• ই-পেপার

হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় বীজ

মেডিক্যাল সেন্টার দ্রুত চালুর দাবি

মেডিক্যাল সেন্টার দ্রুত চালুর দাবি

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা কলেজের প্রধান ফটকের বাঁ পাশে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা কলেজ মেডিক্যাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়। সে সময় কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, প্রতি সপ্তাহে রবিবার, সোমবার ও মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মেডিক্যাল সেন্টারটি চালু থাকবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মেডিক্যাল সেন্টার প্রতিষ্ঠার প্রায় পাঁচ মাস পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। এখনো সেখানে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি এবং শিক্ষার্থীরা ঘোষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

ঢাকা কলেজে ২০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী। জরুরি অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার সময় একটি কার্যকর মেডিক্যাল সেন্টার শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এটি অচল থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

ঢাকা কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি, অতি দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে মেডিক্যাল সেন্টারটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হোক এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হোক।

রাশেদুল ইসলাম

ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা কলেজ

চা-শিল্পে নজর দিন

চা-শিল্পে নজর দিন

চা এমন এক পানীয়, যার চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই চাহিদা বৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশে পরিণত হয়েছে, তবে পুরোপুরি লাভজনক হয়ে উঠতে পারেনি। বাংলাদেশে বছরে গড়ে ৯-১০ কোটি টাকার চা উৎপাদিত হয়। কিন্তু শ্রমিকের মজুরি, সার, কীটনাশক, বিদ্যুতের খরচ অনেক বেশি হওয়ায় অনেক বাগান লোকসানে রয়েছে। বিদেশের বাজারেও বাংলাদেশের চায়ের চাহিদা রয়েছে। প্রতিবছর পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে চা রপ্তানি করা হচ্ছে, অথচ যাঁদের পরিশ্রমের ফসল, তাঁরা পাচ্ছেন না ন্যায্য পারিশ্রমিক। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে চা-শ্রমিকের পারিশ্রমিক ২৫৫ থেকে ৩৩০ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ৬৫০ থেকে ৬৭০ টাকা, কেনিয়ায় ৪৮৩ টাকা, অথচ বাংলাদেশে ১৭৮ টাকা ধরা হলেও শ্রমিকরা নির্ধারিত মূল্য থেকে কম পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। চা আমরা শুধু পানি হিসেবে গ্রহণ করলেও চা-কেন্দ্রিক জীবন যাপন করায় শ্রমিকরা চা-পাতাকে দৈনন্দিন খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করছেন। বিশ্ববাজারে চায়ের চাহিদা ও চা-শ্রমিকের জীবন পর্যালোচনা করে চা-শ্রমিকের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি করা হলে দেশের অর্থনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন সাধিত হবে।

ঈশিতা হক

শিক্ষার্থী, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি

টিকটক আসক্তি যেন একটি ব্যাধি

টিকটক আসক্তি যেন একটি ব্যাধি

বর্তমান সময়ে অতিরিক্ত টিকটক বা এ ধরনের শর্ট ভিডিও সত্যি এক ধরনের মানসিক ও সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। লক্ষ করলে দেখা যায় যে দেশের ছোট-বড়, বৃদ্ধ সবাই ঝুঁকে পড়ছে ভিডিও বানাতে। এই আসক্তির কারণে তরুণ প্রজন্মের মহামূল্যবান সময় অপচয় হচ্ছে, যা তাদের লেখাপড়া ও ক্যারিয়ার গঠনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

লাইক, কমেন্ট ও ভিউ পাওয়ার অন্ধ দৌড়ে মানুষ আজ শালীনতার সীমানা লঙ্ঘন করে যেকোনো কুরুচিপূর্ণ ও ভিত্তিহীন কনটেন্ট তৈরি করতে দ্বিধা বোধ করছে না। এর ফলস্বরূপ সমাজে এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং পরশ্রীকাতরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে দিন দিন নষ্ট করে দিচ্ছে। ছোট শিশুরা পড়াশোনায় মনোনিবেশ করার পরিবর্তে সারাক্ষণ মোবাইল স্ক্রিনে চোখ আটকে রাখছে। অনেক সময় ক্ষতিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ স্টান্ট বা প্রাংক ভিডিও তৈরি করতে গিয়ে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে, এমনকি অনেক মূল্যবান প্রাণহানিও ঘটছে। এই ভয়াবহ আগ্রাসন থেকে উত্তরণে পরিবার ও সমাজকে সচেতন হতে হবে এবং প্রযুক্তির সঠিক ও পরিমিত ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

রাকিব ইসলাম আকাশ

শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

ডেঙ্গু প্রতিরোধে উদ্যোগ নিন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে উদ্যোগ নিন

প্রতিবছর বর্ষা এবং বর্ষার পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। এ বছরও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত রোগ। এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু রোগ হয়। এই মশার বিশেষত্ব হলো, এরা পরিষ্কার পানিতে বংশ বৃদ্ধি করে। সচরাচর অন্য মশা রাতে কামড়ালেও এই মশা দিনের বেলায় কামড়ায়।

আমরা জানি, বর্ষাকালে এই মশার বিস্তার বৃদ্ধি পায়। তবে বর্তমানে ডেঙ্গু শুধু বর্ষাকালীন রোগ নয়, এখন এটি বারোমাসি রোগে পরিণত হয়েছে। সারা বছরই এ রোগে আক্রান্ত রোগী দেখা যায়। এ কারণে শুধু বর্ষাকাল ঘিরে নয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখন বছরব্যাপী উদ্যোগ নেওয়া দরকার। দেখা যায়, পরিস্থিতি যখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে যায়, তখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত মাত্রা অর্জন করা সম্ভব নয়। কাজেই সরকারের উচিত পরিস্থিতি বিবেচনায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এ ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসাধারণের সচেতন ভূমিকা নিতে হবে। বাড়ির পাশে ডোবা, টবের পানি, বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি পরিষ্কার নিজেদেরই করতে হবে।

মেরাজুল ইসলাম

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি