• ই-পেপার

সিরিয়ার অঞ্চল নিয়ে মহানবী (সা.)-এর কয়েকটি ভবিষ্যদ্বাণী

‘যারা জানে আর যারা জানে না উভয়ে সমান নয়’

শিক্ষিত আর অশিক্ষিত কখনো সমান নয়

ইসলামী জীবন ডেস্ক
শিক্ষিত আর অশিক্ষিত কখনো সমান নয়
সংগৃহীত ছবি

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না—তারা কি কখনো সমান হতে পারে? উপদেশ গ্রহণ করে তো শুধু বিবেকবানরাই।’ (সুরা : ঝুমার, আয়াত : ৯)

এই আয়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বহু শিক্ষামূলক দিকনির্দেশনা আছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নিম্নে তুলে ধরা হলো—

প্রথমত, ইসলাম জ্ঞানার্জন ও জ্ঞানীদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। কোরআনের সর্বপ্রথম অবতীর্ণ আয়াতই ছিল—‘পড়ুন, আপনার সেই রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা : আল-আলাক, আয়াত : ১)

এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ।’ (সহিহুল জামে, হাদিস নম্বর : ৩৯১৪)

এ থেকেই বোঝা যায়, ইসলামের ভিত্তিই জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
দ্বিতীয়ত, দ্বিন ও দুনিয়ার কল্যাণকর জ্ঞান অর্জনের প্রতি আন্তরিক হওয়া। একজন সৌভাগ্যবান মুসলিমের কর্তব্য হলো এমন জ্ঞান অর্জনে আন্তরিক হওয়া, যা তার দ্বিন ও দুনিয়ার কল্যাণ বয়ে আনে। আল্লাহ তাআলা তাদের নিন্দা করেছেন, যারা কেবল দুনিয়াবি জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ থাকে। তিনি বলেন, ‘তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক বিষয়ই শুধু জানে, কিন্তু আখিরাত সম্পর্কে তারা সম্পূর্ণ উদাসীন।’ (সুরা : আর-রুম, আয়াত : ৭)

ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘বেশির ভাগ মানুষ দুনিয়ার জীবন, উপার্জন ও এর নানা বিষয় ছাড়া আর কিছুই জানে না। তারা দুনিয়ার সম্পদ অর্জনে অত্যন্ত দক্ষ ও বিচক্ষণ; কিন্তু আখিরাতে যা তাদের উপকার করবে, সে সম্পর্কে তারা সম্পূর্ণ উদাসীন। যেন তাদের কোনো বিবেক বা দূরদৃষ্টি নেই।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) আরো বলেছেন, ‘আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বিনের গভীর জ্ঞান দান করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭১)

ইমাম নববী (রহ.) বলেন, ‘এই হাদিসে জ্ঞানের মর্যাদা, দ্বিনের গভীর জ্ঞান অর্জনের ফজিলত এবং এর প্রতি উৎসাহ আছে। কারণ দ্বিনের জ্ঞানই মানুষকে আল্লাহভীতির দিকে পরিচালিত করে।’

তৃতীয়ত, যে বিষয়ে জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকা। যে বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা নেই, সে বিষয়ে মতামত দেওয়া বা ফতোয়া দেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞান ছাড়াই জটিল রোগের চিকিৎসা মানুষের কাছে বলে বেড়ায়, তবে সে মানুষের ক্ষতির কারণ হতে পারে; এমনকি নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানিরও কারণ হতে পারে। তখন অনুশোচনা করেও কোনো লাভ হবে না। এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবন হাজার আল-আসকালানি (রহ.)-এর বিখ্যাত উক্তি—‘কোনো ব্যক্তি যখন নিজের বিষয়ের বাইরে কথা বলে, তখন সে বিস্ময়কর ভুল করে বসে।’

চতুর্থত, জ্ঞানের কোনো শেষ নেই। জ্ঞান এমন এক মহাসাগর, যার কোনো তীর নেই। পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানের অধিকারী একমাত্র আল্লাহ তাআলা। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ সবকিছু সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।’ (সুরা : আল-বাকারাহ, আয়াত : ২৮২)

আর মানুষের অবস্থা হলো তারা জ্ঞানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরে অবস্থান করে। আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক জ্ঞানীর ওপরে আছেন আরো অধিক জ্ঞানী।’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৭৬)

পঞ্চমত, সঠিক অগ্রাধিকার নির্ধারণের শিক্ষা। এই আয়াত মানুষকে চিন্তা করতে শেখায়—জ্ঞানী ও অজ্ঞ কি কখনো সমান হতে পারে?

ইমাম তাবারি (রহ.) বলেন, ‘অজ্ঞ ব্যক্তি অন্ধকারে পথহারা মানুষের মতো। সে ভালো কাজের প্রতিদান আশা করে না এবং মন্দ কাজের শাস্তিকেও ভয় করে না।’

অতএব, সফল মানুষ সেই, যার হৃদয় জ্ঞান অর্জনের দিকেই ঝুঁকে পড়ে। আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় তাওফিক হলো মানুষ যেন বৈধ সব উপায়ে জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করে এবং প্রত্যেক বিষয়ে নির্ভরযোগ্য, সৎ, আল্লাহভীরু ও সুপ্রতিষ্ঠিত আলেমদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে।

ষষ্ঠত, প্রকৃত আলেম সেই, যে নিজের জ্ঞান অনুযায়ী আমল করে। জ্ঞান অর্জনের সর্বোচ্চ মর্যাদা তখনই লাভ হয়, যখন একজন ছাত্র বা আলেম নিজেই তার জ্ঞানের প্রথম উপকারভোগী হয়। সে নিজের জ্ঞান অনুযায়ী কথা বলে এবং আমল করে। ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেন, ‘যারা প্রকৃত জ্ঞানী, তারা নিজের জ্ঞান দ্বারা উপকৃত হয় এবং সে অনুযায়ী আমল করে। আর যে ব্যক্তি নিজের জ্ঞানের দ্বারা উপকৃত হয় না এবং সে অনুযায়ী আমলও করে না, সে যেন অজ্ঞ ব্যক্তিরই সমতুল্য।’

সপ্তমত, আজ জ্ঞান অর্জন থেকে দূরে থাকার কোনো অজুহাত নেই। আল্লাহর অনুগ্রহে বর্তমান যুগে জ্ঞান অর্জনের অসংখ্য সহজ মাধ্যম সৃষ্টি হয়েছে। স্মার্টফোন, কম্পিউটার, অনলাইন লাইব্রেরি, ইসলামী অ্যাপ, নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অনলাইন দারস ও ক্লাস—সবই জ্ঞান অর্জনের পথ সহজ করে দিয়েছে। তবে জ্ঞান গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে—নির্ভরযোগ্য উৎস নির্বাচন করতে হবে। বিশুদ্ধ আকিদা ও সঠিক মানহাজ অনুসরণ করতে হবে। কোরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে চলতে হবে। সালাফে সালেহিনের মধ্যপন্থী ও ভারসাম্যপূর্ণ আদর্শকে অনুসরণ করতে হবে।

অষ্টমত, এই আয়াত জীবনের সব ধরনের জ্ঞানের ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই আয়াত শুধু শরিয়তের জ্ঞানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ইসলামী জ্ঞান, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, প্রশাসন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, এবং মানবজীবনের সব উপকারী জ্ঞানের ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে। মানুষের মর্যাদা তার জ্ঞান ও দক্ষতার ওপর নির্ভর করে। যে ব্যক্তি নিজের পছন্দের বা কর্মক্ষেত্রের বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করে, সে সমাজে আস্থা, সম্মান ও নেতৃত্বের স্থান লাভ করে।

নবমত, ব্যক্তি, সমাজ ও জাতির উন্নতির মূল চাবিকাঠি হলো জ্ঞান। যে ব্যক্তি সমাজ বা জাতি জ্ঞান অর্জনকে জীবনের অংশ বানিয়ে নেয়, আল্লাহ তাকে বিরাট সফলতা দান করেন।

বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা যায়—
শিক্ষিত ব্যক্তি ও অশিক্ষিত ব্যক্তির মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। শিক্ষিত সমাজ ও অশিক্ষিত সমাজের উন্নতির ব্যবধানও অত্যন্ত বড়। একটি জাতির অগ্রগতি, সভ্যতা, স্থিতিশীলতা ও নেতৃত্ব অনেকাংশেই তার শিক্ষার মানের ওপর নির্ভরশীল। তাই জ্ঞানার্জন, জ্ঞানচর্চা এবং জ্ঞানের প্রসারই ব্যক্তি, সমাজ ও জাতির কল্যাণ, স্থিতিশীলতা, উৎকর্ষ ও উন্নতির সর্বোত্তম ও একমাত্র নির্ভরযোগ্য পথ।

এই আয়াত আমাদের শেখায় যে জ্ঞান মানুষকে মর্যাদাবান করে, সত্যের পথে পরিচালিত করে এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার দ্বার উন্মুক্ত করে। তবে সেই জ্ঞানই প্রকৃত কল্যাণকর, যা আল্লাহভীতি বৃদ্ধি করে, আমলে পরিণত হয় এবং মানুষের উপকারে আসে।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৫ ‍জুলাই, ২০২৬

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৫ ‍জুলাই, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

আজ শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ, ১৪৩৩, ১০ সফর, ১৪৪৮।
ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ৮ মিনিটে।
আসরের সময় শুরু ৪টা ৪৩ মিনিটে।
মাগরিব ৬টা ৪৯ মিনিটে।
এশার সময় শুরু ৮টা ১১ মিনিটে।
আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ০৪ মিনিটে 
আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪৮ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ২২ মিনিটে।
সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

ভিসা কেনাবেচার ব্যবসা কি জায়েজ, ইসলাম কী বলে?

মুফতি ওমর বিন নাছির
ভিসা কেনাবেচার ব্যবসা কি জায়েজ, ইসলাম কী বলে?
সংগৃহীত ছবি

বর্তমান সময়ে বিদেশে কর্মসংস্থান, ব্যবসা কিংবা বসবাসের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দেশের ভিসার ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। এই চাহিদাকে কেন্দ্র করে অনেক স্থানে ‘ভিসা ব্যবসা’ নামে একটি প্রচলিত প্রথা গড়ে উঠেছে। দেখা যায়, কেউ সরকারি বা কোম্পানির দেওয়া ভিসা অধিক মূল্যে বিক্রি করছেন, আবার কেউ ভিসা সংগ্রহে নিজের খরচ ও পরিশ্রমের বিনিময়ে নির্ধারিত অর্থ নিচ্ছেন। এ দুটি বিষয়কে অনেকে একই মনে করলেও ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে এদের বিধান এক নয়। 

কেননা ভিসা নিজেই কোনো বিক্রয়যোগ্য পণ্য নয়; বরং এটি একটি অনুমতিপত্র। তাই এর ওপর শরিয়তের সাধারণ ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান প্রযোজ্য হয় না। তবে ভিসা সংগ্রহে বৈধ সেবা, সময়, শ্রম ও ব্যয়ের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ কোরো না; তবে পারস্পরিক সম্মতিতে বৈধ ব্যবসার মাধ্যমে হলে ভিন্ন কথা।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ২৯)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, ইসলাম বৈধ ব্যবসাকে অনুমোদন দিয়েছে; কিন্তু এমন কোনো লেনদেন বৈধ নয়, যেখানে বিক্রয়ের উপযুক্ত বস্তুই নেই বা অন্যায়ভাবে অর্থ গ্রহণ করা হয়।

ভিসা কি ব্যবসার পণ্য?
শরিয়তের দৃষ্টিতে বিক্রয়যোগ্য বস্তুর কিছু শর্ত রয়েছে। যেমন— এক. তা মাল (সম্পদ) হতে হবে। দুই. বিক্রেতার মালিকানায় থাকতে হবে। তিন. শরিয়তসম্মতভাবে হস্তান্তরযোগ্য হতে হবে। কিন্তু ভিসা কোনো সম্পদ নয়; বরং এটি একটি রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে প্রদত্ত প্রবেশ বা কাজের অনুমতি। ফলে এটি স্বাধীনভাবে কেনাবেচার পণ্য নয়। এ কারণেই ফুকাহায়ে কেরাম (নিরেট অধিকার)-এর ক্রয়-বিক্রয়কে বৈধ বলেননি।

আল-আশবাহ ওয়ান-নাযায়ির গ্রন্থে এসেছে, ‘নিরেট অধিকার-এর বিনিময় বা বিক্রয় বৈধ নয়।’ আবার রাদ্দুল মুহতার-এ আল্লামা ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেন, ‘অগ্রক্রয়ের অধিকার (حق الشفعة)-এর মতো বিমূর্ত অধিকার বিক্রি করা যায় না। এর ওপর ওয়াকফ বা হিবা (দান) করাও বৈধ নয়।’ (রাদ্দুল মুহতার, ৪/৫১৮, ৭/৩৩–৩৪)
অতএব, ভিসা যেহেতু একটি অনুমতিগত অধিকার, তাই সেটিকে স্বতন্ত্র পণ্য হিসেবে বিক্রি করা শরিয়তের মূলনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তাহলে ভিসার জন্য অর্থ নেওয়া কখন বৈধ?
যদি কোনো ব্যক্তি—
১. ভিসা সংগ্রহে বৈধভাবে আবেদন করেন,
২. দৌড়ঝাঁপ করেন,
৩. কাগজপত্র প্রস্তুত করেন,
৪. সময় ও শ্রম ব্যয় করেন,
৫. সরকারি ফি বা অন্যান্য বৈধ খরচ বহন করেন,

তাহলে তিনি তার প্রকৃত ব্যয় এবং বৈধ সেবার পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারবেন। এটি ভিসা বিক্রি নয়; বরং বৈধ সেবা বা প্রতিনিধিত্ব-এর বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ।

কখন ভিসা বিক্রি হারাম হবে?
নিম্নোক্ত অবস্থায় অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া বৈধ হবে না—
১. কোম্পানি বা সরকার কাউকে বিনামূল্যে ভিসা দিয়েছে কর্মী আনার জন্য;
২. ভিসা সংগ্রহে কোনো ব্যক্তিগত ব্যয় বা শ্রম হয়নি;
৩. শুধুমাত্র ‘ভিসা আছে’—এই কারণে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হচ্ছে।

এক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে বিক্রি হচ্ছে একটি অনুমতি, যা বিক্রয়যোগ্য সম্পদ নয়। ফলে এভাবে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ অন্যায় উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত হবে।

সুতরাং ভিসা নিজেই কোনো বিক্রয়যোগ্য পণ্য নয়। এটি একটি অনুমতিপত্র বা নিরেট অধিকার মাত্র। আর ‘কোনো জিনিসের শুধুমাত্র অধিকার’ সাধারণভাবে কেনাবেচা করা শরিয়তসম্মত নয়। তবে ভিসা সংগ্রহে প্রকৃত খরচ, বৈধ শ্রম, সময় ও সেবার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ বৈধ। কোনো খরচ বা শ্রম ছাড়াই শুধু ভিসার বিনিময়ে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া বৈধ নয়। দালালি, এজেন্সি বা প্রতিনিধিত্বের সেবার পারিশ্রমিক এবং ভিসা বিক্রি—এ দুটি বিষয় এক নয়।

ইসলাম মানুষের উপার্জনকে হালাল ও স্বচ্ছ রাখার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। তাই ভিসাকে ব্যবসার পণ্য বানিয়ে মুনাফা অর্জনের পরিবর্তে, যদি কেউ বৈধভাবে সেবা প্রদান করে তার ন্যায্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করেন, তবে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। কিন্তু কোনো প্রকৃত শ্রম, ব্যয় বা বৈধ সেবার বিনিময় ছাড়া শুধুমাত্র ভিসাকে পণ্য বানিয়ে অধিক মূল্যে বিক্রি করা ইসলামী ফিকহের মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অতএব, এ বিষয়ে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উচিত আল্লাহভীতি অবলম্বন করা, সন্দেহজনক লেনদেন থেকে বিরত থাকা এবং প্রয়োজনে অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য মুফতিদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট ঘটনার আলোকে ফতোয়া গ্রহণ করা। কারণ হালাল উপার্জন শুধু দুনিয়ার বরকতেরই কারণ নয়; বরং আখিরাতের সফলতারও অন্যতম ভিত্তি। আল্লাহ তাআলা আমাদের হালাল উপার্জনের তাওফিক দান করুক। আমিন। 

হাদিসের বাণী

জন্মের পূর্বেই যে চার বিষয়ের ফায়সালা হয়ে যায়

ইসলামী জীবন ডেস্ক
জন্মের পূর্বেই যে চার বিষয়ের ফায়সালা হয়ে যায়
সংগৃহীত ছবি

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সত্যবাদী ও যার কথা সত্যায়িত করা হয়, সেই রাসুলুল্লাহ (সা.) বর্ণনা করেছেন, তোমাদের যেকেউ তার মায়ের পেটে চল্লিশ দিন যাবৎ বীর্য আকারে অবস্থান করতে থাকে। তারপর তা চল্লিশ দিন পরে জমাটবদ্ধ রক্ত-টুকরোতে পরিণত হয়। এরপর চল্লিশ দিন পরে গোশতের টুকরোর মতো হয়। এরপরে তার কাছে ফেরেশতা আগমন করে। ফেরেশতা তার মধ্যে রুহ ফুঁক দেন (স্থাপন করেন)। তখন ওই ব্যক্তির জন্য চারটি বিষয় লিখে রাখারে নির্দেশ প্রদান করা হয়। (সেগুলো হলো-)

 ১. তার রিজিক, ২. তার মৃত্যু, ৩. তার আমল এবং ৪. পাপী নাকি সফলকাম। সেই সত্তার শপথ করে বলছি, যিনি ব্যতীত আর কোনো সত্যবাদী ইলাহ নেই, তোমাদের কেউ কেউ জান্নাতিদের মতো আমল করতে থাকবে, এবং তার ও জান্নাতের মাঝে মাত্র এক হাত ব্যবধান থাকে। অতঃপর তার লিপিবদ্ধ বিষয় তাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে আসে, ফলে সে জাহান্নামিদের মতো আমল করতে থাকে, অবশেষে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। আর তোমাদের মধ্যে কেউ জাহান্নামিদের মতো আমল করে এবং তার ও জাহান্নামের মাঝে মাত্র এক হাত ব্যবধান থাকে। অতঃপর সে তাকদিরের লিখন অনুযায়ী সামনে এগিয়ে যায়। এবং সে জান্নাতিদের মতো আমল করতে থাকে, অবশেষে সে জান্নাতে প্রবেশ করে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩২০৮, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬৭২৩, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৩৯৩৪) 

শিক্ষা ও বিধান 
১. মানুষের সৃষ্টি আল্লাহর নির্ধারিত পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হয়। মাতৃগর্ভে মানুষের সৃষ্টি ধাপে ধাপে—নুতফা (বীর্য), আলাকা (জমাট রক্ত), মুদগাহ (গোশতের টুকরা)—এভাবে আল্লাহর নির্ধারিত নিয়মে সম্পন্ন হয়।

২. রুহ আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতার মাধ্যমে ভ্রূণের মধ্যে ফুঁকে দেওয়া হয়। এটি প্রমাণ করে যে মানুষের জীবন আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত এক মহান নিয়ামত।

৩. প্রত্যেক মানুষের রিজিক, জীবনকাল, আমল এবং চূড়ান্ত পরিণতি আল্লাহর জ্ঞানে পূর্ব থেকেই নির্ধারিত। তবে এই তাকদির মানুষের ইচ্ছাশক্তি ও কর্মের দায়িত্বকে বাতিল করে না; মানুষকে সৎ আমল করারই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৪. রিজিকের ব্যাপারে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করে হালাল উপার্জনের চেষ্টা করা উচিত। কারণ আল্লাহ প্রত্যেকের রিজিক নির্ধারণ করে রেখেছেন।

৫. মৃত্যুর সময় ও আয়ু নির্ধারিত। তাই মৃত্যু সম্পর্কে সচেতন থেকে সর্বদা নেক আমলের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।


৬. আমলের ওপর শেষ পরিণতি নির্ভর করে। তাই শুধু দীর্ঘদিনের ইবাদতই যথেষ্ট নয়; জীবনের শেষ পর্যন্ত ঈমান ও নেক আমলের ওপর অবিচল থাকা জরুরি।


৭. কোনো ব্যক্তির পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত মন্তব্য করা উচিত নয়। কেননা বাহ্যিক আমল দেখে কাউকে নিশ্চিত জান্নাতি বা জাহান্নামি বলা ইসলামী আদবের পরিপন্থী।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ঈমানের ওপর অটল রেখে উত্তম পরিণতি দান করুন। আমিন।

সিরিয়ার অঞ্চল নিয়ে মহানবী (সা.)-এর কয়েকটি ভবিষ্যদ্বাণী | কালের কণ্ঠ