২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের বিভিন্ন খাতে ব্যয় স্থগিত ও হ্রাসের বিষয়ে গত ৯ জুলাই জারি করা দুটি সার্কুলারের কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।
গতকাল বৃহস্পতিবার জারি করা এক চিঠিতে অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, গত ৯ জুলাই জারি করা সার্কুলার নং-২৪ ও নং-২৩-এর আলোকে কোনো ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না। অর্থ বিভাগের বাজেট অনুবিভাগ-১ থেকে জারি করা এই চিঠিতে উপসচিব শিহাব উদ্দিন আহমদ সই করেছেন।
এর আগে গত ৯ জুলাই অর্থ বিভাগ দুটি পৃথক সার্কুলার জারি করে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে একগুচ্ছ কৃচ্ছ্রসাধনমূলক পদক্ষেপের নির্দেশ দেয়। সার্কুলার অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ সফর, নতুন যানবাহন ও আসবাব ক্রয়, বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি সংগ্রহ এবং অন্যান্য অনুৎপাদনশীল ব্যয় সীমিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরিচালন বাজেটের বিভিন্ন খাতে বরাদ্দের একটি অংশ স্থগিত রাখা এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার নির্ধারণের কথাও বলা হয়।
এ ছাড়া উন্নয়ন বাজেটের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ, ভবন নির্মাণ, যানবাহন ক্রয় ও অন্যান্য মূলধনী ব্যয়ের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন ছাড়া নতুন আর্থিক দায় সৃষ্টি না করার নির্দেশনা ছিল। সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং বাজেট বাস্তবায়নে দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তবে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে আগের নির্দেশনা কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নিল অর্থ বিভাগ। ১৬ জুলাইয়ের চিঠিতে ৯ জুলাইয়ের দুটি সার্কুলারের বিষয়ে ‘কোনো কার্যক্রম গ্রহণ না করার জন্য’ নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
নতুন চিঠিতে কেন আগের নির্দেশনা স্থগিত করা হয়েছে বা ভবিষ্যতে সংশোধিত কোনো সার্কুলার জারি হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
ফলে অর্থ বিভাগের এই সিদ্ধান্তের কারণ নিয়ে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অর্থ বিভাগের সর্বশেষ নির্দেশনার ফলে ৯ জুলাইয়ের সার্কুলারের আলোকে যেসব ব্যয় নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছিল, সেগুলো আপাতত স্থগিত থাকবে। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি সংস্থা।


