• ই-পেপার

কুলাউড়ায় মনু নদীর তীর রক্ষা প্রকল্প

বিএসএফের বাধায় কাজ বন্ধ বন্যা আতঙ্কে লাখো মানুষ

হামের উপসর্গে আরো ১ মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
হামের উপসর্গে আরো ১ মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে  হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত এক হাজার ১৩ জন। তাদের মধ্যে ১৪০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। ৮৭৩ জন হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে হামে শনাক্তের তথ্য দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৫ জনের। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ৬৮৫ জন প্রাণ হারিয়েছে। মোট মৃত্যু ৭৮০ জনের। হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ২৯৮ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ৯৪ জন। এ ছাড়া রাজশাহীতে ৮৯, চট্টগ্রামে ৫৫, বরিশালে ৪৩, ময়মনসিংহে ৬৬, খুলনায় ৩১ ও রংপুর বিভাগে ৯ জন মারা গেছে।

শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বাপ্পি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বাপ্পি গ্রেপ্তার

শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী (দ্বিতীয় প্রধান) হিসেবে পরিচিত তানিম রেজা বাপ্পিকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কমলাপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে মতিঝিল থানার পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ এ তথ্য দেন। তিনি বলেন, মতিঝিল থানার পুলিশ তানিম রেজা বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, টিটিপাড়া ও কমলাপুর এলাকায় কোরবানির পশুর হাটের ইজারা নিয়ে ইসমাইল হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার তদন্তে তানিম রেজা বাপ্পির নাম এসেছে। তাঁর সঙ্গে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের যোগাযোগ রয়েছে। তিনি বিভিন্ন কৌশলে পলাতক ছিলেন।

বাপ্পি দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রতর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত জানিয়ে পুলিশ বলছে, সুব্রত বাইনের অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বাপ্পির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ বলছে, বিভিন্ন থানায় বাপ্পির নাম উল্লেখ করে সাতটি মামলা রয়েছে। এর বাইরেও অনেক অপরাধের ঘটনায় বাপ্পির নাম এসেছে। বিশেষ করে মতিঝিল, মগবাজার, মালিবাগ, কমলাপুরসহ আশপাশের এলাকায় যেসব অপরাধের ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের নাম এসেছে, সেখানে কোনো না কোনোভাবে তানিম রেজার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

 

 

এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের পাশে থাকবে ইইউ ও জি৭৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের পাশে থাকবে ইইউ ও জি৭৭

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং গ্রুপ অব ৭৭ অ্যান্ড চায়না (জি৭৭)। একই সঙ্গে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর বাংলাদেশের যৌক্তিক দাবির প্রতিও ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করেছে দুই পক্ষ।

গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এই আশ্বাস দেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস এবং জি৭৭ অ্যান্ড চায়নার চেয়ারম্যান ও জাতিসংঘে উরুগুয়ের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরে।

বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপান্তর, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ এবং কাঠামোগত সংস্কারের সফল বাস্তবায়নের স্বার্থে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরো তিন বছর বাড়ানো প্রয়োজন। অতিরিক্ত এই সময় দেশের সংস্কার কার্যক্রমকে আরো সুসংহত করতে এবং উত্তরণকে টেকসই ও স্থায়ী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আর্থিক খাতের সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। প্রস্তাবিত প্রস্তুতিকাল এসব উদ্যোগকে আরো কার্যকর করবে, শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াবে এবং বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণকে মসৃণ ও অপরিবর্তনীয় করতে ভূমিকা রাখবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস বাংলাদেশের সুশাসন ও টেকসই উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরুকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের পাশে থাকবে ইইউ।

অন্যদিকে জি৭৭ অ্যান্ড চায়নার চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর পক্ষে উপস্থাপিত যুক্তিকে শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। তিনি সরকারের বাস্তবমুখী সংস্কার কর্মসূচির প্রশংসা করে বাংলাদেশের প্রতি জি৭৭-এর অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ কৌশল বিষয়ে একটি বিশেষ ব্রিফিং আয়োজনের প্রস্তাব দেন। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানায়।

বৈঠক শেষে ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে ইইউ তাদের অব্যাহত সমর্থনের আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছে।

 

 

এনসিপির অনুষ্ঠানে বক্তারা

সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বয়ান গড়ে তোলার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বয়ান গড়ে তোলার আহ্বান

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিকল্প বয়ান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন কবি, লেখক, নাট্যকার ও সংস্কৃতিজনরা।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীতে দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে অবরুদ্ধ সময়ের স্মৃতি ও কবিতা শীর্ষক স্মৃতিচারণা ও কবিতা পাঠের অনুষ্ঠানে বক্তারা এ আহ্বান জানান। পরীবাগের সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাহিত্য ও সংস্কৃতি সেলের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি, সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংস্কৃতির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।

কবি সাইয়েদ জামিলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ ও স্মৃতিচারণা করেন জাকির আবু জাফর, সালাহ উদ্দিন শুভ্র, রাসেল রায়হান, সাম্য শাহ, সানাউল্লাহ সাগর, মামুন সারোয়ার, গাজী রফিক, আসমা সুলতানা শাপলা, আবিদ আজম, শিবলী আহমেদ, ইমরান মাহফুজ ও জিয়া হক।

অনুষ্ঠানে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও সংস্কৃতিকর্মী লুত্ফর রহমান ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শুরুর দিকের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে পোস্টার, যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ মেটাতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে চাঁদা সংগ্রহ করতেন। তিনি জানান, আন্দোলনের সময় বহুল আলোচিত লাখো শহীদের রক্তে কেনা, দেশটা কারো বাপের না এবং পরে আবু সাঈদ-মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ স্লোগান দুটির রচয়িতা তিনি।

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ বলেন, বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির অঙ্গনেও একটি সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদী কাঠামো গড়ে তুলেছিল। তাঁর ভাষ্য, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা ও প্রচারণার মাধ্যমে রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও মননশীল রূপান্তরও জরুরি। গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারবিরোধী সাংস্কৃতিক জাগরণ গড়ে তুলতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।