• ই-পেপার

আইএমএফের সঙ্গে ডিসেম্বরে নতুন চুক্তির লক্ষ্য

  • ৬ থেকে সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলারের নতুন কর্মসূচি চায় বাংলাদেশ

বাজেট ব্যয় সংকোচন নীতি থেকে সরে এলো সরকার

জারি করা দুটি সার্কুলারের কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাজেট ব্যয় সংকোচন নীতি থেকে সরে এলো সরকার

২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের বিভিন্ন খাতে ব্যয় স্থগিত ও হ্রাসের বিষয়ে গত ৯ জুলাই জারি করা দুটি সার্কুলারের কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।

গতকাল বৃহস্পতিবার জারি করা এক চিঠিতে অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, গত ৯ জুলাই জারি করা সার্কুলার নং-২৪ ও নং-২৩-এর আলোকে কোনো ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না। অর্থ বিভাগের বাজেট অনুবিভাগ-১ থেকে জারি করা এই চিঠিতে উপসচিব শিহাব উদ্দিন আহমদ সই করেছেন।

এর আগে গত ৯ জুলাই অর্থ বিভাগ দুটি পৃথক সার্কুলার জারি করে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে একগুচ্ছ কৃচ্ছ্রসাধনমূলক পদক্ষেপের নির্দেশ দেয়। সার্কুলার অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ সফর, নতুন যানবাহন ও আসবাব ক্রয়, বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি সংগ্রহ এবং অন্যান্য অনুৎপাদনশীল ব্যয় সীমিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরিচালন বাজেটের বিভিন্ন খাতে বরাদ্দের একটি অংশ স্থগিত রাখা এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার নির্ধারণের কথাও বলা হয়।

এ ছাড়া উন্নয়ন বাজেটের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ, ভবন নির্মাণ, যানবাহন ক্রয় ও অন্যান্য মূলধনী ব্যয়ের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন ছাড়া নতুন আর্থিক দায় সৃষ্টি না করার নির্দেশনা ছিল। সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং বাজেট বাস্তবায়নে দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

তবে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে আগের নির্দেশনা কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নিল অর্থ বিভাগ। ১৬ জুলাইয়ের চিঠিতে ৯ জুলাইয়ের দুটি সার্কুলারের বিষয়ে কোনো কার্যক্রম গ্রহণ না করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

নতুন চিঠিতে কেন আগের নির্দেশনা স্থগিত করা হয়েছে বা ভবিষ্যতে সংশোধিত কোনো সার্কুলার জারি হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

ফলে অর্থ বিভাগের এই সিদ্ধান্তের কারণ নিয়ে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অর্থ বিভাগের সর্বশেষ নির্দেশনার ফলে ৯ জুলাইয়ের সার্কুলারের আলোকে যেসব ব্যয় নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছিল, সেগুলো আপাতত স্থগিত থাকবে। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি সংস্থা।

হামে আরো ৮ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
হামে আরো ৮ শিশুর মৃত্যু

হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো আট শিশু মারা গেছে। এই সময় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ১৭১ শিশু। হাম শনাক্ত হয়েছে ১৯৭ জনের, আর উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৯৭৪ জন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে এ তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকায় তিন, খুলনায় দুই এবং সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে একজন করে শিশু মারা যায়। গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৬৮৪ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৯৫ শিশু। মোট ৭৭৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এক লাখ ১৫ হাজার ১৩৮ শিশুর। এ সময় হাম শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ১০৪ শিশুর। মোট আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ২৯ হাজার ২৪২ শিশু।

গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৭ হাজার ৮১৯ জন। আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৪ হাজার ২৭৫ জন।

দেশে এর আগে সর্বোচ্চ হামের রোগী শনাক্ত হয়েছিল ২০০৫ সালে, তখন আক্রান্ত ছিল ২৫ হাজার ৯৩৪ জন। এরপর টিকাদান কর্মসূচির কারণে সংক্রমণ অনেক কমে আসে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে মাত্র ১৩২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। তার আগের পাঁচ বছরে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে দুই হাজার ৪১০, ২০৩, ৩১১, ২৮১ ও ২৪৭। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। কিন্তু কোনো সময়েই হামের রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়ায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক হলেও দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে ৯৯ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও অক্সিজেনের ঘাটতি দ্রুত শনাক্ত করা না গেলে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। যেসব শিশু মারা যাচ্ছে তাদের বড় অংশ অপুষ্টিতে ভুগছিল। মায়েদের পুষ্টিহীনতাও শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিকে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা ইরানের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
হরমুজ প্রণালিকে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলা গতকাল বৃহস্পতিবার ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে। চলমান সংঘাতের জেরে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালিকে নিজেদের জন্য অলঙ্ঘনীয় লাল রেখা (রেড লাইন) ঘোষণা করেছে তেহরান। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ বা জাতীয় অবকাঠামোতে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটি ও অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান।

এদিকে পরিস্থিতি আরো জটিল করে লোহিত সাগরে তেল পরিবহন পথ বন্ধের জন্য ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে তেহরান। রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী যদি ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিড বা জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানে, তবে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে লোহিত সাগরে তেল সরবরাহ অবরুদ্ধ করার জন্য হুতিদের এই গোপন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণী মহলে আলোচনার পর হুতিদের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। সংবেদনশীলতার কারণে তাঁরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেন।

তাঁরা জানান, তেহরানের অনুরোধ সম্পর্কে হুতিরা খুব সম্প্রতি জানতে পেরেছে, যা এর আগে প্রকাশ্যে জানা যায়নি। রয়টার্সের সূত্রগুলো ব্যাখ্যা করেনি কিভাবে এই বার্তা পাঠানো হয়েছে বা এটি মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর হামলার হুমকির পর তা পাঠানো হয়েছিল কি না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং হুতিদের একজন মুখপাত্র রয়টার্সের মন্তব্য চাওয়ার অনুরোধের তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেননি।

এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা ইরানের বন্দর আব্বাস, চাবাহার, গ্রেটার টুনব এবং বেশ কিছু উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্রে টানা ছয় ঘণ্টাব্যাপী ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক উৎস খার্গ দ্বীপের দিকে যাওয়ার পথে কুরাসাওয়ের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সেটি বিকল করে দেওয়া হয়েছে। নতুন করে শুরু হওয়া মার্কিন নৌ-অবরোধের আওতায় এটিই প্রথম অচল হওয়া কোনো জাহাজ। মার্কিন হামলার জবাবে ইরানও ওই অঞ্চলে পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। কুয়েত, বাহরাইন ও জর্দানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। কুয়েতের সামরিক বাহিনী ড্রোন হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে এবং বাহরাইন সরকার নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ের অনুরোধ জানিয়েছে।

এই সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বন্ধ করতে এবং গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতার অধীনে আলোচনা ফের শুরু করতে দুই দেশের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান। গতকাল ইসলামাবাদের এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহবান জানান। সূত্র : রয়টার্স, বিবিসি, আল জাজিরা, সিএনএন

রাজশাহীতে আইজিপি

সাইবার অপরাধ জুয়া ও গুজব এখন বড় চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
সাইবার অপরাধ জুয়া ও গুজব এখন বড় চ্যালেঞ্জ
আলী হোসেন ফকির

সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া, ফিশিং ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তাই এসবের মোকাবেলায় নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর আহবান জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড মাঠে বক্তব্যে তিনি এ আহবান জানান। ৪২তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি।

নবনিযুক্ত সাব-ইন্সপেক্টরদের সব ধরনের ভয়ভীতি, প্রভাব, অনুরাগ-অনুকম্পা ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহবান জানান আইজিপি। তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে মামলা তদন্ত এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আইজিপি আরো বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নিরপরাধ, বিপন্ন ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করতে হবে।

এর আগে প্রধান অতিথি হিসেবে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির ৫০০ প্রশিক্ষণার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের মধ্যে শাহরিয়ার হাসান সিজান (পিএ-৪২৩১২) বেস্ট ক্যাডেট, মো. সাইফুল ইসলাম (পিএ-৪২৮০৬) বেস্ট একাডেমিক, তৌকির আহমেদ (পিএ-৪২৩২৪) বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ, আশরাফুল ইসলাম (পিএ-৪২৫০৩) বেস্ট সুইমার এবং কামরান শেখ (পিএ-৪২৩৩৯) বেস্ট শ্যুটার হিসেবে পুরস্কৃত হন।