• ই-পেপার

ভাইভা অভিজ্ঞতা

রিটেন পরীক্ষায় কত পাবেন?

  • হালিমাতুস সাদিয়া, সিভিল জজ, ১৭তম বিজেএস (১ম স্থান)

মারুফা ইয়াসমিন, ১৭তম বিজেএস

স্বপ্ন পূরণে প্রতিষ্ঠান কোনো বাধা নয়

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন পড়া এই শিক্ষার্থী ১৭তম বিজেএস পরীক্ষায় ষষ্ঠ হয়ে সিভিল জজ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন মারুফা ইয়াসমিন। তিনি প্রমাণ করেছেন, সফল হওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বা পরিচিতি বড় কথা নয়; বরং নিজের প্রচেষ্টা ও পরিকল্পিত প্রস্তুতিই মুখ্য

স্বপ্ন পূরণে প্রতিষ্ঠান কোনো বাধা নয়

২০২৩ সাল থেকে বাসায় বসে প্রস্তুতি নিয়েছেন মারুফা। ভাইভা প্রস্তুতির জন্য মূলত প্রিলিমিনারি ও রিটেনের পড়াগুলোই পুনরায় গভীরভাবে রিভিশন দিয়েছেন তিনি। তাঁর মনে হয়েছে, জড়তা কাটাতে কথোপকথনের চর্চা খুব জরুরি। তাই তিনি অনেক মক ভাইভা দিয়েছেন। ফলে কথা বলার জড়তা সম্পূর্ণ কেটে যায়। তাঁর আত্মবিশ্বাসও বহুগুণ বেড়ে যায়। পাশাপাশি মক ভাইভার মাধ্যমেই প্রিলি ও রিটেনে বাদ পড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তুও তাঁর দখলে চলে আসে। ভাইভার প্রস্তুতিতে সাম্প্রতিক ইস্যুর ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া নিয়মিত পত্রিকা পড়তেন। বিশেষ করে পত্রিকায় প্রকাশিত বিচার বিভাগীয় সংস্কারসংক্রান্ত গভীর বিশ্লেষণমূলক লেখাগুলো সংরক্ষণ করে খাতায় লিখে পড়তেন। এই কৌশল তাঁকে বোর্ডের কঠিন প্রশ্নের যুক্তিনির্ভর উত্তর দিতে সহায়তা করেছে।

 

প্রার্থীদের জন্য পরামর্শ

মারুফা ইয়াসমিন বিজেএস প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘প্রথমেই সিলেবাস ভালোভাবে বুঝে গোছানো নোট তৈরি করুন। ধাপে ধাপে টার্গেট ঠিক করে এগিয়ে যান। প্রস্তুতির সময় ল পার্টে ১০০ শতাংশ দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সাধারণ বিষয়গুলোতেও সমান গুরুত্ব দিন। কারণ প্রতিটি নম্বরই প্রতিযোগিতায় বিশাল ভূমিকা রাখে। একা প্রস্তুতি নিলে কথা বলার জড়তা কাটাতে বেশি করে মক ভাইভা দিন। এতে জ্ঞানের ফাঁকগুলো ধরা পড়বে এবং বাস্তব বোর্ডের চাপ সামলানোর আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে। একাধিক রেফারেন্স বই থেকে টপিকভিত্তিক নোট তৈরি করে সংরক্ষণ করুন এবং বারবার রিভিশন দিন। গুরুত্বপূর্ণ কেস রেফারেন্স ও ডক্ট্রিনের জন্য আলাদা নোট রাখুন। অখ্যাত শিক্ষাপ্রাতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হলেও হীনম্মন্যতায় ভুগবেন না। মনে রাখবেন—পরীক্ষা আপনার জ্ঞান ও দক্ষতাকেই যাচাই করবে, প্রতিষ্ঠানকে নয়। আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন। আপনার কষ্ট ও পরিশ্রম একদিন আপনাকে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাবেই।’

 

 

শেখ সাদলী আল জাদিদ, ১৭তম বিজেএস

দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতিই ছিল মূল পুঁজি

শেখ সাদলী আল জাদিদ ১৭তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় তৃতীয় স্থান অর্জন করে সিভিল জজ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। প্রস্তুতির শুরুতেই তিনি এক সপ্তাহ ধরে শুধু গবেষণাই করেন—কিভাবে, কোন পদ্ধতিতে পড়লে সফলতা আসবে

দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতিই ছিল মূল পুঁজি

প্রস্তুতির শুরুতে অনেক ভেবেচিন্তে তিনি বেছে নেন তিনটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি—

♦ পোমোডোরো টেকনিক : নির্দিষ্ট সময় মনোযোগ দিয়ে পড়া ও ছোট বিরতি নেওয়া।

♦ স্পেসড রেপুটেশন : নির্দিষ্ট সময় পর পর পড়া পুনরাবৃত্তি করা।

♦ একটিভ রিকল : না দেখে নিজেকে যাচাই করে শেখা।

 

সাদলীর দৃষ্টিতে, ভাইভা বোর্ড মূলত একজন প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব যাচাইয়ের জায়গা। তাঁর ভাষায়, ‘ভাইভা আসলে পড়ার চেয়ে নিজের পার্সোনালিটি টেস্টের একটা ব্যাপার।’ এই বিশ্বাস থেকে তিনি ভাইভার জন্য আলাদা করে প্রচুর সময় ব্যয় করেননি। প্রিলিমিনারি ও রিটেনের দীর্ঘমেয়াদি ও গভীর প্রস্তুতিই ছিল তাঁর মূল পুঁজি। সেই জ্ঞানই তাঁকে বোর্ডের সামনে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল। প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা, ভদ্রতা বজায় রাখা এবং স্বাভাবিক ভঙ্গিতে নিজের মতামত প্রকাশ—এ বিষয়গুলোতে জোর দেন তিনি। তাঁর মতে—ভাইভায় ভালো করার জন্য কেবল পাণ্ডিত্যই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা ও সাবলীল উপস্থাপনা। প্রথমেই টেবিলে বসার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কারণ খারাপ দিনেও অল্প পড়া চালিয়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতাই সাফল্যের মূল ভিত। স্মার্ট পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই। পোমোডোরো বা স্পেসড রিপিটিশনের মতো কার্যকর পদ্ধতি বেছে নিয়ে একটি সুগঠিত রুটিনে চলুন। প্রস্তুতি শুরু থেকেই রিটেনকেন্দ্রিক ও গোছানো হতে হবে, যাতে ভাইভার আগে শুধু রিভিশন দিয়েই আত্মবিশ্বাসী থাকতে পারেন। আইনের পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞানকেও সমান গুরুত্ব দিন, কোনো কিছু অবহেলা করবেন না। আর সবচেয়ে বড় কথা, ‘স্ট্রাইক হোয়াইল দ্য আয়রন ইজ হট’। অর্থাৎ যখনই সামনে সুযোগ দেখবেন, স্মার্ট কৌশল আর পরিশ্রমের মিশ্রণে সেটি লুফে নিন। এটাই আপনাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে।

 

নাজিউল হাসান পিয়াল, ১৬তম বিজেএস

কম সিজিপিএ নিয়ে পরপর তিনবার ব্যর্থ অবশেষে সফল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে পড়াশোনা করেছেন নাজিউল হাসান পিয়াল। তাঁর সিজিপিএ ছিল মাত্র ২.৯০। টানা তিনবার সিভিল জজ নিয়োগ পরীক্ষার ভাইভা দিয়ে ব্যর্থ হয়েও থেমে যাননি তিনি; বরং নিজের প্রস্তুতি কৌশলে আমূল পরিবর্তন এনে চতুর্থবারে এসে স্বপ্নের বিজেএস জয় করেছেন। ১৬তম বিজেএসে তিনি চতুর্থস্থান অর্জন করেন

কম সিজিপিএ নিয়ে পরপর তিনবার ব্যর্থ অবশেষে সফল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তাঁর স্বপ্ন—একদিন বিচারক হবেন। কিন্তু সিজিপিএ মাত্র ২.৯০। এ কারণে বিজেএস প্রস্তুতি শুরু করবেন কি না, তা নিয়ে ছিলেন সংশয়ে। অবশেষে বিচারক হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এলএলবি (সম্মান) শেষ করেই পুরোদমে প্রস্তুতিতে নামেন। তবে সফলতার পথ মোটেও মসৃণ ছিল না; টানা তিনবার সিভিল জজ নিয়োগ পরীক্ষার ভাইভা দিয়ে ব্যর্থ হন তিনি। প্রতিটি ব্যর্থতা তাঁর মনে গভীর দাগ কাটলেও, তিনি কখনোই চূড়ান্ত পরাজয় মেনে নেননি। এই টানা ব্যর্থতাই তাঁকে শেখায়—পুরনো কৌশলে নয়; বরং প্রস্তুতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলেন। বেয়ার অ্যাক্টের প্রতিটি ধারা বুঝে বুঝে পড়েন, নিয়মিত মডেল টেস্টের বই সমাধান করেন এবং লিখিত পরীক্ষার জন্য দুর্বল বিষয়গুলো চিহ্নিত করে প্রস্তুতি নেন। কৌশল, একাগ্রতা ও কঠোর পরিশ্রমে শেষ পর্যন্ত তিনি সফল হন।

 

ভাইভার প্রস্তুতি যেমন ছিল

পিয়ালের মতে, ভাইভা হলো স্নায়ুচাপ সামলে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেকে উপস্থাপনের পরীক্ষা। টানা তিনবার ভাইভা দিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেন, শুধু জ্ঞান থাকলেই হয় না; বরং সেই জ্ঞান সঠিকভাবে উপস্থাপনের কৌশলটিও রপ্ত করতে হবে। তাই ভাইভার প্রস্তুতির সময় তিনি পূর্বের সব পড়া বারবার চোখ বুলিয়ে রিভাইস করেছেন। প্রতিদিন নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে জোরে জোরে উত্তর দেওয়ার অনুশীলন করেছেন। এই আত্মমূল্যায়ন ও ধারাবাহিক চর্চাই তাঁকে ভাইভা বোর্ডের প্রচণ্ড চাপের মধ্যেও স্থির থেকে আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনার অদম্য শক্তি জুগিয়েছে।

 

 

 

ভাইভা বোর্ডে সফল হবেন যেভাবে

মো. মুসতানসীর হাসান চৌধুরী (নকীব), ১৩তম বিজেএস, মেধাক্রম : তৃতীয়, সিভিল জজ

ভাইভা বোর্ডে সফল হবেন যেভাবে

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএস)  নিয়োগ পরীক্ষা একটি সুদীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া। ভাইভা বোর্ডে প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, বিচারকসুলভ প্রজ্ঞা ও মানসিক দৃঢ়তা যাচাই করা হয়। জুডিশিয়ারি পরীক্ষার ভাইভা একটি স্বতন্ত্র প্রক্রিয়া। অন্যান্য প্রথম শ্রেণির চাকরির ভাইভার সঙ্গে এর মৌলিক পার্থক্য আছে। এখানে ফলাফলের ক্ষেত্রে কোনো ওয়েটিং লিস্ট কিংবা আলাদা ক্যাডার, নন-ক্যাডার তালিকা থাকে না। যতজন নিয়োগ পাবেন, ঠিক ততজনেরই ফল প্রকাশ করা হয়।

 

প্রাথমিক প্রস্তুতি

ভাইভা বোর্ডে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখুন। সনদপত্র, নাগরিকত্ব সনদ, মার্কশিট, প্রশংসাপত্র ইত্যাদি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত ক্রমানুসারে সাজিয়ে একটি ফোল্ডারে রাখুন। মৌখিক পরীক্ষার জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতিও জরুরি। ভাইভার আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। অহেতুক দুশ্চিন্তা বা ভীতি আপনার মূল প্রস্তুতিকে ম্লান করে দিতে পারে। মনে রাখবেন, লিখিত পরীক্ষায় পাস করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই আপনি ভাইভায় অংশ নিচ্ছেন। অর্থাৎ আপনি আইন বিষয়ে ভালো জানেন, বাংলা-ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি সমসাময়িক ইস্যুতেও আপনার দখল আছে। এখন ভাইভা বোর্ডের সামনে শুধু তা উপস্থাপন করতে হবে। একটা প্রবাদে আছে, ‘আগে দর্শনধারী, পরে গুণবিচারী’। ভাইভার দিনে পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা জরুরি, যা আপনাকে স্বাভাবিক আচরণ করতে সাহায্য করবে।

 

পোশাক ও ভাইভা রুমের শিষ্টাচার                         
সাজপোশাক : পুরুষ প্রার্থীদের জন্য সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট, কালো কোট ও কালো জুতা আদর্শ পোশাক। নারী প্রার্থীদের জন্য সাদা বা হালকা রঙের শাড়ি অথবা সালোয়ার-কামিজই উপযুক্ত।
প্রবেশ : ভাইভাকক্ষে প্রবেশই আপনার প্রথম পরীক্ষা। বোর্ডের অনুমতি নিয়ে ধীরস্থির ও আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে কক্ষে প্রবেশ করুন। সবার দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে সালাম জানান।

আসন গ্রহণ ও আচরণ : বসতে বলার আগ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকুন, কখনোই বোর্ড সদস্যদের আগে বসতে যাবেন না। বসার সময় সোজা হয়ে বসুন, পুরো পিঠ চেয়ারে ঠেকাবেন না। দুই হাত টেবিলের ওপর বা কোলে স্বাভাবিকভাবে রাখুন। পুরো ভাইভা পর্বে বিনীত ও মার্জিত আচরণ বজায় রাখুন।

প্রশ্নোত্তর : ভাইভায় নির্ধারিত কোনো সিলেবাস নেই। প্রশ্নকর্তারা যেকোনো বিষয়েই প্রশ্ন করতে পারেন। তাই প্রস্তুতি হতে হবে বহুমুখী। তবে অধিকাংশ প্রশ্নই হবে আইনকেন্দ্রিক। এ ছাড়া সমসাময়িক দেশীয় এবং বৈশ্বিক রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজনীতি সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা থাকতে হবে। মনে রাখবেন, আপনার উত্তর শুনেই ভাইভা বোর্ড আপনার  প্রায়োগিক প্রজ্ঞা, বিচারিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে ধারণা পাবে। তাই ঠাণ্ডা মাথায় উত্তর দিন।

♦ আইনের গভীরে : প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার সিলেবাসে থাকা সব কটি আইনের ওপর সম্যক দক্ষতা থাকা বাঞ্ছনীয়। বিশেষ করে, বিভিন্ন আইন কিংবা ধারার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক, ধারাগুলোর বাস্তবিক জীবনে ব্যবহার, ভিন্ন ভিন্ন আইন অনুসারে মামলার ধাপগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন হতে পারে। যেমন—দেওয়ানি-ফৌজদারি মামলার আর্জি বা অভিযোগ থেকে শুরু করে রায় ঘোষণা পর্যন্ত ধাপগুলো এবং রায় বাস্তবায়ন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। তামাদি আইন, সাক্ষ্য আইন ও দণ্ডবিধির সূক্ষ বিষয়গুলোতে পুনরায় চোখ বুলিয়ে নিন। বিভিন্ন আইনের গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা, সাজার মেয়াদ, বিচার প্রক্রিয়া ইত্যাদির ওপর স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।

♦ সংবিধান ও সাম্প্রতিক আইন : সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ মতবাদ, সংশোধনী এবং উল্লেখযোগ্য মামলা  সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নিন। বিভিন্ন ইস্যুতে সাম্প্রতিক সাড়া জাগানো উচ্চ আদালতের (হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ) রায় সম্পর্কে নিয়মিত পড়াশোনা করুন। সাম্প্রতিক সময়ে প্রণীত নতুন আইন কিংবা বিদ্যমান আইনের সংশোধনীগুলোর ওপর ভালো দখল থাকলে অন্যদের চেয়ে আপনি এগিয়ে থাকবেন।

♦ বিচারিক দৃষ্টিভঙ্গি : জুডিশিয়ারি ভাইভার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এটি। ভাইভা বোর্ড বিভিন্ন ছোট ঘটনা বা ‘কেস স্টাডি’ বর্ণনা করে আপনার কাছ থেকে আইনি সমস্যার সমাধান চাইতে পারে। যেমন—‘একটি জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ, একজন দাবি করছেন তিনি ২০ বছর ধরে ভোগদখল করছেন, অন্যজন তার মালিকানার স্বপক্ষে দলিল দেখাচ্ছেন। আপনি বিচারক হিসেবে কী করবেন?’ অথবা ‘এক ব্যক্তি আদালতে অভিযোগ করলেন, পুলিশ তাঁকে অযথা হয়রানি করছে। আপনার করণীয় কী?’ এই ধরনের প্রশ্নের উত্তরে আইনের ভাষা ও পদ্ধতির পাশাপাশি আপনার সমাজবাস্তবতা, মানবিক বোধ ও বিচারিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে দ্রুত উত্তর না দিয়ে কিছু সময় নিয়ে গুছিয়ে কোন আইনের কোন ধারার অধীনে আপনি সমস্যাটির সমাধান করতে চান তা উল্লেখ করে আপনার সমাধানটি বলবেন।