• ই-পেপার

কোরআন থেকে শিক্ষা

  • পর্ব ১১৮৪

প্রশ্ন-উত্তর

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা

প্রশ্ন-উত্তর

নবজাতক শিশুর প্রাপ্ত উপহারে জাকাত আসে?

 

প্রশ্ন : মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে আমাদের ঘরে একজন নবজাতকের শুভাগমন ঘটেছে। তার আকিকা অনুষ্ঠানে আত্মীয়-স্বজনরা অনেক উপহার দিয়েছেন। কেউ কেউ সোনার জিনিসও উপহার দিয়েছেন, যা পরিমাণে জাকাতের নিসাবের কাছাকাছি। আমার প্রশ্ন হলো নবজাতক শিশুর প্রাপ্ত উপহারসামগ্রী এক বছরের বেশি গচ্ছিত বা জমা রাখা থাকলে মাতা-পিতাকে সেই সম্পদের ওপর জাকাত দিতে হবে কি? এবং সেই সম্পদের সর্বনিম্ন মূল্যমান কত হলে জাকাত দিতে হবে না?

মামুন, নোয়াখালী

 

উত্তর : ইসলামের দৃষ্টিতে নাবালকের সম্পদে জাকাত ওয়াজিব হয় না। তাই নবজাতক শিশুর প্রাপ্ত উপহারসামগ্রীর জাকাত দিতে হবে না, তা যত মূল্যবানই হোক না কেন। (রদ্দুল মুহতার : ২/২৫৮, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/১৭২)

প্যারিসের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড মসজিদের শতবর্ষ উদযাপন

আবু তাকরিম
প্যারিসের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড মসজিদের শতবর্ষ উদযাপন

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড মসজিদ অব প্যারিস শতবর্ষে পদার্পণ করেছে। ১৯২৬ সালে উদ্বোধন হওয়া এই মসজিদটি মূলত প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ফ্রান্সের হয়ে যুদ্ধ করে নিহত মুসলিম সেনাদের স্মরণে নির্মাণ করা হয়েছিল।

প্যারিসের লাতিন কোয়ার্টারে অবস্থিত এই মসজিদটি শুরুতে শুধু একটি উপাসনালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও সময়ের সঙ্গে এর গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। বর্তমানে এই ঐতিহাসিক মসজিদকে ফ্রান্স ও আলজেরিয়ার সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতীক এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, ১৯৫৭ সালে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মসজিদটির প্রশাসনিক দায়িত্ব আলজেরিয়ার কাছে হস্তান্তর করেন।

বর্তমানে এটি ফ্রান্সের অন্যতম প্রধান মসজিদ এবং ইসলামী শিক্ষা ও হালাল সনদ প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মসজিদটি কয়েকটি ইসলামবিদ্বেষী হামলার শিকার হলেও সম্প্রীতি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। উত্তর আফ্রিকান ইসলামী স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই মসজিদে নামাজকক্ষ, মাদরাসা, গ্রন্থাগার, বাগান ও সাংস্কৃতিক সুবিধা রয়েছে এবং এটি ফ্রান্সের ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃত।

সূত্র : আলজাজিরা ও উইকিপিডিয়া অবলম্বনে

 

গ্রিসে মুসলমানদের দিনকাল

ইকবাল কবীর মোহন
গ্রিসে মুসলমানদের দিনকাল

দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের অনন্য একটি দেশ গ্রিস। প্রাচীনতম সভ্যতার অংশ হিসেবে গ্রিসের রয়েছে ঐতিহাসিক ঐতিহ্য। গ্রিস ৪০০ বছর যাবৎ মুসলিম উসমানি খেলাফতের অধীন ছিল। গ্রিসের উত্তরে বুলগেরিয়া, সাবেক যুগোস্লাভিয়া প্রজাতন্ত্র, মেসিডোনিয়া ও আলবেনিয়া এবং পূর্বে তুরস্ক অবস্থিত। এর মূল ভূমির পূর্ব ও দক্ষিণে আছে এজিয়ান সাগর, আর পশ্চিমে আইওনিয়ান সাগর। এথেন্স গ্রিসের সবচেয়ে বড় শহর ও রাজধানী। এটি একটি ঐতিহাসিক শহর, যেখানে অ্যাক্রোপলিসের মতো প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন বিদ্যমান রয়েছে। গ্রিস ইউরোপের অন্যতম একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র, যেখানে আছে ঐতিহাসিক স্থান, সুন্দর সমুদ্রসৈকত এবং মনোরম দ্বীপপুঞ্জ। গ্রিসের মোট আয়তন এক লাখ ৩১ হাজার ৯৪০ বর্গকিলোমিটার। ১৯৮১ সাল থেকে দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুসারে গ্রিসের জনসংখ্যা এক কোটি তিন লাখ ৭২ হাজার। জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ খ্রিস্টান। পিউ রিসার্চের তথ্য মতে, গ্রিসের ৪.৭ শতাংশ মানুষ মুসলিম। এ হিসাব অনুযায়ী মোট পাঁচ লাখ মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী।

গ্রিসে ইসলামের আগমন ও বিকাশ

রাজনৈতিকভাবে গ্রিসে ইসলামের আগমন ঘটে মূলত উসমানীয়দের মাধ্যমে। এ সময় গ্রিসে ইসলামের ব্যাপক বিস্তার ঘটে। তবে এর বহুকাল আগে গ্রিসের মানুষ ইসলামের সঙ্গে পরিচিতি লাভ করেছিল। হিজরি প্রথম শতাব্দীতে মুসলিম বাহিনী রোডস দ্বীপ (৬৫৪ সাল) ও সাইপ্রাস (৬৫০ সাল) জয় করে। মুসলিম বাহিনীর স্পর্শে এসে এখানকার গ্রিক নাগরিকদের সঙ্গে ইসলাম ও মুসলমানদের সংযোগ ঘটে। খ্রিস্টীয় চতুর্দশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে গ্রিসের বাইজেন্টাইন অঞ্চলগুলোতে উসমানীয় শাসকদের বিজয় অভিযান শুরু হয়। উসমানীয়রা ১৩৫৪ সালে গ্যালিপোলি, ১৩৬১ সালে আন্দ্রিয়ানোপল, ১৩৮৭ সালে থেসালোনিকি অঞ্চল জয় করে। ১৪৫৩ সালে উসমানীয় বাহিনীর কাছে কনস্টান্টিনোপলের পতন ঘটে। এরপর ১৪৫৬ সালে এথেন্স ও ১৪৬০ সালে পেলোপনিসের পতন হলে গ্রিসের মূল ভূখণ্ডের ওপর উসমানীয়দের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

গ্রিসে উসমানীয়দের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পর এখানে মুসলিম প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও ধর্ম প্রচারকদের ব্যাপক অনুপ্রবেশ ঘটে। ফলে গ্রিসে ইসলামের প্রচার ও ইসলামী সংস্কৃতিচর্চার পরিবেশ তৈরি হয়। তখন বিপুলসংখ্যক মানুষ স্বেচ্ছায় ইসলামের সুশীতল ছায়ার নিচে আশ্রয় লাভ করে। অবশ্য অনেক খ্রিস্টান গ্রিস রাষ্ট্রীয় পদ-পদবি ও সুবিধা লাভের জন্য ইসলাম গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ হয়। উসমানীয় সুলতানরা প্রায় ৪০০ বছর গ্রিসে শাসনব্যবস্থা কায়েম রাখেন। এ সময় তুর্কি, আলবেনীয় ও স্থানীয় ধর্মান্তরিত গ্রিকদের সমন্বয়ে গ্রিসে একটি উল্লেখযোগ্য মুসলিম সমাজ গড়ে ওঠে। পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে গ্রিসে ইসলামের ব্যাপক প্রসার ঘটে।

গ্রিসে উসমানীয় শাসনের পতন ও মুসলিম গণহত্যা 

উসমানীয় মুসলিম শাসকরা দীর্ঘ ৪০০ বছর গ্রিস শাসন করলেও ধীরে ধীরে তাদের পতনের আলামত স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গ্রিসের উগ্র জাতীয়তাবাদী খ্রিস্টান জনগণ উসমানী শাসনের অবসানের জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে। তারা স্বাধীনতা লাভের জন্য উঠেপড়ে লেগে যায়। এরই মধ্যে ১৮১৪ সালে গ্রিসের ওডেসাতে চারজন বণিক ‘হিটারিয়া ফিলকি’ নামে গুপ্ত কমিটি গঠন করে। এ সংগঠন উসমানি খেলাফতের অবসান ঘটিয়ে প্রাচীন গ্রিক সাম্রাজ্যের মতো একটি নতুন গ্রিক সাম্রাজ্য গঠনের লক্ষ্য স্থির করে। ফলে প্রচণ্ড বিরোধ তৈরি হয়। তবে তৎকালীন উসমানি খেলাফতের উত্তরসূরি দ্বিতীয় মিসরের মুহাম্মদ আলির সৈন্যরা গ্রিক বিদ্রোহীদের কোণঠাসা করে ফেলে। এ সময় ১৮২৭ সালে রাশিয়া, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের যৌথ বাহিনী নাভারিনের নৌযুদ্ধে উসমানি নৌবাহিনীকে পরাজিত করে। ১৮২৮ সালে উসমানি বাহিনী আবারও প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তবে তারা পরাজিত হয়। ফলে ১৮৩০ সালে উসমানি খেলাফত গ্রিসের স্বাধীনতা মেনে নিতে বাধ্য হয়। স্বাধীনতা লাভের আগেও গ্রিসের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানরা একাধিকবার গণহত্যার শিকার হয়। কথিত আছে, বিপ্লবীরা পেলোপনিস, অ্যাটিকা, মধ্য গ্রিস প্রভৃতি অঞ্চলে মুসলিম বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ব্যাপক গণহত্যা পরিচালিত করে। এ সময় বিপ্লবীরা মুসলমানদের দেশত্যাগে বাধ্য করে। গ্রিসে মুসলিম গণহত্যার মধ্যে ১৮২১ সালে পেগাসাস উপদ্বীপের ত্রিপোলিৎসায় সংঘটিত গণহত্যা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

মুসলমানরা তখন গ্রিসে অতি অসহায় অবস্থার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করতে থাকে। গ্রিসে উসমানীয় শাসনের অবসান হলেও গ্রিসের উগ্র জাতীয়তাবাদী খ্রিস্টানরা মুসলমানদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞের স্টিমরোলার অব্যাহত রাখে। ফলে ১৯৪৪ ও ১৯৪৫ সালের মধ্যভাগে মুসলমানরা আবারও বড় আকারের হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে গ্রিসের চামেরিয়া অঞ্চলে বসবাসরত আলবেনীয় মুসলিম (চ্যাম) জনগোষ্ঠীর ওপর গ্রিক জাতীয়তাবাদী দলগুলো গণহত্যা ও জাতিগত নিধন চালায়। এ সময় ১৪ থেকে ৩৫ হাজার মুসলিমকে তাদের ভিটামাটি থেকে জোরপূর্বক আলবেনিয়ায় বিতাড়িত করা হয় এবং বহু নারী-পুরুষ ও শিশুকে হত্যা করা হয়।

গ্রিসে নতুন সূর্যের আলো

১৯২৩ সালে লোজান চুক্তির আওতায় গ্রিস ও তুরস্কের মধ্যে জনসংখ্যা বিনিময় হয়। ফলে গ্রিস থেকে বেশির ভাগ মুসলিম তুরস্কে পাড়ি জমায়। ১৯৫০-এর দশকের গোড়ার দিকে মিসর থেকে মুসলিম অভিবাসীরা গ্রিসে পাড়ি জমায়। তারা দেশটির দুটি শহর এথেন্স ও থেসালোনিকিতে কেন্দ্রীভূত ছিল। ১৯৯০ সাল থেকে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ, সোমালিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো থেকে অভিবাসী মুসলিমরা ব্যাপক হারে গ্রিসে প্রবেশ করে। ফলে গ্রিসে মুসলিম জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।

দেনমোহর আল্লাহ প্রদত্ত এক অপরিহার্য অধিকার

মুফতি দিদার হুসাইন
দেনমোহর আল্লাহ প্রদত্ত এক অপরিহার্য অধিকার

বিয়ে ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত এবং একটি পবিত্র চুক্তি। এই চুক্তির অপরিহার্য অনুষঙ্গ হলো দেনমোহর। কিন্তু আজ অনেকের কাছে দেনমোহর যেন শুধু বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা বা সামাজিক মর্যাদা প্রদর্শনের একটি মাধ্যম। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে দেনমোহর কোনো সামাজিক প্রথা নয়; বরং এটি আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত স্ত্রীর অবিচ্ছেদ্য আর্থিক অধিকার এবং স্বামীর ওপর আরোপিত একটি অপরিহার্য দায়িত্ব।

দুঃখজনকভাবে বর্তমানে একদিকে অস্বাভাবিক অঙ্কের দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়, অথচ তা পরিশোধের বাস্তব উদ্যোগ থাকে না; অন্যদিকে বিয়ের পর স্ত্রীকে নানাভাবে চাপ দিয়ে দেনমোহর মাফ করিয়ে নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়। উভয়টিই কোরআন-সুন্নাহর শিক্ষার পরিপন্থী।

দেনমোহরের প্রকৃত অর্থ ও উদ্দেশ্য

আরবি ‘মাহর’ বা ‘সাদুকাত’ বলতে সেই নির্ধারিত সম্পদকে বোঝায়, যা বিয়ের মাধ্যমে স্বামীর ওপর স্ত্রীর প্রাপ্য হয়ে যায়। এটি কোনো মূল্য বা সামাজিক প্রথা নয়; বরং স্ত্রীর সম্মান, ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও আর্থিক নিরাপত্তার প্রতীক। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা নারীদের তাদের মহর সন্তুষ্টচিত্তে প্রদান করো।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৪)

অন্যত্র বলেন, ‘তোমরা তাদের নির্ধারিত মহর অবশ্যই প্রদান করবে।’

(সুরা : নিসা, আয়াত : ২৪)

এ দুটি আয়াত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, দেনমোহর কোনো দয়া বা উপহার নয়; এটি আল্লাহ প্রদত্ত ফরজ অধিকার।

দেনমোহর পরিশোধ করা স্বামীর অপরিহার্য দায়িত্ব

দেনমোহর নির্ধারণ করেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বরং যথাসময়ে তা পরিশোধ করাও ওয়াজিব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সামর্থ্যবান ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে বিলম্ব করা জুলুম।’

(মুসলিম, হাদিস : ১৫৬৪)

অতিরিক্ত দেনমোহর নির্ধারণের কুফল

বর্তমানে অনেক পরিবার অস্বাভাবিক পরিমাণ দেনমোহর নির্ধারণকেই সামাজিক মর্যাদা ও সম্মানের প্রতীক মনে করে। অথচ বাস্তবে তা পরিশোধের ইচ্ছা বা সামর্থ্য থাকে না। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন, ‘নারীদের দেনমোহর বাড়াবাড়ি করে নির্ধারণ কোরো না। যদি এতে বিশেষ মর্যাদা থাকত, তবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-ই এ বিষয়ে সবার অগ্রগামী হতেন। অথচ তিনি তাঁর স্ত্রী ও কন্যাদের কারো দেনমোহর বারো উকিয়া (প্রায় ১,৪২৮ গ্রাম রুপা)-এর বেশি নির্ধারণ করেননি।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১১১৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরো বলেছেন, ‘সবচেয়ে বরকতময় বিয়ে হলো যে বিয়ের ব্যয় ও দায়ভার সবচেয়ে সহজ।’

(মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৪৫২৯)

অতএব, দেনমোহর এমন হওয়া উচিত যা সম্মানজনক, বাস্তবসম্মত ও সহজে পরিশোধযোগ্য।

স্ত্রীকে দেনমোহর মাফ করতে বাধ্য করা অনৈতিক

দেনমোহর সম্পূর্ণভাবে স্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পদ। এতে স্বামী বা অন্য কারো মালিকানা নেই। বিয়ের পর আবেগ, পারিবারিক চাপ বা ভয় দেখিয়ে অথবা মৃতশয্যায় স্ত্রী থেকে দেনমোহর মাফ করিয়ে নেওয়া ইসলামের শিক্ষা নয়। কোরআন স্পষ্ট করেছে, স্ত্রীর স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ছাড়া দেনমোহরের কোনো অংশ গ্রহণ বৈধ নয়। ফকিহরাও একমত যে জবরদস্তি, সামাজিক চাপ বা প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া মাফ গ্রহণযোগ্য নয়। যদি স্ত্রী কোনো কারণে বাধ্য হয়ে মৌখিকভাবে মাফ করেও দেয় তার পরও তা তার হক হিসাবে বহাল থাকবে।

এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেনমোহরের কোনো অংশ তোমাদের ছেড়ে দেয়, তবে তা সানন্দে ভোগ করো।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৪)

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিররা উল্লেখ করেছেন, স্ত্রীর পূর্ণ সন্তুষ্টি ও স্বাধীন সম্মতি ছাড়া স্বামীর জন্য দেনমোহরের কোনো অংশ গ্রহণ করা বৈধ নয়। (আহকামুল কুরআন ২/৭৩; তাফসিরে ইবনে কাসির : ২/১৯৪)

আর তা না দিয়ে যদি মানুষ মারা যায়, এটা তার জন্য পরকালীন শাস্তির কারণ হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দেনমোহর আদায়ের ইচ্ছা ছাড়া কোনো নারীকে বিয়ে করে এবং তা পরিশোধ না করেই মারা যায়, কিয়ামতের দিন সে আল্লাহর সামনে অপরাধী হিসেবে উপস্থিত হবে।

(আল-মু’জামুল আওসাত, হাদিস : ১৮৫১)

মহান আল্লাহ সবাইকে দেনমোহর আদায়ের ব্যাপারে যত্নবান হওয়ার তাওফিক দান করুন।