• ই-পেপার

কোরআন থেকে শিক্ষা

  • পর্ব-১১৭৮

মানবদেহের প্রতিটি হাড় স্রষ্টার মহা নিদর্শন

উম্মে আহমাদ ফারজানা
মানবদেহের প্রতিটি হাড় স্রষ্টার মহা নিদর্শন

মানবদেহের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই মহান আল্লাহর অসীম কুদরতের অনন্য নিদর্শন। কিন্তু আমরা সচরাচর এমন এক অমূল্য নিয়ামতের কথা খুব কমই ভাবি, যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে আমাদের পুরো শরীরের কাঠামোতা হলো হার বা হাড্ডি। এটি শুধু শরীরের একটি অংশ নয়; বরং মানবজীবনের চলাফেরা, ভারসাম্য, শক্তি, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সুরক্ষা এবং দৈহিক সৌন্দর্যের অন্যতম ভিত্তি। মানুষ যতই আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উন্নতি করুক না কেন, একটি জীবন্ত হাড় সৃষ্টি করার ক্ষমতা তার নেই। এ কারণেই পবিত্র কোরআন মানুষকে বারবার নিজের সৃষ্টির দিকে তাকাতে, চিন্তা করতে এবং স্রষ্টার মহিমা উপলব্ধি করতে আহবান জানিয়েছে।

কোরআনের আলোচনায় মানুষের হাড় শুধু একটি শারীরিক অঙ্গ নয়; বরং তা সৃষ্টি, পুনরুত্থান এবং আল্লাহর সীমাহীন ক্ষমতার জ্বলন্ত প্রমাণ। যে ব্যক্তি নিজের হাড়ের দিকে গভীরভাবে তাকায়, সে সহজেই উপলব্ধি করতে পারেএমন নিখুঁত পরিকল্পনা ও সুসমন্বিত কাঠামো কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়; বরং সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান আল্লাহর অনুপম সৃষ্টি। মহান আল্লাহ মানুষের সৃষ্টির বিভিন্ন ধাপ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, অতঃপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তে পরিণত করলাম, তারপর সেই জমাট রক্তকে মাংসপিণ্ডে পরিণত করলাম, এরপর সেই মাংসপিণ্ড থেকে হাড় সৃষ্টি করলাম, অতঃপর সেই হাড়কে মাংস দ্বারা আবৃত করলাম। তারপর তাকে অন্য এক সৃষ্টিরূপে গড়ে তুললাম। অতএব কতই না বরকতময় আল্লাহ, সর্বোত্তম সৃষ্টিকর্তা।

(সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ১৪)

এই আয়াতে মানবভ্রূণের বিকাশের যে ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়েছে, তা আল্লাহর সৃষ্টিকৌশলের বিস্ময়কর নিদর্শন। মানুষের শরীরে শত শত হাড় এমনভাবে বিন্যস্ত যে এগুলো ছাড়া দাঁড়ানো, হাঁটা, দৌড়ানো কিংবা সামান্য নড়াচড়াও সম্ভব হতো না। অবিশ্বাসীরা একসময় প্রশ্ন তুলেছিলমৃত্যুর পর মানুষের পচে-গলে যাওয়া হাড় আবার কিভাবে জীবিত হবে? তাদের এই সংশয়ের জবাবে আল্লাহ তাআলা বলেন, সে আমার সম্পর্কে উপমা বর্ণনা করে, অথচ সে নিজের সৃষ্টি ভুলে গেছে। সে বলে, কে জীবিত করবে এই হাড়গুলোকে, যখন তা পচে যাবে? বলুন, যিনি প্রথমবার এগুলো সৃষ্টি করেছেন, তিনিই এগুলোকে পুনরায় জীবিত করবেন। তিনি প্রত্যেক সৃষ্টি সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।

(সুরা : ইয়াসিন, আয়াত : ৭৮-৭৯)

এ আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয়, প্রথমবার যিনি মানুষকে অস্তিত্ব দান করেছেন, তাঁর জন্য পুনরায় সৃষ্টি করা কোনো কঠিন বিষয় নয়। তাই হাড়ের পুনরুত্থান অস্বীকার করা মূলত আল্লাহর অসীম ক্ষমতাকে অস্বীকার করার শামিল। আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, মানুষ কি মনে করে, আমি তার হাড়গুলো একত্র করব না? অবশ্যই করব। বরং আমি তার আঙুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত যথাযথভাবে পুনর্গঠন করতে সক্ষম।

(সুরা : কিয়ামাহ, আয়াত : ৩-৪)

এখানে আঙুলের অগ্রভাগের উল্লেখ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিটি মানুষের আঙুলের ছাপ যেমন স্বতন্ত্র, তেমনি আল্লাহ মানুষের প্রতিটি অঙ্গের সূক্ষ্মতম বৈশিষ্ট্য সম্পর্কেও পূর্ণ জ্ঞান রাখেন। কিয়ামতের দিন তিনি মানুষকে সম্পূর্ণ অবিকল অবস্থায় পুনরুত্থিত করবেন।

কোরআনে আরেকটি হৃদয়স্পর্শী ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহর এক বান্দা দীর্ঘ সময় মৃত্যুর মতো অবস্থায় থাকার পর পুনর্জীবিত হলে তাঁকে একটি গাধার হাড় দেখিয়ে আল্লাহ বলেন, তুমি হাড়গুলোর দিকে তাকাওআমি কিভাবে সেগুলো জোড়া লাগাই, তারপর সেগুলোকে মাংস দ্বারা আবৃত করি।

(সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৫৯)

এ দৃশ্যের মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে বিচ্ছিন্ন ও ক্ষয়প্রাপ্ত হাড়কে পুনরায় পূর্ণাঙ্গ দেহে পরিণত করা তাঁর জন্য অত্যন্ত সহজ।

মানবদেহের হাড়ের গঠন যতই গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়, ততই স্পষ্ট হয় সৃষ্টিকর্তার প্রজ্ঞা। কোথাও শক্ত কাঠামো, কোথাও নমনীয় সংযোগ, কোথাও মজ্জা উৎপাদনের ব্যবস্থা, আবার কোথাও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রক্ষার জন্য বিশেষ আকৃতির হাড়সব কিছু এক অসাধারণ পরিকল্পনার পরিচয় বহন করে। মাথার খুলি মস্তিষ্ককে রক্ষা করে, পাঁজরের হাড় হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসকে নিরাপত্তা দেয়, মেরুদণ্ড পুরো শরীরের ভার বহন করে এবং হাত-পায়ের হাড় মানুষকে চলাফেরা ও কর্মক্ষমতা দান করে। এ সবই আল্লাহর অসীম হিকমত ও কুদরতের বহিঃপ্রকাশ।

 

অতিবৃষ্টির সময় মুমিনের করণীয়

মাইমুনা আক্তার
অতিবৃষ্টির সময় মুমিনের করণীয়

বৃষ্টি মহান আল্লাহর অন্যতম বড় নিয়ামত। এর মাধ্যমে মৃত ভূমি জীবিত হয়, ফসল উৎপন্ন হয় এবং মানুষ ও প্রাণিকুল জীবনধারণের উপকরণ পায়। মহান আল্লাহর এই বিশেষ নিয়ামতের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, আকাশ থেকে আমি বর্ষণ করি কল্যাণকর বৃষ্টি এবং তা দ্বারা আমি সৃষ্টি করি উদ্যান ও উদগত করি শস্য। (সুরা : কাফ, আয়াত : ৯)

তবে কখনো কখনো এই রহমতের বৃষ্টিই অতিবৃষ্টিতে রূপ নেয়, এমনকি বন্যা বা জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের জন্য কষ্ট ও পরীক্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ রকম পরিস্থিতিতে একজন মুমিনের করণীয় কী, সে বিষয়ে আলোকপাত করব, ইনশাআল্লাহ।

ধৈর্য ধারণ করা :  অতিবৃষ্টিকে আল্লাহর পরীক্ষা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৫৫)

অতএব অতিবৃষ্টিতে কোনো মুমিনের ঘরবাড়ি, ফসল বা সম্পদের ক্ষতি হলে তার করণীয় হলো, ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর কাছে উত্তম প্রতিদানের আশা রাখা। কেননা মুমিনের কোনো অবস্থাই প্রকৃতপক্ষে তাকে লোকসানে ফেলতে পারে না। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুমিনের অবস্থা ভারি অদ্ভুত। তার সমস্ত কাজই তার জন্য কল্যাণকর। মুমিন ছাড়া অন্য কারো জন্য এ কল্যাণ লাভের ব্যবস্থা নেই। তারা আনন্দ (সুখশান্তি) লাভ করলে শুকরিয়া জ্ঞাপন করে, তা তার জন্য কল্যাণকর হয়, আর দুঃখকষ্টে আক্রান্ত হলে ধৈর্যধারণ করে, এও তার জন্য কল্যাণকর হয়। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২২৮৪৮)

দোয়া করা : বৃষ্টি শুরু হলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়া পড়া সুন্নত। তিনি বৃষ্টি নেমে এলে বলতেন, আল্লাহুম্মা সইয়্যিবান নাফিআ অর্থ: হে আল্লাহ! মুষধারায় কল্যাণকর বৃষ্টি দাও। (বুখারি, হাদিস : ১০৩২)

আর যদি অতিবৃষ্টির কারণে মানুষের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিত, তখন তিনি এই দোয়া করতেন, আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়া লা আলাইনা, আল্লাহুম্মা আলাল আকামি ওয়াজ জিরাবি, ওয়া বুত্বনিল আউদিয়াতি ওয়া মানাবিতিশ শাজার। অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদের আশপাশে, আমাদের ওপর নয়। হে আল্লাহ! টিলা, মালভূমি, উপত্যকায় এবং বনভূমিতে বর্ষণ করুন।

(বুখারি, হাদিস : ১০১৪)

মানুষের পাশে দাঁড়ানো : বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মুমিনের অন্যতম দায়িত্ব। অতিবৃষ্টিতে অনেক মানুষ খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিৎসা সংকটে পড়ে। এ সময় সাধ্যমতো প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। এটিও মহান আল্লাহর রহমত ও সাহায্যপ্রাপ্তির একটি মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে, আল্লাহও ততক্ষণ তার বান্দার সাহায্য করেন।

(আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৪৬)

সংকট নিরসনে স্বেচ্ছাসেবক হওয়া : যাদের মহান আল্লাহ সুস্থতা ও শক্তি-সামর্থ্য দিয়েছেন, বিশেষ করে যুবসমাজ, তাদের উচিত জনসাধারণের দুর্ভোগ কমাতে স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ। প্রয়োজনে নিজেদের উদ্যোগে রাস্তায় পড়ে থাকা গাছ সরানো, ড্রেন পরিষ্কার করা, জলাবদ্ধতা নিরসনে সহযোগিতা করা কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে মানুষকে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া। মানুষের কষ্ট লাঘবে আত্মনিয়োগ করা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে সহায়ক হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, আমি এক ব্যক্তিকে জান্নাতে ঘোরাফেরা করতে দেখলাম। যে (পৃথিবীতে) রাস্তার মধ্য থেকে একটি গাছ কেটে সরিয়ে দিয়েছিল, যেটি মুসলিমদের কষ্ট দিচ্ছিল। (সহিহুল জামে)

গুজব থেকে দূরে থাকা : দুর্যোগের সময় গুজব থেকে বিরত থাকা। দুর্যোগের সময় অনেকে আতঙ্ক ছড়িয়ে মানুষকে আরো বিপদে ফেলার চেষ্টা করে, কেউ রাজনৈতিক ফায়দা নেয়, কেউ আবার সামাজিক মাধ্যমে ভিউ ব্যবসা করে। অথচ মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করা জঘন্য অপরাধ। যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের খবর বিশ্বাস করা ও প্রচার করাও নিষেধ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, হে ঈমানদাররা! যদি কোনো পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের নিকট কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা ভালোভাবে যাচাই করে দেখবে, যেন তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে না বসো। ফলে নিজেদের কৃতকর্মের কারণে তোমাদের অনুতপ্ত হতে হয়। (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ৬)

অতিবৃষ্টি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃত ক্ষমতার মালিক একমাত্র আল্লাহ। তাই দুর্যোগের সময় বেশি বেশি তাওবা, ইস্তিগফার, দোয়া, আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল ও মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করা একজন মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ সবাইকে এই কাজগুলো করার তাওফিক দিন।

বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইবাদত

মুফতি মুহাম্মদ আনিসুর রহমান রিজভি
বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইবাদত

প্রকৃতি মহান আল্লাহ তাআলার অসীম কুদরতের এক অনন্য নিদর্শন। কখনো নির্মল আকাশ, স্নিগ্ধ বৃষ্টি ও সবুজ শ্যামল প্রকৃতি মানুষের জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধির বার্তা নিয়ে আসে; আবার কখনো অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও ভয়াবহ বন্যা মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে। মুহূর্তের মধ্যেই জনপদ পরিণত হয় জলরাশিতে, ভেঙে যায় ঘরবাড়ি, তলিয়ে যায় ফসলের ক্ষেত, ধ্বংস হয় জীবিকার অবলম্বন এবং লাখ লাখ মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়। ক্ষুধা, তৃষ্ণা, রোগব্যাধি ও অনিশ্চয়তার অন্ধকারে তাদের প্রতিটি দিন হয়ে ওঠে এক কঠিন সংগ্রাম।

এমন সময়ে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক সহানুভূতির বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং এটি একজন মুমিনের ঈমানের দাবি।

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, তোমরা নেককাজ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো; পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা কোরো না।

(সুরা : মায়েদা, আয়াত : ২)

এই আয়াত ইসলামী সমাজব্যবস্থার একটি মৌলিক নীতি ঘোষণা করেছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাদ্য, আশ্রয়, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসা নিঃসন্দেহে সৎকাজের অন্তর্ভুক্ত। তাই বন্যাকবলিত মানুষের সাহায্যে অংশগ্রহণ করা শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়; এটি আল্লাহর নির্দেশ পালনও বটে।

 কোরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা সাহাবায়ে কেরামের আত্মত্যাগের প্রশংসা করে বলেন, তারা নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও অন্যদেরকে নিজেদের ওপর অগ্রাধিকার দেয়।

(সুরা : হাশর, আয়াত : ৯)

এই মহান চরিত্রই একজন প্রকৃত মুসলমানের পরিচয়। নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের কিছু অংশ ত্যাগ করে বন্যার্ত মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া, তাদের জন্য বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করাএই আয়াতেরই বাস্তব প্রতিফলন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) মানবসেবার মর্যাদা বর্ণনা করে বলেন, যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে নিয়োজিত থাকে, আল্লাহ তাআলা তার প্রয়োজন পূরণ করেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৪৪২; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৮০)

আল্লাহর সাহায্য লাভের অন্যতম উপায় হলো মানুষের উপকার করা। তাই বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানে আল্লাহর রহমত ও সাহায্য লাভের পথ সুগম করা। অন্য একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহমর্মিতায় মুমিনরা একটি দেহের ন্যায়। দেহের একটি অঙ্গ ব্যথিত হলে সমগ্র দেহ জেগে থাকে এবং কষ্ট অনুভব করে।

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০১১)

এই হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয়, দেশের এক প্রান্তে মানুষ যখন বন্যায় অসহায়, তখন অন্য প্রান্তের মুসলমান নিশ্চিন্ত থাকতে পারে না। তাদের কষ্ট অনুভব করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করা ঈমানেরই দাবি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরো ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের একটি দুনিয়াবি কষ্ট দূর করবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার একটি কষ্ট দূর করবেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৯৯)

অতএব ক্ষুধার্তকে খাদ্য দেওয়া, তৃষ্ণার্তকে পানি পান করানো, গৃহহীনকে আশ্রয় দেওয়া, অসুস্থের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং অসহায় শিশুর মুখে হাসি ফোটানোএসব কাজ শুধু মানবিকতা নয়; বরং আখিরাতের মুক্তিরও পাথেয়।

আজ আমাদের সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠন, মসজিদ-মাদরাসা, তরুণসমাজ এবং প্রতিটি সচেতন নাগরিকের উচিত বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। সাহায্য শুধু অর্থ দিয়েই নয়; শ্রম, সময়, দক্ষতা, চিকিৎসাসেবা, উদ্ধারকাজ, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা কিংবা আন্তরিক দোয়ার মাধ্যমেও হতে পারে। ইসলামে সামর্থ্যানুযায়ী সহযোগিতাই প্রকৃত দায়িত্ব।

তবে ত্রাণ বিতরণে অবশ্যই ইখলাস, সততা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। লোক-দেখানো, প্রচারের উদ্দেশ্যে দান করা কিংবা অসহায় মানুষের আত্মসম্মান ক্ষুণ্ন করা ইসলামের শিক্ষা নয়। আল্লাহ তাআলা একনিষ্ঠতার সঙ্গে তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই সব আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন।

পরিশেষে বলা যায়, বন্যা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা, আর এই পরীক্ষায় বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের ঈমান, মানবতা ও নৈতিকতার পরীক্ষা। আসুন, বিপদগ্রস্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে যার যা সামর্থ্য আছে তা নিয়ে এগিয়ে আসি। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে অসহায় মানুষের প্রকৃত খেদমত করার তাওফিক দান করুন, আমাদের দান-সদকা কবুল করুন এবং দেশ ও জাতিকে সব ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

 

লেখক : প্রভাষক (আরবি) মাদরাসা-এ তৈয়্যবিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া ফাযিল (ডিগ্রি), বন্দর, চট্টগ্রাম

হালাল উপার্জন ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও সামাজিক দায়িত্ব

সাইয়িদ মুনিব মুর্শিদ
হালাল উপার্জন ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও সামাজিক দায়িত্ব

ইসলামী অর্থনীতির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি জীবিকাকে শুধু ব্যক্তিগত প্রয়োজনের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে না; বরং সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবেও দেখে। এ কারণেই কোরআন বৈধ উপার্জনের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি মানুষের সম্পদের মধ্যে অন্যের অধিকারও নির্ধারণ করে দিয়েছে। অর্থাৎ একজন মানুষ তাঁর শ্রম, মেধা ও উদ্যোগের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করবেনএটি যেমন তাঁর অধিকার, তেমনি সেই সম্পদের ব্যবহারে ন্যায়, ভারসাম্য ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও তাঁর দায়িত্ব।

অর্থনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, শ্রমকে সম্পদ সৃষ্টির প্রধান ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন বহু চিন্তাবিদ। স্কটিশ অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ ‘The Wealth of Nations’-এর সূচনাতেই লিখেছেন, ‘The annual labour of every nation is the fund which originally supplies it with all the necessaries and conveniences of life which it annually consumes.’

অর্থাৎ একটি জাতির মানুষের বার্ষিক শ্রমই তাদের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের মূল উৎস। আধুনিক অর্থনীতির বিকাশে এই পর্যবেক্ষণ গভীর প্রভাব ফেলেছে। তবে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি এখানে আরো একটি মৌলিক মাত্রা যোগ করে। ইসলাম শ্রমকে শুধু উৎপাদনের উপায় হিসেবে মূল্যায়ন করে না; শ্রমের নৈতিকতাকেও সমান গুরুত্ব দেয়। কারণ অন্যায় উপায়ে অর্জিত বিপুল সম্পদের চেয়ে সৎ পরিশ্রমে অর্জিত সামান্য উপার্জনও ইসলামের দৃষ্টিতে অধিক মর্যাদাপূর্ণ। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ (সা.) ব্যবসায়ীদের শুধু লাভের পথ দেখাননি; শিখিয়েছেন সততার পথও। তিনি ঘোষণা করেছেন, সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবী, সিদ্দিক ও শহীদদের সঙ্গী হবে। (জামে তিরমিজি)

ব্যবসা সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার জন্য এই হাদিসটির গুরুত্ব অপরিসীম। এখানে ব্যবসাকে শুধু বৈধ জীবিকার মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি; বরং সততার সঙ্গে পরিচালিত ব্যবসাকে এমন এক নৈতিক মর্যাদায় উন্নীত করা হয়েছে, যা মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ইবাদতের চেতনার সঙ্গে যুক্ত করে। অর্থ উপার্জনের লক্ষ্য তখন শুধু মুনাফা থাকে না; এর সঙ্গে যুক্ত হয় আমানতদারি, জবাবদিহি এবং আল্লাহভীতি।

ইসলামের ইতিহাসে বাজার ছিল শুধু কেনাবেচার স্থান নয়; ছিল সামাজিক আস্থারও প্রতীক। ক্রেতা ও বিক্রেতার পারস্পরিক সম্পর্ক টিকে থাকত বিশ্বাসের ওপর। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ (সা.) বাজারে প্রতারণা, মজুদদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, পণ্যের ত্রুটি গোপন করা কিংবা ওজনে কম দেওয়ার মতো আচরণের কঠোর নিন্দা করেছেন। কারণ বাজারে একবার বিশ্বাসের সংকট তৈরি হলে ক্ষতি শুধু একজন ক্রেতা বা একজন বিক্রেতার হয় না; তার অভিঘাত পুরো অর্থনৈতিক পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। আজকের বিশ্বের বহু আর্থিক সংকটও শেষ পর্যন্ত এই আস্থাহীনতার দিকেই আমাদের দৃষ্টি ফেরায়।

মুসলিম মনীষীদের অর্থনৈতিক চিন্তায়ও এই নৈতিকতার প্রশ্নটি বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছে। হানাফি ফকিহ ইমাম আবু ইউসুফ তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ কিতাবুল খারাজ-এ রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক দায়িত্ব আলোচনা করতে গিয়ে ন্যায়ভিত্তিক রাজস্বনীতি, কর আদায়ে সংযম এবং জনগণের সম্পদের সুরক্ষাকে সুশাসনের অপরিহার্য শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দৃষ্টিতে রাষ্ট্রের শক্তি কর বৃদ্ধিতে নয়; বরং এমন পরিবেশ নিশ্চিত করার মধ্যে, যেখানে মানুষ নিরাপদে শ্রম দেবে, ব্যবসা করবে এবং উৎপাদনে উৎসাহিত হবে। এ কারণেই কিতাবুল খারাজ ইসলামী রাজস্বনীতি ও জন-অর্থব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসেবে আজও সমাদৃত।

একই ধারার চিন্তাকে আরো বিস্তৃত রূপ দিয়েছেন ইতিহাসবিদ ইবন খালদুন। তাঁর অমর গ্রন্থ মুকাদ্দিমায় শ্রম, উৎপাদন, রাষ্ট্র এবং সভ্যতার পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি দেখিয়েছেন, মানুষের শ্রমই সম্পদের প্রকৃত ভিত্তি। কিন্তু সেই শ্রম তখনই ফলপ্রসূ হয়, যখন মানুষ তার শ্রমফল ভোগের নিরাপত্তা অনুভব করে। অন্যায় করনীতি, জুলুম কিংবা সম্পদের অনিরাপত্তা মানুষের কর্মস্পৃহা নষ্ট করে, উৎপাদন কমিয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকেও দুর্বল করে ফেলে। কয়েক শতাব্দী আগে উপস্থাপিত এই বিশ্লেষণ আজও অর্থনৈতিক গবেষণায় বিস্ময়করভাবে প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হয়।

এখানেই ইসলামী অর্থনীতির স্বাতন্ত্র্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ইসলাম মানুষকে সম্পদ অর্জনের আহবান জানায়, কিন্তু সম্পদের জন্য বিবেক বিসর্জনের অনুমতি দেয় না। ব্যবসাকে সম্মানজনক পেশা হিসেবে মর্যাদা দেয়, কিন্তু প্রতারণাকে কখনো ব্যাবসায়িক কৌশল হিসেবে মেনে নেয় না। শ্রমকে সম্মানিত করে, তবে শ্রমিকের অধিকার উপেক্ষা করে অর্জিত মুনাফাকে বৈধ বলে না। অর্থনৈতিক সাফল্য ইসলামের কাছে কাম্য, কিন্তু সেই সাফল্যের ভিত্তি হতে হবে ন্যায়, সততা ও মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত।

আজকের বিশ্বে দক্ষতা, প্রতিযোগিতা এবং উৎপাদনশীলতার গুরুত্ব নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু এই বাস্তবতার পাশাপাশি আরেকটি সত্যও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণঅর্থনীতির প্রকৃত শক্তি শুধু পুঁজি বা প্রযুক্তিতে নয়; মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাসে। যখন বাজারে আস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন শক্তিশালী আইনও অনেক সময় অর্থনৈতিক সম্পর্ককে স্বাভাবিক রাখতে পারে না। অথচ যেখানে সততা সামাজিক মূল্যবোধে পরিণত হয়, সেখানে বাজারও স্বাভাবিকভাবে স্থিতিশীলতা লাভ করে। ইসলামী অর্থনীতি তাই মানুষের হাতে সম্পদ তুলে দেওয়ার পাশাপাশি সেই হাতকে বিশ্বস্ত, ন্যায়পরায়ণ ও জবাবদিহিমূলক করে গড়ে তুলতে চায়। এখানেই হালাল উপার্জনের প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত।

ইসলামী অর্থনীতির আলোচনা অনেক সময় সুদ কিংবা জাকাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। অথচ একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রকৃত প্রাণ নিহিত থাকে তার উপার্জন-সংস্কৃতিতে। মানুষ কিভাবে সম্পদ অর্জন করছে, লেনদেনে কতটা বিশ্বস্ত, প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কতটা আন্তরিকএসবের ওপরই শেষ পর্যন্ত একটি অর্থনীতির স্থায়িত্ব নির্ভর করে। যে সমাজে প্রতারণা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় হিসেবে প্রশংসিত হয়, সেখানে আইন আরো কঠোর করা যায়; কিন্তু মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা সহজ নয়। বিপরীতে যে সমাজে সততা সামাজিক মর্যাদায় পরিণত হয়, সেখানে অর্থনৈতিক সম্পর্কও স্বাভাবিকভাবেই দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়ায়। এই নৈতিক ভিত্তিকেই আরো সুস্পষ্ট করেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। তিনি বলেছেন, যে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। (সহিহ মুসলিম)

হাদিসটি সংক্ষিপ্ত, কিন্তু এর তাৎপর্য সুদূরপ্রসারী। এখানে প্রতারণাকে শুধু একটি ব্যাবসায়িক অনিয়ম হিসেবে দেখা হয়নি; বরং মুসলিম সমাজের নৈতিক পরিচয়ের পরিপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ একজন মুসলমানের ব্যাবসায়িক পরিচয় তাঁর ঈমানি পরিচয় থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। তাই ইসলাম ব্যবসাকে ইবাদতের মর্যাদা দিয়েছে, কিন্তু অসততাকে কখনো ব্যাবসায়িক দক্ষতা বা কৌশল হিসেবে বৈধতা দেয়নি।

হালাল উপার্জনের ধারণা শুধু একটি ধর্মীয় বিধান নয়; এটি একটি সুস্থ অর্থনৈতিক সভ্যতার ভিত্তি। এই দর্শন মানুষকে সম্পদ অর্জনে নিরুৎসাহ করে না; বরং সম্পদকে নৈতিকতার আলোয় পরিচালিত করতে শেখায়। ইসলাম চায় মানুষ স্বাবলম্বী হোক, উদ্যোগী হোক, ব্যবসায় সফল হোক, সম্পদশালী হোক; কিন্তু সেই সফলতার ভিত গড়ে উঠুক সৎ শ্রম, বৈধ ব্যবসা, আমানতদারিতা এবং মানুষের অধিকারের প্রতি অবিচল শ্রদ্ধার ওপর।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের সূচক সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়, নীতিমালা বদলে যায়, বাজারের কাঠামোও রূপান্তরিত হয়। কিন্তু একটি সত্য কখনো পুরনো হয় না, অন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত সমৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ব্যক্তি, সমাজ কিংবা রাষ্ট্রসবার ক্ষেত্রেই টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভিত্তি নির্মিত হয় বৈধ উপার্জন, ন্যায়ভিত্তিক লেনদেন এবং পারস্পরিক আস্থার ওপর।

এ কারণেই ইসলামী অর্থনীতি সম্পদের হিসাব শেখানোর আগে সম্পদ অর্জনের নৈতিকতা শেখায়। কারণ উপার্জনের পথ নির্মল হলে সম্পদ কল্যাণ বয়ে আনে, সমাজে আস্থা সৃষ্টি করে এবং রাষ্ট্রের ভিতকে শক্তিশালী করে। আর সেই পথ কলুষিত হলে প্রাচুর্যও অনেক সময় আশীর্বাদের পরিবর্তে অস্থিরতা, বৈষম্য ও অবিশ্বাসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ব্যক্তি ও সমাজউভয়ের কল্যাণের জন্য তাই হালাল উপার্জন শুধু একটি ধর্মীয় নির্দেশনা নয়; এটি ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক জীবনের অপরিহার্য ভিত্তি।