• ই-পেপার

ইসলামের দৃষ্টিতে দায়িত্ববোধের গুরুত্ব

কোরআন থেকে শিক্ষা

পর্ব ১১৫০

কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ

‘এটা এ জন্য যে তোমরা আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে বিদ্রুপ করেছিলে এবং পার্থিব জীবন তোমাদের প্রতারিত করেছিল। সুতরাং সেদিন তাদের জাহান্নাম থেকে বের করা হবে না এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি আকাশমণ্ডলীর প্রতিপালক, পৃথিবীর প্রতিপালক ও জগত্গুলোর প্রতিপালক। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে গৌরব-গরিমা তাঁরই এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা : জাসিয়া, আয়াত : ৩৫-৩৭)

আয়াতগুলোতে বিবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

 

শিক্ষা ও বিধান

১. কোরআন, দ্বিন ও আল্লাহর নিদর্শন নিয়ে ব্যঙ্গ-তাচ্ছিল্য করা হারাম। কেননা কোরআনে এই কাজকে জাহান্নামে প্রবেশের কারণ বলা হয়েছে।

২. পার্থিব জীবন মানুষকে দুইভাবে প্রতারিত করে : ক. প্রত্যাশার জালে আবদ্ধ করে, খ. পরকালের কথা ভুলিয়ে দেয়।

৩. আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের স্থান দুনিয়া। পরকালে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের কোনো সুযোগ থাকবে না।

৪. ঈমানহীন অবস্থায় যাদের মৃত্যু হবে, তারা অনন্তকাল জাহান্নামে থাকবে। আর পাপী মুমিনরা শাস্তি ভোগের পর নিষ্কৃতি পাবে।

৫. ইবাদত, প্রশংসা ও প্রার্থনা শুধু মহান আল্লাহর জন্য। কেননা তিনি সবকিছুই স্রষ্টা ও প্রতিপালক এবং তিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।

          (তাফসিরে কুরতুবি : ১৯/১৭৩)

 

প্রশ্ন-উত্তর

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা

প্রশ্ন-উত্তর

মৃত ব্যক্তির ঈসালে সওয়াবে খাবারের আয়োজন

প্রশ্ন : আমাদের এলাকায় একটি নিয়ম আছে যে পরিবারের কোনো সদস্যের মৃত্যুর চার বা ৪০ দিন পর ফলমূলের ফাতেহা বা ভাত খাওয়ানোর আয়োজন করা হয়। এ সম্পর্কে ইসলামের বিধান কী?

আরাফাত হোসেন, মিরপুর 

উত্তর : যেকোনো নফল ইবাদত, তিলাওয়াত, দান-সদকা ও খাবার খাওয়ানো ইত্যাদির মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির রুহে সওয়াব পৌঁছানো ইসলামসম্মত। তবে দিন-তারিখ নির্দিষ্ট করে অনুষ্ঠান-আয়োজন ও প্রচলিত পদ্ধতিতে ফাতেহা দেওয়া ইসলামসম্মত নয়। (ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল

মিল্লাত : ১/৪১১, ফাতহুল কাদির : ২/২০২, কেফায়াতুল মুফতি : ১/১৬৫, এমদাদুল আহকাম : ১/২০৬)

 

কবিরা গুনাহের সংখ্যা কত?

প্রশ্ন : কবিরা গুনাহের সংখ্যা কোথাও ৭০টি, কোথাও ১৭৩টি, আরেক স্থানে দেখেছি ৩০০টি। এখন কথা হলো, কবিরা গুনাহের সংখ্যা মূলত কতটি নির্ধারিত হয়েছে এবং আপনারা কতটি পেয়েছেন? সেগুলোর তালিকা লিখিতভাবে জানতে ইচ্ছুক।

মোকাররম, ভৈরব

উত্তর : রাসুল (সা.) বিভিন্ন সময় সাহাবায়ে কেরামদের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কবিরা গুনাহ থেকে তাঁদের সতর্ক করেছেন, যার দরুন হাদিসের কিতাব বা ফিকহি কোনো কিতাবে তার নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যার বর্ণনা নেই। সংখ্যার পিছে না পড়ে ছোট-বড় সব গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক।

হাজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কাসিম অ্যাওয়ার্ড জিতল সৌদির এসডিএআইএ

ইসলামী জীবন ডেস্ক
হাজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কাসিম অ্যাওয়ার্ড জিতল সৌদির এসডিএআইএ

হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জনসমাগম ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি উদ্ভাবনের স্বীকৃতি হিসেবে সৌদি ডেটা অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অথরিটি  (SDAIA) মর্যাদাপূর্ণ ‘কাসিম অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স অ্যান্ড ক্রিয়েটিভিটি’ অর্জন করেছে। ‘বৈজ্ঞানিক গবেষণায় শ্রেষ্ঠত্ব’ বিভাগে পাওয়া এই সম্মাননা সৌদি আরবের প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে নেতৃত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ডেটা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে সৌদি আরবকে বৈশ্বিক নেতৃত্বের পর্যায়ে নিয়ে যেতে এসডিএআইএ দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং জাতীয় প্রতিভা বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় জনসমাগম ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকি শনাক্তকরণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে পরিচালিত একটি ফলিত গবেষণা প্রকল্প এবার তাদের জন্য এনে দিয়েছে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি।

কাসিম গভর্নরেটের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কাসিম অঞ্চলের গভর্নর ও যুবরাজ ড. ফয়সাল বিন মিশাল বিন সৌদ বিন আব্দুল আজিজ এসডিএআইএ-এর ন্যাশনাল সেন্টার ফর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের

(NCAI) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সাত্তাম আল-সুবাইয়ের হাতে পুরস্কারটি তুলে দেন।

পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ছিল জনসমাগমের গতিবিধি বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা। বিশেষ করে হজ ও ওমরাহ মৌসুমে লাখো হাজির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এসডিএআইএর গবেষকরা এ প্রকল্পে ‘ভেলোসিটিনেট’  (VelocityNet) এবং ‘অ্যাটেনশন ইনভার্স’ (Attention Inverse)-এর মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। এসব প্রযুক্তি ভিড়ের চলাচল পর্যবেক্ষণ করে অস্বাভাবিক আচরণ বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির ইঙ্গিত অত্যন্ত নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম। ফলে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, জননিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং জরুরি সেবার কার্যকারিতা উন্নত করা সহজ হয়েছে।

গবেষণাটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও উল্লেখযোগ্য। এ প্রকল্পের ফলাফল বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক সম্মেলন  ICCV, ICML I ArabicNLP-এ উপস্থাপিত ও প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি গবেষকরা নতুন মানসম্পন্ন ডেটা বেইসও তৈরি করেছেন, যা ভবিষ্যতে ক্রাউড অ্যানালিটিক্স বা জনসমাগম বিশ্লেষণভিত্তিক গবেষণার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে সৌদি আরব যে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, এসডিএআইএর এই আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও সম্মাননা তারই আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

 

ওআইসির কার্যক্রম গতিশীল করতে আরব-ইরাক বৈঠক

ইসলামী জীবন ডেস্ক
ওআইসির কার্যক্রম গতিশীল করতে আরব-ইরাক বৈঠক

ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) কার্যক্রমকে আরো গতিশীল ও কার্যকর করতে সৌদি আরব ও ইরাকের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সংস্থার আওতায় যৌথ ইসলামী কার্যক্রমের উন্নয়ন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং সমসাময়িক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ওআইসির ভূমিকা আরো শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

ওআইসিতে সৌদি আরবের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. সালেহ বিন হামাদ আল-সুহাইবানি জেদ্দায় অবস্থিত সৌদি দূতাবাসে ওআইসিতে ইরাকের নবনিযুক্ত স্থায়ী প্রতিনিধি ও জেদ্দায় নিযুক্ত কনসাল জেনারেল রাষ্ট্রদূত মাওলুদ আহমেদ আল-মাশহাদানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সম্প্রতি রাষ্ট্রদূত আল-মাশহাদানি ওআইসিতে স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পরিচয়পত্র পেশ করেছেন।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উভয় পক্ষ ওআইসির কাঠামোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও পরামর্শ প্রক্রিয়া আরো জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে সহযোগিতা বাড়ানো এবং সংস্থার বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে আরো কার্যকর করার বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

বৈঠকে আলোচকরা বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় মুসলিম উম্মাহর বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ওআইসির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্ব্বিত উদ্যোগ ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরো শক্তিশালী করা সময়ের দাবি। তারা যৌথ ইসলামী কার্যক্রমের বিকাশ, সংস্থার সেবার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ওআইসির নেতৃত্বপূর্ণ অবস্থান সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরো সম্প্রসারণ ও বৈচিত্র্যময় করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের ৫২তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব করছে ইরাক। এ প্রেক্ষাপটে জেদ্দায় অনুষ্ঠিত সৌদি আরব-ইরাকের এই বৈঠককে সংস্থার কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।