• ই-পেপার

যে কারণে হাদিসে ভিক্ষাকে ‘জ্বলন্ত অঙ্গার’ বলা হয়েছে

খেলার উন্মাদনায় প্রাণহানি অত্যন্ত দুঃখজনক

মুফতি ওমর বিন নাছির
খেলার উন্মাদনায় প্রাণহানি অত্যন্ত দুঃখজনক
সংগৃহীত ছবি

খেলাধুলা মানুষের জীবনের একটি স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ। এটি শরীরকে সুস্থ রাখে, মনকে প্রফুল্ল করে এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য গড়ে তুলতে সহায়তা করে। ইসলামও বৈধ ও কল্যাণকর খেলাধুলা এবং শারীরিক সক্ষমতা অর্জনকে উৎসাহিত করেছে। কিন্তু যখন খেলাধুলা সুস্থ বিনোদনের সীমা অতিক্রম করে অন্ধ সমর্থন, বিদ্বেষ, গালি-গালাজ, মারামারি, আত্মহত্যা কিংবা হত্যাকাণ্ডের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা আর বিনোদন থাকে না; বরং তা একটি সামাজিক ও নৈতিক বিপর্যয়ে পরিণত হয়।

দুঃখজনকভাবে আমাদের দেশে ফুটবল বিশ্বকাপ বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক খেলাকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংঘর্ষ, আহত হওয়া, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। কোথাও বন্ধুর হাতে বন্ধু নিহত হচ্ছে, কোথাও তুচ্ছ ট্রোলিং বা বিদ্রূপ সহ্য করতে না পেরে কেউ আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ পথ বেছে নিচ্ছে। একজন মুসলমানের জীবন, সময় ও আবেগ এতটা মূল্যহীন হতে পারে না যে, একটি খেলার জয়-পরাজয় তার জীবন ধ্বংস করে দেবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা সীমালঙ্ঘন কোরো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৯০)
তাই খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৈধ; কিন্তু সেই আগ্রহ যদি উন্মাদনায় রূপ নেয়, তাহলে তা ইসলামের শিক্ষা থেকে বিচ্যুতি।

ইসলামে মানুষের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান
মানুষের প্রাণ আল্লাহর দেওয়া অমূল্য আমানত। কোনো তুচ্ছ কারণে মানুষের প্রাণ নষ্ট করা ইসলামে সবচেয়ে বড় অপরাধগুলোর একটি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে একজন মানুষকে হত্যা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকেই হত্যা করল। আর যে একজন মানুষের জীবন রক্ষা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতির জীবন রক্ষা করল।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৩২)
ফুটবল কিংবা অন্য কোনো খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, প্রতিহিংসা কিংবা হত্যাকাণ্ড তাই ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ।

আত্মহত্যা মহাপাপ
খেলায় হার-জিতের কারণে আত্মহত্যা করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন মুমিন বিপদে ধৈর্য ধারণ করবে, আল্লাহর দিকে ফিরে আসবে; নিজের জীবন ধ্বংস করবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা নিজেদেরকে হত্যা কোরো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।’(সুরা : নিসা, আয়াত : ২৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো বস্তু দিয়ে আত্মহত্যা করবে, কিয়ামতের দিন তাকে সেই বস্তু দিয়েই শাস্তি দেওয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৭৭৮)
তাই কোনো দলের হার কিংবা মানুষের কটূক্তির কারণে নিজের জীবন শেষ করে দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে ভয়াবহ অপরাধ এবং অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা।

আর মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—সে অনর্থক ও ক্ষতিকর বিষয় থেকে নিজেকে দূরে রাখে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তারা অনর্থক কাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষের ইসলামের সৌন্দর্যের অন্যতম নিদর্শন হলো, সে অনর্থক বিষয় পরিত্যাগ করে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩১৭)
অতএব, এমন উন্মাদনা যা মানুষের সময়, সম্পদ, সম্পর্ক ও জীবনকে ধ্বংস করে দেয়, তা একজন মুসলমানের জন্য শোভন নয়।

সুস্থ শরীর গঠনও ইসলামের শিক্ষা
ইসলাম দুর্বলতা নয়; বরং শক্তি ও কর্মক্ষমতার শিক্ষা দেয়। শরীর সুস্থ রাখা ইবাদত পালনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের তুলনায় আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় ও অধিক উত্তম, যদিও উভয়ের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৬৪)
তাই ব্যায়াম, দৌড়, সাঁতার, তীরন্দাজি, ঘোড়সওয়ারি কিংবা অন্যান্য বৈধ খেলাধুলা শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য প্রশংসনীয়। কিন্তু এগুলো কখনোই বিবাদ, বিদ্বেষ বা প্রাণহানির কারণ হতে পারে না।

সামাজিক দায়িত্ব ও সচেতনতার প্রয়োজন
খেলাকে কেন্দ্র করে বিদ্বেষ ছড়ানো, ট্রোলিং, অপমান, উসকানি কিংবা সংঘর্ষ সৃষ্টি করা সামাজিক অপরাধ। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের আবেগকে উসকে দেন বা সীমাহীন উন্মাদনা সৃষ্টি করেন, তাদেরও নৈতিক দায় রয়েছে। একজন মুসলমানের দায়িত্ব হলো মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ ছড়িয়ে দেওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুসলমান সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০)

সুতরাং খেলাধুলা মানুষের সুস্থ জীবন, শারীরিক সক্ষমতা ও বৈধ বিনোদনের একটি সুন্দর মাধ্যম। কিন্তু সেই খেলাকে কেন্দ্র করে যদি সৃষ্টি হয় অন্ধ সমর্থন, বিদ্বেষ, মারামারি, আত্মহত্যা কিংবা প্রাণহানি, তবে তা ইসলামের সংযম, ভারসাম্য ও মানবিকতার শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সংযম, প্রজ্ঞা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন এবং খেলাধুলাকে কল্যাণ, সৌহার্দ্য ও সুস্থ বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ভুল তথ্য প্রচার করে আতঙ্ক ছড়ানো সম্পূর্ণ নাজায়েজ

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা
ভুল তথ্য প্রচার করে আতঙ্ক ছড়ানো সম্পূর্ণ নাজায়েজ
সংগৃহীত ছবি

বন্যা, ঘূর্ণিঝড় বা অন্য যেকোনো দুর্যোগের সময় ধৈর্য ধারণের পাশাপাশি মানুষের সবচেয়ে বড় করণীয় হলো সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা, পারস্পরিক সহযোগিতা করা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করে মানসিকভাবে স্থির থেকে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের চেষ্টা করা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এমন সংকটের সময়ই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুরনো ছবি, ভিন্ন দেশের ভিডিও বা মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়।

সম্প্রতি চট্টগ্রামের বন্যা নিয়েও এমন কিছু বিভ্রান্তিকর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়েছে, যেগুলো বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেক প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী বর্তমান বন্যার নয়।

ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধরনের মিথ্যা প্রচারণা করা অনৈতিকই কাজ। এ ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে দেশে ও প্রবাসে থাকা মানুষের বিভিন্ন ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেউ আবার অতি দুশ্চিন্তায় অসুস্থ হয়ে যাওয়াও স্বাভাবিক বিষয়। পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতি, রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে এ ধরনের পরিস্থিতিতে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সংকট থেকে উত্তরণের জন্য মুমিনের বিশেষ কিছু করণীয় রয়েছে, নিম্নে সে রকম করণীয় তুলে ধরা হলো—
যাচাই ছাড়া কোনো খবর প্রচার না করা : দুর্যোগকালে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে বহু ধরনের হৃদয়স্পর্শী ছবি ছড়িয়ে পড়ে; এগুলোর তথ্যসূত্রের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে বিশ্বাস করা বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘হে ঈমানদাররা, যদি কোনো ফাসিক তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তাহলে তোমরা তা যাচাই করে নাও। এ আশঙ্কায় যে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো জাতিকে আক্রমণ করে বসবে, ফলে তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হবে।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ৬)

এই আয়াতের নির্দেশনা শুধু সংবাদমাধ্যমের জন্য নয়; বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট শেয়ারকারী প্রত্যেক মুসলমানের জন্যও প্রযোজ্য। যাচাই-বাছাই ছাড়া যেকোনো সংবাদ প্রচার ও শেয়ার ব্যক্তিকে মানুষের সামনে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করতে পারে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তাই বলে বেড়ায়।’ (মুসলিম, হাদিস : ৭)

তাই কোনো আতঙ্কের সংবাদ এলেই তা শেয়ার করার জন্য হুমড়ি না খেয়ে ঠাণ্ডা মাথায় তা যাচাইয়ের চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে অভিজ্ঞ কারো সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ থাকলে, তার থেকে প্রকৃত তথ্য জানার চেষ্টা করা যেতে পারে।

যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে তথ্যটি পাঠানো যেতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে করণীয়র ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘যখন তাদের নিকট নিরাপত্তার কিংবা ভয়ের কোনো সংবাদ আসে তখন তারা তা রটিয়ে দেয়। যদি তারা তা রাসুলের কিংবা তাদের মধ্যে যারা ক্ষমতার অধিকারী তাদের গোচরে আনত, তবে তাদের মধ্য থেকে তথ্যানুসন্ধানীরা প্রকৃত তথ্য জেনে নিত। যদি তোমাদের প্রতি আল্লাহর দয়া ও করুণা না থাকত, তবে তোমাদের অল্পসংখ্যক ছাড়া সবাই শয়তানের অনুসরণ করত।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৮৩)

আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করা : ইচ্ছাকৃতভাবে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা ও বিভ্রান্তি ছড়ানো ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ কাজ। এগুলো মূলত মুনাফিকদের স্বভাব ছিল। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘যদি মুনাফিকরা এবং যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা ও শহরে মিথ্যা সংবাদ প্রচারকারীরা বিরত না হয়, তবে আমি অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে তোমাকে ক্ষমতাবান করে দেব।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৬০)

কারো কারো মনে হতে পারে, মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ত্রাণ সংগ্রহ বা সচেতনতা তৈরির জন্য অতিরঞ্জিত বা ভুয়া ছবি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো, ইসলামে এ ধারণা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ মিথ্যা কল্যাণ বয়ে আনে না, বরং বিভ্রান্তি বাড়ায়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা মিথ্যাচার বর্জন করো। কেননা মিথ্যা পাপাচারের দিকে ধাবিত করে এবং পাপাচার জাহান্নামে নিয়ে যায়।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৮৯)

অতএব, সংকটের সময়ে একজন মুসলমানের দায়িত্ব হলো গুজব ও আতঙ্ক না ছড়িয়ে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করা। তথ্য শেয়ার করার আগে নিশ্চিতভাবে যাচাই করা। মানুষকে সঠিক তথ্য দিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়ার মতো সুযোগ থাকলে তা দেওয়া, অন্যথায় চুপ থাকা। সাধ্যমতো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা, সামর্থ্য না থাকলে কমপক্ষে তাদের জন্য দোয়া করা।

মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীতে সাপ্তাহজুরে ইমামতি করবেন যারা

ইসলামী জীবন ডেস্ক
মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীতে সাপ্তাহজুরে ইমামতি করবেন যারা
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়ের দুই পবিত্রতম ইবাদতের স্থান—মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববী। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে এ দুই মসজিদে কারা ইমামতি করবেন, তা জানতে আগ্রহী অনেকেই-বিশ্বের অসংখ্য মুসল্লি ও ইসলামপ্রেমী মানুষ। সেই আগ্রহের কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চলতি সাপ্তাহের সাময়িক দুই পবিত্র মসজিদের ইমামতির একটি সময়সূচী প্রকাশ করেছে।

মসজিদুল হারামে ইমামতির দায়িত্বে যারা
প্রকাশিত সময়সূচী অনুযায়ী, ফজর ও আসর নামাজে চলতি সপ্তাহজুড়ে ইমামতি করবেন শাইখ বাদের আল-বালিলাহ। জোহর নামাজে (শুক্রবার ব্যতীত) ইমামতি করবেন শাইখ ফয়সাল আল-গাজ্জাবী। শুক্রবার জুমার নামাজের জন্য পৃথক ইমাম নির্ধারণ করা হয়। আর মাগরিব ও ইশা নামাজে সপ্তাহজুড়ে মুসল্লিদের ইমামতি করবেন বিশ্বখ্যাত কোরআনের কারি শাইখ মাহের আল-মুয়াইক্বলী।

মসজিদে নববীর ইমামতির দায়িত্বে যারা
মসজিদে নববীতেও চলতি সপ্তাহজুড়ে নির্ধারিত ইমামদের মাধ্যমে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হবে।
ফজর: শাইখ খালিদ আল-মুহান্না
জোহর: শাইখ মুহাম্মদ বারহাজী (শুক্রবার ব্যতীত)
আসর: শাইখ আলী আল-হুদাইফী
মাগরিব: শাইখ বারি আত-থুবাইতি
ইশা: শাইখ আব্দুল্লাহ আল-বুয়াজান

মসজিদুল হারামের নামাজের সময় (মক্কার স্থানীয় সময়)
ফজর: ৪:২১ মিনিট
জোহর: ১২:২৭ মিনিট
আসর: ৩:৪২ মিনিট
মাগরিব: ৭:০৭ মিনিট
ইশা: ৮:৩৭ মিনিট

মসজিদে নববীর নামাজের সময় (মদিনার স্থানীয় সময়)
ফজর: ৪:১৩ মিনিট
জোহর: ১২:২৮ মিনিট
আসর: ৩:৫০ মিনিট
মাগরিব: ৭:১৪ মিনিট
ইশা: ৮:৪৪ মিনিট

হজ ও উমরাহ পালনে সৌদি আরবে অবস্থানরত মুসল্লিদের জন্য এই সময়সূচী বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত ইমামের পেছনে নামাজ আদায়ের আগ্রহে অনেক মুসল্লি আগেভাগেই মসজিদে উপস্থিত হন। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানও মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত নামাজ অনুসরণ করে থাকেন এবং প্রিয় ইমামদের তিলাওয়াত শোনার অপেক্ষায় থাকেন। 
 

অতীতে যেসব জাতি অবাধ্যতার কারণে ধ্বংস হয়েছিল

ইসলামী জীবন ডেস্ক
অতীতে যেসব জাতি অবাধ্যতার কারণে ধ্বংস হয়েছিল
সংগৃহীত ছবি

পৃথিবীর ইতিহাসে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বহু জনপদ ও শহর ধ্বংস হয়েছে। এসব ধ্বংসযজ্ঞ শুধু প্রকৃতির শক্তির প্রমাণই নয়, মানবসভ্যতার ভঙ্গুরতারও উদাহরণ বটে। এই যে ভূমিকম্প, দাবানল, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসের প্রলয়ংকরী তাণ্ডব, বারবার বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাত—এগুলো কেন হয়? এগুলো থেকে পরিত্রাণেরই বা উপায় কী? এ বিষয়ে মানবজাতির সফলতার মৌলিক ঠিকানা ইসলামে রয়েছে কার্যকর অনন্য নির্দেশনা। 

প্রাকৃতিক দুর্যোগ খোদায়ি সংকেত
প্রাকৃতিক দুর্যোগ তথা বিপর্যয় কেন আসে, এই প্রশ্নের জবাব সাড়ে চৌদ্দ শ বছর আগে মানবসভ্যতার পথপ্রদর্শক পবিত্র কোরআন মাজিদ দিয়ে রেখেছে হৃদয়গ্রাহী ভাষায়। ইরশাদ হয়েছে, ‘জলে-স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে, মানুষের কৃতকর্মের ফলেই (আল্লাহর পক্ষ থেকে বিপর্যয় এসেছে)। তিনি তাদের কৃতকর্মের শাস্তির খানিকটা স্বাদ (দুনিয়াতেই) আস্বাদন করিয়ে দেন, যাতে তারা (অবাধ্যতা থেকে) ফিরে আসে। (সুরা : রুম, আয়াত : ৪১)

আয়াতের বার্তা স্পষ্ট। পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে পড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ তথা সামগ্রিক বিপর্যয়ের মৌলিক কারণ আল্লাহর অবাধ্যতা। আর বিপর্যয় থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় আল্লাহর অবাধ্যতার অন্ধকার থেকে তাঁর আনুগত্যের আলোকময় পথে ফিরে আসা। এভাবে পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে বিপর্যয়ের মৌলিক কারণ হিসেবে পাপাচার, সীমা লঙ্ঘন তথা আল্লাহর অবাধ্যতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং পরিত্রাণের উপায় হিসেবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার আলোকময় নির্দেশনাই প্রদত্ত হয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ কখনো একটি পরীক্ষা, যার মাধ্যমে মানুষকে ধৈর্যধারণ এবং নিজেদের কর্মের ফলাফল চিন্তা করতে বলা হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাধ্যমে মানবজাতি শেখে তাদের গৌরবের অহংকার থেকে নামতে এবং আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণ বিশ্বাস ও আনুগত্যের মনোভাব তৈরি করতে।

পৃথিবীর বহু সভ্যতা, জনপদ, শক্তিধর রাজা-বাদশাহ এই প্রলয়ংকরী দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে, একসময়ের প্রভাবশালী জনপদ ধুলায় মিশে গেছে; যেমন—পম্পেই নগরী। ষষ্ঠ ও সপ্তম শতাব্দীর মাঝামাঝিতে সূচনা এই চোখ-ধাঁধানো নাগরিক সভ্যতার।

একাধারে ব্যবসা, সংস্কৃতি আর বিনোদনের কেন্দ্র। মঞ্চ-মণ্ডপ, ক্রীড়াগার, বন্দর আর তৎকালীন প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের শহর।
কিন্তু ধীরে ধীরে এটি তারুণ্যের আনন্দ আর যৌবনের বাঁধভাঙা উল্লাসের এক কেন্দ্র হয়ে ওঠে। অবাধ্যতা ও অশ্লীলতায় হারিয়ে যাওয়ার জনপদ ছিল এটি। অভয়ারণ্য ছিল মুক্ত মন আর সস্তা শরীরের। এই শহর ছিল পতিতাদের, এই শহর ছিল পতিতদের। এই শহর ছিল সমকামের, শিশুকামের, অযাচারের আর অবাধ যৌনাচারের। মদ, মাংস আর মাৎসর্যের যতসব আনন্দ চিন্তা করা যায় আর যা কিছু চিন্তা করা যায় না, সব কিছু খুঁজে পাওয়ার শহর ছিল এই পম্পেই।

অবশেষে ৭৯ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাস, ভিসুভিয়াস পর্বত প্রচণ্ড শক্তিতে বিস্ফোরিত হয়, প্রতি সেকেন্ডে ১৫ লাখ টন গলিত পাথর, গুঁড়া হয়ে যাওয়া আকরিক আর তরল আগুন ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল মাটি থেকে প্রায় ২১ মাইল উঁচুতে। নিঃসৃত হয়েছিল হিরোশিমায় ফেলা পারমাণবিক বোমার চেয়ে এক লাখ গুণ বেশি তাপশক্তি। প্রথম বিস্ফোরণের সময় তাপমাত্রা পৌঁছে গিয়েছিল ৩০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যে কেড়ে নিয়েছিল হাজারো মানুষের জীবন। আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মত্ত হাজারো মানুষ শুধু প্রচণ্ড তাপের কারণে সৃষ্ট থার্মাল শকে, তীব্র খিঁচুনিতে, অনিয়ন্ত্রিতভাবে শরীর বেঁকে যাওয়ার মতো সময়টুকু পেয়েছিল। সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যেই প্রকট মৃত্যুযন্ত্রণা অনুভব করার মতো সময়টুকু পেয়েছিল। তারপর আল্লাহর নাফরমানদের শরীরগুলো চাপা পড়ে গিয়েছিল ২১ ফুট গভীর আগ্নেয় ছাইয়ের নিচে।

আল্লাহু আকবার! আল্লাহর নির্দেশে যেমন শূন্য থেকে বিশাল সাম্রাজ্য দাঁড়িয়ে যেতে পারে, তেমনি আল্লাহর হুকুমেই সাজানো শহর মুহূর্তে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনিই জীবিত করেন এবং মৃত্যু দেন। যখন তিনি কোনো কাজের আদেশ করেন, তখন এ কথাই বলেন, হয়ে যাও, তা হয়ে যায়।’ (সুরা : গাফির, আয়াত : ৪৮)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনিই নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের উদ্ভাবক। যখন তিনি কোনো কার্য সম্পাদনের সিন্ধান্ত নেন, তখন সেটিকে শুধু এ কথাই বলেন, ‘হয়ে যাও’ আর তৎক্ষণাৎ তা হয়ে যায়। (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১১৭)

কোরআনে বর্ণিত আরেকটি ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতি কওমে লুত। তাদের যখন আল্লাহর নাফরমানি সম্পর্কে সাবধান করা হয়েছিল, তখন তারা তাচ্ছিল্য করেছিল। পবিত্র কোরআনে তাদের সেই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের ব্যাপারে ইরশাদ হয়েছে, ‘তার জাতির (লুত (আ.)-এর সম্প্রদায়ের) লোকদের এটা ছাড়া আর কোনো জবাবই ছিল না যে, এদের তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও, এরা নিজেদের বড় পবিত্র রাখতে চায়। (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৮২)

যার ফলে তাদের ওপর আল্লাহর আজাব এসে গেল এবং তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হলো। তাদের ধ্বংসের ভয়াবহতা কতটা ছিল সে ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর যখন আমার আদেশ এসে গেল, তখন আমি জনপদের ওপরকে নিচে উল্টে দিলাম এবং ক্রমাগত পোড়ামাটির পাথর বর্ষণ করলাম। (সুরা : হুদ, আয়াত : ৮২)

হুদ (আ.) আদ জাতিকে সতর্ক করেছিলেন, কিন্তু তারা উদ্ধত হয়ে বলেছিল, ‘আর আদ সম্প্রদায়, তারা জমিনে অযথা অহংকার করত এবং বলত, আমাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী কে আছে? তবে কি তারা লক্ষ করেনি যে নিশ্চয় আল্লাহ, যিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী? আর তারা আমার আয়াতগুলোকে অস্বীকার করত।’ (সুরা : ফুসসিলাত, আয়াত : ১৫)

অতঃপর মহান আল্লাহর চূড়ান্ত গজব প্রাকৃতিক দুর্যোগের বেশে এসে তাদের চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আদের ঘটনায়ও (নিদর্শন আছে)। আমি তাদের কাছে পাঠিয়েছিলাম অকল্যাণের বাতাস। ওই বাতাস যার ওপরে এসেছিল তাকে রেখে যায়নি, বরং সব কিছু চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছিল। (সুরা : জারিয়াহ, আয়াত : ৪১-৪২)

আদ জাতির পর পৃথিবীতে শিল্প ও সংস্কৃতিতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিল সামুদ জাতি। মহান আল্লাহ তাদের বহু নিয়ামত দিয়েছিলেন। কিন্তু বেইনসাফ, কুফর-শিরকে তাদের সমাজ নষ্ট হয়ে যায়। সমাজের নষ্ট লোকেরা নেতৃত্বে এসে সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। তারা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল যে সালেহ (আ.)-এর কাছে পাঠানো আল্লাহর নিদর্শন উষ্ট্রীকে তারা হত্যা করে ফেলে। পরে সালেহ (আ.) তাদের আল্লাহর আজাবের ব্যাপারে সতর্ক করেন। কিন্তু তারা তা ঠাট্টা করে উড়িয়ে দেয়। অবশেষে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের ওপর চূড়ান্ত আজাব চলে আসে। পবিত্র কোরআনে তাদের সেই আজাবের ব্যাপারে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারপর সীমা লঙ্ঘনকারীদের মহানাদ আঘাত করে। ফলে তারা নিজ নিজ গৃহে উপুড় হয়ে পড়ে থাকে (ধ্বংস হয়ে যায়), যেন তারা কখনোই সেখানে বসবাস করেনি। জেনে রেখো, সামুদ জাতি তাদের প্রতিপালককে অস্বীকার করেছিল। আরো জেনে রেখো, ধ্বংসই হলো সামুদ জাতির পরিণাম।’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ৬৭-৬৮)

প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুধু একেকটি ক্ষতির ঘটনা নয়, বরং এটি আমাদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা। আমাদের উচিত এই দুর্যোগগুলোকে নিছক প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে না দেখে নিজেদের বদ আমলের ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করা এবং নিজেদের পাপের পথ থেকে ফিরিয়ে এনে আল্লাহর কাছে খাঁটি মনে তাওবা করা। আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা। ধৈর্য ধারণ করা। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে গুনাহমুক্ত জীবন গড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

যে কারণে হাদিসে ভিক্ষাকে ‘জ্বলন্ত অঙ্গার’ বলা হয়েছে | কালের কণ্ঠ