনো সৎকাজ সম্পাদন করো। কারণ এসব নেক আমল সেই গুনাহের প্রভাব দূর করে এবং তা মুছে দেয়।

৩. বিপদ-আপদে ধৈর্য ধরা : বিপদ-আপদ মানুষের জীবনের অংশ। যদি কেউ বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণ করতে পারে, তবে মহান আল্লাহ তার গুনাহগুলোকে ক্ষমা করে দেন। হাদিস শরিফে এসেছে, আবু সাঈদ খুদরি (রা.) ও আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, মুসলিম ব্যক্তির ওপর যে কষ্ট-ক্লেশ, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানি আসে, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে ফুটে, এসবের মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেন। (বুখারি, হাদিস : ৫৬৪১)

এখানে সরাসরি গুনাহগুলো সওয়াবে রূপান্তরিত না হলেও বিপদে পড়লে মুমিনের দোয়া-ইবাদত বেড়ে যায়, ফলে গুনাহ মাফের পাশাপাশি তার আমলনামাও ভারী হতে থাকে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হতে থাকে।

৪. মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা : আল্লাহকে ভালোবাসার জন্য রাসুল (সা.)-এর পথ অনুসরণ করা আবশ্যক। আর এই অনুসরণের মাধ্যমেই আল্লাহ ও তাঁর নবীর ভালোবাসা পাওয়ার পাশাপাশি গুনাহ মাফের সুযোগ পাওয়া যায়। ইরশাদ হয়েছে, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার (নবীর) অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ মার্জনা করবেন।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৩১)

এখানেও পাপ মার্জনার পাশাপাশি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়, যা বান্দার আখিরাতের সফলতা অর্জনে সহায়ক। এমনিভাবে মহানবী (সা.)-এর ওপর বেশি দরুদ পাঠ করলেও বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

৫. নামাজের জন্য মসজিদে গমন : জামাতের সঙ্গে নামাজ পড়লে প্রতি কদমের বিনিময়ে গুনাহ মাফ ও মর্যাদা বৃদ্ধির ঘোষণা এসেছে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জামাতের নামাজ ঘরের বা বাজারের নামাজ অপেক্ষা ২৫ গুণ বেশি সওয়াব রাখে। কারণ বান্দা যখন উত্তমরূপে অজু করে এবং একমাত্র নামাজের উদ্দেশ্যেই ঘর থেকে বের হয়, তখন প্রতিটি কদমের বিনিময়ে আল্লাহ তার একটি করে মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং একটি করে গুনাহ মিটিয়ে দেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪৭)

আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৭ ‍জুলাই, ২০২৬

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৭ ‍জুলাই, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

আজ সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ, ১৪৩৩, ১২ সফর, ১৪৪৮।
ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ৮ মিনিটে।
আসরের সময় শুরু ৪টা ৪৩ মিনিটে।
মাগরিব ৬টা ৪৮ মিনিটে।
এশার সময় শুরু ৮টা ১৯ মিনিটে।
আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ০৬ মিনিটে 
আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪৮ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ২৫ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

পিতার জন্য ইবরাহিম (আ.)-এর আকুতি | কালের কণ্ঠ