• ই-পেপার

বসুন্ধরার এই উদ্যোগে নারীরা স্বনির্ভর হবেন

  • আব্দুল ওয়াজেদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সদর, বগুড়া

মায়ের পাশে দাঁড়াবেন বাবা হারা রিতা

শাহ্ মো. হাসিবুর রহমান
মায়ের পাশে দাঁড়াবেন বাবা হারা রিতা

১০ বছর আগে বাবা হারিয়েছেন রিতা আক্তার। এখন মা আর ছোট ভাইকে নিয়ে তাঁদের তিনজনের সংসার। বাবা ছিলেন রিতাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম। বর্তমানে রিতার মা গ্রামেরই একটি কারখানায় কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালান। শত কষ্টেও সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ করেননি। রিতা স্থানীয় একটি কলেজে পড়েন। মায়ের স্বল্প আয়ে দুবেলা দুমুঠো ভাত খেয়ে দিনাতিপাত করেন তাঁরা। পড়ার খরচ জোগাতে টিউশন করতে হয় রিতাকে। মা কখনো অসুস্থ হলে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তাঁদের। মায়ের স্বল্প আয়েই তো কোনোমতে খাবারের জোগান হয়। এ জন্য নিজের একটা অবলম্বন তৈরি করতে চাচ্ছিলেন রিতা। তাহলে সংসারে কিছুটা সহযোগিতা করা যেত, মায়ের পাশে দাঁড়ানো যেত। বসুন্ধরা শুভসংঘ সেই অবলম্বন তুলে দিয়েছে রিতার হাতে। তিন মাস সেলাই কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে রিতার হাতে বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে সেলাই মেশিন তুলে দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। সেলাই মেশিন পেয়ে রিতা বলেন, ‘এটা কি স্বপ্ন না সত্যি।’ তাঁদের অভাব-অনটনের সংসার, অনেকেই জানেন, কেউ সেভাবে এগিয়ে আসেন না তাঁদের জন্য। বসুন্ধরা শুভসংঘর সদস্যরা তাঁদের খোঁজ রেখেছেন। তাঁকে সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, আবার বিনামুল্যে সেলাই মেশিনও দিয়েছেন, যা একেবারেই নতুন। এ যেন সত্যিই স্বপ্নপূরণ। তিনি আরো বলেন, ‘এখন আর সংসারে অভাব থাকবে না, নিজেই কাজ করব নিজের সেলাই মেশিনে। আয় করব, তা দিয়ে সংসার এগিয়ে নেব। ছোট ভাইয়ের ছোট ছোট আবদার পূরণ করব তাকে লেখাপড়া শেখাব, মায়ের পাশে দাঁড়াব।’ নতুন সেলাই মেশিন পেয়ে চোখে তাঁর আনন্দাশ্রু। দোয়া করলেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের জন্য, মহান আল্লাহপাক যেন তাঁকে ভালো রাখেন।

পরিবারের ভরসা হতে চান মীম

তরিকুল ইসলাম জেন্টু
পরিবারের ভরসা হতে চান মীম

পরিবারের বড় সন্তান শারমিন আক্তার মীম। সরকারি আজিজুল হক কলেজে মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছেন। হঠাৎ তাঁর বাবা মারা যান। তাঁর কাঁধে দায়িত্ব পড়ে সংসার সামলানোর। বাড়িতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পড়িয়ে যা আয় হয়, তা দিয়েই সংসার সামলাতেন মীম। বর্তমানে পড়াশোনা শেষ করে বাড়িতে বসে আছেন। ছোট দুই বোনের পড়ালেখা ও সংসার সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। এই সময়ে বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তা নিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘ। প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পাওয়ার পর মীমের মা এবং ছোট বোনরাও বেশ খুশি। তাঁদের আনন্দ দেখে মনে হচ্ছিল, মীম এবার সত্যিকার অর্থে পরিবারের স্বপ্নপূরণের ভরসা হয়ে উঠবেন। দূর করবেন পরিবারের অর্থকষ্ট। শারমিন আক্তার মীম বলেন, ‘বাবা মারা গেছেন দুই বছর আগে। তিন বোনের মধ্যে আমি সবার বড়। সংসার সামলানোর পাশাপাশি নিজের এবং দুই বোনের পড়ালেখার খরচও জোগান দিতে হচ্ছে। বাড়িতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পড়িয়ে যে আয় হয়, তা দিয়ে টানাটানি করে চলছে আমাদের পরিবার। এমন দুঃসময়ে বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় পাওয়া সেলাই মেশিন আমাকে এবং পরিবারকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করবে। সেই সঙ্গে উদ্যোক্তা হয়ে আশপাশের নারীদের স্বাবলম্বী করতে চাই। বসুন্ধরা গ্রুপ যেভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে, আমিও একসময় অনেক মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। বিনামূল্যে দরিদ্র নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ করাব।’ মীমের মা আঞ্জু আরা বলেন, ‘আমার মেয়ে সেলাইয়ের কাজ করে এখন অন্তত পরিবার সামলাতে পারবে। আমরা বসুন্ধরা গ্রুপের সবার জন্য অনেক দোয়া করি। বিপদে একমাত্র তাঁরাই পাশে দাঁড়ালেন।’

 

 

বসুন্ধরা দেশের অন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য উদাহরণ

মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল, সভাপতি, বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপি

বসুন্ধরা দেশের অন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য উদাহরণ

দেশের কল্যাণে, মানুষের কল্যাণে বসুন্ধরা গ্রুপের এই যে মহতী উদ্যোগ, এটা দেশের অন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে। বগুড়ার গর্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারীসমাজকে এগিয়ে নিতে কাজ করছেন। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। সরকারের এমন কাজে বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে এটা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। সরকারের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে বসুন্ধরার মতো বড় বড় ব্যবসায়ী গ্রুপ যদি এগিয়ে আসে, সরকারের কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। আমাদের দেশ তখন অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে। নারীরা স্বাবলম্বী হলে দেশ এগোতে বাধ্য। এ জন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘আমার একটি পরিকল্পনা আছে।’ তাঁর সেই পরিকল্পনার মধ্যে আছে নারীদের স্বনির্ভর করা। বিএনপি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তাঁর কথা রেখেছেন ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের মাধ্যমে। সরকারের পাশাপাশি দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীরা দেশ গঠনে এগিয়ে এলে আমাদের সোনার বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে বেশি সময় লাগবে না। বিশ্বাস করি, বসুন্ধরা গ্রুপের যে উদ্যোগ, এর মতো অন্যরাও যদি এগিয়ে আসে, আমাদের অবহেলিত মা-বোনেরা যাঁরা পিছিয়ে পড়েছেন, তাঁরা স্বাবলম্বী হবেন। তাহলে কোনো নারী অবহেলিত থাকবেন না, তাঁরা কারো বোঝা হবেন না। যাঁরা বসুন্ধরার পক্ষ থেকে সেলাই মেশিন পেলেন, তাঁরা মেশিনটি বিক্রি করবেন না। সেলাইয়ের কাজ করে যখন আপনি স্বাবলম্বী হবেন, তখন অন্য দরিদ্র মা-বোনকেও আপনারা কাজ শেখাবেন। তাহলেই বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিশ্রম সফল হবে।

 

ইমাম স্বামীর পাশে দাঁড়াবেন ববি

ইয়াসির আরাফাত রাফি
ইমাম স্বামীর পাশে দাঁড়াবেন ববি

গৃহিণী ববি খাতুনের বাড়ি আদমদীঘির তেঁতুলিয়া গ্রামে। স্বামী নাজমুল হোসেন পেশায় মসজিদের ঈমাম। স্বামীর আয় দিয়ে কোনো রকমে চলে সংসার। সংসারে নিজেও কিছু একটা করে আয়ের পথ তৈরি করতে চান ববি। এই দম্পতির একটি সন্তান জন্মের প্রথম দিনই মারা গেছে। রান্নাবান্নার বাইরে সংসারে এখন আর তেমন কোনো কাজ থাকে না ববির। সেলাইয়ের কাজ করার ইচ্ছা ছিল তাঁর অনেক দিন ধরে। কিন্তু টাকা দিয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার যেমন সুযোগ হয়নি, তেমনি সামর্থ্য ছিল না সেলাই মেশিন কেনার। তবে এবার তাঁকে সেই সুযোগ করে দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন পেয়ে তিনি এখন স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। পেয়েছেন মানসিক শক্তি। প্রশিক্ষক অনেক কাজ শিখিয়েছেন জানিয়ে ববি খাতুন বলেন, ‘কাজ শিখে যে মেশিন পেয়েছি, সেটা দিয়ে বাড়িতে বসে মানুষের কাজ করব। এতে আয় হলে সংসারের কাজে লাগবে, স্বামীর উপকার হবে। আমাদের পরিবারে আয় বাড়বে।’ এরই মধ্যে একটি সুখী জীবনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করা এই নারী বলেন, ‘মেশিনটা পেয়ে আমার মনে গর্ব এলো, শক্তি এলো। বসুন্ধরা গ্রুপ আমাদের মতো গরিবদের জন্য যা করেছে, সেটা অনেক ভালো কাজ। আমরা এটা আজীবন মনে রাখব। তাদের জন্য অনেক দোয়া করি। আল্লাহ যেন সবাইকে ভালো রাখেন।’