• ই-পেপার

এবার মায়ের কবরও বুলডোজারের মুখে

  • পূর্বাচলে ক্ষতিগ্রস্তরা আবারও উচ্ছেদের মুখে
  • ৩৮.৭৬ একর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা, আতঙ্কে ২০০ পরিবার
  • গোপনে সার্ভের অভিযোগ, গণশুনানি ছাড়াই অধিগ্রহণের প্রস্তুতি
  • আমরা এই দেশের মানুষ, নাকি রোহিঙ্গা? ভুক্তভোগী কাজী আনোয়ারের প্রশ্ন

উক্তি

উক্তি

ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি, ধর্মকে ব্যবহার করে ভণ্ডামিএ পথ থেকে আমাদের ফিরতে হবে, যে যেখানেই থাকি না কেন।

মো. আসাদুজ্জামান, আইনমন্ত্রী

গাড়ি কমেছে, বেড়েছে ভাড়া ও যাত্রী দুর্ভোগ

নিশাত বিজয়
গাড়ি কমেছে, বেড়েছে ভাড়া ও যাত্রী দুর্ভোগ

আসাদ গেট থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় যেতে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা ভাড়া নিয়ে থাকে। কিন্তু এখন কোনো চালক ৫০০ টাকার নিচে রাজি হচ্ছে না!

আক্ষেপ করে কালের কণ্ঠকে এসব কথা বলেন অর্পিতা ইসলাম নামের এক যাত্রী। গতকাল শনিবার রাজধানীর আসাদ গেট মোড়ে হন্যে হয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা খুঁজছিলেন তিনি। আরো কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজি করে ৪২০ টাকা ভাড়ায় একজন অটোরিকশাচালককে রাজি করাতে পারলেন।

শুধু এই অর্পিতাই নন, গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে যাত্রীদের দুর্ভোগের একই চিত্র দেখা যায়। গ্যাসসংকট থাকায় ছোট-বড় সব ধরনের যাত্রী পরিবহন যান কম ছিল। একই সঙ্গে ভাড়াও ছিল বেশি।

রাইড শেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রেও একই প্রভাব পড়েছে। গ্যাসের জন্য পাম্পে দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করায় চালকদের একটি বড় অংশ দিনের স্বাভাবিক সময় রাস্তায় থাকতে পারছে না। ফলে গাড়ির সংখ্যা কমে অ্যাপভিত্তিক ভাড়াও বাড়ছে।

গতকাল রাজধানীর খিলক্ষেত, নদ্দা, বাড্ডা, মোহাম্মদপুর, মিরপুর রোড, মহাখালী, তেজগাঁও ও প্রগতি সরণির বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কোথাও স্টেশন একেবারেই বন্ধ, কোথাও আবার গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে কয়েকটি গাড়িতে গ্যাস দেওয়ার পর সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে বেশির ভাগ চালককে দিনের যাত্রী পরিবহনের বদলে পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার করে দিতে হয়েছে।

শাহাদাৎ হোসেন নামের একজন চালক বলেন, আগে একটি গাড়ি দিনে একাধিকবার পাম্পে গেছে গ্যাস নিতে, কিন্তু সময় লাগেনি। এখন একবার গ্যাস নিতেই কয়েক ঘণ্টা চলে যাচ্ছে। এতে গাড়ির ব্যবহার কমে যাচ্ছে, চালকের আয় কমছে এবং যাত্রীদেরও বিড়ম্বনা বাড়ছে।

জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। বেশির ভাগ পাম্পে গ্যাস নেই লেখা ঝুলছে। যেসব স্টেশনে গ্যাস মিলছে, সেখানে স্বল্প চাপের কারণে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের।

জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, কক্সবাজারের মহেশখালীতে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে আবাসিক, শিল্প, বাণিজ্যিক, বিদ্যুৎ ও সিএনজি খাতে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরো কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পাম্পে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের দীর্ঘ অপেক্ষা : মিরপুর রোডের দুটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে কিছুটা গ্যাস পাওয়া গেলেও চাপ কম থাকায় সেখানে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও আশানুরূপ গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ করেন চালকরা।

তেজগাঁও, বাড্ডা ও প্রগতি সরণির কয়েকটি স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাস সরবরাহ না থাকায় কর্মীরা অলস বসে আছেন। কোথাও পাম্পের কার্যক্রম বন্ধ, আবার কোথাও সামান্য গ্যাস এলেও দীর্ঘ লাইনের কয়েকটি গাড়িতে সরবরাহ দেওয়ার পরই তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

উবারের চালক শাহেদ হোসেন কুড়িলের প্রগতি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের লাইনে অপেক্ষা করছিলেন। গতকাল সকালে লাইনে দাঁড়ানোর পর দুপুর পর্যন্ত গ্যাস না পাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, তিন-চার দিন ধরে একই অবস্থা। আগে সব খরচ বাদ দিয়ে দিনে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা আয় থাকত। এখন গাড়ি চালিয়ে খরচের টাকাও উঠছে না। গাড়ির মাসিক ভাড়া ৪০ হাজার টাকা হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল।

বাস কম, যাত্রীদের হুড়াহুড়ি : গতকাল অন্যান্য দিনের তুলনায় ঢাকায় বাস চলাচল ছিল বেশ কম। মিরপুর, পল্লবী, বিমানবন্দর রোড ঘুরে যাত্রী পরিবহনকারী বাস কম দেখা গেছে। মিরপুর-১০ গোলচত্বরে সব সময় একাধিক কম্পানির প্রজাপতি পরিবহন, পরিস্থান পরিবহন, আলিফ, রাজধানী পরিবহনের বাস যাত্রীর অপেক্ষায় থাকে। গতকাল যাত্রীরাই বাসের অপেক্ষায় ছিল। একটি বাস এলেই কে কার আগে উঠবেএ নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে হুড়াহুড়ি দেখা গেছে।

সদরঘাট, গুলিস্তান, পল্টন, কাকরাইল, রামপুরা সড়ককেও বাস তেমন দেখা যায়নি। যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়ায় অটোরিকশা, রাইড শেয়ারিংয়ের বাইক ব্যবহার করে গন্তব্যে যেতে হয়েছে।

বাসসংকট হঠাৎ বাড়ার কারণ হিসেবে রমজান পরিবহনের চালক শহিদ মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, রাতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গ্যাস পায়নি অনেক বাস। আমার রিজার্ভে গ্যাস থাকায় আমি চালাতে পারছি। আজকে যদি গ্যাস না পাই, কাল আমিও বাস নামতে পারব না।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, গ্যাসেরসংকট চলছে, গাড়ি তো কম থাকবেই। সংকট কেটে গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে।

 

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক জুবায়ের আহমেদ, ছালেহ আতিফ ও অনির্বাণ বিশ্বাস]

চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে গ্যাসের জন্য হাহাকার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে গ্যাসের জন্য হাহাকার

চট্টগ্রামে মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি ও অগ্নিকাণ্ডের জের ধরে দেশজুড়ে চলছে ভয়াবহ গ্যাসসংকট। শিল্প-কারখানা ও পরিবহন খাতে নেমে এসেছে স্থবিরতা, বাসাবাড়িতেও রান্না করতে না পেরে মানুষের ভোগান্তি শুধুই বাড়ছে।

এদিকে গ্যাসের এই চলমান সংকট দূর হওয়ার মতো কোনো সুখবর দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল থেকে কালের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

চট্টগ্রাম : মহেশখালীতে থাকা মার্কিন কম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর সেটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের জোগান কমে গেছে। আমদানি করা এলএনজির ওপর শতভাগ নির্ভর করায় এই পরিস্থিতির সরাসরি শিকার হয়েছে চট্টগ্রাম। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে দৈনিক ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে যেখানে আগে ২৭০ থেকে ২৮০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ মিলত, বর্তমানে তা নেমে এসেছে ২২৫ থেকে ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুটে।

গ্যাসসংকটে এরই মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা সিইউএফএলসহ বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে শুধু কাফকো ও শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রে সীমিত পরিসরে কাজ চলছে। অন্যান্য শিল্প-কারখানায়ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

গ্যাসের সরবরাহ ও চাপ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নগরীর বিভিন্ন এলাকার গৃহিণীরা। একই সঙ্গে প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতে। রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় সিএনজিচালিত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদামতো গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা।

কেজিডিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (বিতরণ উত্তর) প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিক খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান টার্মিনালটি পুরোপুরি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা ক্ষীণ। তবে টার্মিনালের ক্ষতিগ্রস্ত বয়লার দুটি প্রকৌশলীরা মেরামতের চেষ্টা করছেন। একটি বয়লার চালু করা সম্ভব হলে অন্তত ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে।

গাজীপুর : তীব্র গ্যাসসংকটে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের বহু কলকারখানা। বিশেষ করে কালিয়াকৈরের মৌচাক, চন্দ্রা, গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী, বাসন, বোর্ডবাজার, টঙ্গী ও শ্রীপুর শিল্প এলাকায় গ্যাসসংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

তিতাস গ্যাসের গাজীপুর আঞ্চলিক বিপণন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৯১৫টি শিল্প, ৫২৮টি ক্যাপটিভ, ২৫৮টি বাণিজ্যিক, ৭০টি সিএনজি স্টেশন ও ৮০ হাজার আবাসিক গ্রাহকের সংযোগে প্রতিদিন গাজীপুরে (টাঙ্গাইলসহ) গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট; পাওয়া যাচ্ছে অর্ধেকেরও অনেক কম।

কালিয়াকৈরের গোমতি টেক্সটাইলে গ্যাসের অনুমোদিত চাপ ৫ পিএসআই। গ্যাসসংকটের কারণে বর্তমানে চাপ রয়েছে ১ পিএসআই। ফলে উৎপাদনে ধস নেমেছে। কারখানার মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মাহফুজুর রহমান বলেন, জেনারেটর অথবা এলপিজি দিয়ে কারখানা সচল রাখতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। আবার নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হচ্ছে না। উৎপাদিত মাল শিপের পরিবর্তে কার্গো জাহাজে বিদেশি ক্রেতার কাছে পাঠাতে গিয়ে খরচ আরো বেড়ে যাচ্ছে। দ্রুত এর সমাধান না হলে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সাদমা ফ্যাশনওয়্যার কারখানায় গ্যাসের অনুমোদিত চাপ ১৫ পিএসআই। সম্পূর্ণ রপ্তানিমুখী কারখানাটি চালু রাখতে প্রয়োজন কমপক্ষে ১০ পিএসআই। বেশ কিছুদিন ধরে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১ থেকে ২ পিএসআই। গ্যাসের অভাবে বেশির ভাগ ইউনিট বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির দৈনিক উৎপাদন ৬০ টন থেকে নেমে এসেছে ১০ টনে।

গ্যাসসংকটের প্রভাব সিএনজি স্টেশন ও বাসাবাড়িতেও পড়েছে। প্রতিটি সিএনজি স্টেশনে দেখা গেছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। চালকদের সাত-আট ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করে নিতে হচ্ছে গ্যাস, তা-ও চাপ না থাকায় প্রয়োজনের তুলনায় কম। অনেক এলাকায় দিনের বেলা চুলায় গ্যাস না থাকায় রান্না হচ্ছে না। এতে সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা।

গার্মেন্টস শ্রমিক দিপালী রানী দাস বলেন, সারা দিন কাজ শেষে বাসায় ফিরে দেখি চুলায় গ্যাস নেই। ভোরে গ্যাস পাওয়া গেলেও চুলায় সিরিয়াল পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার কিনে রান্না করতে গিয়ে সাংসারিক ব্যয় বেড়ে গেছে।

সাভার (ঢাকা) : শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় গ্যাসের তীব্র সংকট ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে তৈরি পোশাক কারখানাসহ শত শত কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসনির্ভর কারখানাগুলোর উৎপাদন নেমে এসেছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে। গ্যাসের চাপ না থাকায় কারখানার মেশিনগুলো ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না, ফলে সময়মতো তৈরি হচ্ছে না পণ্য।

ব্যাংকঋণ নিয়ে কারখানা চালানো মালিকরা উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও রপ্তানি হোঁচট খাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। অনেক ছোট ও মাঝারি কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান। সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে রপ্তানিমুখী কারখানার কার্যাদেশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

কারখানার মালিকরা বলছেন, সাভার ও আশুলিয়ায় ছোট-বড় মিলিয়ে কারখানা রয়েছে এক হাজার দুই শর বেশি। কারখানার জেনারেটর বা বয়লার চালানোর জন্য ১৫ পিএসআই (প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে গ্যাসের চাপের ইউনিট) চাপের গ্যাস প্রয়োজন, যা বর্তমানে ২-৩ পিএসআইয়ে নেমে এসেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছে দিতে অনেক প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে ডিজেলসহ বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করায় উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শুধু শিল্প-কারখানাই নয়, সংকটের আঁচ লেগেছে পরিবহন খাতেও। বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে সকাল থেকেই দেখা গেছে দীর্ঘ যানজট এবং অপেক্ষমাণ যানবাহনের সারি। সাভার সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে সিএনজিচালক মতিউর জানান, পাম্পে গ্যাসের চাপ কম হওয়ায় ৭০-৮০ টাকার গ্যাস ঢুকছে। কিন্তু এই গ্যাস পেয়ে যাত্রীদের নিয়ে সড়কে চলাচল সম্ভব না।

পাম্পটির নজেল অপারেটর শরীফ হোসেন বলেন, লাইনে যেটুকু গ্যাস থাকা দরকার, সেই পরিমাণ গ্যাস নেই। তাই পাম্পের গাড়ি এসে ভিড় করলেও গ্যাস দিতে পারছি না।

নরসিংদী : জেলার ছোট-বড় সাড়ে তিন শর বেশি শিল্প-কারখানা পুরোপুরি গ্যাসনির্ভর। কিন্তু গ্যাসসংকটের কারণে বেশির ভাগ কারখানা প্রায় বন্ধ। এতে সময়মতো শ্রমিকদের বেতন ও ব্যাংকের পাওনা পরিশোধও করতে পারছেন না শিল্প মালিকরা।

মাধবদীর এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কাঁচামালসংকট, নীরব চাঁদাবাজি এবং অতিরিক্ত পরিবহন ভাড়ার কারণে এমনিতেই সংকট যাচ্ছে। এর ওপর গ্যাসের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় শ্রমিকদের বেতন ও ব্যাংকের পাওনা যথাসময়ে পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে কারখানা বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

শেখেরচর এলাকার এমআর টেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মোহাম্মদ রুমন বলেন, বেশ কয়েক দিন ধরেই গ্যাসের চাপ কম থাকায় উৎপাদন ২০ শতাংশে নেমে গিয়েছিল। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার থেকে কারখানার ডায়িং, ফিনিশিং, নিটিং, ডিজিটালসব ইউনিট পুরোপুরি বন্ধ। কবে নাগাদ ঠিক হবে তা তিতাস কর্তৃপক্ষও বলতে পারছে না।

নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহসভাপতি ও এমএমকে ডায়িং প্রিন্টিং লিমিটেডের পরিচালক আবদুল কাইয়ুম মোল্লা কালের কণ্ঠকে বলেন, গ্যাসসংকট শুধু নরসিংদী নয়, সারা দেশের সমস্যা। আমার কারখানা, সিএনজি স্টেশনসবই বন্ধ। আমার কারখানায় গত এক সপ্তাহে উৎপাদন ২০ শতাংশের নিচে চলে আসছে।

গতকাল বিকেলে নরসিংদীর চিনিশপুরের তিতাস গ্যাস ট্রন্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনের ম্যানেজার মাকসুদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, আশা করছি দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।

আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী

এটা প্রথম উইকেটের পতন, এখানেই থামব না : দীপকে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী
ধর্মেন্দ্র প্রধান

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং বিরোধী দলগুলোর ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে অবশেষে গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে পদত্যাগ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ধর্মেন্দ্র নিজে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এক্সে দেওয়া পোস্টে ধর্মেন্দ্র লেখেন, প্রথম দিন থেকেই আমি এর দায় নিয়েছি এবং পরিস্থিতি থেকে কখনো মুখ ঘুরিয়ে নিইনি। তবে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে আন্দোলন সাফল্যের কেবল শুরু বলে মন্তব্য করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের খবর আসার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অভিজিৎ দীপকে বলেন, এটি কেবল প্রথম উইকেটের পতন হলো। আমরা এখানেই থেমে যাব না। এটি তো কেবল শুরু। গত ৩৬ দিন ধরে যাঁরা এখানে অবস্থান করছেন, সেই সব শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবককে আমি সালাম জানাই। এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরও আন্দোলনস্থল যন্তর মন্তরের প্রবেশদ্বারে হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘ সারি ও ভিড় দেখা গেছে। তীব্র ভিড় ঠেলে সাধারণ মানুষ যন্তর মন্তরের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। আন্দোলনস্থলের ভেতরে অবিরত স্লোগান চলছে। অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের একাংশ স্লোগান দেয়, সংগ্রাম এখনো জারি আছে, এবার লক্ষ্য ই-২০। এদিকে ভারতের রাষ্ট্রপতির দপ্তর শনিবার সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে দুপুর ২টার দিকে যন্তর মন্তর আন্দোলনস্থল থেকে সংসদ মার্গমুখী সড়কে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ করে লেখা একটি চিঠি এক্সে পোস্ট করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেখানে তিনি লিখেছেন, যন্তর মন্তর এবং সারা দেশে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে যেন কোনো রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি কাজে লাগাতে না পারে, জাতীয় ঐক্য যেন অটুট থাকে, কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন আইনি জটিলতায় আটকে না যায় এবং আমাদের সন্তানরা যেন পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার গড়ার কাজে তাদের সময় ব্যয় করতে পারেএসব বিষয় বিবেচনা করে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।

মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এক মাসের বেশি সময় ধরে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর ঘিরে শিক্ষার্থীরা তীব্র আন্দোলন করে আসছেন। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে এ আন্দোলন গড়ে উঠেছে। সারা দেশ থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে সমর্থন জানান।

গত শুক্রবার দুপুরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠক করেন। সিজেপি তিনটি দাবি উত্থাপন করেছে। এগুলো হলোশিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্টের (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ।

গত শুক্রবারের বৈঠকে আন্দোলনকারীদের দুটি প্রধান দাবিতে নীতিগতভাবে সম্মতি দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। সেগুলো হলোবিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া। তবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকেন শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার সিজেপির নেতারা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। তবে বিজেপির কয়েকটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি সরকার কোনোভাবেই মানবে না। গতকাল শনিবার বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে তৃতীয় দফার বৈঠক হওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়। তবে বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগেই পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিই ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। ২০২১ সালে শিক্ষামন্ত্রীর পদে আসা ধর্মেন্দ্র প্রধানের নিজের রাজনৈতিক জীবনের যাত্রাও শুরু হয়েছিল আশির দশকে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে। তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) ছাত্রসংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সূত্র : দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, বিবিসি, দ্য হিন্দু