• ই-পেপার

বরিশালে আসামির মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা

হামে চার মাসে প্রাণহানি ৭৫০ নতুন মৃত্যু ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
হামে চার মাসে প্রাণহানি ৭৫০ নতুন মৃত্যু ৩

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গেল প্রায় চার মাসে হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৭৫০। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ জনের। হামের উপসর্গ নিয়ে ৬৫৭ জন প্রাণ হারিয়েছে।

গত এক দিনে ১২৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। ৯০১ জন হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছে। এ নিয়ে চলতি বছরে দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯ হাজার ৮৯৯। নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৩২৬।

হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ২৮৫ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পর রাজশাহী বিভাগে মারা গেছে ৮৯ জন। এ ছাড়া সিলেটে ৮৮, চট্টগ্রামে ৫৩, বরিশালে ৪২, ময়মনসিংহে ৬২, খুলনায় ২৯ এবং রংপুর বিভাগে ৯ জন মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৮০০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে

ঢাকা বিভাগে ভর্তি ৩১১, রাজশাহীতে ১৭, সিলেটে ৬৫, চট্টগ্রামে ১৯০, বরিশালে ১১০, ময়মনসিংহে ৫২, খুলনায় ৪৬ এবং রংপুরে ৯ জন। এ নিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগী ভর্তির সংখ্যা দাঁড়াল ৯২ হাজার ৮৩১। এর মধ্যে ৮৯ হাজার ২৩৪ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।

আজকের খেলা

আজকের খেলা

প্রাথমিকের বৃত্তির ফল ফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রাথমিকের বৃত্তির ফল ফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

প্রকাশের আগেই প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল ফাঁস হওয়ার ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মো. মেহতাব কায়েসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সাখাওয়াৎ হোসেনের সই করা প্রজ্ঞাপনে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‌‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ সালের ফলাফল যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশের আগে ওয়েবপোর্টালে আপলোড করার ক্ষেত্রে যথাযথ নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ না করে ফলাফল ওয়েবপোর্টালে আপলোড করায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর অনুচ্ছেদ ১২(১) অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মো. মেহতাব কায়েসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।’

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল ওয়েবপোর্টালে আপলোডের তারিখ অর্থাৎ ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে তাঁকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ঢাকা বিভাগের ৯টি জেলার ফল নির্ধারিত সময়ের আগেই ওয়েবসাইটে দেখা যায়। পরে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ফল প্রকাশের গোপনীয়তা ও তথ্য-প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

 

সরকারের নজর সোলার পাম্পে

বর্তমানে ১০ লাখ ডিজেলচালিত সেচ পাম্প রয়েছে

নিজামুল হক
সরকারের নজর সোলার পাম্পে

সেচের জন্য ডিজেলচালিত পাম্পের যুগ শেষ হতে চলেছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) পরিচালিত সেচ প্রকল্পগুলোতে এখন থেকে আর নতুন করে ডিজেলচালিত পাম্প স্থাপন করা যাবে না। একই সঙ্গে চলমান ও অনুমোদিত যেসব প্রকল্পে ডিজেল পাম্পের সংস্থান রাখা হয়েছে, সেগুলো দ্রুত সংশোধন করে সেখানে সৌরচালিত সেচ পাম্প অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃষি উৎপাদনে জ্বালানি ব্যয় কমানো এবং পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সেচব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সেচ কার্যক্রমে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ ও ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে একটি নীতিগত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে জরুরি নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে বিএডিসির অধীন কোনো নতুন সেচ বা ক্ষুুদ্রসেচ প্রকল্পে ডিজেলচালিত পাম্পের সংস্থান রাখা যাবে না। এরই মধ্যে অনুমোদিত বা চলমান প্রকল্পগুলোর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) দ্রুত সংশোধন করে ডিজেল পাম্পের পরিবর্তে আধুনিক সৌরচালিত পাম্প অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সংশোধিত প্রস্তাব প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিআইসি) সভায় উপস্থাপন করতে হবে।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকরা ডিজেল সংকটের মুখে পড়েন। চাহিদামতো ডিজেল না পাওয়া এবং ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হয়। কোথাও কোথাও ধানের জমি শুকিয়ে যাওয়ায় বোরো আবাদ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে সেচের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি তেলের  ব্যবহারও বেড়েছে। প্রতিবছর বোরো মৌসুমে বিপুল পরিমাণ ডিজেল আমদানি করতে হয়, যার জন্য ব্যয় হয় উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা। এতে কৃষকের উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ে। সৌরচালিত পাম্প ব্যবহার করলে কৃষকের সেচ ব্যয় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এর ইতিবাচক প্রভাব খাদ্যপণ্যের বাজারমূল্যেও পড়তে পারে।

বিএডিসি দীর্ঘদিন ধরে খাল পুনঃখনন, ভূগর্ভস্থ ও ভূ-উপরিস্থ পানির দক্ষ ব্যবহার এবং সেচ এলাকা সম্প্রসারণে কাজ করছে। সেচব্যবস্থায় সৌরপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে ডিজেল কেনা ও পরিবহনের ঝামেলা কমবে, জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড ও জ্বালানি তেলের ওপর চাপ কমবে এবং কার্বন নিঃসরণ কমে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সহায়তা করবে। তবে প্রকৌশলীরা বলছেন, সৌরচালিত পাম্প স্থাপনের প্রাথমিক ব্যয় ডিজেলচালিত পাম্পের তুলনায় বেশি। কিন্তু সৌর প্যানেলের আয়ুষ্কাল ১৫ থেকে ২০ বছর হওয়ায় তিন থেকে চার বছরের মধ্যেই এই বিনিয়োগের অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি মেঘলা আবহাওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থাপনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দক্ষ জনবল তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী (ক্ষুদ্র সেচ) মুহাম্মদ বদিউল আলম সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ডিজেলচালিত সেচ পাম্প পরিচালনায় নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আমদানিনির্ভর হওয়ায় অনেক সময় জ্বালানির সরবরাহ সংকটও তৈরি হয়। এ কারণে জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে সরকার বিকল্প ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। তিনি বলেন, সৌরশক্তিনির্ভর সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সেচ পাম্পগুলোকে সৌরচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হবে। তিনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ১০ লাখ সেচ পাম্প রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে এসব পাম্পকে সৌরশক্তিনির্ভর করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ৫১ হাজার সৌরচালিত সেচ পাম্প স্থাপনের জন্য একটি প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে।

বিএডিসির মাঠ পর্যায়ের প্রকৌশলীরা এরই মধ্যে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর তালিকা ধরে ডিজেল পাম্পের পরিবর্তে সৌর পাম্পের প্রাক্কলন ও কারিগরি স্পেসিফিকেশন তৈরির কাজ শুরু করেছেন। মাঠ পর্যায়ে পানির গভীরতা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করে দ্রুত পিআইসি সভায় সংশোধিত প্রস্তাব উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। বিএডিসির এক কর্মকর্তা বলেন, দেশের সেচ চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত সব ডিজেলচালিত পাম্পকে সৌরচালিত পাম্পে রূপান্তর করতে বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।

তবে অর্থনীতিবিদ ও কৃষিবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের পরিবর্তে সৌরশক্তিনির্ভর সেচব্যবস্থায় রূপান্তর বাংলাদেশের কৃষি খাতের জন্য একটি সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে একদিকে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং পরিবেশবান্ধব আধুনিক সেচব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি হবে।