ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন বিধান। পরকালে সফল হতে পরিপূর্ণ এই জীবন বিধান অনুসরণ অত্যন্ত জরুরি। এজন্য বিভিন্ন সময়ে বর্ণিত হাদিসে যেমন দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছেন নবীজি (সা.), তেমনি বাতলে দিয়েছেন পরকালে সফল হওয়ার রাস্তাও।
এরমধ্যে শিষ্টাচারের আওতায় উম্মতদের প্রতিদিনের সব ভালো কাজ ডান দিক থেকে শুরু করতে শিখিয়েছেন নবীজি (সা.)। তিনি নিজেও সব কাজ ডান দিক থেকে শুরু করতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধ্যমতো তার সব কাজ ডান দিক থেকে শুরু করতে পছন্দ করতেন। যেমন, অজু করার সময়, চিরুনি করার সময় এবং জুতা পরার সময়ও। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৪০৯৩)
এ ক্ষেত্রে পানি পানের সময় ডান হাতের ব্যবহার শিষ্টাচারের একটি অংশ। এই দুই কাজে বাম হাতের ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নিষেধ রয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- তোমাদের কেউ বাম হাতে আহার করবে না এবং বাম হাতে পান করবে না। কেননা শয়তান তার বাম হাতে খায় এবং বাম হাতে পান করে। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ১৮০৬-১৮০৭)
তবে অনেক সময় দেখা যায়, ভাত খাওয়ার সময় বা কোনো খাবার খাওয়ার সময় অনেকেই বাম হাতে পানি পান করেন। কেউ কেউ বাম হাত দিয়ে ধরে গ্লাসের নিচে ডান হাত ঠেকিয়েও পানি পান করেন। প্রশ্ন হলো- খাওয়ার খাওয়ার সময় তাহলে কি বাম হাতে পানি খাওয়া যাবে? আর গ্লাসের নিচে ডান হাত ঠেকিয়েই বা পানি পান করা কি শরিয়তসম্মত?
ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, খাওয়ার সময় বাম হাতে পানির গ্লাস নিয়ে ডান হাতের সহায়তায় পানি পান করা যায়। এমনটি জায়েজ আছে। কিন্তু উত্তম হলো সরাসরি ডান হাত দিয়ে পানি পান করা।
হাদিসের বরাতে তিনি বলেন, একবার নবীজি (সা.) বাম হাতে এক ক্রীতদাসকে বাম হাতে খেতে দেখেন। তখন তিনি ওই ক্রীতদাসকে বলেন- তুমি তোমার ডান হাতে খাও এবং সামনে থেকে খাও। এই হাদিস থেকে বুঝা যায় বাম হাতে পানি পান করা সুন্নাহ বিরোধী একটি কাজ। এমনটা করা উচিত নয়। যথাসম্ভব ডান হাতে পান করা উচিত।
জনপ্রিয় এই ইসলামিক স্কলারের মতে, খাবার খাওয়ার সময় ডান হাতে খাবার লেগে থাকে। এজন্য অনেকেই বাম হাতে পানির গ্লাস ধরে ডান হাতের সহায়তায় পানি পান করেন। এমন অবস্থায় আঙুল চেটে নিয়ে তারপর ডান হাতে পানির গ্লাস ধরা যেতে পারে। এমনটা করা অধিকতর সুন্নাহ’র নিকটবর্তী এবং ভালো। তবে কেউ যদি বাম হাতে পানির গ্লাস ধরে ডান হাতের সহায়তায় পানি পান করে তবে যে গুনাহ হবে এমন বলার সুযোগ নেই। এমনটাও করা যেতে পারে, অনেক ওলামায়ে-কেরাম এই পরামর্শ দিয়ে থাকেন।




