• ই-পেপার

নিল আর্মস্ট্রংয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ে...

  • যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত পারডু বিশ্ববিদ্যালয়। স্বনামধন্য এই প্রতিষ্ঠানে পড়েছেন চাঁদে অবতরণকারী প্রথম মানব নিল আর্মস্ট্রং। মহাকাশ গবেষণা ও তথ্য-প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য বিখ্যাত এই প্রতিষ্ঠান ঘুরে এসে লিখেছেন ড. রাধেশ্যাম সরকার

ফিরিয়ে আনুন ত্বক ও চুলের সতেজতা

ঈদের ব্যস্ততায় নারী-পুরুষ উভয়ের ত্বক ও চুলের ওপর বেশ চাপ পড়ে। তার ওপর আবহাওয়া বেশ উষ্ণ। ছুটি শেষে নির্জীব ত্বক ও চুলে প্রাণ ফেরানোর কয়েকটি টিপস। লিখেছেন আয়েশা সিদ্দিকা স্বর্ণা

ফিরিয়ে আনুন ত্বক ও চুলের সতেজতা
ঈদের ছুটি শেষে চুলের বিশেষ যত্ন জরুরি।মডেল : প্রিয়ন্তী উর্বী, ছবি : এটুজেড

গ্রীষ্মের গরমে ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে কোরবানির জন্য সেরা পশু কেনাটা চাট্টিখানি কথা নয়। শুধু কিনলেই কাজ শেষ হয় না। সেই পশু কোরবানির আগ পর্যন্ত লালন-পালন করতে গিয়েও বেশ ব্যস্ত থাকতে হয়। ঈদের ছুটিতে ঘোরাঘুরির ব্যাপার তো আছেই। এর ফাঁকে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে পুরুষদের অনেকেই মেতে ওঠেন খেলাধুলায়। নারীদের গরমকে পাশ কাটিয়ে চুলার পাশে রান্নাবান্নায় ব্যস্ত থাকতে হয়। সব মিলিয়ে কোরবানির ঈদ ব্যস্ততার একটা সময়। কখন যে ছুটি শেষ হয়ে যায়, টেরও পাওয়া যায় না। বাসায় ফিরে আয়নায় তাকিয়ে চেহারার হাল দেখে চমকে ওঠেন অনেকেই। এই হাল নিয়ে অফিসে বা বাইরে বেরোতে খানিকটা লজ্জাও পান অনেকে। ত্বক ও চুলের সতেজতা ফেরাতে ছুটি শেষে কিছু নিয়ম মেনে চলুন। অল্প দিনের মধ্যেই ফিরবে আবার আগের অবস্থা।

ফিরিয়ে আনুন ত্বক ও চুলের সতেজতা

ত্বক

হাত-পায়ে পাতলা করে কাটা লাউয়ের টুকরা ঘষতে পারেন। লাউয়ের বেশির ভাগটাই পানি। লাউ ঘষলে জ্বালা ভাব কমবে। ব্যবহার করতে পারেন অ্যালোভেরা জেলও। সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শুধু ত্বকের নয়, চোখেরও ক্ষতি করে। চোখের চারপাশের ত্বক এমনিতেই বেশি স্পর্শকাতর। ফলে গরমের দিনে ইউভি রশ্মি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে এমন রোদচশমা বেছে নিন। গরমে রোদে ঘামে অনেকের ত্বকের লোপকূপগুলোর মুখ বড় হয়ে যায়। ত্বকের মসৃণতা নষ্ট হয়। ত্বকের উন্মুক্ত রন্ধ্রগুলো সংকুচিত করতে দরকার টোনার। বাসায় নিয়ম করে ক্লিনজিং যতটা জরুরি, ঠিক ততটাই দরকারি টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিং।

এ সময় ত্বকে সতেজতা আনতে দিনে দুইবার গোসল করুন। ঘাম জমলে দ্রুত মুছে ফেলুন। উত্সবের দিনগুলোতে সাধারণত নতুন ও কাজ করা পোশাকই বেশি পরা হয়। এতে ত্বক শ্বাস নিতে পারে না। বাসায় ফিরে পাতলা পোশাক পরা শুরু করুন, যাতে হাওয়া খেলতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করুন। পানির অভাব হলে যেমন শরীর খারাপ হয়, তেমনি ত্বকও নির্জীব দেখায়। ভাজাভুজিসহ ভারী খাবার তো বেশ খেলেন এই কয়েক দিন, এবার এসব এড়িয়ে টাটকা হালকা খাবার খান।

উত্সবে রান্নাবান্না, থালা-বাসন ধোয়া, কাপড় ধোয়ার কাজ বেড়ে যায়। এতে হাতের ত্বকের ক্ষতি হয়। হাতের ত্বকের কোমলতা ফেরাতে ত্বক আর্দ্র থাকতেই নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার লাগান। যতবার হাতে সাবান পানি লাগবেন, ততবারই এটা করবেন। লোশনের চেয়ে ক্রিম বা ওয়েন্টমেন্টজাতীয় ময়েশ্চারাইজার এ জন্য বেশি ভালো। পেট্রোলিয়াম জেলি, গ্লিসারিন, খনিজ তেল, সিরামাইড ইত্যাদি উপকরণ সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজারও উপকারী। রাতে সব কাজ শেষে ঘুমানোর সময় পুরু ময়েশ্চারাইজার, যেমনপেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে ঘুমাতে যান। নখের জন্য পার্লারে গিয়ে পেডিকিউর ও ম্যানিকিউর করে নিতে পারেন।

সূর্যকিরণ এড়িয়ে চলুন। ছায়াময় স্থানে থাকার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে ছাতা বা টুপি ব্যবহার করুন। উপযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। বাইরে বের হওয়ার ২০-৩০ মিনিট আগে শরীরের উন্মুক্ত স্থানে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

ত্বকের ওপরে জমা পাতলা ময়লার আবরণ সরিয়ে সতেজতা ফেরাতে এক্সফোলিয়েশন জরুরি। ঘরে বসেই এটা করতে পারেন। চাইলে পার্লার থেকেও করাতে পারেন। প্রথমে মুখ ধুয়ে নিন। অল্প পরিমাণ ফেস স্ক্রাব মুখে হালকা করে বৃত্তাকারে ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ড ম্যাসাজ করুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে এক থেকে দুইবার স্ক্রাবিং করতে পারেন। এই নিয়ম অনুসরণ করে কয়েক দিনের মধ্যেই আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারবেন আপনার ত্বক।

 

চুল

শুধু মুখে সানস্ক্রিন মাখলেই হবে না, একই যত্ন দরকার চুলেরও! বাইরে পা দেওয়ার আগে চুলে সানস্ক্রিন লাগিয়ে ম্যাসাজ করে নিন। গরমে খোলা চুল মানেই প্রচণ্ড অস্বস্তি। তাই চুলটা এ সময় হালকা করে বেঁধে রাখাই ভালো। এই গরমের সময় চুলটা আঁটসাঁট করে না বেঁধে পাঞ্চ ক্লিপে হালকা করে আটকে নিন। চুলের হারানো সতেজতা ফেরাতে নারিশিং শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। নারকেল, শিয়া বাটার, আর্গান অয়েল বেইসড শ্যাম্পু চুলের জন্য ভালো। চুলে সরাসরি শ্যাম্পু লাগাবেন না। স্কাল্পে ঘষে ফেনা করে সেই ফেনা চুলে লাগিয়ে ধুয়ে নিন। চুল রুক্ষ হবে না। প্রতিবার শ্যাম্পু শেষে কন্ডিশনার অবশ্যই লাগাবেন। চুল ডিপ কন্ডিশনিং করতে কন্ডিশনারের বদলে হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করুন। ঘরোয়া হেয়ার প্যাকও ব্যবহার করতে পারেন। ডিম, দই আর মধু দিয়ে তৈরি হেয়ার প্যাক বিবর্ণ চুলের জন্য উপকারী।

গরম আর ঘাম চুল চটচটে করে দেয়। এ জন্য হাতের কাছে রাখুন হাইড্রেটিং হেয়ার মিস্ট। রুক্ষতার হাত থেকে চুলকে রক্ষা করবে এই মিস্ট। অ্যালোভেরা জেলে পানি মিশিয়ে ঘরোয়া হেয়ার মিস্ট বানিয়ে নিতে পারেন। সপ্তাহে তিন-চার দিন রাতে ন্যাচার কেয়ার হেয়ার অয়েল চুলে লাগান। এটি চুলের ডিপ কন্ডিশনিংয়ের কাজ করবে। চুলে তেল লাগানোর আগে তেলের সঙ্গে একটু লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে চুল খুশকিমুক্ত থাকবে। চুল ময়েশ্চারাইজ করতে মেহেদি ও টক দইয়ের প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। টক দই, মেহেদিপাতা, মেথি গুঁড়া ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এটি চুলে ৩০ মিনিটের মতো লাগিয়ে শ্যাম্পু করে ফেলুন। টক দই চুলকে ময়েশ্চারাইজ করবে। মেথি গুঁড়া খুশকি দূর করবে আর চুল ঝলমলে করবে লেবুর রস। সপ্তাহে এক দিন ব্যবহার করুন। রোদে পোড়া লালচে চুলের জন্য কলা ও আমলকীর প্যাক উপকারী। চুলে পাকা কলা, আমলকীর রস, মধু ও মেথি গুঁড়া একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে চুলে লাগাতে পারেন। এটি একই সঙ্গে চুল নরম করবে এবং রোদে পুড়ে লালচে হয়ে যাওয়া থেকে বাঁচাবে।

গরমে রোদে বাইরে বের হলে অবশ্যই ছাতা, হিজাব বা স্কার্ফ ব্যবহার করুন। এতে চুল কড়া রোদ ও অতিরিক্ত ধুলাবালি থেকে রক্ষা পাবে।

এই টিপসগুলো মেনে চললে গরমেও আপনার চুল দেখাবে সুস্থ ও উজ্জ্বল।

 

 

 

 

 

 

মুখরোচক পদে স্বাদ বদল

গরুর মাংস তো অনেক খেলেন। জিভের স্বাদ বদলাতে এবার চেখে দেখতে পারেন আনকমন কিছু পদ। রেসিপি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আনিসা আক্তার নূপুর

মুখরোচক পদে স্বাদ বদল

কলাপাতায় ছোট মাছের চচ্চড়ি

উপকরণ

মলা মাছ ও কাচকি মাছ ৫০০ গ্রাম, আলু কুচি ১ কাপ, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, কাঁচা মরিচ বাটা ১ চা চামচ, ধনে গুঁড়া ১ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, আস্ত কাঁচা মরিচ ৮-১০টি, লেবুপাতা কুচি ২টি, তেল ৩ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, কলাপাতা বড় ৪ টুকরা।

মুখরোচক পদে স্বাদ বদল

যেভাবে তৈরি করবেন

*   তেলের মধ্যে পেঁয়াজ কুচি ভালো করে ভেজে হালকা বাদামি করে নিন। মাছের সঙ্গে সব উপকরণ মাখিয়ে নিন।

*    এবার ভেজে রাখা পেঁয়াজ কুচি দিয়ে এবং তেলটুকু দিয়ে আবার ভালো করে মাখিয়ে নিন। তারপর  কলাপাতায়  দিয়ে কলাপাতা মুড়িয়ে কড়াইয়ে ভেজে নিন ৪০ মিনিট।

*   চুলার আঁচ লো মিডিয়াম থাকবে। তারপর নামিয়ে পরিবেশন করুন।

 

মোচা ও নারকেল চিংড়ি ঘণ্ট

উপকরণ

কলার মোচা ১টি, চিংড়ি ৩০০ গ্রাম, নারকেল বাটা ৩ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি আধাকাপ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, আদা বাটা ১ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ২ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, জিরা বাটা ১ চা চামচ, কাঁচা মরিচ ৪-৫টি, ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, তেল ৩ টেবিল চামচ।

মুখরোচক পদে স্বাদ বদল

যেভাবে তৈরি করবেন

*   কলার মোচা কুচি করে কেটে হলুদ গুঁড়া ও পানি দিয়ে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। তারপর পানি ঝরিয়ে কড়াইয়ে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে হালকা ভেজে বাটা ও গুঁড়া সব মসলা দিয়ে একটু পানি দিয়ে কষিয়ে নিন।

*  এরপর চিংড়ি দিয়ে কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে নারকেল বাটা দিয়ে ২-৩ মিনিট পরে মোচা দিয়ে কষিয়ে ১ কাপ পরিমাণ পানি ও কাঁচা মরিচ দিয়ে ঢেকে রান্না করুন। পানি শুকিয়ে এলে ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

 

মাছের কোফতায় জালিকুমড়ার সালুন

উপকরণ

চিতল মাছের কিমা ২৫০ গ্রাম, চালকুমড়া বা জালিকুমড়া কাটা ২৫০ গ্রাম, পেঁয়াজ কুচি ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ বেরেস্তা ১ চা চামচ, আদা-রসুন বাটা ২ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ, কাঁচা মরিচ ৩-৪টি, গরম মসলা গুঁড়া আধা চা চামচ, কর্নফ্লাওয়ার ৩ চা চামচ, গোলমরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ, জিরা গুঁড়া আধা চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, তেল ৩ টেবিল চামচ, চিনি সামান্য, ঘি এক চা চামচ।

মুখরোচক পদে স্বাদ বদল

যেভাবে তৈরি করবেন

*    মাছ শিল-নোড়ায় থেঁতলে কাঁটা ছাড়িয়ে কিমা করে নিয়ে আদা-রসুন বাটা, লবণ, গরম মসলা গুঁড়া, পেঁয়াজ বেরেস্তা, গোলমরিচ গুঁড়া, কর্নফ্লাওয়ার ২ চা চামচসব একত্রে মাখিয়ে গোল গোল কোফতা বানিয়ে কম তেলে চুলার আঁচ মধ্যম রেখে ভেজে নিন।

*   ভাজা হলে অন্য হাঁড়িতে তেল ও পেঁয়াজ কুচি দিয়ে হালকা ভেজে হলুদ ও জিরা গুঁড়া দিয়ে একটু পানি দিয়ে কষিয়ে নিন। লবণ ও কাঁচা মরিচ দিয়ে সঙ্গে চালকুমড়ার টুকরাগুলো দিয়ে কষিয়ে সিদ্ধ হওয়ার জন্য পরিমাণমতো পানি দিয়ে ঢেকে ২০ মিনিট রান্না করুন।

*   এরপর কোফতাগুলো দিয়ে ঘি দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে ৫ মিনিট। তারপর ১ চা চামচ কর্নফ্লাওয়ার গোলানো পানি দিয়ে নেড়েচেড়ে চিনি দিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

 

রুই আচারি

উপকরণ

রুই মাছ ৫০০ গ্রাম, পেঁয়াজ বাটা ১ টেবিল চামচ, আদা-রসুন বাটা ২ চা চামচ, জিরা বাটা ১ চা চামচ, পাঁচফোড়ন ১ চা চামচ, লেবুর রস ২ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ২ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, পেঁয়াজ বেরেস্তা ১ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ ৭-৬টি, লবণ স্বাদমতো, সরিষার তেল আধাকাপ, আমের আচার ১ টেবিল চামচ ও চিনি ১ চা চামচ।

মুখরোচক পদে স্বাদ বদল

যেভাবে তৈরি করবেন

*   মাছ ছোট টুকরা করে কেটে পরিষ্কার করে সামান্য হলুদ, লবণ, লেবুর রস মাখিয়ে কড়াইয়ে তেল গরম করে হালকা করে ভেজে তুলে রাখুন।

*   ওই তেলের মধ্যে পাঁচফোড়ন দিয়ে বাটা ও গুঁড়া মসলাগুলো দিয়ে একটু পানি ও লবণ দিয়ে কষিয়ে নিন। তারপর ১ কাপ পানি দিয়ে ফুটিয়ে ভাজা মাছগুলো দিয়ে কাঁচা মরিচ দিয়ে ঢেকে রান্না করুন।

*    মাখা মাখা হয়ে এলে আচার ও চিনি দিয়ে মিক্স করে পেঁয়াজ বেরেস্তা দিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

 

নারকেল বাটায় মানকচু চিংড়ির রসা ভুনা

উপকরণ

মানকচু ৫০০ গ্রাম, চিংড়ি মাছ ২০০ গ্রাম, চিংড়ি মাছ বাটা ২ টেবিল চামচ, নারকেল বাটা ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি আধাকাপ, আদা বাটা ২ চা চামচ, রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, কাঁচা মরিচ ৪-৫টি, আস্ত রসুন ২-৩টি, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, ধনেপাতা কুচি প্রয়োজনমতো, তেল ৩ টেবিল চামচ।

মুখরোচক পদে স্বাদ বদল

যেভাবে তৈরি করবেন

*    কিউব করে কাটা মানকচু পানিতে সিদ্ধ করে নিন। সিদ্ধ হলে পানি ঝরিয়ে কড়াইয়ে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে হালকা ভেজে আদা-রসুন বাটা, হলুদ-মরিচ, গুঁড়া সব মসলা ও লবণ দিয়ে কষিয়ে নিন।

*    এরপর বেটে রাখা চিংড়ি মাছ দিয়ে কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে নারকেল বাটা ও আস্ত চিংড়ি মাছ দিয়ে কষিয়ে তারপর সিদ্ধ করে রাখা কচু ও আস্ত রসুন দিয়ে এক কাপ পানি দিয়ে ঢেকে রান্না করুন ১০ মিনিট।

*  এরপর লেবুর রস ও কাঁচা মরিচ দিয়ে ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

 

 

 

 

হ্যাকস

দাগ—দূর হয়ে যাক

কাপড় কিংবা বাসন—ব্যবহার করলে তাতে দাগ পড়বেই। এই দাগ তোলা নিয়ে কত ভোগান্তিতে পড়ি আমরা! কিছু টিপস মেনে সহজেই বাসন ও কাপড় থেকে দাগ দূর করতে পারেন। লিখেছেন মেহরীমা ইতি

দাগ—দূর হয়ে যাক

*    প্লেটের হলুদ দাগ তুলতে প্রথমে সাবান দিয়ে মাজুন। এরপর একটি গামলায় হালকা গরম পানিতে আধাকাপ ভিনেগার ও দুই টেবিল চামচ লবণ মিশিয়ে নিন। প্লেট এই পানিতে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। দাগ দূর হবে।

*    ফ্লাস্কের ভেতরে চা ও কফির দাগ পড়বেই। এই দাগ তুলতে কয়েকটি ডিমের খোসা গুঁড়া করে ফ্লাস্কের ভেতর পুরে দিন। এরপর গরম পানি ঢেলে নিন। এবার ফ্লাস্কের মুখ আটকে দিয়ে ভালোভাবে ঝাঁকান। দাগ চলে যাবে।

*  বেশিদিন হয়ে গেলে প্রেসার কুকারের ভেতরে কালচে দাগ পড়ে। এই দাগ দূর করতে এক কাপ পানির সঙ্গে কয়েক টুকরা লেবু বা এক টুকরা তেঁতুল দিয়ে জ্বাল দিন। ১৫ মিনিট পর মেজে ধুয়ে নিন।

দাগ—দূর হয়ে যাক

*   চা বা কফির কাপে দাগ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন অনেকে। এটা তুলতে তুলায় ভিনেগার বা খাবার সোডা লাগিয়ে ঘষুন। দাগ চলে যাবে।

*    কাচের জিনিসে দাগ তুলতে এক চামচ ভিনেগার, এক চামচ চুন এক গ্লাস গরম পানিতে মেশান। ১০ মিনিট রেখে দিন। এরপর এই মিশ্রণ দিয়ে কাচের বাসন পরিষ্কার করুন। সহজেই দাগ উঠে যাবে।

*   স্টিলের তৈরি যেকোনো জিনিসে ফোঁটা ফোঁটা দাগ পড়ে। এই দাগ দূর করতে ভিনেগার লাগিয়ে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে নিন। পরিষ্কার হয়ে যাবে।

*  বঁটি বা চাকুতে মরিচা পড়া নিয়মিত ব্যাপার। এটা দূর করতে লেবু অথবা আলুর টুকরা ঘষে নিন। মরিচার দাগ দূর হবে।

*  বাথরুম ও রান্নাঘরের পানির ট্যাপ বিবর্ণ হয়ে যায়। মাঝেমধ্যে লেবুর খোসা দিয়ে ঘষে পানিতে ধুয়ে নিন। এরপর শুকনা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। নতুনের মতো দেখাবে।

*    কাঁঠালের আঠা, কাঁচকলার কষ বা এজাতীয় কোনো কিছু বাসনে লেগে গেলে সহজে উঠতে চায় না। এই দাগ তুলতে কাপড়ে তেল মেখে ঘষে নিন। অথবা টক দই দিয়ে ঘষে ধুয়ে ফেলুন।

*    বেসিন বা বাথটাবের দাগ তুলতে ভিনেগার গরম করে কাপড় ভিজিয়ে দাগে ঘষুন। উঠে যাবে।

*   হলদে হয়ে যাওয়া অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে ভিনেগার মেশানো পানি নিয়ে কিছুক্ষণ ফোটান। রং আগের মতো ঝকঝকে হয়ে যাবে।

 

 

ইনডোরেই হাসি-খেলা

ভাপসা গরমে বিকেলেও খেলার জন্য শিশুদের বাইরে পাঠাতে নারাজ অনেক অভিভাবক। তাই বলে কি ছোটরা খেলবে না? ওদের জন্য ইনডোরেই খেলাধুলার ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। কয়েকটি ইনডোর গেমের সরঞ্জামের খোঁজ নিয়েছেন আহমেদ ইমরান

ইনডোরেই হাসি-খেলা
শিশুদের সুস্থ  রাখতে ঘরেই রাখুন খেলার সরঞ্জাম। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা শহরে দল বেঁধে শিশুদের খেলাধুলা করার জন্য সুন্দর ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অভিভাবকরাও আর শিশুদের বাইরে খেলতে পাঠাতে চান না। এ জন্য ইনডোর স্পোর্টসের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ইনডোর খেলাধুলার ব্যবস্থাও বাড়ছে। সেখানে শিশুদের নিয়ে যেতে পারেন। এ ছাড়া ঘরেও ছোটদের খেলাধুলার জন্য বিভিন্ন সামগ্রীর ব্যবস্থা রাখতে পারেন। এতে মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে থাকবে আপনার সোনামণি। নিয়মিত খেলাধুলার কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবেও ফিট থাকবে তারা।

ইনডোরেই হাসি-খেলা

শিশুরা যাতে ঘরে বসেই মজার মজার খেলা খেলতে পারে, সে জন্য ক্রীড়াসামগ্রীর দোকানে আছে নানা খেলার উপকরণ। সবচেয়ে মজার বিষয়, এখন শিশুদের জন্য এমন এক ধরনের ব্যাট পাওয়া যায়, তাতে ক্রিকেটটাও হয়ে গেছে ঘরের খেলা।

শিশুরা কোন খেলার সামগ্রী বেশি নিচ্ছেজানতে চাইলে সুবাস্তু শপিং মলের পাবনা স্পোর্টসের কর্ণধার মো. জাকিরুল হাসান বলেন, একেক শিশুর আগ্রহ একেক রকম। কেউ ফুটবল, কেউ ক্রিকেট, কেউ লুডু পছন্দ করে। অনেক শিশুর পছন্দের তালিকায় আছে দাবা। বারিধারার বাসিন্দা সুমন হোসেন বলেন, মাঠ নেই তো কী হয়েছে! শিশুরা ঘরেই খেলছে ক্রিকেট, ফুটবলসহ জনপ্রিয় সব খেলা। এর জন্য শুধু একটা ব্যাট ও বল হলেই হয়। রোলার স্কেটও এখন জনপ্রিয়। শিশুরা ঘরে ও ঘরের বাইরে বারান্দায় খেলে। এ ছাড়া বিভিন্ন ইনডোর গেমও তারা খেলছে।

ইনডোরেই হাসি-খেলা

পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাও অপরিহার্য। ঘরে শিশু যে খেলাই খেলুক, তার জন্য প্রয়োজন খেলার সামগ্রী বা উপকরণ। আসুন জেনে নিই বিভিন্ন খেলার সামগ্রী ও দরদাম বিষয়ে।

ইনডোরেই হাসি-খেলা

জাম্প রোপ বা লাফানো দড়ি : ব্র্যান্ডের দাম ২০০ থেকে ৩৫০, সাধারণ ৫০ থেকে ৮০ টাকা।

স্কেটিং : বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও ডিজাইনভেদে দাম ৮৫০ থেকে ২০৫০ টাকা।

টেবিল টেনিস : বল ২০ থেকে ৩০, নেট ১০০ থেকে ৫০০, টেবিল ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার, ব্যাট ৩০০ থেকে ১০০০ টাকা।

ক্যারম : চার পকেট বোর্ড ৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা, ঘুঁটি সেট ১০০ থেকে ১৫০, স্টাইক ৪০ থেকে ১০০, ভিট প্যাকেট ১০০ টাকা।

দাবা : ম্যাগনেটিক ফোল্ডিং বোর্ড (বক্স) ২০০ থেকে ১৫০০, প্লাস্টিক সাধারণ বোর্ড ২০০ থেকে ৫০০ টাকা।

সুইমিং : ক্যাপ ১০০ থেকে ৫০০, ট্রাউজার ৩০০ থেকে ৩৫০, শর্ট প্যান্ট ১৫০ থেকে ৭৫০, টি-শার্ট ৩৫০ থেকে ৫৫০, এয়ার প্লাগ ২০ থেকে ৩৫০, চশমা ১৫০ থেকে ৮৫০ টাকা। সুইমিং সামগ্রীর ভালো ব্র্যান্ড এরিকা, মিসুকা, স্পিডো, ব্যালেন্স।

ডার্ট বোর্ড : ম্যাগনেটিক ৬৫০ থেকে ১২৫০ টাকা, সাধারণ ৪০০ থেকে ৫৫০, তীর (আলাদা) ৪০ থেকে ৬০ টাকা।

ব্যাডমিন্টন : ম্যাক্স, ই-ম্যাক্স, গোল্ডেন উইন, জুরেক্স ইত্যাদি ব্র্যান্ডের র্যাকেট ২০০ থেকে ২৫০০, ফ্লাওয়ার প্রতিটি ২০ থেকে ১১০ টাকা।

বাস্কেটবল ও ভলিবল : ব্র্যান্ডের বাস্কেটবল ২০০ থেকে ৩৫০, মিনি বাস্কেট বোর্ড (ইনডোর) ১০৫০ থেকে ১২৫০, ঝুড়ি ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা। বল ৫০০ থেকে ১২০০ টাকা।

ক্রিকেট : রিবক, নাইক, সিএ, ইয়াসির, এমআরএফ ইত্যাদি ব্র্যান্ডের ব্যাটের দাম ১৫০ থেকে ২০০০ টাকা। সেভেন স্টার, সুপার, এলিফ্যান্ট ইত্যাদি টেনিস বলের দাম ২০ থেকে ৩৫ টাকা।

ফুটবল : ব্র্যান্ডের বলের দাম ৫০০ থেকে ১৪০০ টাকা। সাধারণ ১৫০ থেকে ৪০০ টাকা।

মিনি গলফ ফিল্ড : মিনি গলফ ফিল্ড বানাতে পারেন বাসার ড্রয়িংরুমেই। বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের মিনি গলফ ফিল্ড পাবেন ২৮০০ থেকে ৬৫০০ টাকার মধ্যে।

 

কোথায় পাবেন

যেকোনো খেলার সামগ্রীর দোকানে পাবেন ইনডোর গেমের সরঞ্জাম। এ ছাড়া মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম, মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম মার্কেট, গুলিস্তান স্পোর্টস মার্কেট, স্পোর্টস জোন বনানী, বসুন্ধরা সিটির লেভেল-২, মিরপুর শাহ আলী মার্কেট, নিউমার্কেট, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, মালিবাগ, কাকরাইলের বিভিন্ন স্পোর্টস সামগ্রীর দোকানে পাবেন ইনডোর খেলার সরঞ্জাম।