• ই-পেপার

এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের পাশে থাকবে ইইউ ও জি৭৭

হামের উপসর্গে আরো ১ মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
হামের উপসর্গে আরো ১ মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে  হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত এক হাজার ১৩ জন। তাদের মধ্যে ১৪০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। ৮৭৩ জন হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে হামে শনাক্তের তথ্য দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৫ জনের। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ৬৮৫ জন প্রাণ হারিয়েছে। মোট মৃত্যু ৭৮০ জনের। হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ২৯৮ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ৯৪ জন। এ ছাড়া রাজশাহীতে ৮৯, চট্টগ্রামে ৫৫, বরিশালে ৪৩, ময়মনসিংহে ৬৬, খুলনায় ৩১ ও রংপুর বিভাগে ৯ জন মারা গেছে।

কুলাউড়ায় মনু নদীর তীর রক্ষা প্রকল্প

বিএসএফের বাধায় কাজ বন্ধ বন্যা আতঙ্কে লাখো মানুষ

মাহফুজ শাকিল, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার)
বিএসএফের বাধায় কাজ বন্ধ বন্যা আতঙ্কে লাখো মানুষ

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বাধায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের পাঁচটি স্থানের কাজ আটকে রয়েছে। এতে বন্যা আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মনুতীরের লোকজন। ২০২১ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে চারটি ইউনিয়নের দুই লক্ষাধিক মানুষ। পাঁচ বছরে বিএসএফের বাধাসহ নানা জটিলতায় এই প্রকল্পে কাজ হয়েছে মাত্র ৭০ শতাংশ। ভারতের ত্রিপুরা থেকে উৎপন্ন মনু নদী সীমান্ত এলাকায় হওয়ায় দুই দেশের নদী সুরক্ষা বিষয়ক জটিলতায় যথাসময়ে বাঁধের কাজ শেষ হয়নি। এতে সম্প্রতি বন্যার কবলে পড়ে কুলাউড়া, রাজনগর ও সদর উপজেলা।

এদিকে বিএসএফের বাধায় বন্ধ থাকা পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকড়িয়া এলাকায় মনু নদীর বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ ২০২৪ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত ৮ জুলাই পাহাড়ি ঢলে ওই জায়গা দিয়ে ফের লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। এ ছাড়া ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাস থেকে বিএসএফের বাধায় শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম, নিশ্চিন্তপুর, তেলিবিল ও বাগজুর এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধের কাজ বন্ধ রয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, বন্যা ও মনু নদীর ভাঙন রোধে ২০২০ সালের ২১ জুন ৯৯৬ কোটি ২৮ লাখ টাকার প্রকল্পটির অনুমোদন হয়। প্রকল্পের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কুলাউড়া উপজেলায় কাজের সার্বিক অগ্রগতি ৭০ শতাংশ। ২০২১ সালে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাসান অ্যান্ড ব্রাদার্স বাঁধ মেরামত ও তীর সংরক্ষণের কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়। কিন্তু চারটি স্থানে বিএসএফের বাধার কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে।

সরেজমিনে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকড়িয়া বেড়িবাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ২০২৪ সালের বন্যায় প্রায় ১০০ ফুট ভাঙনের স্থান দিয়ে বন্যার পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় মানুষের বসতবাড়ি ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় লোকজন অস্থায়ীভাবে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলিদ বলেন, বিএসএফের বাধার মুখে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। এ বিষয়ে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিতে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছিল। দুই দেশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে সেটি নিয়ে আলোচনা চলমান। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

 

শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বাপ্পি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বাপ্পি গ্রেপ্তার

শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী (দ্বিতীয় প্রধান) হিসেবে পরিচিত তানিম রেজা বাপ্পিকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কমলাপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে মতিঝিল থানার পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ এ তথ্য দেন। তিনি বলেন, মতিঝিল থানার পুলিশ তানিম রেজা বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, টিটিপাড়া ও কমলাপুর এলাকায় কোরবানির পশুর হাটের ইজারা নিয়ে ইসমাইল হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার তদন্তে তানিম রেজা বাপ্পির নাম এসেছে। তাঁর সঙ্গে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের যোগাযোগ রয়েছে। তিনি বিভিন্ন কৌশলে পলাতক ছিলেন।

বাপ্পি দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রতর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত জানিয়ে পুলিশ বলছে, সুব্রত বাইনের অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বাপ্পির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ বলছে, বিভিন্ন থানায় বাপ্পির নাম উল্লেখ করে সাতটি মামলা রয়েছে। এর বাইরেও অনেক অপরাধের ঘটনায় বাপ্পির নাম এসেছে। বিশেষ করে মতিঝিল, মগবাজার, মালিবাগ, কমলাপুরসহ আশপাশের এলাকায় যেসব অপরাধের ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের নাম এসেছে, সেখানে কোনো না কোনোভাবে তানিম রেজার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

 

 

এনসিপির অনুষ্ঠানে বক্তারা

সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বয়ান গড়ে তোলার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বয়ান গড়ে তোলার আহ্বান

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিকল্প বয়ান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন কবি, লেখক, নাট্যকার ও সংস্কৃতিজনরা।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীতে দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে অবরুদ্ধ সময়ের স্মৃতি ও কবিতা শীর্ষক স্মৃতিচারণা ও কবিতা পাঠের অনুষ্ঠানে বক্তারা এ আহ্বান জানান। পরীবাগের সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাহিত্য ও সংস্কৃতি সেলের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি, সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংস্কৃতির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।

কবি সাইয়েদ জামিলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ ও স্মৃতিচারণা করেন জাকির আবু জাফর, সালাহ উদ্দিন শুভ্র, রাসেল রায়হান, সাম্য শাহ, সানাউল্লাহ সাগর, মামুন সারোয়ার, গাজী রফিক, আসমা সুলতানা শাপলা, আবিদ আজম, শিবলী আহমেদ, ইমরান মাহফুজ ও জিয়া হক।

অনুষ্ঠানে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও সংস্কৃতিকর্মী লুত্ফর রহমান ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শুরুর দিকের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে পোস্টার, যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ মেটাতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে চাঁদা সংগ্রহ করতেন। তিনি জানান, আন্দোলনের সময় বহুল আলোচিত লাখো শহীদের রক্তে কেনা, দেশটা কারো বাপের না এবং পরে আবু সাঈদ-মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ স্লোগান দুটির রচয়িতা তিনি।

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ বলেন, বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির অঙ্গনেও একটি সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদী কাঠামো গড়ে তুলেছিল। তাঁর ভাষ্য, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা ও প্রচারণার মাধ্যমে রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও মননশীল রূপান্তরও জরুরি। গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারবিরোধী সাংস্কৃতিক জাগরণ গড়ে তুলতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।