• ই-পেপার

মডেল মসজিদ নির্মাণ ব্যয়ের তদন্ত করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

উক্তি

উক্তি

ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য সরকার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে।

শেখ রবিউল আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী

স্পেনের মাঝমাঠ পার্থক্য গড়ে দেবে

স্পেনের মাঝমাঠ পার্থক্য গড়ে দেবে

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন। অনেকেই হয়তো এই ম্যাচে ফ্রান্সকেই এগিয়ে রাখবেন। এর পেছনে যথেষ্ট কারণও আছে। তাদের আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে, ব্র্যাডলি বারকোলার মতো ভয়ংকর গতিময় ফুটবলারও আছেন। বেঞ্চেও এমন খেলোয়াড় রয়েছেন, যাঁরা যেকোনো মুহূর্তে নেমে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন। বড় ম্যাচে অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত দক্ষতা এবং মুহূর্ত তৈরি করার ক্ষমতার কারণে ফ্রান্সকে অনেকেই ফেভারিট ভাবছেন। তবে আমার বিশ্বাস, এই ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠবে স্পেন।

স্পেনের মাঝমাঠ পার্থক্য গড়ে দেবেএর সবচেয়ে বড় কারণ, স্পেন শুধু ভালো ফুটবলই খেলছে না, তারা এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে পরিপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবেও নিজেদের প্রমাণ করেছে। আক্রমণ, মাঝমাঠ, রক্ষণপ্রতিটি বিভাগে তারা ধারাবাহিক। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই দল জানে কিভাবে একটি ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। বিশ্বকাপে স্পেনের পথচলার দিকে তাকালেই সেটা পরিষ্কার বোঝা যায়। গ্রুপ পর্বে তারা প্রতিপক্ষকে শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চাপে রেখেছে। নক আউটে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা দেয়। এরপর শক্তিশালী পর্তুগালের বিপক্ষে এসেছে ভিন্ন ধরনের পরীক্ষা। সেখানে গোলের বন্যা বইয়ে দেওয়ার সুযোগ ছিল না। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে, লড়াই করতে হয়েছে প্রতিটি বলের জন্য। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় দেখিয়েছে, প্রয়োজন হলে স্পেন সৌন্দর্যের চেয়ে ফলকেই বেশি গুরুত্ব দিতে পারে। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষেও সহজ সময় কাটেনি। প্রতিপক্ষ কয়েকবার ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছে। কিন্তু স্পেন নিজেদের পরিকল্পনা থেকে একটুও সরে যায়নি। ২-১ গোলের সেই জয় ছিল পরিণত ফুটবলের আরেকটি উদাহরণ। এই বিশ্বকাপে তারা প্রতিটি ম্যাচে ভিন্ন ধরনের পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে।

আমার কাছে স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের মাঝমাঠ। আধুনিক ফুটবলে ম্যাচ জিততে শুধু ভালো ফরোয়ার্ড থাকলেই হয় না, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। স্পেনের মিডফিল্ড সেটাই করে দেখাচ্ছে। রদ্রি, পেদ্রি, ফাবিয়ান রুইজরা ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে জানেন। বল নিজেদের কাছে রেখে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে ফেলেন। এতে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ফাঁক তৈরি হয়, আর সেই সুযোগ কাজে লাগায় স্পেন। সবচেয়ে ভালো লাগে, তারা একজন ফুটবলারের ওপর নির্ভর করে না। আক্রমণ গড়ে ওঠে পুরো দলকে নিয়ে। মাঝমাঠ, উইং, ফুল ব্যাকসবাই আক্রমণে অংশ নেয়। ফলে একজনকে আটকে দিলেও অন্য কেউ সামনে চলে আসে। প্রতিপক্ষের জন্য তাই নির্দিষ্ট কাউকে থামিয়ে স্পেনকে থামানো কঠিন হয়ে পড়ে। রক্ষণেও তারা অসাধারণ শৃঙ্খলাবদ্ধ। এর প্রমাণ, এবার তারা মাত্র একটি গোল হজম করেছে। মাঝমাঠের খেলোয়াড়রা দ্রুত নিচে নেমে এসে রক্ষণকে সাহায্য করে। পুরো দল মিলে ডিফেন্স করে বলেই স্পেনের বিপক্ষে পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করা সহজ নয়। আমি মনে করি, এই ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হবে মাঝমাঠে। যদি স্পেন নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে বল পায়ে রেখে খেলতে পারে, তাহলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তাদের কাছেই থাকবে। আর যদি ফ্রান্স দ্রুত বল কেড়ে নিয়ে ফাঁকা জায়গায় এমবাপ্পে-দেম্বেলেদের ব্যবহার করতে পারে, তাহলে স্পেনের জন্য কঠিন হয়ে যাবে।

ফ্রান্সকেই ফাইনালে দেখছি

ফ্রান্সকেই ফাইনালে দেখছি

বিশ্বকাপে অনেক শক্তিশালী দল আসে, অনেক দলকে নিয়ে শিরোপার আলোচনা হয়। কিন্তু এই ফ্রান্সকে দেখে আমার বারবার একটাই প্রশ্ন মাথায় আসে, তাদের থামাবে কে? আমার এটা মনে হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ, এই দলের আক্রমণভাগ। আমরা একসময় রোনালদিনহো, রিভালদো ও রোনালদোর মতো কিংবদন্তিদের দেখেছি। কিন্তু ফ্রান্সের বর্তমান আক্রমণভাগ যেন সেই ধারণাকেও ছাড়িয়ে গেছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে, উসমান দেম্বেলে, দেজিরে দুয়ে, ব্র্যাডলি বারকোলাএরা সবাই গতিময়, সৃজনশীল এবং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তাদের একজনকে সামলাতে না সামলাতেই আরেকজন হাজির হয়।

ফ্রান্সকেই ফাইনালে দেখছিআর সবচেয়ে অবাক করা তথ্য, ইন্টার মিলানের হয়ে গত মৌসুমে ১৯ গোল করা মার্কাস থুরামও এই দলে শুরুর একাদশে থাকেন না। তিনি ষষ্ঠ বিকল্প! কোনো জাতীয় দলের বেঞ্চে যদি এমন একজন স্ট্রাইকার বসে থাকেন, তাহলে সেই দলের আক্রমণভাগের গভীরতা সহজেই বোঝা যায়। এই ফ্রান্সের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক শুধু প্রতিভা নয়, তাদের গতি। মুহূর্তের মধ্যে ম্যাচের ছন্দ বদলে দেওয়ার সামর্থ্য আছে তাদের। কয়েক মিনিট শান্ত থাকার পর হঠাৎ করেই গতি বাড়িয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ছিন্নভিন্ন করে ফেলতে পারে। এমন ক্ষমতা খুব কম দলেরই থাকে।

আমাকে আরো বেশি মুগ্ধ করেছে কিলিয়ান এমবাপ্পের মানসিকতা। সাধারণত তাকে আমরা গোল করার জন্যই চিনি, কিন্তু এবার তাকে দেখলাম নিজ দলের ডিফেন্ডারের পেছনে ছুটে গিয়ে বল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে। বিশ্বকাপ জিততে হলে যে শুধু গোল করলেই হবে না, দলের জন্য পরিশ্রমও করতে হবেএটা সে বুঝেছে। এমবাপ্পে যদি আক্রমণের পাশাপাশি রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করতেও প্রস্তুত থাকে, তাহলে ফ্রান্স আরো ভয়ংকর হয়ে ওঠে। কারণ তার সেই মানসিকতা পুরো দলকেই বদলে দেয়। তবে ফ্রান্সকে নিয়ে আমার একটি প্রশ্ন থেকেই যায়, তাদের মাঝমাঠ। আদ্রিয়েন রাবিও ভালো ফুটবলার, কিন্তু মাঝেমধ্যে মনে হয়, মিডফিল্ডে তারা পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না। এই জায়গাটিই হয়তো প্রতিপক্ষের জন্য একমাত্র সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবু একটি বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই, প্রতিপক্ষ স্পেন হলেও ফ্রান্স গোল করবে। কিন্তু কাজটা সহজ হবে না। এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম গোল হজম করা দল তারা। তাদের রক্ষণ সুসংগঠিত। এমবাপ্পেদের চ্যালেঞ্জই হবে স্পেনের রক্ষণ দেয়াল ভেঙে ফেলা।

অনেকে ফ্রান্সের রক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন তোলে; কিন্তু আমি সেই দলে নই। দায়োত উপামেকানো ও উইলিয়াম সালিবার মতো দুই মানসম্পন্ন সেন্টার ব্যাক আছে তাদের। অভিজ্ঞতা, শক্তি ও গতিসব মিলিয়ে এই রক্ষণ যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য। তাই শুধু আক্রমণ নয়, রক্ষণেও ফ্রান্সের শক্তির জায়গা স্পষ্ট। অবশ্য নক আউট ফুটবলের সৌন্দর্যই হলো, সব হিসাব এক ম্যাচে বদলে যেতে পারে। কোনো একদিন প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক জীবনের সেরা ম্যাচ খেলতে পারেন, ফ্রান্স একের পর এক সুযোগ নষ্ট করতে পারে। এমন কিছু ঘটলে তা চমক হয়ে যাবে। কিন্তু স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এই ফ্রান্সকে হারানো ভীষণ কঠিন। আক্রমণে এত বৈচিত্র্য, বেঞ্চে এত গভীরতা, রক্ষণে নির্ভরতা এবং এমবাপ্পের মতো একজন নেতা যখন দলের জন্য সবকিছু উজাড় করে দিতে প্রস্তুত, তখন স্পেনকে হারিয়ে ফ্রান্সই ফাইনালে যাবে বলে মনে করছি।

সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি, বিরোধী দলের ওয়াক আউট

দুই শপথ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের কড়া জবাব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি, বিরোধী দলের ওয়াক আউট

জুলাই জাতীয় সনদ ও উচ্চ আদালতের আলোকে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে গতকাল সোমবার একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১৭ সদস্যের এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে। তবে বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত পাঁচটি সদস্য পদ শূন্য রাখা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেনবিএনপির সংসদ চিফ হুইপ সদস্য নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, মীর হেলাল উদ্দীন, ফারজানা শারমীন, সাকিলা ফারজানা, মাহমুদুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের সংসদ সদস্য জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের সংসদ সদস্য নুরুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মো. অলিউল্লাহ।

তবে জনরায়কে উপেক্ষা করে এই বিশেষ কমিটি গঠনের অভিযোগ এনে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল। এ সময় নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যদের দুটি শপথ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের কড়া জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

গতকাল ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি। প্রস্তাবিত কমিটি উত্থাপনের পর সংসদে ফ্লোর নেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই কমিটি গঠনের প্রস্তাবটি প্রথম অধিবেশনেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উত্থাপন করেছিলেন এবং সেই দিনই বিরোধী দল তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় কয়েক দফায় তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং বৈঠক করেছেন। তবে বিরোধী দল কখনোই এই কমিটির জন্য কোনো সদস্যের নাম দেবে বলে জানায়নি। কারণ বিরোধীদলীয় সদস্যরা নীতিগতভাবে এই প্রস্তাবকে গ্রহণ করেনি। তারা জনগণের কাছে এবং জাতির কাছে ওয়াদাবদ্ধ, যেমনটি বর্তমান সরকারি দলও নির্বাচনের আগে ওয়াদাবদ্ধ ছিল।

ডা. শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের আগে সব দলই গণভোটে হ্যাঁ বলার আহবান জানিয়েছিল এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে হ্যাঁ ভোট বিজয়ী হলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা দুটি শপথ নিয়েছেন, একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। বিরোধী দল মনে করে, তাদের দুটি শপথই বহাল ও কার্যকর আছে। সুতরাং সেই সংস্কার পরিষদকে বাইপাস বা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য যদি এই সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়, তবে তাঁরা এই প্রস্তাব সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করছেন।

তিনি বলেন, তাঁরা তাঁদের আগের অবস্থানেই অনড় আছেন এবং গণতন্ত্রের মূল দাবিই হচ্ছে জনগণের মতামতকে মেনে নেওয়া, যা এই ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশের কাছাকাছি, অর্থাৎ ৬৮.৬ শতাংশ মানুষের রায়। এই বিপুল জনমতকে যদি অবলীলায় শেষ করে দেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক পদ্ধতির ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলবে এবং বিদ্রোহী হয়ে উঠবে।

জনগণের এই অভিপ্রায় ও মতামতকে কোনোভাবেই অগ্রাহ্য বা অপমান করা উচিত হবে না উল্লেখ করে ড. শফিকুর রহমান ঘোষণা দেন, জনগণের রায়কে সম্মান না জানানোর প্রতিবাদে তাঁরা শুধু এই কমিটিতে অংশগ্রহণ থেকেই বিরত থাকবেন না, বরং সংসদ থেকে ওয়াক আউট করবেন। এই বক্তব্য শেষ করেই তিনি বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে সংসদকক্ষ ত্যাগ করেন।

বিরোধী দলের ওয়াক আউটের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিকারের অনুমতি নিয়ে এর কড়া জবাব দেন। তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা যে পয়েন্টে ওয়াক আউট করছেন, তা তাঁদের বিবেচনায় সঠিক হতে পারে, তবে গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের মানুষের মূল প্রত্যাশা হলো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করা। এই লেজিসলেচারে যদি পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করা না হয়, তবে হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্ট রায় দিলেও দেশকে ওই বিতর্কিত সংশোধনীর ওপর ভিত্তি করেই চলতে হবে। সুতরাং সংবিধান সংশোধনী কমিটি গঠন করা এবং সংবিধান সংশোধন করা ছাড়া এই জাতিকে নতুন প্রত্যাশা অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

বিরোধীদলীয় নেতার দুটি শপথের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুটি শপথ নিলে প্রথম শপথটিই তো অবৈধ হয়ে যায়। কারণ বর্তমান সংবিধান অনুসারেই দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, মহামান্য রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহবান করেছেন এবং সেই সংবিধান অনুযায়ীই সংসদে মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সরকারি ও বিরোধী উভয় দল আলোচনা করেছে। সাংবিধানিক নিয়ম ও ধারাবাহিকতা অনুসারেই সংসদের প্রতিটি অধিবেশন ও বৈঠক পরিচালিত হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, সংবিধানে কোথায় আছে যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আলাদা শপথ নেওয়া যাবে? তিনি একে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তে আইনি উপদেষ্টার নথিতে পাস করে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছিল, যা প্রথম দিন থেকেই অবৈধ। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৮ এবং তৃতীয় তফসিল লঙ্ঘন করে সংসদ সদস্যদের জন্য আরেকটি শপথের যে ফর্ম ছাপানো হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ নাল অ্যান্ড ভয়েড বা বাতিল এবং এর কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই।

গণভোট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোটের যে আদেশ, যেটিকে জুলাই আদেশ বা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংস্কার আদেশ নাম দেওয়া হয়েছে, সেটি প্রথম দিন থেকেই এখতিয়ারবহির্ভূত, ফ্রড অন কনস্টিটিউশন এবং কালারেবল লেজিসলেশন ছিল, যা রাষ্ট্রপতি করতে পারেন না। রাজনৈতিক সমঝোতার জুলাই সনদের কোথাও এমন কিছু ছিল না, যেখানে উভয় পক্ষ স্বাক্ষর করেছে।

তিনি বলেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৫ অনুযায়ী একক ও স্বাধীন রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন এবং সংবিধান সংশোধনের পূর্ণ এখতিয়ার ও সার্বভৌম ক্ষমতা জনগণকে অনুচ্ছেদ ৭ অনুসারে সংসদ সদস্যদের দিয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, জুলাই জাতীয় সনদে যে সমঝোতা হয়েছে, তার চার ভাগের সাড়ে তিন ভাগ তাঁরা মানেন, কিন্তু বাকি আধাখানি অংশ সংবিধানের ওপর অবৈধ হাত বাড়িয়েছে।

বিরোধী দলকে সংসদে এসে আলোচনা করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় রাস্তায় গিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কমিটি করলে সংবিধান সংশোধন না করে তাঁরা বসে থাকতে পারবেন না। আর সংবিধান সংশোধন না করলে জাতিকে শেখ হাসিনার দেওয়া পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়েই চলতে হবে, যা কেউ চায় না।

অবিলম্বে এই সংবিধান সংশোধনী কমিটি কাজ শুরু করবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাঁরা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান, জুডিশিয়ারি, আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, ডিজিটাল ও প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদক, বুদ্ধিজীবী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংসদ ও সংসদের বাইরে বিস্তারিত আলোচনা ও বৈঠক করবেন। এরপর সব স্টেকহোল্ডারের সুপারিশের ভিত্তিতে এই মহান জাতীয় সংসদে ১৮তম সংবিধান সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বিরোধীদলীয় সদস্যরা ইমোশনাল বা আবেগসর্বস্ব রাজনীতি পরিহার করে একটি শক্তিশালী সংবিধান সংশোধনী বিল আনার স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করবেন।

জাতীয় সংসদে ছয়টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন

এদিকে জাতীয় সংসদে ছয়টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সম্মতিক্রমে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি পৃথকভাবে কমিটি গঠনের প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবগুলো গৃহীত হয়।

গতকাল ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে কমিটিগুলো গঠনের সময় বিরোধীদলীয় সদস্যরা অনুপস্থিত ছিলেন। কমিটি গঠন শেষে অধিবেশন আজ মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। আজ বাকি কমিটিগুলো গঠিত হবে বলে জানা গেছে।

কমিটিগুলোর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হয়েছেন সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হয়েছেন মো. আবুল কালাম। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হয়েছেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের জহরত আদিব চৌধুরী। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হয়েছেন মো. খালেদ হোসেন মাহবুব। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হয়েছেন মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হয়েছেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।