• ই-পেপার

সুপ্রিম কোর্টে চালু হচ্ছে নৈশকালীন ডাকঘর

নুসরাত হত্যা

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি আজ

অনলাইন ডেস্ক
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি আজ

ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) যে কোনো সময় শুনানির কথা রয়েছে।

গত ১০ জুন নারী ও শিশু ধর্ষণ ও হত্যা সংক্রান্ত আলোচিত মামলাগুলোর ডেথ রেফারেন্স দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় নুসরাত হত্যা মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানানোয় মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর একই বছরের ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ১৬ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ-দৌলা, সাবেক কাউন্সিলর মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিনসহ ১৬ জন।

রায়ের পর ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার ডেথ রেফারেন্সসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে পেপারবুক প্রস্তুত ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর মামলাটি শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করা হয়। প্রধান বিচারপতি পরবর্তীতে শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ নির্ধারণ করেন।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী বিচারিক আদালত কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিলে সেই রায় কার্যকর হওয়ার আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এ কারণে ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য মামলাটি হাইকোর্টে আসে। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিলও দায়ের করেছেন।

এ মামলায় আসামিরা হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ-দৌলা (৫৭), নুর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন (১৯), হাফেজ আব্দুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা পপি (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন মামুন (২২), সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসার সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন (৫৫), মহিউদ্দিন শাকিল (২০) ও মোহাম্মদ শামীম (২০)।
 

নিরাপত্তা চেয়ে পিয়া জান্নাতুলের জিডি, তদন্তের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিরাপত্তা চেয়ে পিয়া জান্নাতুলের জিডি, তদন্তের নির্দেশ
ফাইল ছবি

নিরাপত্তা চেয়ে করা আইনজীবী ও আলোচিত মডেল জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া ওরফে পিয়া জান্নাতুলের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন বনানী থানা পুলিশকে জিডির বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোস্তফা কামাল বলেন, পিয়া জান্নাতুলের জিডির বিষয়ে বনানী থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

এর আগে গত ৮ জুলাই পিয়া জান্নাতুল বনানী থানায় জিডি করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, অতীত বা বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত নন তিনি। তার কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও নেই। সম্প্রতি একজন নারীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে সম্পূর্ণ মানবিক ও আইনসম্মত অবস্থান গ্রহণ করার পর গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসংখ্য হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও আপত্তিকর বার্তা পাচ্ছেন তিনি। এ ছাড়া অজ্ঞাত একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে হুমকিমূলক ফোনকল আসছে বলে জিডিতে উল্লেখ করেন পিয়া।

শুধু তাই নয়, প্রায় তিন মাস ধরে কিছু অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে বিভিন্ন স্থানে অনুসরণ করছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কবোধ করছেন। তার আশঙ্কা, যে কোনো সময় তার বা তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াসহ পুলিশি সুরক্ষা কামনা করেন পিয়া জান্নাতুল।

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তে হাইকোর্টে রিট

বাসস
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তে হাইকোর্টে রিট
সংগৃহীত ছবি

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বেশির ভাগ টুথপেস্টে  ‘ক্ষতিকর’ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনায় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়েছে। আজ সোমবার (২৭ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন হাইকোর্টে এই রিটটি করেন।

বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রিটের শুনানি হতে পারে বলে জানান রিটকারী আইনজীবী। 

পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও) সম্প্রতি দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে। তাদের গবেষণায় ২৬টি নমুনায়, অর্থাৎ প্রায় ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

মিটফোর্ডে সোহাগ হত্যা : ২১ আসামির সাক্ষ্যগ্রহণ ৩ আগস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
মিটফোর্ডে সোহাগ হত্যা : ২১ আসামির সাক্ষ্যগ্রহণ ৩ আগস্ট
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর পুরান ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (মিটফোর্ড হাসপাতাল) সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে মো. সোহাগ (৩৯) হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পিছিয়ে আগামী ৩ আগস্ট নির্ধারণ করেছেন আদালত।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার ১ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীরের আদালত এই দিন ঠিক করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘আজকে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ঠিক করা ছিল। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই আদালতের প্রতি অনাস্থার বিষয়ে এক আসামির শুনানি চলমান থাকায় আবেদনের ওপর শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক পরবর্তী সময়ে শুনানির জন্য আগামী ৩ আগস্ট দিন ঠিক করেন।’

এর আগে, ১৯ জুলাই ঢাকার ১ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীরের আদালতের প্রতি অনাস্থা জানান মাহমুদুল হাসান মাহিন নামে এক আসামি। মাহিনের পক্ষে তার আইনজীবী মাশরুর হোসাইন এই আবেদন জমা দেন। তবে ওই আবেদনের ওপর শুনানি এখন নিষ্পত্তি হয়নি। 

মামলার আসামিরা হলেন— মাহমুদ হাসান মহিন, আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, নান্নু ওরফে নান্নু কাজী, সজিব ওরফে সজিব বেপারী, টিটন গাজী, তারেক রহমান রবিন, জহিরুল ইসলাম, পারভেজ, সাগর, রিজওয়ান উদ্দিন ওরফে অভিজিৎ বসু ওরফে অভি,  রুমান বেপারী, আবির হোসেন, জহির, ইমরান হোসেন, শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, হোসেন চৌকিদার, জিয়াউদ্দিন রাজিব, সারোয়ার হোসেন টিটু, মনির ওরফে ছোট মনির ও অপু দাস।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে পাকা রাস্তার ওপর একদল লোক ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে (৩৯) এলোপাতাড়ি পাথর দিয়ে আঘাত করে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ওই ঘটনায় পরের দিন ১০ জুলাই নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে ১৯ জনের বিরুদ্ধে  কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।

তদন্ত শেষে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর এই মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার (বর্তমানে শাহবাগ) অফিসার্স ইনচার্জ মনিরুজ্জামান। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১০ আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্তকারী এই কর্মকর্তা।

তবে মামলাটির তদন্তে ত্রুটি থাকায় পুনরায় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত। 

চলতি বছরের ১০ মে তদন্ত করে আবারও ২১ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ। গত ১২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন (চার্জ) করে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত। 

নিহত সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ মিটফোর্ড এলাকার রজনী ঘোষ লেনে ব্যবসা করে আসছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টে চালু হচ্ছে নৈশকালীন ডাকঘর | কালের কণ্ঠ