• ই-পেপার

সরকারের নজর সোলার পাম্পে

  • বর্তমানে ১০ লাখ ডিজেলচালিত সেচ পাম্প রয়েছে

আজকের খেলা

আজকের খেলা

প্রাথমিকের বৃত্তির ফল ফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রাথমিকের বৃত্তির ফল ফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

প্রকাশের আগেই প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল ফাঁস হওয়ার ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মো. মেহতাব কায়েসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সাখাওয়াৎ হোসেনের সই করা প্রজ্ঞাপনে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‌‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ সালের ফলাফল যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশের আগে ওয়েবপোর্টালে আপলোড করার ক্ষেত্রে যথাযথ নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ না করে ফলাফল ওয়েবপোর্টালে আপলোড করায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর অনুচ্ছেদ ১২(১) অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মো. মেহতাব কায়েসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।’

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল ওয়েবপোর্টালে আপলোডের তারিখ অর্থাৎ ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে তাঁকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ঢাকা বিভাগের ৯টি জেলার ফল নির্ধারিত সময়ের আগেই ওয়েবসাইটে দেখা যায়। পরে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ফল প্রকাশের গোপনীয়তা ও তথ্য-প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

 

ইয়াবা-হেরোইন উদ্ধারের পর গোপনের অভিযোগে ডিএনসির তদন্ত কমিটি

মোবারক আজাদ
ইয়াবা-হেরোইন উদ্ধারের পর গোপনের অভিযোগে ডিএনসির তদন্ত কমিটি

মাদক উদ্ধার অভিযানে জব্দ করা ইয়াবা, হেরোইন ও নগদ অর্থের প্রকৃত পরিমাণ মামলায় উল্লেখ না করার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। একই সঙ্গে অভিযোগ ওঠা ঢাকা মেট্রোর উত্তরা সার্কেলের পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানকে প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। ডিএনসির পৃথক দুটি অফিস আদেশ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, জনৈক আবুল খায়ের অভিযোগ করেন, নারায়ণগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় তিনটি অভিযানের তথ্য তিনি উত্তরা সার্কেলের পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান এবং বিমানবন্দর সার্কেলের সহকারী উপপরিদর্শক মোহাম্মদ রোকুনুজ্জামানকে দিয়েছিলেন।

ওই তথ্যের ভিত্তিতে প্রথম অভিযানে এক হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা, দ্বিতীয় অভিযানে ৪০০ গ্রাম হেরোইন এবং তৃতীয় অভিযানে ২০ হাজার পিস ইয়াবা ও দুই লাখ ৯৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়; কিন্তু সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো দায়েরের সময় উদ্ধার করা আলামত ও নগদ অর্থের প্রকৃত পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া তথ্যদাতা হিসেবে চুক্তি অনুযায়ী তিনি সোর্সমানিও পাননি।

এ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ডিএনসি চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে পরিচালক (নিরোধ শিক্ষা, গবেষণা ও প্রকাশনা) রাজীব আহসানকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম শওকত ইসলাম, উপপরিচালক (অপারেশনস) মুকুল জ্যোতি চাকমা এবং সদস্যসচিব হিসেবে সহকারী পরিচালক (অপারেশনস) ফয়সাল মাহমুদ। কমিটিকে সরেজমিন তদন্ত করে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পৃথক আরেক অফিস আদেশে পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ডিএনসির প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

একই আদেশে উত্তরা সার্কেলের দাপ্তরিক কার্যক্রম ও অভিযান পরিচালনার স্বার্থে তেজগাঁও সার্কেলের পরিদর্শক তমিজ উদ্দিন মৃধাকে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে উত্তরা সার্কেলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এদিকে তদন্ত কমিটির সদস্য ডিএনসির উপপরিচালক (অপারেশনস) মুকুল জ্যোতি চাকমা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তদন্ত কমিটিতে আমি কাগজে-কলমে থাকলেও অন্য কাজে যুক্ত থাকায় কাজ করতে পারিনি। তবে কমিটিতে থাকা অন্য সদস্যরা কাজ করছেন। আমি যত দূর জানি তদন্ত চলমান।’

জানতে চাইলে ডিএনসির মহাপরিচালক হাসান মারুফ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখনো তদন্ত কমিটির সময় শেষ হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত বলা যাবে।’ 

বরিশালে আসামির মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশালে আসামির মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলার ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। ওই মামলায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে থানার উপপরিদর্শক ওমর ফারুক বাদী হয়ে মামলাটি করেন। পরে অভিযান চালিয়ে ১৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার আসামিদের আদালতে হাজির করলে বিচারক তাঁদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে গ্রেপ্তারকৃত এক আসামির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে আহত করা হয়।

মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, হামলার ঘটনার পর থেকেই থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে হামলায় জড়িত ১৮ জনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

গত বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চুরি, মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, থানার হাজতে থাকা অবস্থায় রিয়াজ নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত ১১টার দিকে তাঁকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে গভীর রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এলাকায় রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে তাঁর স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এরপর বিকেলে কয়েক শ মানুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায়। এ সময় ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ ঘটনায় পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হন।

পুলিশ হামলাকারীদের চিহ্নিত করে যে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে, তাঁরা সবাই উপজেলার ফুল্লশ্রী গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ফুল্লশ্রী গ্রামের মান্নান ফকির (৬৫), তানজিলা বেগম (২৬), সিদ্দিক ফকির (৬০), ঝুমুর আক্তার (৩৬), নাছিমা বেগম (৪৫), মোসা. তাহমিনা (৫০), হাবিবুর রহমান (৪৫), গিয়াস উদ্দিন ফকির (৬২), রিফাত ফকির (১৮), মমতাজ বেগম (৬০), ময়না বেগম (৪৮), শারমিন আক্তার (২৫), রাজু হাওলাদার (১৮), মনোয়ারা বেগম (৫০), মো. সবুজ ফকির (৩২), আসমা বেগম (৩৪), নাজমা আক্তার (৪০) ও  নাইম ফকির (১৮) ।

 

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের নিন্দা

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। গতকাল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামিমা পারভীন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত বুধবার আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ চুরির মামলায় বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ ফকির (২৬) নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে। রিয়াজের বিরুদ্ধে আগে থেকেই থানায় মাদকসংক্রান্ত মামলা ছিল। থানায় হাজতে থাকাকালীন মাদকাসক্ত রিয়াজ নিজের মাথায় নিজে আঘাত করে রক্তাক্ত হন। পুলিশ দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

কিন্তু পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে এলাকায় রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এই গুজবকে কেন্দ্র করে একদল লোক সংঘবদ্ধ হয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায় এবং ভাঙচুর করে। এ সময় তারা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ চালায়। গুজবনির্ভর এ ধরনের হামলা বাংলাদেশে গড়ে ওঠা নব্য ‘মব সংস্কৃতি’। এমন হামলা শুধু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকিই নয়, বরং এটা জননিরাপত্তার প্রতি মারাত্মক হুমকি।

বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন দেশের সব নাগরিকের প্রতি আহবান জানাচ্ছে যে আপনারা মিথ্যা বা গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রচলিত আইনকে শ্রদ্ধা করুন, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করুন এবং যেকোনো অভিযোগ বা অসন্তোষের ক্ষেত্রে আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ পথ অনুসরণ করুন, যার মাধ্যমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়।