স্বাস্থ্যকর খাদ্য ক্রয়ে দেশে সক্ষম মানুষের সংখ্যা আগের চেয়ে বাড়লেও এখনো জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের কাছে সুষম খাদ্য নাগালের বাইরে। বর্তমানে দেশের প্রতি পাঁচজনের মধ্যে অন্তত দুজনের স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য নেই। গত বছর প্রায় ছয় কোটি ৭৮ লাখ মানুষ পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করতে পারেনি। জাতিসংঘের পাঁচটি সংস্থার যৌথভাবে প্রকাশিত ‘দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এমন চিত্র দেখা গেছে, যা আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের চিত্র সামনে নিয়ে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যকর খাদ্যের দাম দিন দিন বেড়ে চলেছে, যদিও মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও আগের তুলনায় কিছুটা উন্নত হয়েছে। দেখা গেছে, ২০১৭ সালে যেখানে প্রায় ১০ কোটি ১৮ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাদ্য ক্রয়ের সামর্থ্য ছিল না, ২০২৫ সালে তা কমে ছয় কোটি ৭৮ লাখে দাঁড়িয়েছে। তার পরও গত বছর দেশের ৩৮.৬ শতাংশ মানুষ সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে পারেনি। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পাকিস্তানের পর বাংলাদেশে এই সংকট সবচেয়ে বেশি। পাকিস্তানে এই হার ৬৩ শতাংশ, আর ভারতে ৩৬ শতাংশ।
প্রতিবেদনে ‘স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা’ বলতে প্রতিদিন মাথাপিছু দুই হাজার ৩৩০ কিলোক্যালরি শক্তি সরবরাহ করতে সক্ষম এমন খাদ্যকে বোঝানো হয়েছে। এতে শর্করা, প্রাণিজ আমিষ, শুঁটিজাতীয় খাদ্য, বাদাম ও বীজ, শাক-সবজি, ফলমূল এবং তেল-চর্বি—এই ছয়টি খাদ্যগোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে একজন মানুষের প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর খাদ্যের গড় ব্যয় ২০১৭ সালের ৩.৯ ডলার (ক্রয়ক্ষমতার সমতা অনুযায়ী) থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৪.৫৯ ডলারে পৌঁছেছে। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যের ব্যয়ের দিক থেকে ভুটান (৬.১৭ ডলার) ও শ্রীলঙ্কার (৫.২১ ডলার) পরই বাংলাদেশের অবস্থান।
এদিকে গত বছর টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা কমেছে। তবে এখনো বিশ্বে প্রতি তিনজনের মধ্যে একজনের স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য নেই। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বকে ক্ষুধামুক্ত করার যে লক্ষ্য রয়েছে, তা অর্জনে ‘ব্যাপক’ কাজ করতে হবে।
আমরা মনে করি, স্বাস্থ্যকর খাদ্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ বাড়ানো এবং উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনা দরকার। পাশাপাশি পরিবহনব্যবস্থা, সংরক্ষণাগার, প্রক্রিয়াকরণসহ বাজারব্যবস্থা উন্নয়ন করে খাদ্য অপচয় রোধ করা একান্ত অপরিহার্য।

