• ই-পেপার

শ্রমবাজার সম্প্রসারণে জোর দিন

  • জনশক্তি রপ্তানির গতি নিম্নমুখী

নিরাপদ সড়ক কবে পাব

ফিটনেসবিহীন যানবাহন

নিরাপদ সড়ক কবে পাব

দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলো যেন একেকটি মৃত্যুফাঁদ। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনায় ঝরছে তাজা প্রাণ। আর এই ধারাবাহিক সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে লাখ লাখ ফিটনেসবিহীন যানবাহন। মেয়াদোত্তীর্ণ, লক্কড়ঝক্কড় এবং যান্ত্রিক ত্রুটিপূর্ণ এসব গাড়ি বছরের পর বছর সড়ক ও মহাসড়কে কিভাবে চলাচল করছে, সেটিও এক বড় প্রশ্ন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্যের বরাত দিয়ে গতকাল বুধবার কালের কণ্ঠ জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ছয় লাখেরই ফিটনেস সনদ নেই। এই হিসাবে প্রতি তিনটি যানবাহনের মধ্যে একটি ফিটনেসবিহীন। হতাশার কথা হলো, এসব ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে, কিন্তু প্রয়োগের অভাবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েই চলছে।

ফিটনেসবিহীন যানবাহনের আধিক্য বুঝতে পরিসংখ্যানের প্রয়োজন হয় না। রাজধানীর মতো শহরে খোলা চোখেই দেখা যায়, প্রতিদিন সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বহু পুরনো রং উঠে যাওয়া ভাঙাচোরা যানবাহন। অনেক যানবাহনের স্টিয়ারিং, হেডলাইট, সিগন্যাল লাইটসহ অনেক যন্ত্রপাতি ত্রুটিপূর্ণ। প্রতিনিয়ত এসব গাড়ি থেকে নির্গত হচ্ছে কালো ধোঁয়া। ইঞ্জিনের সমস্যার কারণে অনেক সময় মাঝপথেই বিকল হয়ে তৈরি করছে যানজট। এসব কারণে নগরবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই।

খবরে বলা হয়েছে, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি পুলিশকে চিঠি দিয়েছে বিআরটিএ। সংস্থাটির মুখপাত্র ও পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ১৭ লাখ চার চাকার যানবাহনের মধ্যে প্রায় ছয় লাখের ফিটনেস নেই। আমরা পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি। জবাবে হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি (অ্যাডমিন) হাবিবুর রহমান খান বলেন, আমরা মহাসড়কভিত্তিক কাজ করি। ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা আঞ্চলিক সড়ক ও নগরের অভ্যন্তরে বেশি। মহাসড়কে তুলনামূলক কম। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম স্বীকার করেছেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও চালকদের দক্ষতার ঘাটতি। অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন অপসারণে অন্যতম বাধা হিসেবে কাজ করে থাকে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের রাজনৈতিক প্রভাব।

জানা গেছে, ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন সড়ক থেকে সরাতে সরকার চলতি বছর মোটরযান স্ক্র্যাপ ও রিসাইক্লিং নীতিমালা, ২০২৬ জারি করেছে। এই নীতিমালার লক্ষ্য হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং দীর্ঘদিন ফিটনেসবিহীন থাকা যানবাহন পরিবেশবান্ধব উপায়ে স্ক্র্যাপ ও রিসাইক্লিং করা।

আমরা মনে করি, দেশে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ত্রুটিপূর্ণ সব ধরনের গাড়ি সরিয়ে ফেলতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার যে নীতিমালা জারি করেছে, তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন জরুরি। একই সঙ্গে প্রয়োজন সড়ক-মহাসড়কে কড়া নজরদারি।

সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিন

অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত যান

সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিন

সাম্প্রতিক সময়ে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে শহরাঞ্চলের নতুন বাস্তবতা হলো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্য। বেশ কিছুদিন ধরে বিশেষজ্ঞমহল বলে আসছে, এসব অটোরিকশার কাঠামোগত ত্রুটি রয়েছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেশি। তার পরও অলিগলি থেকে শুরু করে রাজপথ পর্যন্ত আজ অটোরিকশার দাপট। মানছে না কোনো নিয়ম-কানুন। অতীতে নানা সময় এসব যান নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগের কথা বলা হলেও তা কাজে দেয়নি। এ অবস্থায় সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে আবারও বলা হয়েছে, ব্যাটারিচালিত যান নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসছে।

কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়েছে। গত সোমবার অধিবেশনে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, সারা দেশে ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য সরকার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নে কাজ করছে। তিনি জানান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ নয়, বরং কিভাবে এগুলোকে নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা যায়, তা নিয়ে নিরীক্ষা চলছে।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার প্রধান সমস্যা হলো, প্রয়োজনীয় ফিটনেস নেই। গতির নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং ব্রেকিং সিস্টেমও ত্রুটিপূর্ণ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হালকা অবকাঠামোয় অতিরিক্ত ক্ষমতার মোটর যুক্ত করা হয়, এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যায়। নেই চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, দরকার পড়ছে না অন্য মোটরযানচালিত গাড়ির মতো লাইসেন্স। এসব ব্যাটারিচালিত যান যখন হাইওয়ে বা শহরের প্রধান সড়কে অন্য দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলে, তখন তা মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ ছাড়া ব্যাটারি চার্জিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। ব্যাটারি উৎপাদন ও বর্জ্য অব্যবস্থাপনার কারণে মারাত্মক পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

অন্যদিকে এক শ্রেণির মানুষের কাছে অটোরিকশা সাশ্রয়ী হওয়ায় দৈনন্দিন যাতায়াতে অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে এই অটোরিকশা। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, কাঠামোগত মানোন্নয়ন করে, সড়ক ও এলাকা নির্ধারণ করে দিলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।

বিজ্ঞান বলছে, জীবাশ্ম জ্বালানির দিন শেষ। আগামী দিনে এই ব্যাটারিচালিত যানই হবে প্রধান বাহন। কাজেই এসব যানের মানোন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। আমরা মনে করি, চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও লাইসেন্সের নিয়ম চালু করে নজরদারি নিশ্চিত করা দরকার। এ জন্য সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও তার বাস্তবায়ন কাম্য।

কঠোর জবাবদিহি প্রয়োজন

অনুমোদন পায়নি সমাজসেবার প্রকল্প

কঠোর জবাবদিহি প্রয়োজন

জনস্বার্থে সরকার নানামুখী প্রকল্প গ্রহণ করে। সেসব প্রকল্পে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা খরচও হয়। কিন্তু সেই প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, উপকারভোগী, বাস্তবায়ন কাজের মান, সময় ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে প্রশ্ন থাকে। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দরিদ্র ও ভাসমান মানুষের জীবনমান উন্নয়নের নামে ৬১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছিল সমাজসেবা অধিদপ্তর। কিন্তু প্রকল্পের উদ্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যয় ধরা হয় মাত্র ১৩ শতাংশের মতো। বাকি প্রায় ৮৭ শতাংশই রয়েছে পরামর্শক নিয়োগ, প্রশাসনিক ব্যয়, দেশে-বিদেশে ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য খাতে। ব্যয় পরিকল্পনায় অসামঞ্জস্যতার কারণে প্রকল্পটি ফেরত দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি)।

জলবায়ু পরিবর্তন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ ক্রমেই বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। নিম্নাঞ্চলের বহু বাড়িঘর, আবাদি জমি, মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। নোনা পানির আগ্রাসনে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। এমন প্রতিকূলতার কারণে প্রতিনিয়ত মানুষ উপকূল ছেড়ে বিভিন্ন শহরাঞ্চলে এসে উঠছে। আরো অনেক কারণেই উদ্বাস্তু বা ভাসমান মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। অভ্যন্তরীণভাবে উদ্বাস্তু হওয়া এসব মানুষের পাশে রাষ্ট্রকে দাঁড়াতেই হবে। সেদিক থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তর যে প্রকল্প নিয়েছে তা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু ব্যয় পরিকল্পনায় এমন অসামঞ্জস্য কেন? যাদের জন্য প্রকল্প তারা পাবে প্রকল্পের মাত্র ১৩ শতাংশ বরাদ্দ? এমনটা চিন্তা করাটাও স্বাভাবিক নয়।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নগর একীভূতকরণ সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ এবং স্বাগতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা প্রদান (ইন্টিগ্রেট) শীর্ষক প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬১ কোটি ২৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডের শতভাগ অনুদানে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছর ৯ মাস মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব ছিল। খুলনা সিটি করপোরেশন, সাতক্ষীরা পৌরসভা, রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও সিরাজগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় এটি বাস্তবায়নের কথা ছিল।

প্রকল্পের নথির তথ্য অনুযায়ী, মোট বাজেটের মধ্যে মাত্র আট কোটি ১০ লাখ ৯০ হাজার টাকা সরাসরি সুবিধাভোগীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছিল, যা মোট ব্যয়ের মাত্র ১৩.২৩ শতাংশ। এই অর্থ দিয়ে ২৭০ জন নারী, ৩০ জন প্রতিবন্ধীসহ মোট ৩০০ জনকে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। পাশাপাশি শিশুযত্ন, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং নারীবান্ধব ও প্রতিবন্ধীবান্ধব সামাজিক সেবার মাধ্যমে আরো দেড় হাজার মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

অন্যদিকে প্রকল্পের বাকি ৫৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার বেশি ব্যয় করার প্রস্তাব ছিল বিভিন্ন প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা খাতে। শুধু দেশি-বিদেশি ৪৭৩ জন পরামর্শক নিয়োগেই ব্যয় ধরা হয় ২৯ কোটি ৬২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা, যা পুরো প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ৪৮.৩৩ শতাংশ। এ ছাড়া ব্যবস্থাপনা চার্জ হিসেবে রাখা হয় ১০ কোটি সাত লাখ ৬৫ হাজার টাকা, অফিস ভাড়ার জন্য তিন কোটি ১৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং দেশি-বিদেশি ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় চার কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

প্রকল্পের নামে কী হয়, কারা কতটা উপকারভোগী হয়, অপচয় হয় কি নাসেসব বিষয় প্রকল্প অনুমোদনের আগেই বিস্তারিত পর্যালোচনা করতে হবে, যেমনটা এ ক্ষেত্রে করেছে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি। প্রকল্পের অনুমোদন থেকে বাস্তবায়নের প্রতিটি ক্ষেত্রেই কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সচেতন হতে হবে এখনই

সামাজিক মাধ্যম থেকে শিশুদের সুরক্ষা

সচেতন হতে হবে এখনই

প্রযুক্তির এই যুগে সামাজিক মাধ্যম নিত্যদিনের বাস্তবতা হলেও সারা বিশ্বেই এর ক্ষতিকর দিক নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে। বিশেষ করে এই ক্ষতির হাত থেকে শিশুদের সুরক্ষায় বিভিন্ন দেশ নানা রকম পদক্ষেপ নিয়েছে; অনেক দেশ নেওয়ার কথা ভাবছে। হতাশার কথা হলো, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত শিশুদের সুরক্ষায় এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেই।

কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, সামাজিক মাধ্যম নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি ইউরোপীয় কমিশনের কাছে তাদের সুপারিশ জমা দিতে যাচ্ছে। জানা গেছে, এতে অনেকেই নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষেধাজ্ঞার পক্ষে সুপারিশ করেছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন এক ভাষণে বলেছিলেন, আমার সময়ে আমরা যেমন আমাদের সন্তানদের শেখাতাম একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত ধূমপান, মদ্যপান করা যাবে না; আমি মনে করি, সামাজিক মাধ্যমের ক্ষেত্রে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য পর্যালোচনায় তাঁর সেই কথারই প্রতিফলন ঘটবে। এটি হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) ২৭টি দেশেই শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে কড়াকড়ি আসতে পারে।

গ্রিস ঘোষণা দিয়েছে, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে তারা ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করতে চায়। অস্ট্রিয়া এবং স্লোভেনিয়াও একই পথে হাঁটছে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধের পক্ষে মত দিয়েছেন। আইরিশ সরকার সতর্ক করেছে, ইইউ কোনো সিদ্ধান্ত না নিলে তারা আইন প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করবে। অস্ট্রেলিয়ায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ। ব্রাজিলও কড়াকড়ি আরোপ করেছে। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার শিশুরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ডিজিটাল স্ক্রিনে সময় কাটায়। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত সময় হচ্ছে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা। এতে এক-তৃতীয়াংশের বেশি শিশু চোখের সমস্যায় এবং ৮০ শতাংশ শিশু প্রায়ই মাথা ব্যথায় ভুগছে।

আমরা মনে করি, আগামী প্রজন্মের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার অবশ্যই সীমিত করা দরকার। এ লক্ষ্যে আলোচনা-পর্যালোচনা করে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। এ ব্যাপারে সরকারের আশু পদক্ষেপ কাম্য। পাশাপাশি অভিভাবকমহলকেও সচেতন ভূমিকা নিতে হবে।