• ই-পেপার

রমজান উপলক্ষে আমিরাতে ১০ হাজার পণ্যে মূল্যহ্রাসের ঘোষণা

মৌসুমের নতুন ফল খাওয়ার সময় পঠিতব্য দোয়া

ইসলামী জীবন ডেস্ক
মৌসুমের নতুন ফল খাওয়ার সময় পঠিতব্য দোয়া
সংগৃহীত ছবি

ঋতুর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ফলমূলের আবির্ভাব আল্লাহ তাআলার অসীম কুদরত, দয়া ও অনুগ্রহের এক জীবন্ত নিদর্শন। গ্রীষ্মের রসালো আম, কাঁঠাল ও লিচু হোক কিংবা বর্ষা ও শীতের নানা ফল—প্রতিটি ফলই আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য এক বিশেষ উপহার। একজন মুমিন যখন মৌসুমের নতুন কোনো ফল প্রথমবারের মতো গ্রহণ করে, তখন সে শুধু তার স্বাদ উপভোগই করে না; বরং সেই নিয়ামতের দাতা মহান রবের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করে।

তাই তো রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন, জীবনের প্রতিটি নিয়ামতকে আল্লাহর স্মরণের সঙ্গে যুক্ত করতে। তাই নতুন ফল হাতে পেলে তিনি আল্লাহর দরবারে বরকত, কল্যাণ ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করতেন। দোয়াটি হলো—

اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فيْ ثَمَرِنَا. وَبَارِكْ لَنَا فِيْ مَدِيْنَتِنَا. وَبَارِكْ لَنَا فِيْ صَاعِنَا. وَبَارِكْ لَنَا فِيْ مُدِّنَا

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি সামারিনা ওয়া বারিক লানা ফি মাদিনাতিনা ওয়া বারিক লানাা ফি সাইনা ওয়া বারিক লানা ফি মুদ্দি না।’

অর্থ : হে আল্লাহ, আপনি আমাদের ফল-ফলাদিতে বরকত দিন, আমাদের শহরে বরকত দিন, আমাদের সা তথা বড় পরিমাপক যন্ত্রে বরকত দিন, আমাদের মুদ্দ তথা ছোট পরিমাপক যন্ত্রে বরকত দিন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ১৩৭৩)

হাদিসের বাণী

ইসলামে যোগ্যতার মাপকাঠি বয়স নয়

ইসলামী জীবন ডেস্ক
ইসলামে যোগ্যতার মাপকাঠি বয়স নয়
সংগৃহীত ছবি

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ওমর (রা.) আমাকে বদরি বড় বড় সাহাবিদের মজলিসে নিতেন। তাঁদের মধ্যে কিছু লোক তখন মনে মনে মনখারাপ করতেন। ফলে কেউ বললেন, সে আমাদের সাথে মজলিসে কেন আসছে? তার বয়সি ছেলে তো আমাদেরও আছে! তখন ওমর (রা.) বললেন, ইবনে আব্বাস সম্পর্কে তো তোমাদের সবারই জানা আছে। 

এরপরে একদিন তিনি আমাকে বড়দের মজলিসে প্রবেশ করার জন্য বললেন। সেদিন আমি মনে করেছিলাম যে, আমাকে ডাকার কারণ হলো, সবার সামনে বোধ হয় আমার সম্মান বৃদ্ধি করবেন। কিন্তু ওমর (রা.) সবাইকে বললেন, তোমরা আল্লাহর এই বাণী: ‘যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে।’ (সুরা : নাসর, আয়াত : ১ ) এই আয়াতের ব্যাখ্যার ব্যাপারে তোমরা কী বলো? কেউ কেউ উত্তর দিল, আল্লাহ আমাদের ওপর কোনো বিজয় বা সাহায্য করলে আমরা যেন তাঁর প্রশংসা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। এটাই এই আয়াতে বলা হয়েছে। আর কিছু লোক চুপ করে থাকলেন, কোনো কিছুই বললেন না। 

ইবনে আব্বাস (রাদি.) বলেন, তারপর ওমর (রা.) আমাকে বললেন, হে ইবনে আব্বাস, তোমার মতামত কী? তাদের মতোই কি বলছ? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তাহলে এর ব্যাখ্যা কী? তুমি বলো। আমি বললাম, সেটা হলো- রাসুল (সা.)-এর মৃত্যুসংবাদ, যা আল্লাহ তাঁকে জানিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে।’ আর সেটা হলো তোমার মৃত্যুর পূর্বলক্ষণ। ‘তখন তুমি তোমার প্রভুর প্রশংসায় তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করো এবং তাঁর কাছে সমস্ত ত্রুটির জন্য ক্ষমা চাও। নিশ্চয়ই তিনি তাওবা গ্রহণকারী।’ (সুরা : নাসর, আয়াত : ৩) তারপর ওমর (রা.) বললেন, তুমি যে অর্থ বলেছো, আমি এই অর্থই জানি। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৪৯৭০, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং : ৩১২৭)


শিক্ষা ও বিধান 
১.  ওমর (রা.) বয়সে প্রবীণ ও বদরি সাহাবিদের মজলিসে তরুণ ইবননে আব্বাস (রা.)-কে স্থান দিয়েছিলেন। এতে বোঝা যায়, ইসলামে মর্যাদার ভিত্তি কেবল বয়স নয়; বরং জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও যোগ্যতা।

২. ইবনে আব্বাস (রা.) তখন বয়সে তরুণ ছিলেন, কিন্তু তাঁর অসাধারণ জ্ঞান ও কোরআন বোঝার ক্ষমতার কারণে তিনি বিশেষ মর্যাদা পেয়েছিলেন। তাই সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় মেধাবী তরুণদের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

৩. কিছু সাহাবি আয়াতের বাহ্যিক অর্থ ব্যাখ্যা করেছিলেন, কিন্তু ইবনে আব্বাস (রা.) এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য উপলব্ধি করেছিলেন। এটি প্রমাণ করে যে কোরআনের আয়াতের গভীর তাৎপর্য নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা গুরুত্বপূর্ণ।

৪. সুরা নাসরে বিজয়ের সুসংবাদের পর আল্লাহর প্রশংসা ও ইস্তিগফারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই সফলতা অর্জনের পর অহংকার নয়, বরং কৃতজ্ঞতা ও তাওবা করা জরুরি।

৫. মৃত্যুর জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন ইবনু আব্বাস (রা.) বুঝেছিলেন যে সুরা নাসর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের নিকটবর্তী হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। তাই দুনিয়ার সাফল্যের মধ্যেও আখিরাতের প্রস্তুতি অব্যাহত রাখতে হবে।

৬. ওমর (রা.) ইবনে আব্বাস (রা.)-কে প্রশ্ন করে তাঁর জ্ঞান সবার সামনে তুলে ধরেছিলেন। তাই শিক্ষক ও নেতাদের উচিত মেধাবীদের বিকাশে এভাবেই সহায়তা করা।

৭. ইবনে আব্বাস (রা.) প্রবীণ সাহাবিদের মতের সঙ্গে অন্ধভাবে একমত হননি; বরং দলিলভিত্তিক নিজের উপলব্ধি প্রকাশ করেছেন। তাই সত্য ও সঠিক জ্ঞান থাকলে তা সম্মানের সঙ্গে উপস্থাপন করা উচিত।

৮. নেতৃত্বের একটি গুণ হলো যোগ্য মানুষকে চিহ্নিত করা। ওমর (রা.) ইবনু আব্বাস (রা.)-এর প্রতিভা চিনতে পেরেছিলেন এবং তাকে যথাযথ মর্যাদা দিয়েছিলেন। 

অতএব, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা বয়সের সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ নয়। কোরআনের গভীর অর্থ অনুধাবন, মেধাবীদের মূল্যায়ন, সফলতার পর আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ইস্তিগফার, এবং মৃত্যুর প্রস্তুতি—এসবই একজন মুমিনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। ওমর (রা.) ও ইবনু আব্বাস (রা.)-এর এই ঘটনাটি ইসলামে জ্ঞানচর্চা ও যোগ্যতার মর্যাদার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে তরুণদের উদাসীনতা কাম্য নয়

মুফতি তাহসীন শাকিল
বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে তরুণদের উদাসীনতা কাম্য নয়
সংগৃহীত ছবি

​সবুজ গালিচার উপর একটা সিন্থেটিক লেদারের তৈরি গোলকের পেছনে ২২ জোড়া পায়ের অবিরাম ছুটে চলা, গ্যালারির চারপাশে হাজারো দর্শকের গগনবিদারী চিৎকার, আর রূপালী পর্দার সামনে উন্মুখ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা সহস্র কোটি তরুণ যুবকের কাটিয়ে দেয়া বিনিদ্র রাত— চার বছর অন্তর আয়োজিত বিশ্বকাপের বিশ্ব কাঁপানো ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ আয়োজনকে কেন্দ্র করে এমনই এক বৈশ্বিক উন্মাদনায় মেতে ওঠে উম্মাহর হৃদপিণ্ড মুসলিম যুবতরুণ। অথচ চোখ বন্ধ করে ভাবনার জানালা খুললেই দেখা যায় এই অদ্ভুত নান্দনিক উন্মাদনা শরীয়ত সমর্থিত বিনোদনের সীমা অতিক্রম করে সময়ের অপচয়, নৈতিক স্খলন ও কর্মমুখর জীবনের জন্য অভিশাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

সময়ের অপচয় ও কর্মের প্রতি অবহেলা 
তারুণ্য হলো জীবনের বসন্তকাল। যেকোনো জাতি ও সভ্যতার ভাগ্য পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হলো তার তরুণ সম্প্রদায়। তারুণ্যের এই সময়টা নিজেদের জীবন-ক্যারিয়ার, জ্ঞান-গবেষণা ও কর্মমুখর জীবনের ময়দানে ঈপ্সিত সাফল্যের উচ্চতায় আরোহনের জন্য ব্যয় করা উচিত। অথচ জীবনের সীমিত সময়ের এই সোনালী মুহুর্তগুলো করপোরেট দুনিয়ার বানিজ্যিক জুয়ার পেছনে নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। অবচেতন তরুণদের মনোজগতে বাসা বেঁধেছে দূরবর্তী অমুসলিম জাতি ও সংস্কৃতির প্রতি অসীম ভালোবাসা। যা তাদের খোদা প্রদত্ত সহজাত সুকুমারবৃত্তি নষ্ট করে অন্যায় অশ্লীলতার অবাধ স্রোতে ভাসিয়ে জীবনকে করছে কলুষিত। অথচ পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা সফল মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ননা করতে গিয়ে বলেছেন, (আর যারা অনর্থক ও অসার ক্রিয়াকলাপ থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ৩) 

আত্মপরিচয়ের সংকট 
বিশ্বকাপ মওসুম এলে মুসলিম যুবক-তরুণদের তৎপরতার মধ্য দিয়ে সবচেয়ে বেদনাদায়ক যে চিত্রটি ভেসে ওঠে, তা হলো—ভিনদেশী সংস্কৃতি, ভিনদেশী আদর্শ ও ভিনদেশী অমুসলিম সমাজ রীতিতে বেড়ে ওঠা খেলোয়াড়দেরকে নিজেদের আইডল বানানো ও তাদের অনুরক্ত হয়ে যাওয়ার প্রবণতা। শরীয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ ও নিজেদের আদর্শিক সীমা বহির্ভূত অমুসলিম খেলোয়াড়দের প্রতি এমন মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি মূলত আমাদের নতুন প্রজন্মের ঈমানী অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি। এমনকি পোশাক পরিচ্ছেদে,  চুল কাটার স্টাইলে ও জীবনযাপনের পদ্ধতিতে তাদের অন্ধ অনুকরণ মুসলিম যুব তরুণদের চরম আত্মপরিচয়ের সংকট-ও আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় বটে। 

মুসলিম যুব-তরুণদের এই অধঃপতিত অবস্থা গভীর উদ্বেগের বিষয়। একজন মুসলিমের সবচেয়ে গর্বের পরিচয় হলো সে আল্লাহর বান্দা ও সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ সা. এর উম্মত। অথচ বিশ্বকাপে মওসুম আসলে দেখা যায় তারা অমুসলিম রাষ্ট্রের বিজয়ে উল্লাস করে, তাদের পতাকা গায়ে পেঁচিয়ে গর্ববোধ করে এবং তাদের জাতীয় প্রতীককে নিজেদের পরিচয়ের অংশ মনে করতেও দ্বিধা করে না। এ-সবই মুসলিম স্বাতন্ত্র্যবোধ ও ঈমানী আত্নমর্যাদাবোধের সাথে সাংঘর্ষিক। হাদিসের ভাষ্যে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ার বাণী উচ্চারিত হয়েছে। নবীজি সা. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং :  ৪০৩১)

ফরজ ইবাদতে উদাসীনতা 
খেলা দেখার সূচি রক্ষা করতে গিয়ে নামাজের সূচি বদলে ফেলার মতো স্পর্ধা দেখাতেও কুণ্ঠাবোধ করছে না তরুণদের বৃহৎ একটি অংশ। পছন্দের দলের খেলা দেখার বেপরোয়া নেশায় মোহগ্রস্ত হয়ে রাত জেগে থাকার পরে ফজরের নামাজে অবহেলা করে। কখনো নামাজ একেবারেই ছুটে যায়। অথচ ইসলামে নামাজ একটি ফরজ ইবাদত। নির্ধারিত সময়ে আদায় করা আবশ্যক। বিনা ওজরে কোনোভাবেই গাফলতি করার সুযোগ নেই। 

অবাক করার বিষয় হলো—যে তরুণ একটি গোল মিস হওয়ার আশঙ্কায় চোখের পলক ফেলে না, সেই একই তরুণ অবলীলায় ঈমানের পরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ- নামাজ কাজা করে ফেলছে। অথচ নামা হলো মুমিনের জীবনের সফলতার চাবিকাঠি। সফল মুমিনদের গুণাবলি বর্ননা করতে গিয়ে আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম নামাজের কথা উল্লেখ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই সফলতা অর্জন করেছে মুমিনগণ। যারা তাদের নামাজে আন্তরিকভাবে বিনীত।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ১-২)

অর্থনৈতিক অপচয় ও অকৃতজ্ঞতা
পছন্দের দলের জার্সি, পতাকা ও ব্যানার বানানোর পেছনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা, বাজি ধরা, রেলি করা ও খেলা দেখার জন্য অহেতুক বিভিন্ন  আয়োজন—ইত্যাদি সবই অর্থের অপচয়ের অন্তর্ভুক্ত। অথচ আর্থিক স্বচ্ছলতা আল্লাহর অন্যতম একটি অনুগ্রহ। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে—জীবনের প্রয়োজনীয় খাতে এবং সামাজিক ও জাতীয় জীবনের অর্থবহ আয়োজনে অর্থ ব্যয় করাই শরীয়তের দাবি। এর বিপরীতে অন্যায় কর্মকাণ্ডের পেছনে অর্থ ব্যয় করা শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে নাজায়েজ। অর্থ অপচয়কারীকে কোরআনে শয়তানের অনুসারী অভিধায় উল্লেখ করা হয়েছে। 

সারকথা হলো, নির্ধারিত সীমারেখার মধ্যে ইসলাম বিনোদনের অনুমতি দেয়। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক ওয়ার্ল্ড কাপগুলো শরীয়তের নির্ধারিত সীমা থেকে যোজন যোজন দূরে। উপরন্তু এর সাথে জড়িত আছে নানান ক্যাটাগরির পাপাচার—নগ্নতা-অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, মদ জুয়া, গান-বাজনা, নামাজে অবহেলা, বিদেশি সংস্কৃতির অন্ধ অনুসরণসহ অন্যান্য মুনকার কাজ এই আয়োজনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। সুতরাং একজন আত্মসচেতন মুসলিম তরুণের জন্য এজাতীয় আয়োজনে—যেকোনো অবস্থান থেকে অংশগ্রহণ করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়।

লেখক : শিক্ষক, মাদরাসাতুত তাক্বওয়া আল-ইউসুফিয়্যাহ 

সরাইল বি.বাড়িয়া। 

ডিজিটাল কনটেন্ট স্থানীয়করণে সৌদিতে কোডলেস ক্যাম্প চালু

ইসলামী জীবন ডেস্ক
ডিজিটাল কনটেন্ট স্থানীয়করণে সৌদিতে কোডলেস ক্যাম্প চালু
সংগৃহীত ছবি

ডিজিটাল যুগের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরবি ভাষা ভিত্তিক ডিজিটাল কনটেন্টের মান উন্নয়ন এবং অনুবাদ খাতে জাতীয় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। এই লক্ষ্যে দেশটির সাহিত্য, প্রকাশনা ও অনুবাদ কমিশন ডিজিটাল কনটেন্ট স্থানীয়করণ বিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ‘কোডলেস ক্যাম্প’ চালু করেছে।

কমিশন জানিয়েছে, এই ক্যাম্পের প্রধান উদ্দেশ্য হলো এমন দক্ষ সৌদি অনুবাদক তৈরি করা, যাঁরা পণ্য ও সেবার স্থানীয়করণ প্রকল্পে পেশাদারির সঙ্গে নেতৃত্ব দিতে পারবেন। একই সঙ্গে আরবি ডিজিটাল কনটেন্টের গুণগত মান বৃদ্ধি এবং সৌদির বাজারে উচ্চমানের বিনিয়োগ আকর্ষণেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুবাদ ও ডিজিটাল কনটেন্ট উন্নয়নে উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চালু হওয়া এই ক্যাম্পে অনুবাদক, ফ্রিল্যান্সার, ডিজিটাল কনটেন্ট খাতে আগ্রহী তরুণ-তরুণী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ভিডিও গেম, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের স্থানীয়করণ সম্পর্কিত বিশেষায়িত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ক্যাম্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর তাত্ত্বিক ও ব্যাবহারিক প্রশিক্ষণের সমন্বয়। অংশগ্রহণকারীরা শুধু শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষা নয়, বাস্তব প্রকল্পের ওপর কাজ করার সুযোগও পাচ্ছেন। অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ ও শিল্পসংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত কর্মশালাগুলো তাঁদের বাস্তব দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অনুবাদশিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে এবং তরুণ প্রজন্ম আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতার সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক মানের পেশাজীবী হিসেবে গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে আরবি ভাষার ডিজিটাল উপস্থিতি আরো সমৃদ্ধ হবে এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল বাজারে সৌদি আরবের অবস্থান আরো শক্তিশালী হবে।


বিশ্লেষকদের মতে, কোডলেস ক্যাম্প সৌদি আরবের সাংস্কৃতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। জাতীয় প্রতিভা বিকাশ, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং ডিজিটাল কনটেন্ট শিল্পে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই উদ্যোগ দেশটির ভবিষ্যৎ জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

রমজান উপলক্ষে আমিরাতে ১০ হাজার পণ্যে মূল্যহ্রাসের ঘোষণা | কালের কণ্ঠ