নরওয়ে-ইংল্যান্ড (রাত ৩টা)

প্রকাশের আগেই প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল ফাঁস হওয়ার ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মো. মেহতাব কায়েসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সাখাওয়াৎ হোসেনের সই করা প্রজ্ঞাপনে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ সালের ফলাফল যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশের আগে ওয়েবপোর্টালে আপলোড করার ক্ষেত্রে যথাযথ নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ না করে ফলাফল ওয়েবপোর্টালে আপলোড করায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর অনুচ্ছেদ ১২(১) অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মো. মেহতাব কায়েসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।’
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল ওয়েবপোর্টালে আপলোডের তারিখ অর্থাৎ ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে তাঁকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ঢাকা বিভাগের ৯টি জেলার ফল নির্ধারিত সময়ের আগেই ওয়েবসাইটে দেখা যায়। পরে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ফল প্রকাশের গোপনীয়তা ও তথ্য-প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

সেচের জন্য ডিজেলচালিত পাম্পের যুগ শেষ হতে চলেছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) পরিচালিত সেচ প্রকল্পগুলোতে এখন থেকে আর নতুন করে ডিজেলচালিত পাম্প স্থাপন করা যাবে না। একই সঙ্গে চলমান ও অনুমোদিত যেসব প্রকল্পে ডিজেল পাম্পের সংস্থান রাখা হয়েছে, সেগুলো দ্রুত সংশোধন করে সেখানে সৌরচালিত সেচ পাম্প অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃষি উৎপাদনে জ্বালানি ব্যয় কমানো এবং পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সেচব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সেচ কার্যক্রমে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ ও ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে একটি নীতিগত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে জরুরি নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে বিএডিসির অধীন কোনো নতুন সেচ বা ক্ষুুদ্রসেচ প্রকল্পে ডিজেলচালিত পাম্পের সংস্থান রাখা যাবে না। এরই মধ্যে অনুমোদিত বা চলমান প্রকল্পগুলোর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) দ্রুত সংশোধন করে ডিজেল পাম্পের পরিবর্তে আধুনিক সৌরচালিত পাম্প অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সংশোধিত প্রস্তাব প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিআইসি) সভায় উপস্থাপন করতে হবে।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকরা ডিজেল সংকটের মুখে পড়েন। চাহিদামতো ডিজেল না পাওয়া এবং ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হয়। কোথাও কোথাও ধানের জমি শুকিয়ে যাওয়ায় বোরো আবাদ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে সেচের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি তেলের ব্যবহারও বেড়েছে। প্রতিবছর বোরো মৌসুমে বিপুল পরিমাণ ডিজেল আমদানি করতে হয়, যার জন্য ব্যয় হয় উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা। এতে কৃষকের উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ে। সৌরচালিত পাম্প ব্যবহার করলে কৃষকের সেচ ব্যয় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এর ইতিবাচক প্রভাব খাদ্যপণ্যের বাজারমূল্যেও পড়তে পারে।
বিএডিসি দীর্ঘদিন ধরে খাল পুনঃখনন, ভূগর্ভস্থ ও ভূ-উপরিস্থ পানির দক্ষ ব্যবহার এবং সেচ এলাকা সম্প্রসারণে কাজ করছে। সেচব্যবস্থায় সৌরপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে ডিজেল কেনা ও পরিবহনের ঝামেলা কমবে, জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড ও জ্বালানি তেলের ওপর চাপ কমবে এবং কার্বন নিঃসরণ কমে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সহায়তা করবে। তবে প্রকৌশলীরা বলছেন, সৌরচালিত পাম্প স্থাপনের প্রাথমিক ব্যয় ডিজেলচালিত পাম্পের তুলনায় বেশি। কিন্তু সৌর প্যানেলের আয়ুষ্কাল ১৫ থেকে ২০ বছর হওয়ায় তিন থেকে চার বছরের মধ্যেই এই বিনিয়োগের অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি মেঘলা আবহাওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থাপনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দক্ষ জনবল তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী (ক্ষুদ্র সেচ) মুহাম্মদ বদিউল আলম সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ডিজেলচালিত সেচ পাম্প পরিচালনায় নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আমদানিনির্ভর হওয়ায় অনেক সময় জ্বালানির সরবরাহ সংকটও তৈরি হয়। এ কারণে জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে সরকার বিকল্প ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। তিনি বলেন, সৌরশক্তিনির্ভর সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সেচ পাম্পগুলোকে সৌরচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হবে। তিনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ১০ লাখ সেচ পাম্প রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে এসব পাম্পকে সৌরশক্তিনির্ভর করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ৫১ হাজার সৌরচালিত সেচ পাম্প স্থাপনের জন্য একটি প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে।
বিএডিসির মাঠ পর্যায়ের প্রকৌশলীরা এরই মধ্যে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর তালিকা ধরে ডিজেল পাম্পের পরিবর্তে সৌর পাম্পের প্রাক্কলন ও কারিগরি স্পেসিফিকেশন তৈরির কাজ শুরু করেছেন। মাঠ পর্যায়ে পানির গভীরতা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করে দ্রুত পিআইসি সভায় সংশোধিত প্রস্তাব উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। বিএডিসির এক কর্মকর্তা বলেন, দেশের সেচ চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত সব ডিজেলচালিত পাম্পকে সৌরচালিত পাম্পে রূপান্তর করতে বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। তবে অর্থনীতিবিদ ও কৃষিবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের পরিবর্তে সৌরশক্তিনির্ভর সেচব্যবস্থায় রূপান্তর বাংলাদেশের কৃষি খাতের জন্য একটি সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে একদিকে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং পরিবেশবান্ধব আধুনিক সেচব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি হবে।

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলার ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। ওই মামলায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে থানার উপপরিদর্শক ওমর ফারুক বাদী হয়ে মামলাটি করেন। পরে অভিযান চালিয়ে ১৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার আসামিদের আদালতে হাজির করলে বিচারক তাঁদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে গ্রেপ্তারকৃত এক আসামির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে আহত করা হয়।
মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, হামলার ঘটনার পর থেকেই থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে হামলায় জড়িত ১৮ জনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
গত বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চুরি, মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, থানার হাজতে থাকা অবস্থায় রিয়াজ নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত ১১টার দিকে তাঁকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে গভীর রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এলাকায় রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে তাঁর স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এরপর বিকেলে কয়েক শ মানুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায়। এ সময় ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ ঘটনায় পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হন।
পুলিশ হামলাকারীদের চিহ্নিত করে যে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে, তাঁরা সবাই উপজেলার ফুল্লশ্রী গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ফুল্লশ্রী গ্রামের মান্নান ফকির (৬৫), তানজিলা বেগম (২৬), সিদ্দিক ফকির (৬০), ঝুমুর আক্তার (৩৬), নাছিমা বেগম (৪৫), মোসা. তাহমিনা (৫০), হাবিবুর রহমান (৪৫), গিয়াস উদ্দিন ফকির (৬২), রিফাত ফকির (১৮), মমতাজ বেগম (৬০), ময়না বেগম (৪৮), শারমিন আক্তার (২৫), রাজু হাওলাদার (১৮), মনোয়ারা বেগম (৫০), মো. সবুজ ফকির (৩২), আসমা বেগম (৩৪), নাজমা আক্তার (৪০) ও নাইম ফকির (১৮) ।
পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের নিন্দা
বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। গতকাল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামিমা পারভীন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত বুধবার আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ চুরির মামলায় বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ ফকির (২৬) নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে। রিয়াজের বিরুদ্ধে আগে থেকেই থানায় মাদকসংক্রান্ত মামলা ছিল। থানায় হাজতে থাকাকালীন মাদকাসক্ত রিয়াজ নিজের মাথায় নিজে আঘাত করে রক্তাক্ত হন। পুলিশ দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
কিন্তু পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে এলাকায় রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এই গুজবকে কেন্দ্র করে একদল লোক সংঘবদ্ধ হয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায় এবং ভাঙচুর করে। এ সময় তারা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ চালায়। গুজবনির্ভর এ ধরনের হামলা বাংলাদেশে গড়ে ওঠা নব্য ‘মব সংস্কৃতি’। এমন হামলা শুধু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকিই নয়, বরং এটা জননিরাপত্তার প্রতি মারাত্মক হুমকি।
বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন দেশের সব নাগরিকের প্রতি আহবান জানাচ্ছে যে আপনারা মিথ্যা বা গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রচলিত আইনকে শ্রদ্ধা করুন, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করুন এবং যেকোনো অভিযোগ বা অসন্তোষের ক্ষেত্রে আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ পথ অনুসরণ করুন, যার মাধ্যমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়।