• ই-পেপার

বিজেএস ভাইভা প্রস্তুতি

  • ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরই শুরু হবে ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা। বিচারক হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের ফয়সালা হবে এই পর্বে। চূড়ান্ত এই পর্বে সফল হতে দরকার সঠিক প্রস্তুতি। বিজেএসে সফল বিচারকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অভিজ্ঞতার আলোকে ভাইভা প্রস্তুতির পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা জানাচ্ছেন শাহ বিলিয়া জুলফিকার

মারুফা ইয়াসমিন, ১৭তম বিজেএস

স্বপ্ন পূরণে প্রতিষ্ঠান কোনো বাধা নয়

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন পড়া এই শিক্ষার্থী ১৭তম বিজেএস পরীক্ষায় ষষ্ঠ হয়ে সিভিল জজ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন মারুফা ইয়াসমিন। তিনি প্রমাণ করেছেন, সফল হওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বা পরিচিতি বড় কথা নয়; বরং নিজের প্রচেষ্টা ও পরিকল্পিত প্রস্তুতিই মুখ্য

স্বপ্ন পূরণে প্রতিষ্ঠান কোনো বাধা নয়

২০২৩ সাল থেকে বাসায় বসে প্রস্তুতি নিয়েছেন মারুফা। ভাইভা প্রস্তুতির জন্য মূলত প্রিলিমিনারি ও রিটেনের পড়াগুলোই পুনরায় গভীরভাবে রিভিশন দিয়েছেন তিনি। তাঁর মনে হয়েছে, জড়তা কাটাতে কথোপকথনের চর্চা খুব জরুরি। তাই তিনি অনেক মক ভাইভা দিয়েছেন। ফলে কথা বলার জড়তা সম্পূর্ণ কেটে যায়। তাঁর আত্মবিশ্বাসও বহুগুণ বেড়ে যায়। পাশাপাশি মক ভাইভার মাধ্যমেই প্রিলি ও রিটেনে বাদ পড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তুও তাঁর দখলে চলে আসে। ভাইভার প্রস্তুতিতে সাম্প্রতিক ইস্যুর ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া নিয়মিত পত্রিকা পড়তেন। বিশেষ করে পত্রিকায় প্রকাশিত বিচার বিভাগীয় সংস্কারসংক্রান্ত গভীর বিশ্লেষণমূলক লেখাগুলো সংরক্ষণ করে খাতায় লিখে পড়তেন। এই কৌশল তাঁকে বোর্ডের কঠিন প্রশ্নের যুক্তিনির্ভর উত্তর দিতে সহায়তা করেছে।

 

প্রার্থীদের জন্য পরামর্শ

মারুফা ইয়াসমিন বিজেএস প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘প্রথমেই সিলেবাস ভালোভাবে বুঝে গোছানো নোট তৈরি করুন। ধাপে ধাপে টার্গেট ঠিক করে এগিয়ে যান। প্রস্তুতির সময় ল পার্টে ১০০ শতাংশ দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সাধারণ বিষয়গুলোতেও সমান গুরুত্ব দিন। কারণ প্রতিটি নম্বরই প্রতিযোগিতায় বিশাল ভূমিকা রাখে। একা প্রস্তুতি নিলে কথা বলার জড়তা কাটাতে বেশি করে মক ভাইভা দিন। এতে জ্ঞানের ফাঁকগুলো ধরা পড়বে এবং বাস্তব বোর্ডের চাপ সামলানোর আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে। একাধিক রেফারেন্স বই থেকে টপিকভিত্তিক নোট তৈরি করে সংরক্ষণ করুন এবং বারবার রিভিশন দিন। গুরুত্বপূর্ণ কেস রেফারেন্স ও ডক্ট্রিনের জন্য আলাদা নোট রাখুন। অখ্যাত শিক্ষাপ্রাতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হলেও হীনম্মন্যতায় ভুগবেন না। মনে রাখবেন—পরীক্ষা আপনার জ্ঞান ও দক্ষতাকেই যাচাই করবে, প্রতিষ্ঠানকে নয়। আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন। আপনার কষ্ট ও পরিশ্রম একদিন আপনাকে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাবেই।’

 

 

শেখ সাদলী আল জাদিদ, ১৭তম বিজেএস

দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতিই ছিল মূল পুঁজি

শেখ সাদলী আল জাদিদ ১৭তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় তৃতীয় স্থান অর্জন করে সিভিল জজ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। প্রস্তুতির শুরুতেই তিনি এক সপ্তাহ ধরে শুধু গবেষণাই করেন—কিভাবে, কোন পদ্ধতিতে পড়লে সফলতা আসবে

দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতিই ছিল মূল পুঁজি

প্রস্তুতির শুরুতে অনেক ভেবেচিন্তে তিনি বেছে নেন তিনটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি—

♦ পোমোডোরো টেকনিক : নির্দিষ্ট সময় মনোযোগ দিয়ে পড়া ও ছোট বিরতি নেওয়া।

♦ স্পেসড রেপুটেশন : নির্দিষ্ট সময় পর পর পড়া পুনরাবৃত্তি করা।

♦ একটিভ রিকল : না দেখে নিজেকে যাচাই করে শেখা।

 

সাদলীর দৃষ্টিতে, ভাইভা বোর্ড মূলত একজন প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব যাচাইয়ের জায়গা। তাঁর ভাষায়, ‘ভাইভা আসলে পড়ার চেয়ে নিজের পার্সোনালিটি টেস্টের একটা ব্যাপার।’ এই বিশ্বাস থেকে তিনি ভাইভার জন্য আলাদা করে প্রচুর সময় ব্যয় করেননি। প্রিলিমিনারি ও রিটেনের দীর্ঘমেয়াদি ও গভীর প্রস্তুতিই ছিল তাঁর মূল পুঁজি। সেই জ্ঞানই তাঁকে বোর্ডের সামনে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল। প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা, ভদ্রতা বজায় রাখা এবং স্বাভাবিক ভঙ্গিতে নিজের মতামত প্রকাশ—এ বিষয়গুলোতে জোর দেন তিনি। তাঁর মতে—ভাইভায় ভালো করার জন্য কেবল পাণ্ডিত্যই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা ও সাবলীল উপস্থাপনা। প্রথমেই টেবিলে বসার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কারণ খারাপ দিনেও অল্প পড়া চালিয়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতাই সাফল্যের মূল ভিত। স্মার্ট পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই। পোমোডোরো বা স্পেসড রিপিটিশনের মতো কার্যকর পদ্ধতি বেছে নিয়ে একটি সুগঠিত রুটিনে চলুন। প্রস্তুতি শুরু থেকেই রিটেনকেন্দ্রিক ও গোছানো হতে হবে, যাতে ভাইভার আগে শুধু রিভিশন দিয়েই আত্মবিশ্বাসী থাকতে পারেন। আইনের পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞানকেও সমান গুরুত্ব দিন, কোনো কিছু অবহেলা করবেন না। আর সবচেয়ে বড় কথা, ‘স্ট্রাইক হোয়াইল দ্য আয়রন ইজ হট’। অর্থাৎ যখনই সামনে সুযোগ দেখবেন, স্মার্ট কৌশল আর পরিশ্রমের মিশ্রণে সেটি লুফে নিন। এটাই আপনাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে।

 

নাজিউল হাসান পিয়াল, ১৬তম বিজেএস

কম সিজিপিএ নিয়ে পরপর তিনবার ব্যর্থ অবশেষে সফল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে পড়াশোনা করেছেন নাজিউল হাসান পিয়াল। তাঁর সিজিপিএ ছিল মাত্র ২.৯০। টানা তিনবার সিভিল জজ নিয়োগ পরীক্ষার ভাইভা দিয়ে ব্যর্থ হয়েও থেমে যাননি তিনি; বরং নিজের প্রস্তুতি কৌশলে আমূল পরিবর্তন এনে চতুর্থবারে এসে স্বপ্নের বিজেএস জয় করেছেন। ১৬তম বিজেএসে তিনি চতুর্থস্থান অর্জন করেন

কম সিজিপিএ নিয়ে পরপর তিনবার ব্যর্থ অবশেষে সফল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তাঁর স্বপ্ন—একদিন বিচারক হবেন। কিন্তু সিজিপিএ মাত্র ২.৯০। এ কারণে বিজেএস প্রস্তুতি শুরু করবেন কি না, তা নিয়ে ছিলেন সংশয়ে। অবশেষে বিচারক হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এলএলবি (সম্মান) শেষ করেই পুরোদমে প্রস্তুতিতে নামেন। তবে সফলতার পথ মোটেও মসৃণ ছিল না; টানা তিনবার সিভিল জজ নিয়োগ পরীক্ষার ভাইভা দিয়ে ব্যর্থ হন তিনি। প্রতিটি ব্যর্থতা তাঁর মনে গভীর দাগ কাটলেও, তিনি কখনোই চূড়ান্ত পরাজয় মেনে নেননি। এই টানা ব্যর্থতাই তাঁকে শেখায়—পুরনো কৌশলে নয়; বরং প্রস্তুতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলেন। বেয়ার অ্যাক্টের প্রতিটি ধারা বুঝে বুঝে পড়েন, নিয়মিত মডেল টেস্টের বই সমাধান করেন এবং লিখিত পরীক্ষার জন্য দুর্বল বিষয়গুলো চিহ্নিত করে প্রস্তুতি নেন। কৌশল, একাগ্রতা ও কঠোর পরিশ্রমে শেষ পর্যন্ত তিনি সফল হন।

 

ভাইভার প্রস্তুতি যেমন ছিল

পিয়ালের মতে, ভাইভা হলো স্নায়ুচাপ সামলে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেকে উপস্থাপনের পরীক্ষা। টানা তিনবার ভাইভা দিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেন, শুধু জ্ঞান থাকলেই হয় না; বরং সেই জ্ঞান সঠিকভাবে উপস্থাপনের কৌশলটিও রপ্ত করতে হবে। তাই ভাইভার প্রস্তুতির সময় তিনি পূর্বের সব পড়া বারবার চোখ বুলিয়ে রিভাইস করেছেন। প্রতিদিন নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে জোরে জোরে উত্তর দেওয়ার অনুশীলন করেছেন। এই আত্মমূল্যায়ন ও ধারাবাহিক চর্চাই তাঁকে ভাইভা বোর্ডের প্রচণ্ড চাপের মধ্যেও স্থির থেকে আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনার অদম্য শক্তি জুগিয়েছে।

 

 

 

ভাইভা অভিজ্ঞতা

রিটেন পরীক্ষায় কত পাবেন?

হালিমাতুস সাদিয়া, সিভিল জজ, ১৭তম বিজেএস (১ম স্থান)

রিটেন পরীক্ষায় কত পাবেন?

প্রশ্নকর্তা : আপনার নাম কী?

—হালিমাতুস সাদিয়া।

প্রশ্নকর্তা : রিটেন পরীক্ষায় কত পাবেন?

—৬০০+ পাবো, ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্নকর্তা : প্লেডিংস কী?

—দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ (সিপিসি)-এর আদেশ ৬, বিধি ১ (অর্ডার-৬, রুল-১) অনুযায়ী, ‘প্লেডিংস’ (আরজি বা লিখিত জবাব) বলতে প্লেইন্ট (আরজি) অথবা রিটেন স্টেটমেন্ট (লিখিত জবাব)-কে বোঝায়। সহজ কথায়, মামলায় পক্ষদ্বয় নিজেদের দাবি বা জবাব সমর্থনে আদালতে যে লিখিত বক্তব্য পেশ করে, তা-ই প্লিডিংস।

প্রশ্নকর্তা : প্লেইন্ট আমেন্ডমেন্ট এবং রিটেন স্টেটমেন্ট আমেন্ডমেন্টের কথা কোথায় বলা আছে?

—আরজি সংশোধন (প্লেইন্ট আমেন্ডমেন্ট) এবং লিখিত জবাব সংশোধন (রিটেন স্টেটমেন্ট আমেন্ডমেন্ট)—উভয় বিষয়ের কথাই একত্রে দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৬, বিধি ১৭ (অর্ডার-৬, রুল-১৭)-এ বলা হয়েছে। আদালত মামলার যেকোনো পর্যায়ে যেকোনো পক্ষকে তাদের প্লিডিংস সংশোধনের অনুমতি দিতে পারেন, যদি তা ন্যায়বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় হয়।

প্রশ্নকর্তা : কনফেশন এবং এডমিশনের মধ্যে পার্থক্য কী?

—সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ (এভিডেন্স অ্যাক্ট) অনুযায়ী মূল পার্থক্যগুলো হলো—

প্রকৃতি : ‘এডমিশন’ (স্বীকৃতি) দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলাতেই হতে পারে (ধারা ১৭)। আর ‘কনফেশন’ (দোষ স্বীকার) হলো অ্যাডমিশনেরই একটি অংশ, যা কেবল ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের দোষ স্বীকার করে প্রকাশ করে (ধারা ২৪-৩০)।

চূড়ান্ত প্রমাণ : স্বীকৃতি চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, তবে তা এস্টোপেল হিসেবে কাজ করতে পারে (ধারা ৩১)। অন্যদিকে একটি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ও সত্য দোষ স্বীকারোক্তি কোনো পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য ছাড়াই আসামিকে সাজা দেওয়ার একক ভিত্তি হতে পারে।

প্রশ্নকর্তা : Res Judicata এবং Estoppel-এর মধ্যে পার্থক্য কী?

—প্রধান পার্থক্যসমূহ হলো ‘Res Judicata’ (দোবারা দোষ) দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারার বিষয় ; যা আদালতের এখতিয়ারকে বারিত করে। ‘Estoppel’ (আচরণজনিত বাধা) সাক্ষ্য আইনের ১১৫ ধারার বিষয়; যা একটি সাক্ষ্যগত নিয়ম। রেজ জুডিকাটা আদালতের সিদ্ধান্তের (Judgment of the Court) ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। আর এস্টোপেল কাজ করে কোনো ব্যক্তির নিজস্ব কাজের বা বিবৃতির (Act or conduct of a party) ওপর ভিত্তি করে। রেজ জুডিকাটার উদ্দেশ্য মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা। এস্টোপেলের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তিকে তার পূর্ববর্তী সত্য বিবৃতি থেকে সরে আসতে বাধা দেওয়া।

প্রশ্নকর্তা : Appeal-এ Appellant (আপিলকারী) না এলে কী হবে? আপনি জজ হলে কী করবেন?

—দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১, বিধি ১৭(১) [Order ৪১, Rule ১৭(১)] অনুযায়ী, আপিল শুনানির দিন যদি আপিলকারী (Appellant) উপস্থিত না থাকেন, তবে আদালত আপিলটি ‘Dismissal for default’ (ত্রুটিজনিত কারণে খারিজ) করার আদেশ দেবেন। একজন জজ হিসেবে আমি আপিলটি গুণাগুণের (মেরিট) ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করতে পারব না, কেবল ‘Dismiss for default’ করতে পারব।

প্রশ্নকর্তা : Acquittal-এর বিরুদ্ধে ওহভড়ৎসধহঃ (মামলার বাদী/সংবাদদাতা) কী করতে পারেন? (যদি Public Prosecutor কোনো পদক্ষেপ না নেন)

—ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC)-এর ধারা ৪১৭(২এ) [Section 417(2A)] অনুযায়ী, কোনো ফৌজদারি মামলায় আসামির খালাস (Acquittal)-এর আদেশের বিরুদ্ধে মূল মামলার সংবাদদাতা বা বাদী (Informant/Complainant) সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করতে পারেন। পিপি পদক্ষেপ না নিলেও বাদীর আপিল করার এই স্বাধীন অধিকার আইনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রশ্নকর্তা : Attachment before judgment কোথায় আছে?

—রায় প্রকাশের পূর্বে ক্রোক বা ‘Attachment before judgment’ সংক্রান্ত বিধান দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৮, বিধি ৫ থেকে ১৩ (Order 38, Rules 5-13)-এ আলোচনা করা হয়েছে।

প্রশ্নকর্তা : Temporary Injunction (অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা) দেওয়ার Principles (নীতিমালা) কী কী?

—দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯, বিধি ১ ও ২ অনুযায়ী অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের ক্ষেত্রে ৩টি সুবর্ণ নীতি (Golden Principles) রয়েছে—

Prima facie case : আপাতদৃষ্টে বাদীর পক্ষে একটি গ্রহণযোগ্য মামলা থাকতে হবে।

Irreparable loss : নিষেধাজ্ঞা না দিলে বাদীর এমন ক্ষতি হবে, যা টাকা দিয়ে পরিমাপ বা পূরণ করা সম্ভব নয় (অপূরণীয় ক্ষতি)।

Balance of convenience and inconvenience: নিষেধাজ্ঞা দিলে বা না দিলে কার বেশি সুবিধা বা অসুবিধা হবে, তার ভারসাম্য যাচাই করা।

প্রশ্নকর্তা : Fact : জমির ধান কেটে নিয়ে গেলে এর জন্য Temporary Injunction চাইলে দেওয়া যাবে কি? এটা তো Reparable loss (পূরণযোগ্য ক্ষতি)?

—সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ধান কেটে নিয়ে যাওয়া একটি আর্থিক ক্ষতি, যা ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে নিরূপণযোগ্য (Reparable loss)। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে এখানেও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা যথাবস্থা (Status quo) বজায় রাখার আদেশ দেওয়া যাবে।

যুক্তি : যদি বিবাদী অনবরত বা বারবার জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে ধান বা ফসল কাটার হুমকি দেয় (যা সম্পত্তির ‘Waste or damage’ বা অপচয়ের শামিল, আদেশ ৩৯, বিধি ১), অথবা বিবাদী যদি চরম দেউলিয়া হয় (যার কাছ থেকে পরে ক্ষতিপূরণ আদায় অসম্ভব) কিংবা এর ফলে যদি বড় ধরনের শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গের (Breach of peace) আশঙ্কা থাকে, তবে আদালত নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেন।

প্রশ্নকর্তা : অধিকার মওকুফ বিষয়টি কোথায় বলা আছে?

—অধিকার ত্যাগের বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে কোনো একটি ধারায় কোডিফাইড নয়। তবে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা-২১ (আদালতের এখতিয়ার নিয়ে যথাসময়ে আপত্তি না তুললে তা মওকুফ হয়ে যায়) এবং আদেশ ৮, বিধি ২ (লিখিত জবাবে বিশেষ আপত্তি না তুললে তা মওকুফ ধরা হয়)—এসব বিধানে এর প্রতিফলন দেখা যায়। এ ছাড়া চুক্তি আইন, ১৮৭২-এর ৬৩ ধারায় প্রতিশ্রুতি মওকুফের কথা বলা আছে।

প্রশ্নকর্তা : নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা Cognizance (আমলে) নেয় কে? কোথায় বলা আছে? নরমালি Cognizance নেয় কে?

—নারী ও শিশু আইন : নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২৭ অনুযায়ী গঠিত ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল’ সরাসরি অপরাধ আমলে (Cognizance) নেন। সাধারণ ফৌজদারি মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯০ (Section 190 CrPC) অনুযায়ী যেকোনো প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে নেন।

প্রশ্নকর্তা : Special Powers Act-‰ Cognizance নেয় কে? কোথায় বলা আছে? পুলিশের Report ছাড়া নিতে পারে কি?

—বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ (Special Powers Acঃ)-এর ধারা ২৭(১) অনুযায়ী গঠিত ‘Special Tribunal’ (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) অপরাধ আমলে নেন।

প্রশ্নকর্তা : পুলিশ রিপোর্ট ছাড়া?
—না, এই আইনের ২৭(১) ধারা অনুযায়ী সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিচে নন এমন কোনো পুলিশ অফিসারের লিখিত রিপোর্ট অথবা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির লিখিত রিপোর্ট ছাড়া স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল কোনো অপরাধ আমলে নিতে পারেন না। অর্থাৎ এখানে সরাসরি নালিশি মামলা বা সাধারণ জনগণের অভিযোগে সরাসরি আমলে নেওয়ার সুযোগ নেই।

প্রশ্নকর্তা : আইনে কতগুলো ডক্ট্রিন (নীতি) আছে, যতগুলো মনে আছে বলেন?

(আইনের সুপরিচিত কয়েকটি ডকট্রিন বললাম। এ ছাড়া আরো কিছু প্রশ্ন করা হয়েছে।)