• ই-পেপার

ডিসি অফিসের তালাবদ্ধ গেট খুলে দেওয়ার দাবি ঢাকা আইনজীবী সমিতির

জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোজাফফরের বিরুদ্ধে শুনানি আজ

অনলাইন ডেস্ক
জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোজাফফরের বিরুদ্ধে শুনানি আজ
জিয়াউর রহমান ও আসামি মোজাফফর হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় আসামি করা হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ট্রাইব্যুনাল সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ট্রাইব্যুনালে এসংক্রান্ত একটি আবেদন জমা হয়েছে। যেখানে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আজই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এর শুনানি হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার মাসুদ উদ্দীন চৌধুরীর কথোপকথনের সূত্র ধরে ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার করা হয় মোজাফফর হোসেনকে। এরপর তাকে নেওয়া হয় জিয়া হত্যার ঘটনাস্থলে।

উল্লেখ্য, গতকাল (সোমবার) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার এ আসামির বিচার হবে কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে। তবে প্রসিকিউশন জানিয়েছে, মোজাফফরকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার ও বিচারের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।

আইনমন্ত্রী

এক বছরের মধ্যে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক
এক বছরের মধ্যে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব
ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তবে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) কার্যক্রমকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এটি সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

আজ মঙ্গলবার ১০ জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন আইনমন্ত্রী।

বর্তমানে দেশে বিচারকের স্বল্পতার বিপরীতে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন। যা পুরো বিচারব্যবস্থার ওপর একটি বিরাট বোঝা সৃষ্টি করেছে বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, বিভিন্ন আইনে গড়ে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ মামলা হ্রাস পাওয়া গেছে। এটি বিচারব্যবস্থার জন্য আশাব্যঞ্জক। এই ধারা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিন নতুন করে যে বিপুলসংখ্যক মামলা আদালতে জমা হচ্ছে, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

যেসব মামলায় আপস-মীমাংসার সুযোগ রয়েছে, সেগুলোকে অনুমোদিত মধ্যস্থতাকারীদের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে, বিচারকদের উদ্দেশে বলেন আইনমন্ত্রী।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যেও কার্যকর মধ্যস্থতা চালানো গেলে, আগামী এক বছরের মধ্যে বর্তমানে বিচারাধীন প্রায় সাড়ে ৪৫ লাখ মামলা ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নড়াইল, যশোর, ফরিদপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল—এই ১০ জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

২৪ বছর আগে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৩ জনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ বছর আগে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৩ জনের যাবজ্জীবন

ঢাকার নবাবগঞ্জ থানা এলাকায় ২৪ বছর আগে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেকের এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। 

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন–সুজন, জুলহাস ও মাহাম্মদ।

রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, আসামিদের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করে জরিমানার টাকা আদায়পূর্বক ভিকটিম বা তার পরিবারকে দেওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি সুজন ও ও মাহাম্মদ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে জুলহাস পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা দিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালে ২২ মার্চ রাত ৮টার দিকে ভিকটিমের ৮ বছর বয়সী ফুপাতো বোন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে চাইলে ভিকটিম তার বসতবাড়ির পেছনে পাটকাঠির বেড়ার টয়লেটে নিয়ে যান। ফুপাতো বোনকে টয়লেটে বসিয়ে তার বাড়ির উত্তর-পশ্চিম কোণে পৌঁছামাত্র এজাহারভুক্ত আসামি সুজন পেছন দিক থেকে তাকে জড়িয়ে মুখ চেপে ধরে বাড়ির পেছনে উত্তর দিকে নিয়ে যায়। সেখানে আসামি জুলহাস ও মাহাম্মদ আগে থেকে অবস্থান করছিল। আসামিরা ভিকটিমকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে সোনাপুর সার্কিনস্থ গরবাকান্দার বর্মিজ উদ্দিনের বোরো ধানক্ষেতে নিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর ঘটনা কাউকে না বলার জন্য হুমকি দিয়ে চলে যায়। ওই ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত শেষে একই বছরের ১৮ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ। এরপর আসামিদের চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। মামলার বিচারকালে ৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

জমির উদ্দিন সরকার সম্পর্কে প্রধান বিচারপতি

পেশার প্রতি তার ছিল অসীম ডেডিকেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
পেশার প্রতি তার ছিল অসীম ডেডিকেশন
প্রয়াত রাজনীতিবিদ ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।

প্রয়াত রাজনীতিবিদ ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেছেন, তিনি ছিলেন বহুমুখী গুণের অধিকারী। জেন্টলম্যান ফর এক্সিলেন্স (শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক)।

আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে এক স্মরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন বিচার বিভাগের প্রধান। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি এই স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।  

আইন পেশায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের অবদান তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘তার দুটি অসাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল। একটি হলো আইন পেশার প্রতি তাঁর ছিল অসীম ডেডিকেশন (নিবেদন)। অন্যটি হলো কমিটমেন্ট টু দ্য কেস (মামলার প্রতি দায়বদ্ধতা), যা বর্তমানে অধিকাংশ আইনজীবীর মধ্যেই দুটি বৈশিষ্ট্যেরই অভাব রয়েছে।

আইনজীবীদের উদ্দেশে জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেন, ‘বিচারপ্রার্থীরা আল্লাহর পর আইনজীবীদের ওপরই ভরসা করেন। তাই মামলার ফল যাই হোক না কেন, মামলাটি সঠিকভাবে আদালতে উপস্থাপন করা আইনজীবীদের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব।’

জমির উদ্দিন সরকারের রাজনৈতিক অবদান তুলে ধরে অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ‘তিনি ছিলেন রাজনৈতিক অঙ্গনের একজন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ব। এক-এগারো সরকারের সময়ে তিনি তার সাহসিকতা দেখিয়েছেন। তার আচরণ অন্য ৮-১০ জন রাজনীতিকের মতো ছিল না। রাজনীতির প্রতিটা ধাপে তিনি পেশাদারি বজায় রেখেছেন।

আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আইন অঙ্গনের সবার একজন ছিলেন জমির উদ্দিন সরকার। তিনি অত্যন্ত সচেতনভাবে আইনজীবী সমিতি বা বার কাউন্সিলের নির্বাচন থেকে নিজেকে বিরত রেখেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কোর্টে যে আর্গুমেন্ট করতেন, তা এখন আইনের রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তার পেশাগত নৈতিকতা সব আইনজীবীদের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে।’

বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বলেন, ‘তিনি আইনজীবীদের জন্য অনুকরণীয়। কখনো কোনো এজলাসে উত্তেজিত হতেন না। কোর্ট কোনো আদেশ দিলে মাথা পেতে নিতেন। বর্তমানে অনেক আইনজীবীদের মধ্যে এসব বিষয়ে শূন্যতা রয়েছে।’

স্মরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ আলী। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী ও জমির উদ্দিন সরকারের মেয়ে নিলুফার আখতার জমিরসহ আরো অনেকেই।