• ই-পেপার

তোমদের আঁকা

ফেউ

লেখা : ইমদাদুল হক মিলন, আঁকা : তানভীর মালেক

ফেউ

[ মাথা খাটাও ]

[ মাথা খাটাও ]

এটা এক মজার ফুটবল, যার ভেতরেই আছে গোলপোস্ট। তুমি কি পারবে নির্দেশিত পথে গোলপোস্টের সামনে গিয়ে গোল দিতে?

ফুটবল ফাইনাল

আহমেদ সাব্বির

ফুটবল ফাইনাল
অলংকরণ : মাসুম

সুপ্রিয় দর্শক শুকরিয়া স্বাগতম

বেলতলা মাঠ থেকে আমি শেখ টমটম।

পাশে আছে ইদ্রিজ

মাঠে লোক গিজগিজ

হৈচৈ শোরগোল ঢোল বাঁশি বাজছে

ফাইনাল খেলা আজ শুরু হতে যাচ্ছে।

 

মুরগির ব্যাপারী

মকবুল রেফারি

তেলমাখা টাক তার করিতেছে চকচক

মাঠে গরু চরিতেছে পরিবেশ ঝকঝক।

 

উৎসবে মুখরিত বেলতলা মাঠটায়

খেলা শুরু ফাইনাল ঠিক সাড়ে চারটায়।

দুই দলে খুব তেজ

ম্যাচ হাই ভোল্টেজ

আজ কারা গোল খাবে—‘ইদ্রিজ তুই বল

বল নিয়ে প্রস্তুত মাঝমাঠে দুই দল।

 

দর্শক ভাই-বোন

আর বাকি কিছুক্ষণ

খিদে পেলে ঝালমুড়ি বুট ভাজা ছোলা খান

মগডালে ঝুলে আছে কতিপয় পোলাপান।

 

রেফারির বাঁশি পিপ্ বেজে গেছে ওই যে

ক্যাপ্টেন কালিপদ, হাটে বেচে দই যে।

 

দুর্বার ছোটে বল

বল পায়ে পরিমল

ছুটছে সে থপথপ, ঠ্যাঙে যেন বাত তার

লাল্টুর লং পাসে বল পেল সাত্তার

সাত্তার দিল কিক

হেড দিল সিদ্দিক

পল্টুর শটে বল ছুটে ডান প্রান্তে

উড়ে গেল ধানক্ষেতে, টুলু গেল আনতে।

 

ঠ্যাং সরু আতিয়ার

ল্যাং তার হাতিয়ার

তেড়ে আসে সেন্টু

টেনে ধরে প্যান্টু

ভুল করে টান দেয় রেফারির জার্সি

কান ধরে বলে—‘স্যার ভুলে টান মারছি।

 

নন্দ ও নজরুল

পাস দেয় নির্ভুল

কার্তিক ছোটে না

পড়ে গেলে ওঠে না

 

পেট চেপে শুয়ে কাত ভাত বুঝি খাওয়া কম

অভিযোগ দিয়ে বলে—‘এই বলে হাওয়া কম।

 

মাইকের তালে বাজে—‘ওয়াকা ওয়াকা গানটি

জানালায় কার্নিশে খালাম্মা আন্টি

ছাদ থেকে ভেসে আসে চিৎকার স্বর্ণার

হ্যান্ডবল! হাততালি! কর্নার! কর্নার!

 

বল নিয়ে বলরাম ছোটে সাঁইসাঁই রে

কিক খেয়ে বল কই? সীমানার বাইরে।

পুকুরেতে ভাসে বল

ঢিল ছোড়ে দুই দল

বল তুলে ফের শুরু, কী যে লোমহর্ষক!

গোলে মার! গোলে মার! চিল্লায় দর্শক।

  

লাগাতার লাবুটার লাথি আর ধাক্কায়

ভুল পাসে বল শুধু মাঠে ঘুরপাক খায়।

ফুটবলে হেড দিয়ে হাবু খায় চক্কর

বল নিয়ে স্যাৎ করে ঢুকে পড়ে বক্কর।

বক্কর বল মারে বেঁকে যায় বারবার

ট্যার চোখে দেখছে সে দুইখানা গোলবার।

 

ছুটে ছুটে রেফারিও চোখে দেখে ঝাপসা

সন্ধ্যায় মাঠ দেখে ভাসা ভাসা আবছা।

বাঁশিটাশি হারিয়ে

এককোণে দাঁড়িয়ে

টেকো মাথা চুলকে

ভুল করে লালকার্ড দেয় মনিরুলকে।

 

এরপর মাঠে নামে টিংটিঙে পটলা

বল নিয় ঢুকে যায় ভেদ করে জটলা।

পটলার কিকে শেষে

রেফারি ভুঁড়ে ঘেঁষে

বল জালে আটকাল, মকবুল হাসল

গোল! গোল! উল্লাসে বেলতলা ভাসল।

 

ওষুধ আসে কোথা থেকে?

মাহির জামিল

ওষুধ আসে কোথা থেকে?
অলংকরণ : নিশা আক্তার

লাল সিরাপ খুব মজা। দেখতেও ভারি সুন্দর। কিন্তু ট্যাবলেট দেখতে যেমন বিদঘুটে, খেতেও তেমন তিতকুটে। আর ক্যাপসুল? বেচারাকে খেতে গেলেই গলায় আটকে যাবে। এমন আরো কত রকম ওষুধ যে আছে, কে জানে! আচ্ছা, তোমরা কি কখনো ভেবেছ, এই ওষুধগুলোতে আদতে কী আছে, যা খেলে তোমার অসুখ সারে। তা ছাড়া ওষুধগুলো হয়ই বা কেমন করে? ওরা তো আর জন্মায় না তোমার-আমার মতো মায়ের পেটে। তাহলে আসে কোথা থেকে?

জানো, একটা ওষুধের জন্ম নিতে অনেক অনেক সময় লাগে। খরচও হয় বেশ। একটা ওষুধের জন্ম নিতে লাগে ঝাড়া ১০টি বছর। আর খরচ? সে শুনলে তোমার মাথা ঘুরবে। একটা ওষুধ আবিষ্কার করতে খরচ হয় প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা।

 

অসুখ বানায় কে রে?

ওষুধ বানাতে গেলে আগে খুঁজতে হয়, যে রোগের ওষুধটা বানাতে হবে, সেই অসুখটা বানাচ্ছে কে। অসুখ বানানোর কারিগরের অভাব নেই কিন্তু শরীরে। ভাইরাস আছে, ব্যাকটেরিয়া আছে, ছত্রাক আছে। ওরাই অসুখ বানায় শরীরে বসে বসে। আবার শরীরে কোনো পুষ্টি কম পড়ে গেছে? অসুখ হবে সহজে। কোষে গড়বড় হয়েছে? কোষটা ইচ্ছামতো বাড়ছে, আবোলতাবোল রস ছাড়ছে, তখনো অসুখ হবে। কিছু কিছু প্রোটিনের দানা থাকে শরীরে, তারাও অসুখ বানায় সুযোগ পেলে। বুঝতেই পারলে, এভাবেই আমাদের শরীরে অসুখ করে।

 

এবার খোঁজো ওষুধের দানা

বুঝতেই পারছ তাহলে, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া আর দুষ্টু প্রোটিনের দানা গড়বড় করলে শরীরে অসুখ করে। এসব ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা প্রোটিন দানা হয় ছোট ছোট। মিহিদানার মতো। দেখা যায় না খালি চোখে। এই দানাকে খারাপ জৈব অণু বা রোগের জীবাণু বলে। কোন জীবাণু কোন অসুখটা বাধিয়েছে, সেটা ধরতে পারলেই হলো। সহজ হয়ে যায় ওষুধ বানানো।

 

ওষুধ কিভাবে রোগ সারায়?

যেই দুষ্টু জৈব অণু অসুখ বাধায়, তাকে ঠিক করতে লাগে আরেকটা ভালো জৈব অণু বা প্রোটিন অণু। রোগের জীবাণু যেমন, সেই জীবাণুকে ঘায়েল করতে লাগে ঠিক তেমনই মানানসই জৈব অণু। জানো, ভালো জৈব অণুটা খুব চালাক! সে দেহে ঢুকেই রক্তে মিশে যায়। তারপর টুকটুক করে হাজির হয় দুষ্টু জৈব অণুটার কাছে গিয়ে। ধীরে ধীরে জুড়ে যায় তার শরীরের সঙ্গে। তারপর যা হয়, দুষ্টু জৈব অণুটার রাশ টেনে নেয় নিজের হাতে। নিজের ইচ্ছামতো আর কিচ্ছু করতে পারে না সে। তাই পারে না আর রোগ-ব্যাধি বাড়াতে।

 

জৈব অণু কোথায় থাকে?

বিজ্ঞানীরা প্রথমেই মানানসই জৈব অণু খোঁজেন আমাদের প্রকৃতিতে। বিভিন্ন গাছ নিয়ে তাঁরা গবেষণা করেন। চেষ্টা করেন সেখান থেকে দরকারি জৈব অণুটা বের করে আনতে। প্রাণীরাও বাদ যায় না। প্রাণীদের শরীর থেকেও অনেক জৈব অণু আসে। শেষমেশ কোথাও না পেলে বিজ্ঞানীরা ল্যাবরেটরিতেই জৈব অণু তৈরি করেন। তবে জুতসই জৈব অণু খুঁজে বের করা সহজ নয়। বিজ্ঞানীরা হাজার হাজার জৈব অণু তৈরি করে রাখেন এক জায়গায়, যাকে জৈব অণুর ব্যাংক বলা হয়। কোন অণুটা জীবাণুর সঙ্গে মিশতে পারবে, বিজ্ঞানীরা তা-ই মেলাতে থাকেন সেই ব্যাংক থেকে নিয়ে। কখনো জুতসই আকার দেন কেটেছেঁটে। প্রায় ১০ হাজার প্রোটিন বা জৈব অণু বাছাইয়ের পর ১০টা কি ২০টা অণু টিকে থাকে!

 

চ্যাম্পিয়ন!

বাছাই করা জৈব অণুগুলোকে ছেড়ে দেওয়া হয় জীবাণুর সঙ্গে। যে অণুটা খুব ভালোভাবে জীবাণুর সঙ্গে মিশে যেতে পারে, জোর হাততালি পায় সে। বিজ্ঞানীরা সেই অণুটিকে চ্যাম্পিয়ন বলেন। তবে চ্যাম্পিয়ন খুঁজে পাওয়া সহজ হয় না বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। একটিমাত্র চ্যাম্পিয়ন পাওয়া যায় হাজার হাজার জৈব অণু থেকে।

 

এবার তবে যাচাই হবে

শুধু মিশে যেতে পারলেই কি হবে? দেখতে হবে বাইরে থেকে দেওয়া জৈব অণুটা যেন শরীরের ক্ষতি না করে। তাইতো প্রথমেই জৈব অণুটা ঢোকানো হয় না মানুষের শরীরে। তার বদলে একটা টেস্টটিউবে জীবাণুর সঙ্গে মেশানো হয় তাকে। এরপর ঢোকানো হয় ছোটখাটো কোনো প্রাণীর শরীরে; যেমন ধরো ইঁদুর, গিনিপিগ, খরগোশ। দেখা হয়, জৈব অণুটা তার কোনো ক্ষতি করছে, নাকি সুস্থ রাখছে। সুস্থ রাখলে ধরে নেওয়া যায়, অণুটা হয়তো নিরাপদ; দেওয়া যেতে পারে মানুষের শরীরে।

 

শেষ পরীক্ষা মানুষের শরীরে

জৈব অণুটা মানুষের শরীরে ঢোকানোর আগে রাষ্ট্রের অনুমতি লাগে। অনুমতি পেলে প্রথমেই বাছাই করা হয় ২০ থেকে ৫০ জন সুস্থ মানুষ।

জৈব অণুটা ঢোকানো হয় তাঁদের শরীরে। তাঁরা অসুস্থ হলে থেমে যায় পরীক্ষা। জৈব অণুটা বাদ দেওয়া হয় অনায়াসে। আর সুস্থ থাকলে? নিরাপদ ধরে নেওয়া হয় তাঁকে।  প্রথম ধাপ শেষ হয় এভাবে। প্রথম ধাপে জৈব অণুটা টিকে গেলে বিজ্ঞানীরা যান দ্বিতীয় ধাপে। যে রোগের জন্য ওষুধটা বানানো হচ্ছে, সেই রোগে ভোগা ১০০ থেকে ৫০০ মানুষকে বাছাই করা হয়। জৈব অণুটা প্রবেশ করানো হয় তাঁদের শরীরে। টেস্টটিউবের মতো শরীরেও জীবাণুকে ঘায়েল করে কি না, তা-ই দেখা হয় পরীক্ষা করে। এ সময়ই ঠিক করা হয়, ঠিক কী পরিমাণ ওষুধ দিতে হবে, কতবার দিতে হবে।

তিন হাজার থেকে ১০ হাজার রোগীর দেহে জৈব অণু ঢোকানো হয় তৃতীয় ধাপে। এই ধাপে কাজ হলেই ঠিক করা যায় জৈব অণুটা ট্যাবলেট হবে, ক্যাপসুল হবে, নাকি সিরাপ হবে।

তবে দুঃখের কথা কি জানো, অনেক জৈব অণু শেষমেশ ওষুধ হতে পারে না তৃতীয় ধাপে এসেও। আর যে হতে পারে, তারও কমসে কম ১২ বছর সময় লাগে!

 

তথ্যসূত্র : মিউজ, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক