• ই-পেপার

হাদিসের কথা

একাকী ভ্রমণের ঝুঁকি : রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সতর্কবাণী

কোরআনে সাহাবিদের ৭টি প্রশংসা

আবদুল্লাহ আল মামুন আশরাফী

অনলাইন ডেস্ক
কোরআনে সাহাবিদের ৭টি প্রশংসা

সাহাবায়ে কেরাম। উম্মাহর শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নির্দেশনায় সাহাবায়ে কেরামকে অনন্য অসাধারণ করে গড়ে তুলেছিলেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিটি নির্দেশনা তাঁরা হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করেছেন এবং যথার্থভাবে জীবনে বাস্তবায়ন করেছেন। ফলে তাঁরা আল্লাহতায়ালা ও রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসায় ধন্য হয়েছেন। কোরআন মাজিদ ও হাদিস শরিফে সাহাবায়ে কেরামের অনেক প্রশংসার কথা বিবৃত হয়েছে। আজ আমরা কোরআন মাজিদের ভাষায় সাহাবিদের ৭টি প্রশংসা নিয়ে কিছু কথা বলব ইনশাআল্লাহ।

কোরআনে সাহাবিদের ৭টি প্রশংসা

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন মুমিন জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এর চেয়ে বড় সাফল্য আর কিছুই হতে পারে না। আল্লাহ বলেন, ‘আর আল্লাহর সন্তুষ্টিই সর্বশ্রেষ্ঠ’। (আত তাওবাহ : ৭২)

এই সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কারটি দুনিয়াতেই অর্জন করার সৌভাগ্য লাভ করেন সাহাবায়ে কেরাম।

আল্লাহ বলেন : ‘মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা ইমানে প্রথমে অগ্রগামী হয়েছে এবং যারা নিষ্ঠার সঙ্গে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আল্লাহ তাদের জন্য এমন উদ্যানরাজি তৈরি করে রেখেছেন, যার তলদেশে নহর বহমান। তাতে তারা সর্বদা থাকবে। এটাই মহাসাফল্য।’ (সুরা আত-তাওবা : ১০০)

২. তারা শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম

আল্লাহ মুসলিম উম্মাহকে অপরাপর উম্মাহর মাঝে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরিয়ে দিয়েছেন। আর এই উম্মতের মাঝে সাহাবায়ে কেরাম প্রথম সারিতে আছেন। সে সুবাদে শ্রেষ্ঠত্বের বিজয়মাল্য সর্বপ্রথম সাহাবায়ে কিরামের গলায়ই শোভা পেয়েছে। সুতরাং তারাই হচ্ছেন উম্মাহর শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম। আল্লাহ বলেন- ‘(হে মুসলিমগণ!) তোমরা সেই শ্রেষ্ঠতম দল, মানুষের কল্যাণের জন্য যাদের অস্তিত্ব দান করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ করে থাক ও অন্যায় কাজে বাধা দিয়ে থাক এবং আল্লাহর প্রতি ইমান রাখ।’ (আলে ইমরান : ১১০)

৩. তারা ইমানের মানদণ্ড

সাহাবায়ে কেরাম আল্লাহর প্রিয়পাত্র। তাঁরা ইমানের মানদণ্ড। তাঁদের দেখানো পথে চললেই সফলতা আসবে। সঠিক পথের দিশা পাওয়া যাবে।

ইরশাদ হয়েছে- ‘অতঃপর তারাও যদি সে রকম ইমান আনে যেমন তোমরা (সাহাবায়ে কেরাম) ইমান এনেছ, তবে তারা সঠিক পথ পেয়ে যাবে। আর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তারা মূলত শত্রুতায় লিপ্ত হয়ে পড়েছে। সুতরাং শিগগিরই আল্লাহ তোমার সাহায্যার্থে তাদের দেখে নেবেন এবং তিনি সব কথা শোনেন ও সবকিছু জানেন।’ (সুরা বাকারাহ : ১৩৭)

কোরআনে সাহাবিদের ৭টি প্রশংসা৪. তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রত্যাশী

সাহাবায়ে কেরাম জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া লাভকেই জীবনের লক্ষ্য বানিয়ে নিয়েছেন। আল্লাহ স্বয়ং তাঁদের এই পবিত্র মানসিকতার সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। ‘মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রসুল। তাঁর সঙ্গে যাঁরা আছেন, তাঁরা কাফেরদের বিরুদ্ধে কঠোর এবং আপসের মধ্যে একে অন্যের প্রতি দয়ার্দ্র। তুমি তাঁদের দেখবে (কখনো) রুকুতে, (কখনো) সিজদায়, আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি সন্ধানে রত। তাঁদের আলামত তাঁদের চেহারায় পরিস্ফুট, সিজদার ফলে।’ (সুরা ফাতাহ : ২৯)

৫. তারা সত্যবাদী

সাহাবায়ে কেরাম সত্যবাদী। তাঁদের সততা প্রবাদতুল্য। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁরা সততার সৌরভ জড়িয়ে রেখেছেন। আল্লাহ তাঁদের সত্যবাদী হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

আল্লাহ বলেন- ‘(বিনা যুদ্ধে লব্ধ সম্পদ) সেই গরিব মুহাজিরদের প্রাপ্য, যাদেরকে তাদের ঘরবাড়ি ও অর্থসম্পদ থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর সন্তুষ্টি সন্ধান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসুলের সাহায্য করে। তারাই সত্যবাদী।’ ( হাশর : ৮)

৬. তারা সঠিক পথপ্রাপ্ত

সাহাবায়ে কেরাম সঠিক পথের ধারকবাহক। তাঁরা সত্য পথে অবিচল ছিলেন।

আল্লাহ বলেন- ‘ভালোভাবে জেনে রাখ যে তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রসুল আছেন আর বহু বিষয়ে সে যদি তোমাদের কথা মেনে নেয়, তবে তোমরা নিজেরাই সংকটে পড়ে যাবে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের অন্তরে ইমানের ভালোবাসা সঞ্চার করেছেন এবং তাঁকে তোমাদের অন্তরে করে দিয়েছেন আকর্ষণীয়। আর তোমাদের কাছে কুফর, গুনাহ ও অবাধ্যতাকে ঘৃণ্য বানিয়ে দিয়েছেন। এরূপ লোকেরাই সঠিক পথপ্রাপ্ত হয়েছেন।’ (সুরা হুজুরাত : ৭)

৭. তারা চির সফল

আল্লাহ সাহাবায়ে কেরামকে চির সফল বলে ঘোষণা করেছেন। তাঁরা কল্যাণের ধারকবাহক বলেও স্বীকৃতি দিয়েছেন।

ইরশাদ হয়েছে- ‘কিন্তু রসুল এবং যেসব লোক তাঁর সঙ্গে ইমান এনেছে, তারা নিজেদের জানমাল দ্বারা জিহাদ করেছে। তাদেরই জন্য সর্বপ্রকার কল্যাণ এবং তারাই কৃতকার্য।’ (সুরা তওবা : ৮৮)

লেখক : মুহাদ্দিস, জামিয়া গাফুরিয়া মাখজানুল উলুম টঙ্গী, গাজীপুর

আজকের নামাজের সময়সূচি, ২১ ‍জুলাই, ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ২১ ‍জুলাই, ২০২৬

আজ মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩, ৭ সফর, ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ৮ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৪৩ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৫০ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ১৪ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ০২ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪৮ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ২২ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

ছবি তুলতে মসজিদে যাওয়া প্রসঙ্গে ইসলাম কী বলে

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা
ছবি তুলতে মসজিদে যাওয়া প্রসঙ্গে ইসলাম কী বলে

মসজিদ পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান। এটি শুধু একটি স্থাপনা নয়; বরং আল্লাহর ইবাদত, জিকির, কোরআন তিলাওয়াত, ইলম শিক্ষা এবং মুসলিম সমাজের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। তাই একজন মুমিনের স্বপ্ন থাকে, নিজের সাধ্য অনুযায়ী এমন একটি মসজিদ নির্মাণ করা, যা হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম।

মসজিদ নির্মাণ ও আবাদ অত্যন্ত ফজিলতের কাজ। পবিত্র কোরআনে এই কাজে নিয়োজিত ব্যক্তির মধ্যে থাকা আবশ্যক গুণগুলোও বলে দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘একমাত্র তারাই আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সালাত কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না। আশা করা যায়, ওরা হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১৮)

রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে ঘর নির্মাণ করবেন। (বুখারি, হাদিস : ৪৫০)

এই ফজিলত অর্জন করতে সবাই চেষ্টা করেন তাদের মসজিদটি নান্দনিক ও মুসল্লিবান্ধব হয়। নিয়ত বিশুদ্ধ থাকার শর্তে মসজিদ নান্দনিক  করা দোষনীয়ও নয়।

হাদিস শরিফে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, মানুষ চায় যে তার পোশাক সুন্দর হোক, তার জুতা সুন্দর হোক, এ-ও কি অহংকার? রাসুল (সা.) বললেন, ‘আল্লাহ সুন্দর, তিনি সুন্দরকে ভালোবাসেন। প্রকৃতপক্ষে অহংকার হচ্ছে দম্ভভরে সত্য ও ন্যায় অস্বীকার করা এবং মানুষকে ঘৃণা করা।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৬৬)

তাই মহান আল্লাহকে খুশি করার আশায় একটি মসজিদ পরিচ্ছন্ন, সুপরিকল্পিত, দৃষ্টিনন্দন ও আরামদায়ক হওয়া দোষের নয়। বরং এমন পরিবেশ মুসল্লিদের ইবাদতে মনোযোগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে এই সৌন্দর্য যেন কখনো অহংকার, অপচয় বা লোক-দেখানো প্রতিযোগিতায় পরিণত না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা আবশ্যক। কারণ লোক-দেখানো প্রতিযোগিতা ও অহংকারের উদ্দেশ্যে মসজিদ নির্মাণ করা বা অলংকরণ করা নিন্দনীয়। এ ব্যাপারে সতর্ক করে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত লোকেরা মসজিদের সৌন্দর্য ও সুসজ্জিতকরণ নিয়ে পরস্পর গর্ব না করবে ততক্ষণ কিয়ামত সংঘটিত হবে না।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৭৩৯)

বর্তমান সময়ে একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তা হলো, এখনকার যুগের মুসল্লিরাও ইবাদতের জন্য ‘ফটোজেনিক’ মসজিদ খুঁজে বেড়ান, যেখানে ইবাদতের চেয়ে মসজিদের ফটোজেনিক লুকটা বেশি প্রাধান্য পায়। কোথায় ছবি সবচেয়ে সুন্দর আসবে, কোথায় ভিডিও বা রিল বেশি আকর্ষণীয় হবে, এ বিষয়গুলোর প্রতি বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়।

এই প্রবণতা মানুষের ইবাদতের মাহাত্ম্য নষ্ট করে। কারণ যেখানে উদ্দেশ্য হওয়ার কথা ছিল একমাত্র মহান আল্লাহর ইবাদত, সেখানে ফটো সেশন, ভিডিও ভ্লগিং ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার প্রচারটা বেশি গুরুত্ব পেয়ে যায়। (নাউজুবিল্লাহ!)

অথচ পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আর নিশ্চয় মসজিদগুলো আল্লাহরই জন্য। কাজেই তোমরা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে ডেকো না।’ (সুরা : জিন, আয়াত : ১৮)

এই আয়াতের মূল শিক্ষা হলো, মসজিদের প্রতিটি কার্যক্রম হতে হবে একমাত্র মহান আল্লাহকে কেন্দ্র করে। সেখানে ব্যক্তিস্বার্থ ও প্রচারপ্রিয়তা ইত্যাদির অনুপ্রবেশ ঘটানো মূল উদ্দেশ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রবলর আশঙ্কা থাকে। কারণ বিশুদ্ধ নিয়ত ও ইখলাস হলো ইবাদতের প্রাণ। ইখলাস পরিপন্থী ও নিয়তের গরমিল ইবাদতকে মূল্যহীন করে দেয়। আলক্বামাহ ইবনে ওয়াক্কাস আল-লায়সি (রহ.) থেকে বর্ণিত, আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে মিম্বরের ওপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি, আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, আমল (এর প্রাপ্য হবে) নিয়ত অনুযায়ী। আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে। (বুখারি, হাদিস : ১)

অতএব (নাউজুবিল্লাহ!) যদি কারো মসজিদে যাওয়ার উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টির পরিবর্তে নিজের উপস্থিতি প্রদর্শন করা কিংবা ফটো সেশন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করা হয়ে যায়, তবে ইখলাস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। আর ইখলাস নষ্ট হলে আমলের মর্যাদাও কমে যায়।

তাই মসজিদে গেলে মসজিদের আদব রক্ষার ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। মসজিদে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা, অপ্রয়োজনীয় কোলাহল সৃষ্টি করা, অন্য মুসল্লির ইবাদতে বিঘ্ন ঘটানো কিংবা ছবি, ভিডিও বা এমন কোনো কাজ করা, যাতে মানুষের মনোযোগ নষ্ট হয়—ইসলামের আদবের পরিপন্থী।

ইসলাম প্রযুক্তির বিরোধী নয়। কখনো কখনো শিক্ষামূলক, ঐতিহাসিক বা স্থাপত্যসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে মসজিদের ছবি বা ভিডিও ধারণ করা জায়েজ হতে পারে, যদি তা মসজিদের মর্যাদা নষ্ট না করে, অন্য মুসল্লির ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি না করে এবং রিয়া বা আত্মপ্রদর্শনের মাধ্যম না হয়।

কিন্তু নামাজরত মানুষের সামনে ক্যামেরা ধরানো, সেলফি তোলার জন্য কাতার ব্যাহত করা, উচ্চৈঃস্বরে ভিডিও ধারণ করা কিংবা মসজিদকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ‘কনটেন্ট স্টুডিও’ বানিয়ে ফেলা অবশ্যই পরিহারযোগ্য। আল্লাহর কাছে দুনিয়ার সবচেয়ে প্রিয় স্থান মসজিদে দাঁড়িয়ে কবিরা গুনাহে লিপ্ত হওয়া মারাত্মক গুনাহ। এর মানে আবার এও নয় যে কোনো মসজিদ অনেক সুন্দর হলেই সেখানে নামাজ পড়া নিষেধ। বরং ইবাদতের মাহাত্ম্য নষ্টকারী প্রদর্শনমূলক কাজের উদ্দেশ্যে নান্দনিক মসজিদ খোঁজা নিষেধ। উদ্দেশ্য যদি হয় প্রশান্তচিত্তে মহান আল্লাহর ইবাদত করা, তাহলে এমন মসজিদে যেতে কোনো সমস্যা নেই। বরং তার স্থিরচিত্তে ইবাদতে মগ্ন হতে সহায়তা করবে ইনশাআল্লাহ।

একজন মুমিনের কাছে মসজিদের সৌন্দর্যের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তার সিজদার সৌন্দর্য। স্থাপত্যের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ইখলাস। ক্যামেরার ফ্রেম ঠিক রাখার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আল্লাহর দরবারে ইবাদতগুলো কবুল হওয়া।

তাই মসজিদে প্রবেশের সময় প্রতিটি মুমিনের উচিত, তার হৃদয়কে বিনয়ে পূর্ণ রাখা, পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা রাখা, আর অন্তরকে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আকাঙ্ক্ষায় উদগ্রীব রাখা। যাঁরা মসজিদ নির্মাণ কিংবা মসজিদের সেবায় থাকেন, তাঁদেরও উচিত প্রতিটি পদক্ষেপে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়া। শয়তানের ধোঁকা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া।

মহান আল্লাহ সবাইকে বিশুদ্ধ নিয়ত ও পরিপূর্ণ তাকওয়া দান করুন। সবার ইবাদত ও শ্রমকে কবুল করুন।
 

আখেরি চাহার শোম্বা কী? এই দিনে বিশেষ আমল নিয়ে যা জানা জরুরি

অনলাইন ডেস্ক
আখেরি চাহার শোম্বা কী? এই দিনে বিশেষ আমল নিয়ে যা জানা জরুরি
মসজিদে নববীর ফজরের সময় দৃশ্য। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘আখেরি চাহার শোম্বা’ আরবি ও ফারসি মিশ্রিত একটি শব্দগুচ্ছ। এরমধ্যে আরবি ‘আখেরি’ অর্থ শেষ আর ফারসি শব্দ ‘চাহার’ অর্থ চার এবং ‘শোম্বা’ অর্থ বুধবার। অর্থাৎ, ‘আখেরি চাহার শোম্বা’ শব্দগুচ্ছের সম্মিলিত অর্থ দাঁড়ায়—শেষ বুধবার। মূলত, শব্দগুচ্ছটি দ্বারা হিজরি বর্ষের সফর মাসের শেষ বুধবারকে বোঝানো হয়।

বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশ ও ইরানের ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা দিনটিকে পবিত্র একটি দিবস হিসেবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে থাকেন। মূলত এর কারণ হলো রাসুল (সা.)-এর ওফাতের (ইন্তেকাল) আগে কিছুদিন তিনি অসুস্থ ছিলেন। তবে সফর মাসের শেষদিকে এসে সেই অসুস্থতা থেকে একদিন নবীজি (সা.) কিছুটা আরোগ্য লাভ করেছিলেন। ওইদিন তিনি লোকেদের উদ্দেশে খুতবাও দিয়েছিলেন। তবে এরপর তিনি আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে নবীজির (সা.) ওফাত হয়।

সহিহ বুখারির একটি হাদিসে এ বিষয়ে বর্ণনা পাওয়া যায়। রাসুল (সা.)-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রা.) বলেন, যখন রাসুল (সা.) আমার ঘরে প্রবেশ করলেন এবং তার ব্যথা বেড়ে গেল, তখন তিনি বললেন, তোমরা এমন সাত মশক (চামড়ার তৈরি পানির পাত্র) যার মুখ এখনো খোলা হয়নি, তা থেকে আমার শরীরে পানি ঢেলে দাও। যেন আমি (সুস্থ হয়ে) লোকদের উপদেশ দিতে পারি। এরপর আমরা তাকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরেক সহধর্মিণী হাফসা (রা.)-এর একটি বড় গামলায় বসালাম। তারপর আমরা ওই মশক থেকে তার ওপর ততক্ষণ পর্যন্ত পানি ঢালা অব্যাহত রাখলাম, যতক্ষণ না তিনি তার হাত দ্বারা আমাদের ইশারা করে জানালেন যে, তোমরা তোমাদের কাজ সম্পন্ন করেছ। আয়েশা (রা.) আরো বলেন, নবীজি (সা.) আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের কাছে গিয়ে তাদের সঙ্গে জামাতে সালাত (নামাজ) আদায় করলেন এবং তাদের উদ্দেশে খুতবা দিলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২২৪৭)

এই হাদিসটি থেকে ওফাতের আগে সফর মাসে অসুস্থতা থেকে নবীজির (সা.) একদিন সুস্থ হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। তবে অনেকে দাবি করেন, রাসুল (সা.) যেদিন সুস্থ হয়েছিলেন, সেই দিনটি ছিল বুধবার। এ জন্য দিনটিকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে অনেকেই বিশেষ নামাজ পড়ার কথা বলে থাকেন। কেউ কেউ এই দিনে বেশি বেশি সদকা ও ভালো কাজ করার কথাও বলে থাকেন। কিন্তু এগুলোর ভিত্তি কতটুকু?

ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, প্রিয় নবী (সা.) সফর মাসের শেষের দিকে এসে সুস্থতা লাভ করেছেন। এটি সত্য হলেও সেই দিনটি কি বার ছিল, এমন কোনো সুনির্দিষ্ট বারের কথা নবীজি (সা.) বা সাহাবায়ে-কেরামদের থেকে বর্ণিত কোনো হাদিসে উল্লেখ নেই। অর্থাৎ বুধবারের এই দিনেই তিনি (নবীজি সা.) সুস্থতা লাভ করেছেন একথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মনগড়া ও অপ্রমাণিত একটি বিষয়।

এ ক্ষেত্রে অনেকে দাবি করেন, সাহাবায়ে-কেরামরা নবীজির (সা.)-এর আরোগ্য লাভের দিনটিকে বিশেষভাবে উদ্‌যাপন করেছেন। তবে এটিরও কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। জনপ্রিয় এই ইসলামিক স্কলারের ভাষ্য, নবীজির (সা.) আরোগ্য লাভের দিনটিকে সাহাবায়ে-কেরাম বিশেষভাবে উদ্‌যাপন করেছেন এটি সম্পূর্ণ অসত্য। এ বিষয়ে রাসুল (সা.) কিংবা হাদিসের বিভিন্ন গ্রন্থে কোনো ধরনের বিশুদ্ধ বর্ণনা নেই। এ ছাড়া দিনটি উপলক্ষে বিশেষ কোনো নামাজ বা আমলের কথা কুরআন-হাদিসে নেই। কাজেই ইসলামের নামে মনগড়া কোনোকিছু করলে তা বিদআতের অন্তর্ভুক্ত হবে।

মনে রাখতে হবে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কেউ আমাদের এই শরিয়াতে সংগত নয় এমন কিছুর অনুপ্রবেশ ঘটালে তা প্রত্যাখ্যান করা হবে (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৫১৭)।’

আরেকটি হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি (ধর্মীয় ব্যাপারে) বিদআত করবে বা বিদআতকারীকে আশ্রয় দেবে তার ওপর আল্লাহর ফেরেশতা এবং সকল মানুষের লানত (অভিশাপ)। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’য়ালা তার কোনো ফরজ আমল এবং কোনো নফল কবুল করবেন না। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬২৯৯)

একাকী ভ্রমণের ঝুঁকি : রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সতর্কবাণী | কালের কণ্ঠ