একটি জেলার সর্বোচ্চ অধিকর্তা হচ্ছেন জেলা প্রশাসক, যাঁকে আমরা ডিসি বলে অভিহিত করি। দেশের ৬৪ জেলায় প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এই সরকারি কর্মকর্তাকে ডিসি সম্বোধনের যৌক্তিকতা কতটুকু, তা আবার নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। ইংরেজি পদনাম এই ডিসি হচ্ছে ‘ডেপুটি কমিশনার’-এর সংক্ষেপ। অথচ বাংলায় বলা হচ্ছে ‘জেলা প্রশাসক’, যা দেশের কোনো আইন-বিধিতে নেই। তবে এর যৌক্তিকতা অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য ‘পদবির পরিভাষা’ শীর্ষক প্রকাশনার ৬২ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘ডেপুটি কমিশনার’-এর বাংলা পরিভাষা করা হয়েছে ‘জেলা প্রশাসক’। কিন্তু একই পৃষ্ঠায় ‘ডেপুটি কমিশনার অব ট্যাক্সেস’-এর বাংলা পদনাম করা হয়েছে ‘উপকর কমিশনার’, ‘ডেপুটি কমিশনার অব কাস্টমস’কে বলা হয়েছে ‘উপকর কমিশনার, কাস্টমস’, ‘ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ’কে বলা হয়েছে ‘উপপুলিশ কমিশনার’। এই অনুসন্ধানেও ‘ডেপুটি কমিশনার’-এর বাংলা পদনাম ‘জেলা প্রশাসক’ শব্দটি অমীমাংসিতই রয়ে যায়।
এখন সময় এসেছে সুদীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা এই অমীমাংসিত শব্দটিতে একটা মীমাংসায় আসার। কারণ কোনো অমীমাংসিত পথে হাঁটা মানেই একটি ভুল পথে পরিচালিত হওয়া। আর ভুল পথে থাকা মানেই ইচ্ছাকৃত শুদ্ধতার পথ পরিহার করা, যা কোনোমতেই একটি ভালো প্রশাসননীতি হতে পারে না। অর্থাৎ ‘ভুলে যাদের জীবন গড়া’ প্রচলিত বাক্যটির মতোই একটি জগদ্দল পাথর বয়ে বেড়ানো। তাই এই সংস্কারটিকে এখন জরুরি বলেই মনে করি।
প্রসঙ্গত, একটু পেছন ফিরে তাকালেই আমরা দেখতে পাই, ২০২৪ সালের ডিসি সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদসচিব মাহবুব হোসেন ব্রিফিংয়ে এলে তাঁকে এই প্রশ্নটির মুখে পড়তে হয়। সেদিনও তিনি ‘জেলা প্রশাসক’ পদনামটির আইনি ভিত্তি সম্পর্কে জবাব দিতে পারেননি। তাঁর পাশে সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব মিলিয়ে উপস্থিত অন্তত আটজন কর্মকর্তাও এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। এক পর্যায়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ‘এটি যাঁরা করেছেন, তাঁদের কাছে জেনে নিতে পারেন।’ এভাবে দায়সারা জবাব দিয়ে তিনি সেদিন বিষয়টি এড়িয়ে যান।
তাহলে এখন সেই বাংলা অনুবাদের দিকেই দৃষ্টি দেওয়া যাক। এখানেও দেখা যায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলা ভাষা বাস্তবায়ন কোষের (বাবাকো) যাঁরা সরকারি কর্মচারীদের ‘পদবির পরিভাষা ২০১৮’ প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁরাও বিষয়টি পরিষ্কার করেননি। তবে সেখান থেকে একটি কথা পাওয়া গেছে, তা হচ্ছে—ওপরের নির্দেশে ‘জেলা প্রশাসক’ করা হয়েছে। কিন্তু এটি সঠিক অনুবাদ নয়। মজার বিষয় হচ্ছে, ‘ডেপুটি কমিশনার’-এর ঊর্ধ্বতন হিসেবে বিভাগীয় প্রশাসনে যিনি দায়িত্ব পালন করেন, তাঁর পদবি ‘কমিশনার’, বাংলা পরিভাষায় যা ‘কমিশনার’ই রাখা হয়েছে। অর্থাৎ সেখানে ‘কমিশনার’কে ‘বিভাগীয় প্রশাসক’ বলা হয়নি।
আবার এরপর ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২৫’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনেও এর মীমাংসিত উত্তর দিতে পারেননি মন্ত্রিপরিষদসচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। তিনি স্বীকারও করলেন, আইন-বিধিতে ‘জেলা প্রশাসক’ শব্দটি নেই। অবশ্য ‘জেলা প্রশাসক’ শব্দটি নিয়ে কঠিন মন্তব্য করেছিলেন সাবেক সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান বদিউর রহমান। তিনি বলেছিলেন, ‘জোর যার মুল্লুক তার নীতি ঔপনিবেশিক আমল থেকে প্রয়োগ হচ্ছে। বাংলাদেশ সৃষ্টি হওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে সেটি রয়ে গেছে। ডিসিদের জেলা প্রশাসক পদবি বহাল রাখা তারই ধারাবাহিকতা। প্রশাসক শব্দের মাধ্যমে একটি মাতবরি বা মোড়লিপনার ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা। এই পদনামটি পরিবর্তন হওয়া উচিত।’
এ কথাটি স্পষ্ট যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শাসক বা প্রশাসক হন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। সংবিধানে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংবিধানের ৫৯(১) অনুচ্ছেদে ‘নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর’ প্রজাতন্ত্রের প্রশাসনিক শাসনের ভার প্রদানের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ প্রজাতন্ত্রের প্রশাসনিক ইউনিটগুলো নির্বাচিত প্রতিনিধির নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। দেশের প্রশাসনিক ইউনিটগুলোর অন্যতম—উপজেলা, জেলা ও বিভাগ। আজ বাস্তবতা হচ্ছে, এর কোনোটিই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে না। উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ গঠন করা হলেও কার্যত এসব প্রতিষ্ঠানকে আলংকারিক করে রাখা হয়েছে।
একসময় ডিসি ছিলেন, পরে সচিব হিসেবে অবসর নেন এমন একজন এ কে এম আব্দুল আওয়াল মজুমদারের ভাষ্য ছিল—‘ডেপুটি কমিশনার’-এর বাংলা কোনোভাবেই ‘জেলা প্রশাসক’ হতে পারে না। তবে ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটের বাংলা পরিভাষা হিসেবে জেলা প্রশাসক ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে এ ক্ষেত্রে আমাদের মনে আরেকটি প্রশ্নের উদ্ভব হয়, তা হচ্ছে—বিভিন্ন জেলার ওয়েবসাইটগুলোতে ঢুকলে দেখা যায়, ডিসিরা তাঁদের পরিচয় লিখেছেন, ‘জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট’। প্রশ্ন হচ্ছে, ‘জেলা প্রশাসক’ শব্দদ্বয় যদি ‘জেলা ম্যাজিস্ট্রেট’-এর বাংলা পরিভাষা হবে, তাহলে একই বিষয় দুইবার করে লেখার কী দরকার।
আমরা সাধারণত দেখতে পাই, ডিসিদের জেলায় তিন ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হয়। ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর, ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কমিশনার। অর্থাৎ রাজস্ব আদায়, বিচারসংক্রান্ত এবং সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের সমন্বয়। প্রথম ও দ্বিতীয় দায়িত্বটি ২০০ বছরের বেশি সময় আগের, যা ব্রিটিশ কম্পানি শাসনামলের। শেষোক্ত দায়িত্বটি যোগ হয়েছে পাকিস্তান আমলে। ২০০৭ সালে বিচার বিভাগ পৃথককরণ হলে ডিসিরা শুধু নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসির দায়িত্বে থাকেন, অথচ তা-ও সংবিধান সম্মত নয়। বিষয়টি নিয়ে আদালতের রায় এখনো অপেক্ষমাণ। আর এসব নানা প্রশ্নের মধ্য দিয়ে ‘জেলা প্রশাসক’ পদনামটিই ব্যবহার হয়ে চলেছে। কেন পদনামটির যথার্থ সংস্কারটি হচ্ছে না? এর উত্তর খুঁজতে গেলে দেখা যায়, বিড়ালের গলায় ঘণ্টা পরাবেন এমন কাউকেই পাওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনেকেই এরূপ বলেছেন—এমন সংস্কারমূলক কাজের জন্য যে মানদণ্ডের কর্মচারী প্রয়োজন, প্রশাসনে তেমন ব্যক্তিদের দেখা যায় না।
ফিবছরের মতো এ বছরও মে-তে অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন। ডিসি সম্মেলনে প্রতিবছরই বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব ওঠে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। সম্মেলনের প্রথম দিনে তাঁদের পক্ষ থেকে ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ১৯০ ধারার অধীনে বিচারিক ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার দাবি ওঠে। ডিসি সম্মেলনে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, বিচার বিভাগ পৃথককরণের পর মাঠ পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। এ জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা বাড়াতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০(১)(এ)(বি)(সি) (ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অপরাধ আমলে নেওয়ার ক্ষমতা) ধারায় ক্ষমতা দেওয়ার প্রয়োজন। সম্মেলনে মুক্ত আলোচনায় একাধিক বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসি বলেন, বিচার বিভাগ পৃথককরণের পর ডিসির বিচারিক ক্ষমতা কমলেও শান্তি-শৃঙ্খলা ও অপরাধ দমনে এখনো অনেক করণীয় আছে। অপরাধ দমন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখার নির্দেশ আছে। জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দায়ী। গুলিবর্ষণের তাৎক্ষণিক রিপোর্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দ্রুত সরকারকে অবহিত করে থাকেন। গুলিবর্ষণ-পরবর্তী প্রশাসনিক তদন্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক পরিচালনার নির্দেশ রয়েছে। এ জন্য ১৯০ ধারার ক্ষমতার প্রয়োজন রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ প্রস্তাব নাকচ করে দেন। তিনি ডিসিদের বলে দেন, এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
একটি জেলায় ডিসিই হচ্ছেন সর্বেসর্বা। বাংলাদেশ ৬৪ জেলার দেশ। বলা যায়, ৬৪ জন ডিসির ওপর থাকে পুরো দেশটির ভার। এবারের ডিসি সম্মেলনে কিভাবে অনৈতিক চাপ ও দলীয় প্রভাব থেকে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডকে দূরে রাখা যায়, এই বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পায়। ডিসিরা জানান, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করেই উন্নয়ন ও জনসেবা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে; তবে অবৈধ তদবির, প্রভাব বিস্তার ও অন্যায্য সুবিধা আদায়ের সংস্কৃতি বন্ধ না হলে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন হবে। এবারের সম্মেলনে জেলা প্রশাসকরা ৪৯৮টি প্রস্তাব পেশ করেন। এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মাঠপ্রশাসনে ভালোভাবে কাজ করতে ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে—প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার তাগিদ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণপূর্বক প্রতিরোধ ও দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকরা সরাসরি মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় তারা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, যা ডিসি সম্মেলনে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও প্রস্তাব শুনে সমাধানের উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। জেলা প্রশাসকরা কতখানি গুরুত্বপূর্ণ, তা নিঃসন্দেহে সবার কাছেই অনুমেয়। জেলা প্রশাসকরা নিজেদের দাবিদাওয়া বলেন, আদায়ও করেন। অন্যদিকে সরকারও জেলা প্রশাসকদের দিয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে। কিন্তু পদনামটির ভুলের আর পরিবর্তন হয় না। আর এক ভুলের শরীর বেয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে হাজারো ভুল। তাই এবার এই ভুলের একটা সুরাহা হওয়া উচিত।
তথ্য মতে, গত ৫০ বছরে বাংলাদেশে জনপ্রশাসন সংস্কারের জন্য ২৬টি সংস্কার কমিশন বা কমিটি গঠন করা হলেও বাংলাদেশে এখনো গতানুগতিক জনপ্রশাসন ব্যবস্থা বহাল রয়েছে। ফলে এর ফাঁক গলিয়ে জনপ্রশাসনে মেধা ও দক্ষতার গুরুত্ব অনেকটা হ্রাস পেয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগ-পদায়ন ও পদোন্নতিতে মেধা ও দক্ষতার স্থান নিয়েছে দলীয় আনুগত্য ও চাটুকারিতা। এবার এর অবসান হওয়া উচিত। পদনামটির সঠিক ও গ্রহণযোগ্য পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই হোক তার সূচনা।
লেখক : কবি ও সাংবাদিক




বাংলাদেশের প্রধান ফসল ধান। তিনটি প্রধান ধানের মধ্যে দুটিই উৎপাদিত হয় বর্ষাকালে। এ মৌসুমে আউশ ও আমন ধানের চাষ হয়। আর বোরো ধানের চাষ হয় শীতকালে। মোট ধান উৎপাদনের দিক থেকে আউশের অবস্থান তৃতীয়, শতকরা আট ভাগ। আমন ধানের শরিকানা ৩৮ শতাংশ। অর্থাৎ মোট ধানের শতকরা ৪৬ ভাগ উৎপাদিত হয় বর্ষা মৌসুমে। উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বোরো ধানের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো। ফলে আউশ ও আমন ধানের উৎপাদন তুলনামূলকভাবে হ্রাস পাচ্ছিল। এখন অতিরিক্ত সেচনির্ভরতা ও উৎপাদন খরচের কারণে বোরো ধানের প্রতি কৃষকের নিরবচ্ছিন্ন আগ্রহ কিছুটা হ্রাস পাচ্ছে। আউশ ও আমনের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এই দুটি ধানের ক্ষেত্রে উচ্চ ফলনশীল জাতের উদ্ভাবন এবং কৃষক পর্যায়ে তা সম্প্রসারণের ফলে একরপ্রতি ফলনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তন, বর্ষায় ঘন ঘন বন্যা এবং শুষ্ক মৌসুমে খরার কারণে অনেক সময় ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হন এই দুটি ধানের উৎপাদনকারী কৃষকরা।