• ই-পেপার

বৃষ্টিতে বাসের অপেক্ষায় যাত্রীরা

নারীকে তিন দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
নারীকে তিন দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে এক সন্তানের জননী হিন্দু নারীকে অপহরণ করে তিন দিন একটি ভবনে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষণে অভিযুক্ত ইমন মিয়া (২৪) উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম (ড্রেজার রফিক) ছেলে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রতনপুরের ওই নারী গত ৮ জুলাই সকালে পাশের জীবনগঞ্জ গিয়ে নিখোঁজ হন। পরে তাঁর পরিবার এ নিয়ে নবীনগর থানায় একটি জিডি করে।

স্থানীয়রা জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শুক্রবার নবীনগর সদরের সমবায় মার্কেটসংলগ্ন একটি ভবনের চারতলা থেকে বিধ্বস্ত অবস্থায় ওই নারীকে তাঁর পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে রাতে পুলিশ গ্রামে এসে ওই নারীর সঙ্গে কথা বলে চলে যায়। তবে গতকাল শনিবার তিনি ধর্ষণের মামলা করতে থানায় গেলে নবীনগর থানা তা নেয়নি। পরে এ নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি হলে পুলিশ বিকেলে ওই নারীকে গ্রাম থেকে মামলা করার জন্য নবীনগর থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে নবীনগর থানার ওসি মোরশেদ আলম চৌধুরী রাত সোয়া ৮টার দিকে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুলিশ মামলা নেয়নি এ অভিযোগ সত্য নয়। শনিবার সকালে ওই নারী তাঁর পরিবার নিয়ে মামলা করতে থানায় আসার পর তাঁদের আর থানায় আমরা খুঁজে পাইনি।’

এখন কি মামলা নিয়েছেন?—এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘মামলা নেওয়ার জন্য পুলিশ পাঠিয়ে ওই নারীকে বিকেলে থানায় আনা হয়েছে। এখন মামলা লেখা হচ্ছে।’

 

 

 

১০ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা ব্যর্থ বিএসএফের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
১০ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা ব্যর্থ বিএসএফের

দিনাজপুর, জয়পুরহাটের পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর ও লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে তিনজন করে মোট ১০ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। জয়পুরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর সীমান্তে শনিবার ভোর ৪টার দিকে দুই নারীসহ তিনজনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় গ্রামবাসীর কঠোর নজরদারি এবং তীব্র প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবি তাঁদের ভারতীয় সীমান্তে পাঠিয়ে নজরদারিতে রেখেছে।

এদিকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলসুতি সীমান্ত দিয়ে তিন নারীকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ। তবে বিজিবির প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে তারা। বিকেলে সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে, ওই তিন নারী সীমান্তের প্রায় ১৫০ গজ ভারতীয় অংশের কাঁটাতারের বেড়ার এ পাশে অবস্থান করছিলেন। দিনাজপুর সদর উপজেলার দাইনুর সীমান্ত দিয়ে পুশ ইনচেষ্টার সময় এক নারীসহ চার জনকে শূন্যরেখায় ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি।

 

 

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ডুবে যায় আধাঘণ্টার বৃষ্টিতেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ডুবে যায় আধাঘণ্টার বৃষ্টিতেই

মাত্র আধাঘণ্টার বৃষ্টিতেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশের একাধিক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে দীর্ঘ যানজটে সড়ক স্থবির হয়ে পড়ছে। সড়ক ও ফুটপাত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিল্প-কারখানার হাজারো শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মিনিটের ভারি বৃষ্টি হলেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা, চৌধুরী বাড়ি, ভোগড়া বাইপাস, বাসন সড়ক, ছয়দানা, বড়বাড়ি, তারগাছ, গাজীপুরা, হোসেন মার্কেট, কলেজ গেট ও টঙ্গী স্টেশন রোড এলভাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বৃষ্টির পানি সময়মতো নিষ্কাশন না হওয়ায় এসব এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে যায়। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। গত বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ আরো বেড়েছে।

বলাকা পরিবহনের চালক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘২০-৩০ মিনিটের বৃষ্টিতেই সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। বিশেষ করে চৌধুরী বাড়ি, ভোগড়া বাইপাস, বাসন সড়ক, তারগাছ, গাজীপুরা ও হোসেন মার্কেট এলাকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। এসব স্থানে যানবাহন আটকে পড়ে, দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা থাকলেও সমাধানের উদ্যোগ নেই।’

মেট্রিক্স সোয়েটার কারখানার শ্রমিক জাহেদা বেগম ও সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই সড়ক ও ফুটপাত পানিতে তলিয়ে যায়। বাধ্য হয়ে ময়লা ও দূষিত পানি মাড়িয়ে কর্মস্থলে যেতে হয়। দূষিত পানির কারণে শরীরে চুলকানি, খোসপাঁচড়াসহ বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ দেখা দেয়।’ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জলাবদ্ধতার কারণে গত বৃহস্পতিবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা ছিল খুবই কম। এতে গার্মেন্টসকর্মীসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। অনেকেই রিকশা, অটোরিকশা কিংবা হেঁটে বৃষ্টিতে ভিজেই গন্তব্যে পৌঁছেছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কের দুই পাশে নির্মিত ভূগর্ভস্থ ড্রেন প্রয়োজনের তুলনায় অনেক সরু। এসব ড্রেন দিয়ে আশপাশের শিল্প-কারখানার বর্জ্য ও বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হয় না। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) এস এম আশরাফুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে কয়েক দিন ধরে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকায় যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে পারছে না। এ কারণে কিছুটা যানজট সৃষ্টি হয়েছে। পানি অপসারণের জন্য গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সিটি করপোরেশনের কর্মীরা কাজ শুরু করেছেন। গতকাল থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।’

 

 

 

বন্যাদুর্গত ও পানিবন্দি মানুষের পাশে নৌবাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্যাদুর্গত ও পানিবন্দি মানুষের পাশে নৌবাহিনী

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিবৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং সমুদ্রের অস্বাভাবিক জোয়ারের প্রভাবে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও বন্যায় জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও সমুদ্রের জোয়ারের কারণে পানিবন্দি হয়ে পড়া চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এরই অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন বিজয়নগর, আকমল আলী রোড, নিউমুরিং মাদরাসা, নারিকেলতলা ও নেভি হাসপাতাল গেট এলাকায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নৌবাহিনীর দল।

এ সময় পানিবন্দি পরিবারগুলোর মধ্যে নৌবাহিনীর সদস্যরা দুই হাজার প্যাকেট রান্না করা খাবার পৌঁছে দেয়। মানবিক দায়িত্ববোধের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে না আসা পর্যন্ত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।