মাত্র আধাঘণ্টার বৃষ্টিতেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশের একাধিক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে দীর্ঘ যানজটে সড়ক স্থবির হয়ে পড়ছে। সড়ক ও ফুটপাত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিল্প-কারখানার হাজারো শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মিনিটের ভারি বৃষ্টি হলেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা, চৌধুরী বাড়ি, ভোগড়া বাইপাস, বাসন সড়ক, ছয়দানা, বড়বাড়ি, তারগাছ, গাজীপুরা, হোসেন মার্কেট, কলেজ গেট ও টঙ্গী স্টেশন রোড এলভাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বৃষ্টির পানি সময়মতো নিষ্কাশন না হওয়ায় এসব এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে যায়। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। গত বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ আরো বেড়েছে।
বলাকা পরিবহনের চালক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘২০-৩০ মিনিটের বৃষ্টিতেই সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। বিশেষ করে চৌধুরী বাড়ি, ভোগড়া বাইপাস, বাসন সড়ক, তারগাছ, গাজীপুরা ও হোসেন মার্কেট এলাকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। এসব স্থানে যানবাহন আটকে পড়ে, দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা থাকলেও সমাধানের উদ্যোগ নেই।’
মেট্রিক্স সোয়েটার কারখানার শ্রমিক জাহেদা বেগম ও সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই সড়ক ও ফুটপাত পানিতে তলিয়ে যায়। বাধ্য হয়ে ময়লা ও দূষিত পানি মাড়িয়ে কর্মস্থলে যেতে হয়। দূষিত পানির কারণে শরীরে চুলকানি, খোসপাঁচড়াসহ বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ দেখা দেয়।’ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জলাবদ্ধতার কারণে গত বৃহস্পতিবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা ছিল খুবই কম। এতে গার্মেন্টসকর্মীসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। অনেকেই রিকশা, অটোরিকশা কিংবা হেঁটে বৃষ্টিতে ভিজেই গন্তব্যে পৌঁছেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কের দুই পাশে নির্মিত ভূগর্ভস্থ ড্রেন প্রয়োজনের তুলনায় অনেক সরু। এসব ড্রেন দিয়ে আশপাশের শিল্প-কারখানার বর্জ্য ও বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হয় না। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) এস এম আশরাফুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে কয়েক দিন ধরে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকায় যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে পারছে না। এ কারণে কিছুটা যানজট সৃষ্টি হয়েছে। পানি অপসারণের জন্য গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সিটি করপোরেশনের কর্মীরা কাজ শুরু করেছেন। গতকাল থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।’